04/04/2022
এসইও এক্সপার্ট হতে চাইলে নিজেকে টার্গেট ভিজিটরের জায়গায় চিন্তা করুন।
আপনি সাইটটা সার্চ করলে কোন কি-ওয়ার্ড ব্যাবহার করতেন, যে সাইটগুলো এড়িয়ে যেতেন বা প্রবেশ করতেন, সেগুলার পেছনে কি কারন আছে খুজে বের করুন। এতে বেস্ট আইডিয়া গুলাই বেরিয়ে আসবে।
এসইও
এসইও হচ্ছে “সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন” এটা আমরা সকলেই জানি। মূলত ওয়েবসাইটকে সার্চ ইঞ্জিনে প্রথম দিকে দেখানোর জন্যই এটা করা হয়। তো কিভাবে আপনি আপনার ওয়েবসাইটকে আর সবার সাইট থেকে উপরে নিয়ে আসবেন এবং সাইটে ট্রাফিক বাড়াবেন? আপনি বলতে পারেন ভাই আমিতো কাজটা ভালো ভাবেই শিখে গেছি এটা আর কঠিন কি!জ্বী ভাই, আপনি ঠিকই বলেছেন। এটা কঠিন কিছুই না। তবে আমরা অনেকেই জানিনা কিভাবে একটা সাইটকে সঠিকভাবে অপটিমাইজ করতে হয়। আর আপনি যদি সেটা করতে পারেন তবে বুঝতেই পারছেন অপটিমাইজ করে অনেক ভালো ফল পাবেন। আমরা অনেকেই ভালো ভাবে শিখলেও কিছু ভূল কিন্তু করেই ফেলি যা সাইটের র্যাং কিং কে অনেক পেছনে নিয়ে যায়। এমনকি, অনেক অভিজ্ঞ এসইও এক্সপার্টরাও এই ভূলগুলো করে থাকে। চলুন আজ দেখে নিই কোন ভূলগুলো শুধরে নিতে পারলে আমরা একজন সফল এসইও এক্সপার্ট হতে পারব।
ভূল -০১ : ডুপ্লিকেট / থিন কনটেন্ট
ডুপ্লিকেট বা থিন কনটেন্ট আসলে কী? আমরা অনেক সময় ওয়েবসাইটের দুটি পেজে বা ততোধিক পেজে একই কনটেন্ট, বা একই ধরনের কনটেন্ট দিয়ে থাকি। তো এতে কি হয়?গুগল যখন আপনার সাইটটি অপটিমাইজ করবে তখন একাধিক পেজে একই কনটেন্ট থাকার কারনে আপনার র্যাংাকিং পিছিয়ে দিবে। যদি একটি কনটেন্ট শুধু একটি পেজেই থাকে তাহলে সেটাকেই গুগল হাইলাইট করে সামনে নিয়ে আসবে। আর থিন কনটেন্ট তখনই বলা হয় যখন কোন কনটেন্ট অপরিপূর্ণ থাকে।ধরুন আমি গুগলে এমন একটি তথ্য সার্চ দিলাম যেটা আপনার সাইটে অপরিপূর্ণ ভাবে আছে। অর্থাৎ প্রয়োজনীয় সকল তথ্যাদি নেই। তখন কিন্তু গুগল আপনার সাইট উপরে শো করবে না বরং যে সাইটে পরিপূর্ণ আছে সেটাকেই র্যাংইক আপ করবে। তাই প্রয়োজনে বেশি ওয়ার্ডের কনটেন্ট পোস্ট করুন কিন্তু সেটা যেন পরিপূর্ণ হয় সেদিকে খেয়াল রাখবেন।
ভূল -০২ : টাইটেল মিসটেক
এসইওর ক্ষেত্রে এটি একটি বড় ধরনের ভূল। কনটেন্ট এর টাইটেল দেয়ার সময় অনেকেই চিন্তা ভাবনা না করেই দিয়ে দেয়। কিন্তু শুধু একটা জিনিস চিন্তা করুন। আপনারা যারা এই কনটেন্ট টি পড়ছেন তারাও কিন্তু শুধু টাইটেল টা দেখেই আকৃষ্ট হয়েছেন, এবং স্বভাবতই যে সাইটগুলার টাইটেল পছন্দ হয়নি সেগুলা এড়িয়ে গেছেন। সো, বুঝতেই পারছেন আপনার ট্রাফিক বাড়াতে হলে সঠিক ও আকর্ষণীয় টাইটেল নির্বাচন কি ভীষন ভূমিকা রাখে ! শুধু মাত্র টাইটেল ভালো হওয়ার কারনে প্রচুর লো লেভেলের সাইটও ভালো ট্রাফিক টেনে নিচ্ছে।
ভূল -০৩ : ইরর পেজ
অনেক সময় আমরা ব্রাউজিং করার সময় কিছু সাইটে ঢুকতে গেলে দেখায় page not found অথবা 404 error page। এটা যখন দেখায় তখন কিন্তু আমরা ওই রিলেটেড অন্য কোন সাইট সার্চ করে প্রয়োজনীয় কাজ করি। অর্থাৎ আমাদের মত যতজন ঐ রকম পেজ দেখবে, তারা সবাই কিন্তু সাইটটা ইগনোর করবে। এই ইরর টা আসলে কিভাবে হয়?যখন আপনার সাইটের কোন পেজ গুগলে ইনডেক্স করা থাকে কিন্তু আপনি কোন কারনে পেজটি ডিলেট করে দিয়েছেন, তখন এটি দেখায়। আবার কোন কারনে আপনি পেজটির URL পরিবর্তন করে ফেললেও পূর্বের URL দিয়ে যারা ঢুকবে তারা এরকম দেখতে পাবে। পূর্বের URL আপনি কোথাও শেয়ার করে রাখতেই পারেন।সাইটের সার্চ কনসোল থেকে scroll error page এ গিয়ে বা বিভিন্ন টুল ব্যাবহার করে পেজ গুলা খুজে পেতে পারেন। এরপর নিয়মিত সেগুলো আপডেট বা ডিলেট করতে হবে। নইলে আপনি অনেক ট্রাফিক হারাবেন।
ভূল -০৪ : SSL না থাকা
আপনি কি আপনার সাইটের SSL করেছেন? SSL হচ্ছে Secured Socket Lair। দিন দিন পৃথিবীর সবকিছু ডিজিটাল হওয়ার সাথে সাথে কিন্তু তথ্য প্রযুক্তিতে যুক্ত হচ্ছে নতুন মাত্রা। যার একটি গুগল ভয়েস সার্চ। এই ভয়েস সার্চ খুব দ্রুত জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। গুগল ভয়েস সার্চে ভালো র্যাং ক পেতে হলে আপনাকে অবশ্যই ওয়েবসাইটটি সিকিউরড করতে হবে SSL এর মাধ্যমে। তাছাড়া গুগল কিন্তু আনসিকিউরড সাইটকে ভয়েস সার্চে র্যাংসক দিবেনা। অন্যদিকে, SSL না করা হলে আপনার সাইটটি ভিজিট করার সময় ভিজিটর “this site is not secured” মেসেজ দেখতে পাবে। আর এ মেসেজ দেখার পর আমরা নিজেরাই সেই সাইটে থাকতে চাইনা, ট্রাফিক কেন থাকবে? তাই SSL করাও এসইওর জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি বিবেচ্য বিষয়।
ভূল-০৫ : কি-ওয়ার্ড সিলেকশন
আমরা ওয়েবসাইটে এসইও করি যেন আমাদের টার্গেটেড অডিয়েন্স বিশেষ কিছু কীওয়ার্ড দিয়ে সার্চ করলে আমাদের সাইটটি খুজে পায়। আমাদের লক্ষ্য কিন্তু শুধু ট্রাফিক বাড়ানো নয়, বরং ওয়েবসাইটের মাধ্যমে কোন একটা বিজনেসকে প্রোমোট করা এবং বিজনেস বাড়ানো। তাই আমরা যদি সঠিক কি ওয়ার্ড বাছাই করতে না পারি তবে ভিজিটর হয়ত পাবো তবে বিজনেসটা কিন্তু বাড়বে না। ধরুন আমি একটা ক্রয়-বিক্রয় সাইটের জন্য এসইও করব যেটা শুধু ঢাকার কাস্টমারদেরকে কেন্দ্র করে। তো কি-ওয়ার্ড হিসেবে যদি আমি buy-sell ব্যাবহার করি তবে সাইটটা সারা বিশ্বের সবাই সার্চ দিলে দেখতে পাবে। আর এরকম সাইট অনেক আছে যার কারনে আমার র্যাং ক ও পিছিয়ে যাবে। আমার সাইটে তো সারা বিশ্বের সবাই বেচাকেনা করবেনা, শুধু ঢাকার ভিজিটররা করবে। তাহলে সবাইকে দেখিয়ে আমার কি লাভ! এক্ষেত্রে আমার কি-ওয়ার্ড হতে পারে buy-sell Dhaka, buy-sell Bangladesh এই ধরনের। এই ভূলটা আমরা অনেকেই করে থাকি যে সঠিক কি-ওয়ার্ড দিতে ব্যার্থ হই। আপনার কি-ওয়ার্ড টি যেন নির্দিষ্টভাবে শুধু আপনার কাঙ্খিত অডিয়েন্সের কাছেই আপনার সাইটটি নিয়ে যায় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হলে আপনাকে অবশ্যই অবশ্যই কি-ওয়ার্ড দিয়ে আপনার বিজনেসের প্রকৃতি নির্দিষ্ট করে দিতে হবে। কি-ওয়ার্ড সিলেকশনে বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিতে পারলে এসইওতে সফলতা আপনার হাতের মুঠোয়।
ভূল-০৬ : কি-ওয়ার্ডের অতিরিক্ত ব্যাবহার
কি ভাবছেন? আপনার কনটেন্ট এর ভেতরে কি-ওয়ার্ড টি যত বেশি ব্যাবহার করবেন তত বেশি এটা র্যাং ক আপ হবে তাইতো? আজ্ঞে না! ধরুন উপরের buy-sell Dhaka কি-ওয়ার্ড টি আপনি আপনার কনটেন্ট এর ভেতর অনেকবার ব্যাবহার করলেন।ব্যা পার কিন্তু হয়ে যাবে উল্টো! বারবার ব্যাবহার করার কারনে কি-ওয়ার্ডের শতকরা পরিমানটা বেড়ে যাবে আর এতে করে কি-ওয়ার্ড টি দূর্বল হয়ে যাবে। একে বলে কি-ওয়ার্ড স্টাফিং। গুগল কিন্তু এই কি-ওয়ার্ড স্টাফিং ব্যাপারটা একদম পছন্দ করেনা। যেরকম আপনি একই খাবার বারবার খেতে পছন্দ করবেন না। ফল স্বরুপ গুগল আপনার সাইটকে র্যাংেক আপ করবেনা। তাই স্টাফিং এড়িয়ে চলাটাই বুদ্ধিমানের কাজ। কিন্তু কনটেন্টে অন্তত কয়েকবার কি-ওয়ার্ড তো ব্যাবহার করতেই হবে তাইনা? পরিমানটা কিভাবে জানবেন? অভিজ্ঞ এসইও স্পেশালিষ্ট দের মতে ১০০০ ওয়ার্ডের কনটেন্টে কোন একটি কি-ওয়ার্ডের সংখ্যা ৪-৫ বারের বেশি না হওয়াই ভালো।
ভূল-০৭ : পেজ লোডিং স্লো হওয়া
আপনি আমি যদি কোন ওয়েবসাইটে ঢুকে দেখি লোড হচ্ছেনা, তখন কিন্তু আমরা ধৈর্য্য ধরে সেটার জন্য বসে থাকব না, বরং অন্য সাইটে গিয়ে ঢুকব। কেউই ব্রাউজিংয়ের সময় বাফারিং পছন্দ করেনা। ম্যাক্সিমাম ক্ষেত্রেই ৩ সেকেন্ডের মধ্যে যদি আপনার ওয়েবপেজটি লোড না নেয় তবে আপনি বড় সংখ্যার ট্রাফিক হারাবেন। পেজ লোডিং স্লো হওয়ার পেছনে কিন্তু শুধু নেট কানেকশন দায়ী নয়! ওয়েবসাইটেরও কিছু সমস্যার কারনে এটা হয়ে থাকে। আপনাকে এদিকে অবশ্যই লক্ষ্য রাখতে হবে, যে আপনি ৩ সেকেন্ডের মধ্যে ভিজিটরকে পেজ শো করাতে পারছেন কিনা। এটা এমন একটি বিষয় যা সকল ভিজিটরের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। সাধারন আর দশটা সাইট থেকে এগিয়ে থাকতে এটুকুই আপনাকে এগিয়ে দিবে অনেক পথ! তো বন্ধুরা! এসইও তে ক্যারিয়ার গড়তে চান? নতুন ভাবে শুরু করুন আপনার ক্যারিয়ার.. মনে রাখবেন এসইও শুধু অপটিমাইজ বা বিজনেসই নয়, বরং বুদ্ধির খেলাও বটে