26/03/2024
🍚যাকাতুল ফিৎর হুকুম ও তার বিবরন।
কি কি দ্বারা ফিৎরা দিতে হবে.? টাকা দ্বারা কি ফিৎরা দেওয়া যাবে.?? সুন্নাহ কোনটি❓
""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""
যাকাতুল ফিৎর যা রামাযানের শেষ মুহুর্তে ঈদুল ফিতরের এর পূর্বে আদায় করতে হয়। জীবিত নারী পুরুষ ধনি-গরিব-ছোট-বড় সকলের উপর ফরয, এ ব্যাপারে হাদীছে এসেছে
عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: فَرَضَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ زَكَاةَ الْفِطْرِ صَاعًا مِنْ تَمْرٍ أَوْ صَاعًا مِنْ شَعِيرٍ عَلَى الْعَبْدِ وَالْحُرِّ وَالذَّكَرِ وَالْأُنْثى وَالصَّغِيْرِ وَالْكَبِيْرِ مِنَ الْمُسْلِمِينَ وَأَمَرَ بِهَا أَنْ تُؤَدَّى قَبْلَ خُرُوْجِ النَّاسِ إِلَى الصَّلَاةِ
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘ওমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) মুসলিমদের প্রত্যেক গোলাম, আযাদ, পুরুষ, নারী, ছোট-বড় সকলের জন্য এক সা‘ খেজুর’, অথবা এক সা‘ যব সদাক্বায়ে ফিত্বর ফরয করে দিয়েছেন। এ ‘সদাক্বায়ে ফিত্বর’ ঈদুল ফিত্বরের ছালাতে বের হবার পূর্বেই আদায় করতে হুকুম দিয়েছেন।-(বুখারী হা/১৫০৩, ‘যাকাত’ অধ্যায়, ‘ছাদাকাতুল ফিৎর’ অনুচ্ছেদ; মুসলিম হা/৩৮৪; মিশকাত হা/১৮১৫)। অন্য বর্ণনায় এসেছে..
টাকা দ্বারা ফিৎরা আদায়ের রীতি ইসলামের সোনালী যুগে ছিল না। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) ও ছাহাবায়ে কেরাম টাকা দ্বারা ফিৎরা আদায় করেছেন মর্মে কোন প্রমাণ পাওয়া যায় না।
রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর যুগে স্বর্ণ ও রৌপ্য মুদ্রা বাজারে চালু থাকা সত্ত্বেও তিনি খাদ্য বস্ত্ত দ্বারা ফিৎরা আদায় করেছেন, আদায় করতে বলেছেন এবং বিভিন্ন শস্যের কথা হাদীছে উল্লেখ রয়েছে। আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) বলেন,
كُنَّا نُخْرِجُ زَكَاةَ الْفِطْرِ صَاعًا مِنْ طَعَامٍ أَو صَاعًا مِنْ شَعِيْرٍ أَو صَاعًا مِنْ تَمْرٍ أَوْ صَاعًا مِنْ أَقِطٍ أَوْ صَاعًا مِنْ زَبِيْبٍ
‘আমরা এক ছা‘ ত্বা‘আম বা খাদ্য, অথবা এক ছা যব, অথবা এক ছা খেজুর, অথবা এক ছা পনির, অথবা এক ছা কিশমিশ থেকে যাকাতুল ফিৎর বের করতাম।-(বুখারী হা/১৫০৬; মুসলিম হা/৯৮৫; মিশকাত হা/১৮১৬।)।
উল্লেখ্য যে অর্ধ ছা' ফিৎরা দেওয়ার কোন ছহীহ মারফু হাদীছ নেই। অর্ধ ছা’ গম ফিতরা দেওয়ার ব্যাপারটা মুআবিয়া (রাঃ)-এর নিজস্ব মত; যে মতের বিরোধিতা করেছেন আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) ও তৎকালিন উপস্থিত অন্যান্য ছাহাবায়ে কেরাম।
অতএব খাদ্যশস্য দ্বারা এক ছা' তথা আমাদের দেশের আড়াই কেজি পরিমান খাদ্য (চাউল) ‘যাকাতুল ফিৎর’ হিসেবে আদায় করাই ইসলামী শরী‘আতের বিধান। টাকা-পয়সা দ্বারা ফিৎরা প্রদান করা সুন্নাহ পরিপন্থী।
আপনি নিজে যা খান তা থেকেই ফিৎরা দানের মধ্যে অধিক মহববত ও বরকত নিহিত থাকে। যে ব্যক্তি ৪০ টাকা কেজি দরের চাউল খান সে উক্ত মানের চাউল এক ছা‘ ফিৎরা দিবেন। আর যে ব্যক্তি ৫০/৭০ টাকা কেজি দরের চাউল খান সে উক্ত মানের চাউল এক ছা‘ ফিৎরা দিবেন। উল্লেখ্য যে, বর্তমানে টাকা-পয়সার দ্বারা ফিৎরা আদায়ের ফলে একজন রিক্সা চালক যে ৪০ টাকা কেজি দরের চাউল খায়, আর একজন দেশের মন্ত্রী যে ৭০-১০০ টাকা কেজি দরের চাউল খান, উভয়ের যাকাতুল ফিৎরের মান সমান হয়ে যায়। অর্থাৎ সরকার কর্তৃক নির্ধারিত টাকা দ্বারা রাজা প্রজা সকলেই ফিৎরা আদায় করে থাকে। যা ইসলামী বিধান ও সাথে মানুষের বিবেক বিরোধী।
◼️ফিৎরা সামাজিক ভাবে বাইতুল মালে জমা করে বিতরন করাঃ
ঈদুল ফিতরের ১/২ দিন আগে বাইতুল মাল জমাকারী দায়িত্বশীলের নিকট ফিৎরা জমা করা ছাহাবাদের সুন্নাত,
كَانَ ابْنُ عُمَرَ يُعْطِيهَا الَّذِينَ يَقْبَلُونَهَا وَكَانُوا يُعْطُونَ قَبْلَ الْفِطْرِ بِيَوْمٍ أَوْ يَوْمَيْنِ ইবনু ‘ওমার (রাঃ) প্রাপ্ত বয়স্ক ও অপ্রাপ্ত বয়স্ক সকলের পক্ষ হতেই সদাকাতুল ফিৎর আদায় করতেন, এমনকি আমার সন্তানদের পক্ষ হতেও সদাকাহর দ্রব্য গ্রহীতাদেরকে দিয়ে দিতেন এবং ঈদের এক-দু’ দিন পূর্বেই আদায় করে দিতেন।-(ছহীহুল বুখারী হা/১৫১১)।
ঈদুল ফিৎরের দু’তিন দিন পূর্বে খলীফার পক্ষ হ’তে ফিৎরা জমাকারীগণ ফিৎরা সংগ্রহের জন্য বসতেন ও লোকেরা তাঁর কাছে গিয়ে ফিৎরা জমা করত। ঈদের পরে হকদারগণের মধ্যে বণ্টন করা হ’ত।-(দ্রঃ বুখারী, ফাৎহুর বারী হা/১৫১১-এর আলোচনা, মির'আত ১/২০৭ পৃঃ, মাসিক আত-তাহরীক রামাযান ও ছিয়াম অধ্যায়)। তবে ঈদের জামাতের পূর্বেও ফিৎরা বণ্টন করা যাবে।
👉প্রশ্ন থাকতে পারে তাহলে গরিব মিসকিনরা ঈদ করবে কি দিয়ে.❓ জওয়াব হলোঃ আপনার এই সামান্য ফিৎরা দিয়ে তারা ঈদ করবে তার কোন দলিল পাওয়া যায়না। বরং তাদের ঈদ করার জন্য ও ইফতারের জন্য আপনি বেশি বেশি দান সাদাকা করুন, রাসূল (ছাঃ) রামাযান মাসে বেশি বেশি দান করতেন। আপনিও পারেন কয়েকটা পরিবারে ঈদের খরচ বহন করতে। যা দান করবেন তাই আপনার নিজের পরকালের জন্য থেকে যাবে।
অতএব সঠিক সময়ের মধ্যে ফিৎরা দ্রব্য জমা করে বিতরন করুন। কোন ভাবেই অবহেলা অলসতা করবেন না। ফিৎরার জন্য প্রচুর সম্পদের মালিক হতে হয়না, সকলকেই ফেৎরা দিতে হবে। আপনি হক্বদার হলে আপনিও প্রয়োজনে ফিৎরা নিতে পারবেন। তাই বলছি প্রিয় ভাই গরিবের হক্ব গরিবকে দিয়ে দিন,,নচেৎ পরকাল অতিব ভয়াবহ আযাব অপেক্ষা করছে। আল্লাহ আমাদেরকে তার ও রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এর বিধান মেনে চলে কামিয়াবী হওয়ার তাওফিক দান করুন..আমীন।