23/03/2025
শাশুড়ী ননদ আমাকে ব্ল্যাক ম্যা-জিক করেছিলো।
আমার নাম প্রিয়াংকা। আমি আর নিবির ৭ বছর প্রেম করার পর বিয়ে করি। কিন্তু আমার শ্বশুরবাড়ি আমাকে কখনোই মেনে নেয়নি। তবে স্বামীর সামনে সবাই এমন ভাব করত যেন আমাকে খুব ভালোবাসে।
বিয়ের মাত্র চার মাসের মধ্যে আমি হঠাৎ খুব অসুস্থ হয়ে পড়ি। এতটাই খারাপ লাগত যে ঠিকমতো হাঁটতেও পারতাম না। অনেক ডাক্তার দেখালাম, কিন্তু কেউ কোনো রোগ ধরতে পারল না। ডাক্তাররা বলল, আমার শরীরে কোনো সমস্যা নেই! কিন্তু আমি জানতাম, কিছু একটা নিশ্চয়ই হয়েছে।
আমার শাশুড়ি বলল, এসব সব নাটক! কাজ না করার বাহানা!
স্বামীর কান ভাঙিয়ে দিল, যেন আমি মিথ্যা বলছি।
আমি নিবিরকে অনেক বুঝিয়ে বললাম, আমাকে কোনো হুজুরের কাছে নিয়ে চলো, দেখি কিছু করা হয়েছে কি না!
ও হাসতে লাগল, এই যুগে এসব বিশ্বাস করো?
আমি বললাম,এগুলো কোরআনেও আছে!
কিন্তু ও আমল দিল না, বরং মায়ের কাছে গিয়ে সব বলে দিল।
তারপর আমার শরীর আরও খারাপ হতে থাকল। আমার মা-বাবা জানতে পেরে আমাকে বাড়িতে নিয়ে গেল। সেখানকার এক হুজুর দেখিয়ে জানতে পারলাম, আমার শাশুড়ি আর ননদ আমার কিছু কাপড় নিয়ে কিছু করেছে! আর আমার বিছানার তোষকের মধ্যে একটা পুতুল সেলাই করা আছে!
আমি শ্বশুরবাড়ি ফিরে গিয়ে স্বামীকে সব বললাম। যে তোমার মা এসব করেছে। বললাম, তোষকের সেলাই খুলে দেখো, তুমি নিজেই প্রমাণ পাবে!
আমরা যখন তোষকের সেলাই খুললাম, তখন সত্যিই সেই পুতুলটা বেরিয়ে এলো!
নিবির তবুও আমাকে বিশ্বাস করল না!
তার মা বলল, এই পুতুল প্রিয়াংকা নিজেই বানিয়ে রেখেছে, আমাদের ফাঁসানোর জন্য!
আর আমার স্বামী সেটা বিশ্বাস করল!
তারপর আমাকে দোষারোপ করতে লাগল, দূরে সরে যেতে লাগল। একদিন জোর করেই ডিভোর্স দিয়ে দিল!
আজ আমি কানাডায় আছি, নতুন করে জীবন শুরু করেছি। আর নিবির?
তার মা-বাবা যে মেয়েকে পছন্দ করে বিয়ে দিয়েছিল, সে মেয়ে এক বছরের মাথায় স্বামীকে নিয়ে আলাদা হয়ে গেছে। এখন নিবির নিজের মা-বাবার খোঁজও নেয় না! আর আমার ননদ?
শ্বশুরবাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে, তারও ডিভোর্স হয়ে গেছে!
৭ বছরের সম্পর্ক, ভালোবাসা কিছুই টিকল না, কারণ আমি শ্বশুরবাড়ির অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলেছিলাম। অথচ সেই স্বামী আজ আর নিজের মা-বাবার কথাও শোনে না! ২য় বউয়ের মূল্য দেয়🙂
আল্লাহর বিচার এমনই হয়!
(লেখাটি পাঠিয়েছেন প্রিয়াংকা রহমান)
©