29/09/2026
সূরা আল-আছর হলো পবিত্র কুরআনের সংক্ষিপ্ততম সূরাগুলোর একটি, কিন্তু এর অর্থ অত্যন্ত ব্যাপক ও গভীর। ইমাম শাফেঈ (র.) এই সূরা সম্পর্কে বলেছেন, "যদি মানুষ কেবল এই সূরাটি নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করত, তবে তাদের হেদায়েতের জন্য এটিই যথেষ্ট হতো।"
নিচে সূরাটির তরজমা (অনুবাদ) এবং সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা দেওয়া হলো:
সূরা আল-আছর (সরাসরি তরজমা/অনুবাদ)
১. وَالْعَصْرِ
অনুবাদ: মহাকালের শপথ (বা বিকেলের সময়ের শপথ),
২. إِنَّ الْإِنْسَانَ لَفِي خُسْرٍ
অনুবাদ: নিশ্চয়ই সমগ্র মানবজাতি ঘোর ক্ষতির মধ্যে নিপতিত।
৩. إِلَّا الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ وَتَوَاصَوْا بِالْحَقِّ وَتَوَاصَوْا بِالصَّبْرِ
অনুবাদ: তবে তারা ব্যতীত—যারা ঈমান এনেছে, সৎকাজ করেছে এবং একে অপরকে সত্যের উপদেশ দিয়েছে ও ধৈর্যের উপদেশ দিয়েছে।
সূরা আল-আছরের সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা
এই সূরায় আল্লাহ তাআলা মানুষের জীবন ও সময়ের চূড়ান্ত সত্যকে তুলে ধরেছেন। ব্যাখ্যাটি মূলত দুটি অংশে বিভক্ত:
১. সময়ের শপথ ও মানুষের ক্ষতির বার্তা (১-২ নম্বর আয়াত)
সময়ের গুরুত্ব: আল্লাহ তাআলা সময়ের (আছর) শপথ নিয়েছেন। ‘আছর’ বলতে মানবজাতির অতীত ইতিহাস, বরফ গলে যাওয়ার মতো মানুষের জীবন থেকে দ্রুত চলে যাওয়া সময় বা আসরের নামাজ—সবকেই নির্দেশ করা হয়। সময় এমন এক সম্পদ যা একবার চলে গেলে আর কখনো ফিরে পাওয়া যায় না।
সার্বজনীন ক্ষতি: আল্লাহ তাআলা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, জন্মগতভাবে বা স্বাভাবিক অবস্থায় প্রতিটি মানুষ ক্ষতির মধ্যে রয়েছে। কারণ মানুষের জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত পার হওয়ার অর্থ হলো সে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। যদি এই সময়কে সঠিক কাজে না লাগানো হয়, তবে মানুষ তার সবচেয়ে বড় মূলধন (জীবন) হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যায়।
২. ক্ষতি থেকে মুক্তির ৪টি শর্ত (৩ নম্বর আয়াত)
পরকালের চরম ধ্বংস ও ক্ষতির হাত থেকে বাঁচতে আল্লাহ তাআলা ৪টি অনিবার্য গুণ বা শর্তের কথা উল্লেখ করেছেন:
ঈমান আনা (সঠিক বিশ্বাস): এক আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা, তাঁর নির্দেশিত আকীদাকে অন্তরে ধারণ করা এবং শিরক থেকে মুক্ত থাকা।
সলেকাজ বা সৎকর্ম করা: কেবল বিশ্বাস করাই যথেষ্ট নয়, সেই অনুযায়ী আমল করা। ফরজ-ওয়াজিব আদায় করা এবং খারাপ কাজ থেকে বিরত থাকা। (প্রথম দুটি শর্ত ব্যক্তির নিজ আত্মশুদ্ধির জন্য)।
একে অপরকে সত্যের উপদেশ দেওয়া: সমাজে সত্য, ন্যায় এবং দ্বীনের প্রসার ঘটানো। নিজে ভালো থাকার পাশাপাশি অন্যকেও ভালোর পথে আহ্বান জানানো।
একে অপরকে ধৈর্যের উপদেশ দেওয়া: সত্যের পথে চলতে গেলে জীবনে দুঃখ-কষ্ট, বিপদ-আপদ এবং পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হয়। তাই দ্বীনের ওপর টিকে থাকার জন্য একে অপরকে ধৈর্য (সবর) ধারণ করার পরামর্শ দেওয়া।
সারসংক্ষেপ:
সূরা আল-আছর মূলত মানবজীবনের একটি "সফলতার ফর্মুলা"। সময়ের সঠিক ব্যবহার করে ঈমান, সৎকাজ, দাওয়াত এবং ধৈর্যের মাধ্যমে জীবন পরিচালনা করতে পারলেই কেবল মানুষ ইহকাল ও পরকালের প্রকৃত ক্ষতি থেকে আত্মরক্ষা করতে পারবে।সূরা আল-আছর হলো পবিত্র কুরআনের সংক্ষিপ্ততম সূরাগুলোর একটি, কিন্তু এর অর্থ অত্যন্ত ব্যাপক ও গভীর। ইমাম শাফেঈ (র.) এই সূরা সম্পর্কে বলেছেন, "যদি মানুষ কেবল এই সূরাটি নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করত, তবে তাদের হেদায়েতের জন্য এটিই যথেষ্ট হতো।"
নিচে সূরাটির তরজমা (অনুবাদ) এবং সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা দেওয়া হলো:
সূরা আল-আছর (সরাসরি তরজমা/অনুবাদ)
১. وَالْعَصْرِ
অনুবাদ: মহাকালের শপথ (বা বিকেলের সময়ের শপথ),
২. إِنَّ الْإِنْسَانَ لَفِي خُسْرٍ
অনুবাদ: নিশ্চয়ই সমগ্র মানবজাতি ঘোর ক্ষতির মধ্যে নিপতিত।
৩. إِلَّا الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ وَتَوَاصَوْا بِالْحَقِّ وَتَوَاصَوْا بِالصَّبْرِ
অনুবাদ: তবে তারা ব্যতীত—যারা ঈমান এনেছে, সৎকাজ করেছে এবং একে অপরকে সত্যের উপদেশ দিয়েছে ও ধৈর্যের উপদেশ দিয়েছে।
সূরা আল-আছরের সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা
এই সূরায় আল্লাহ তাআলা মানুষের জীবন ও সময়ের চূড়ান্ত সত্যকে তুলে ধরেছেন। ব্যাখ্যাটি মূলত দুটি অংশে বিভক্ত:
১. সময়ের শপথ ও মানুষের ক্ষতির বার্তা (১-২ নম্বর আয়াত)
সময়ের গুরুত্ব: আল্লাহ তাআলা সময়ের (আছর) শপথ নিয়েছেন। ‘আছর’ বলতে মানবজাতির অতীত ইতিহাস, বরফ গলে যাওয়ার মতো মানুষের জীবন থেকে দ্রুত চলে যাওয়া সময় বা আসরের নামাজ—সবকেই নির্দেশ করা হয়। সময় এমন এক সম্পদ যা একবার চলে গেলে আর কখনো ফিরে পাওয়া যায় না।
সার্বজনীন ক্ষতি: আল্লাহ তাআলা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, জন্মগতভাবে বা স্বাভাবিক অবস্থায় প্রতিটি মানুষ ক্ষতির মধ্যে রয়েছে। কারণ মানুষের জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত পার হওয়ার অর্থ হলো সে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। যদি এই সময়কে সঠিক কাজে না লাগানো হয়, তবে মানুষ তার সবচেয়ে বড় মূলধন (জীবন) হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যায়।
২. ক্ষতি থেকে মুক্তির ৪টি শর্ত (৩ নম্বর আয়াত)
পরকালের চরম ধ্বংস ও ক্ষতির হাত থেকে বাঁচতে আল্লাহ তাআলা ৪টি অনিবার্য গুণ বা শর্তের কথা উল্লেখ করেছেন:
ঈমান আনা (সঠিক বিশ্বাস): এক আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা, তাঁর নির্দেশিত আকীদাকে অন্তরে ধারণ করা এবং শিরক থেকে মুক্ত থাকা।
সলেকাজ বা সৎকর্ম করা: কেবল বিশ্বাস করাই যথেষ্ট নয়, সেই অনুযায়ী আমল করা। ফরজ-ওয়াজিব আদায় করা এবং খারাপ কাজ থেকে বিরত থাকা। (প্রথম দুটি শর্ত ব্যক্তির নিজ আত্মশুদ্ধির জন্য)।
একে অপরকে সত্যের উপদেশ দেওয়া: সমাজে সত্য, ন্যায় এবং দ্বীনের প্রসার ঘটানো। নিজে ভালো থাকার পাশাপাশি অন্যকেও ভালোর পথে আহ্বান জানানো।
একে অপরকে ধৈর্যের উপদেশ দেওয়া: সত্যের পথে চলতে গেলে জীবনে দুঃখ-কষ্ট, বিপদ-আপদ এবং পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হয়। তাই দ্বীনের ওপর টিকে থাকার জন্য একে অপরকে ধৈর্য (সবর) ধারণ করার পরামর্শ দেওয়া।
সারসংক্ষেপ:
সূরা আল-আছর মূলত মানবজীবনের একটি "সফলতার ফর্মুলা"। সময়ের সঠিক ব্যবহার করে ঈমান, সৎকাজ, দাওয়াত এবং ধৈর্যের মাধ্যমে জীবন পরিচালনা করতে পারলেই কেবল মানুষ ইহকাল ও পরকালের প্রকৃত ক্ষতি থেকে আত্মরক্ষা করতে পারবে।
゚