19/07/2026
মাসে মাত্র ৬০০ ডলার বেতন পেতেন। পরে এমন একটি কোম্পানি গড়লেন, যা ২০০০ সালে ২ বিলিয়ন ইউরোতে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়! একজন বিলিয়নিয়ার উদ্যোক্তাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, আপনি কীভাবে এত ধনী হলেন? তিনি শান্তভাবে উত্তর দিলেন,
আমি এমন একটি কোম্পানি তৈরি করেছিলাম, যেটি ২০০০ সালে প্রায় ২ বিলিয়ন ইউরো মূল্যে শেয়ারবাজারে (IPO) তালিকাভুক্ত হয়েছিল।
তার কোম্পানিটি ছিল একটি Encryption Technology Company।
তারা সামরিক বাহিনী এবং বড় বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য উচ্চ নিরাপত্তার এনক্রিপশন হার্ডওয়্যার তৈরি করত, যাতে সংবেদনশীল তথ্য নিরাপদ রাখা যায়। অনেকে ভাবেন, এত বড় উদ্যোক্তারা হয়তো ধনী পরিবার থেকেই আসেন। কিন্তু তার গল্প ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। তিনি বলেন, আমি যখন জ্যামাইকায় ছিলাম, তখন মনে হতো আমরা ধনী। কিন্তু ছোটবেলায় আমেরিকায় যাওয়ার পর বুঝলাম, আমরা মোটেও ধনী নই। সেখান থেকে আমাকে নতুন করে সবকিছু শুরু করতে হয়েছে। সাক্ষাৎকারে তাকে জিজ্ঞেস করা হয়, মানুষ কি আপনাকে নিয়ে সন্দেহ করেছিল?
তিনি হাসতে হাসতে বললেন, অবশ্যই। বিশেষ করে যখন আমি সেনাবাহিনীতে যোগ দিই। সবাই বলেছিল, ওখানে গিয়ে কখনও বড়লোক হওয়া যাবে না। তখন তার মাসিক বেতন ছিল মাত্র ৬০০ ডলার। কিন্তু তিনি সেই চাকরিটাকে শুধু আয়ের উৎস হিসেবে দেখেননি। তিনি বলেন,
সেনাবাহিনী আমার স্নাতক ডিগ্রি, স্নাতকোত্তর ডিগ্রি এবং বিভিন্ন স্কলারশিপের পুরো খরচ বহন করেছে। আমার নিজের পকেট থেকে এক ডলারও খরচ করতে হয়নি। অর্থাৎ, অল্প বেতনের চাকরিই পরে তার সবচেয়ে বড় বিনিয়োগে পরিণত হয়েছিল—নিজের শিক্ষায়।
যখন তাকে জিজ্ঞেস করা হয়, আজ যদি কোনো তরুণের কাছে একেবারেই টাকা না থাকে, তাকে আপনি কী পরামর্শ দেবেন?
তিনি উত্তর দেন, আমি হলে আবারও সেনাবাহিনীতে যোগ দিতাম। কারণ সেখানে শুধু বেতন নয়, শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ, দলগতভাবে কাজ করার মানসিকতা এবং মানুষের সেবা করার শিক্ষা পাওয়া যায়। এগুলোর মূল্য টাকায় মাপা যায় না।
ভবিষ্যতের সবচেয়ে বড় ব্যবসায়িক সুযোগ কোথায় এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি একটি ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। অনেকেই বলেন Artificial Intelligence (AI)-ই ভবিষ্যৎ।
কিন্তু তিনি বলেন, সবাই AI-এর কথা বলছে। কিন্তু AI চালাতে শক্তি (Power) দরকার। তাই ভবিষ্যতের সবচেয়ে বড় সুযোগ হবে এমন ব্যবসায়, যারা টেকসই জ্বালানি ও বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারবে।
এরপর তাকে জিজ্ঞেস করা হয়, আপনার দেখা সবচেয়ে ধনী মানুষদের মধ্যে একটি মিল কী? তিনি বলেন, তাদের লক্ষ্য কখনোই শুধু টাকা ছিল না। তারা বাস্তব সমস্যার সমাধান করতে চেয়েছে। আগে ছিল কাজের প্রতি ভালোবাসা, পরে এসেছে সম্পদ।
কোম্পানি বড় করার গোপন রহস্য কী? তিনি এক লাইনে উত্তর দেন,
নিরন্তর সম্পর্ক তৈরি করা এবং নিরন্তর বিক্রি করা। তার মতে, ব্যবসা শুধু পণ্য বা সেবার নয়, মানুষের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক তৈরির খেলাও।
বিশ্বে ব্যবসা শুরু করার জন্য সবচেয়ে ভালো দেশ কোনটি—এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র। কারণ সেখানে ব্যবসার জন্য সবচেয়ে সহজে বিনিয়োগ (Capital) পাওয়া যায়। তারপর আসে অর্থ ব্যবস্থাপনার প্রসঙ্গ। তিনি বলেন, অনেক মানুষ এমন মানুষের কাছে নিজেকে বড় দেখানোর জন্য এমন টাকা খরচ করে, যা তাদের কাছেই নেই। অথচ যাদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে, তাদের তারা আসলেই পছন্দও করে না। আগে সঞ্চয় করো, তারপর খরচ করো। তিনি আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর জোর দেন। ব্যবসা শুরু করার প্রথম দিন থেকেই সঠিক কোম্পানি স্ট্রাকচার তৈরি করো। এতে ভবিষ্যতে অনেক বড় সমস্যার হাত থেকে বাঁচতে পারবে। সাক্ষাৎকারের শেষে তাকে জিজ্ঞেস করা হয়,
যদি আগামীকাল আপনার জীবনের শেষ দিন হতো, তাহলে তরুণদের জন্য কী বার্তা রেখে যেতেন?
তিনি বলেন,
সম্পর্কই জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ। মানুষের সঙ্গে আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে তোলো। যারা তোমার চেয়ে ভালো, তাদের কাছ থেকে শেখো। একসঙ্গে বেড়ে ওঠো। কারণ শেষ পর্যন্ত সম্পদের চেয়েও মূল্যবান হলো মানুষ।
Post Notes:
মানুষ যেমন রক্ত ছাড়া বাঁচে না, ব্যবসাও ক্যাশ-ফ্লো ছাড়া টিকে না। আর এই ক্যাশ-ফ্লো চালু রাখার একটাই উপায় - সেলস। সেলস বন্ধ মানেই ব্যবসার শ্বাস বন্ধ। এই সেলসকে সহজ ও প্রেডিক্টেবল করতে আমি লিখেছি ২৩৬ পেজের ই-বুক “সেলস টু ক্যাশ”। যেখানে আছে প্র্যাকটিক্যাল ফ্রেমওয়ার্ক, যা না জানলে আপনি হারাচ্ছেন লক্ষ টাকার সুযোগ। এটা শুধু বই না, আপনার ব্যবসা চালু রাখার গাইড। নিজের স্কিল ডেভেলপমেন্টে যদি ৩৫০ টাকা ইনভেস্ট করতে না পারেন, তাহলে হয়তো ব্যবসাটা এখনও আপনার জন্য নয়। যদি আপনি আগ্রহী হন লিংক কমেন্টে দেওয়া আছে।