04/06/2026
আত্মীয়-স্বজনের সাথে কেমন সম্পর্ক রাখা উচিৎ:
----------------------------------------------------------------------
আত্মীয়-স্বজন বা রক্তের সম্পর্কের অধিকার এবং তাদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখার গুরুত্ব সম্পর্কে ইসলামে এবং সামাজিকভাবে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা বা 'হদিস' (নির্দেশনা) রয়েছে। নিচে প্রধান কিছু পয়েন্ট তুলে ধরা হলো:
১. সদ্ব্যবহার ও সুসম্পর্ক (সিলারিহমি)
ইসলামে আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখাকে 'সিলারিহমি' বলা হয়, যা ইবাদতের সমতুল্য।
বিচ্ছিন্ন না করা: পবিত্র কুরআনে এবং হাদীসে বারবার সতর্ক করা হয়েছে যেন কোনো অবস্থাতেই আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা না হয়।
অমুসলিম আত্মীয়: আত্মীয় যদি অন্য ধর্মাবলম্বীও হন, তবুও তাঁর সাথে মানবিক ও ভালো আচরণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
২. অধিকারের অগ্রাধিকার
পারিবারিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে আত্মীয়দের হক বা পাওনা সবার আগে।
দান-সদকা: কোনো অভাবী আত্মীয়কে সাহায্য করলে দ্বিগুণ সওয়াব পাওয়া যায়—একটি হলো সাধারণ দান বা সদকার সওয়াব, আর অন্যটি হলো আত্মীয়তার হক আদায়ের সওয়াব।
প্রতিবেশী আত্মীয়: যদি কোনো প্রতিবেশী আপনার আত্মীয় হন, তবে তিনি সাধারণ প্রতিবেশীর চেয়ে বেশি অধিকার পান।
৩. ধৈর্য ও ক্ষমা
অনেক সময় আত্মীয়দের মধ্যে মান-অভিমান বা তিক্ততা তৈরি হয়। এক্ষেত্রে বড় গুণ হলো:
উত্তম ব্যবহার: কেউ সম্পর্ক ছিন্ন করতে চাইলেও নিজের পক্ষ থেকে তা জোড়া লাগানোর চেষ্টা করা।
ক্ষমা করা: ছোটখাটো ভুল বা আচরণকে বড় করে না দেখে ক্ষমা করে দেওয়া সুসম্পর্ক বজায় রাখার মূল চাবিকাঠি।
৪. সুসম্পর্কের সুফল
বিভিন্ন বর্ণনায় এসেছে যে, আত্মীয়দের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখলে:
মানুষের রিজিক (জীবিকা) বৃদ্ধি পায়।
মানুষের হায়াত (আয়ু) এবং জীবনে বরকত বৃদ্ধি পায়।
পারিবারিক ও মানসিক শান্তি বজায় থাকে।
একটি জরুরি বিষয়:
পারিবারিক সুসম্পর্ক বজায় রাখতে প্রয়োজন পারস্পরিক যোগাযোগ। বর্তমান সময়ে ব্যস্ততার মাঝেও অন্তত ফোন বা মেসেজের মাধ্যমে খোঁজখবর নেওয়াটাও আত্মীয়তার হক আদায়ের অন্তর্ভুক্ত।