06/08/2025
প্রোডাক্টের দাম কিভাবে ঠিক করবেন?
অনেকেই ভাবে —
“কাঁচামালের দাম ৫০ টাকা, বিক্রি করলাম ৬০ টাকায়। ১০ টাকার লাভ!”
আসলে কি এত সোজা?
না।
প্রোডাক্টের সঠিক দাম ঠিক করতে হলে শুধু কাঁচামাল নয়, আরও অনেক বিষয় মাথায় রাখতে হয়। চলুন সহজভাবে বুঝে নিই।
১. কাঁচামাল + আনা নেওয়ার খরচ
প্রোডাক্ট তৈরির মূল উপাদানই কাঁচামাল।
কিন্তু সেটা কিনে আনতেও তো সময়, শ্রম ও ভাড়া লাগে।
কাজটা নিজে না করে যদি ডেলিভারিম্যান দিয়ে করাতেন কত খরচ হতো? এটা হিসেব করছেন তো?
২. সময়ের মূল্য
একটা প্রোডাক্ট বানাতে কত সময় লাগে?
১ ঘণ্টা? ২ ঘণ্টা?
আপনার সময়েরও একটা মূল্য আছে। সময়ের মূল্য ধরছেন তো?
৩. আপনার শ্রম
সব কাজ নিজের হাতে করছেন —
মোল্ডিং
আনমোল্ডিং
ঘষামাজা
সিলার করা
রং করা
ডেকোপেজ
বার্নিশ
প্যাকেজিং
এগুলো কিন্তু সহজ কাজ না।
মনেকরুন, আপনি না করে এই কাজটা যদি আপনার বাসার বুয়াকে করতে বলতেন — উনি কি ফ্রি করতেন? নিশ্চয় না। নিশ্চিতভাবে আপনার শ্রমের মূল্য বুয়ার শ্রমের মূল্য থেকে বেশী? কত বেশী আপনিই ঠিক করুন। তাহলে নিজের শ্রমের দাম ধরবেন না কেন?
৪. ভুল ও ক্ষতির হিসাব
৫টা পণ্য বানাতে গিয়ে যদি ১টা ভেঙে যায়, সেই ক্ষতির হিসাবটা কোথায়? পণ্যে কিছু অবচয় হবেই, মোল্ড ক্ষয়ে যাচ্ছে- সেটা আগে থেকেই হিসেব করা উচিত।
৫. সৃজনশীলতার মূল্য
নতুন ডিজাইন, রঙ, আইডিয়া —
এগুলো আপনার মস্তিষ্কের শ্রম।
এরও তো একটা দাম থাকা উচিত। ক্রিয়েটিভির মূল্য ধরবেন না?
তাহলে হিসাব কেমন হবে?
কাঁচামাল + আনা নেওয়ার খরচ + সময়ের দাম + শ্রম + ভুল/ক্ষতি + ক্রিয়েটিভিটি
+ প্যাকেজিং= প্রোডাক্টের কস্টিং
এতক্ষণে আপনি আপনার প্রোডাক্টের উৎপাদন খরচ পেলেন।
এরপর আপনি ঠিক করবেন— আপনি ১০% লাভ করবেন, না ২০%, না ৫০%?
এবার আপনার প্রোডাক্টের মূল্য বসান।
আপনার পণ্য তৈরি করতে সময়, শ্রম, চিন্তা—সবই খরচ হচ্ছে।
এই মূল্যগুলো ঠিকভাবে ধরতে না পারলে, আপনি শুধু পণ্য বিক্রি করছেন না — নিজের শ্রমও সস্তায় বিক্রি করছেন।
নিজেকে সস্তা করে দেখাবেন না —
আপনি যত মূল্য দিবেন নিজেকে, ক্রেতারাও তত মূল্য দেবে আপনাকে।