18/03/2026
মানুষকে ঘিরে একটা বড় ভুল ধারণা আমরা লালন করি কাউকে ছাড়া বেঁচে থাকা সম্ভব নয়, সে আমাকে ছাড়া থাকতে পারবে না। সত্যটা হলো, মানুষ ভয়ংকর রকমের মানিয়ে নিতে পারে। সে শিখে ফেলে, বদলে যায়, এমনকি ভুলেও যায়। তাই কাউকে ছাড়া থাকা অসম্ভব, এই ভাবনাটা আসলে এক ধরনের আবেগী।
আজকের মানুষ আবেগের চেয়ে হিসাব বেশি বোঝে। অনুভূতি আর বাস্তবতার মধ্যে দূরত্ব এতটাই বেড়েছে যে, একটাকে আরেকটার সঙ্গে মেলানোই কঠিন। এই অভিনয়ের যুগে প্রকৃত টান খুঁজে পাওয়া সত্যিই দুর্লভ। এখন আর কেউ কাউকে আঁকড়ে ধরে রাখতে চায় না, কারণ ধরে রাখার মতো বিশ্বাস, ধৈর্য আর দায়বদ্ধতা ক্রমশ বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে।
ভালোবাসা একসময় ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী শক্তি।
সমাজ যখন বিরোধিতা করেছে, খাদিজা (রা.) তখন তিনি পাশে ছিলেন মুহাম্মদ (সা.) এর শেষ পর্যন্ত। আবার জুলিয়েট নিজের ভালোবাসার জন্য সমাজ, পরিবার সবকিছুর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিল। ভালোবাসার জন্য নিজের জীবন পর্যন্ত তুচ্ছ করে দেওয়ার সেই সাহস আজ কেবল গল্পেই সীমাবদ্ধ।
আর ইতিহাসের পাতা ছাড়াও বাস্তব জীবনেও অসংখ্য নারী তাদের ভালোবাসার মানুষটির জন্য নিজের স্বপ্ন, স্বাচ্ছন্দ্য, এমনকি পুরো জীবনটাই বদলে দিয়েছে। কেউ পরিবার ছেড়েছে, কেউ সমাজের বিরোধিতা সহ্য করেছে, কেউ নিঃশব্দে নিজের চাওয়া-পাওয়া বিসর্জন দিয়েছে, শুধু একজন মানুষকে ভালোবেসে।
কিন্তু এখন ভালোবাসা আর যথেষ্ট নয়। মানুষের চাহিদা, প্রত্যাশা আর ব্যক্তিস্বার্থ ভালোবাসার সীমা ছাড়িয়ে গেছে অনেক আগেই।
আজ যদি কেউ কাউকে গভীরভাবে ভালোবাসে, সেটাকে সম্মান করার বদলে অনেকেই তা নিয়ে উপহাস করে। ভালোবাসাকে দুর্বলতা ভেবে সেটাকে কাজে লাগাতে চায়, ব্ল্যাকমেইলের অস্ত্র বানায়। একসময় ভালোবাসার মানুষটিও ক্লান্ত হয়ে যায়। সে অভ্যস্ত হয়ে যায় অবহেলায়, শিখে নেয় দূরত্বে।
তাই কেউ যদি বলে, “আমি তোমাকে ছাড়া থাকতে পারব না,” সেটাকে সুযোগ হিসেবে নয়, ভাগ্য হিসেবে দেখা উচিত। এই স্বার্থপর দুনিয়ায় কে ই বা এখন আর নিজের কাছে কাউকে রাখতে চায়? এই বিশ্বাসকে পুঁজি করে কাউকে ব্যবহার না করে তার অনুভূতিকে সম্মান দেওয়া উচিত।
কারণ একদিন সে যদি সত্যিই তোমাকে ছাড়া বাঁচতে শিখে ফেলে, মাথা চাপড়ানো ছাড়া আর কোন রাস্তা থাকবে না।
যদি প্রতিদান না দেওয়া যায়, তুবু অন্তত তাকে ছোট করা উচিত না।