21/09/2021
📒ডিজিটাল মার্কেটিং এ ক্যারিয়ার:
বর্তমানে পুরো পৃথিবীতে মোবাইল, কম্পিউটার এবং ইন্টারনেট ইত্যাদি প্রযুক্তির ব্যবহার ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। যার ফলে মানুষ এখুন তাদের ব্যবসা বাণিজ্য কোনো পাড়া-মহল্লা, শহর, অথবা কোনো দেশ এর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চান না। পুরো বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে চান এবং তাদের এই কাজকে সহজ করে দিয়েছে ডিজিটাল মার্কেটিং।
ডিজিটাল মার্কেটিং কি?
ডিজিটাল মার্কেটিং সম্পর্কে জানার পূর্বে আমাদের জানতে হবে যে মার্কেটিংটা কি। মার্কেটিং হচ্ছে কোনো কিছুর প্রচার। সেইটা হইতে পারে কোনো কোম্পানি বা পণ্য বা সার্ভিস এর প্রচার। এখন আসা যাক ডিজিটাল মার্কেটিং এ ।যদিও প্রধানত ডিজিটাল মার্কেটিং বলতে ইন্টারনেট এবং অনলাইন ভিত্তিক মার্কেটিং কে বুঝায়, কিন্তু টিভি, মোবাইল ফোন এবং ইলেকট্রনিক বিলবোর্ডস এর মাধ্যমেও যে মার্কেটিং করা হয় তাকেও ডিজিটাল মার্কেটিং বলে।সুতরাং ডিজিটাল প্রযুক্তি, যেমন কম্পিউটার, মোবাইল ফোন, টিভি এবং অন্যান্য ডিজিটাল মিডিয়া ও প্ল্যাটফর্মগুলি ব্যবহার করে যে মার্কেটিং করা হয় তাকে ডিজিটাল মার্কেটিং বলে এবং যারা এই ধরনের মার্কেটিং এর কাজ করে তাদের বলা হয় ডিজিটাল মার্কেটার।
ডিজিটাল মার্কেটিং এর সুবিধা
আগে কোনো কিছু প্রচার এর জন্য আমাদের মানুষের ঘরে ঘরে, পাড়া মহল্লায়, দোকানে দোকানে এবং হাট বাজারে যাওয়া লাগতো। অথবা দেয়ালে পোস্টার টাঙানো লাগতো। কিন্তু বর্তমানে ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে খুব অল্প সময় এর মধ্যে পুরো পৃথিবীতে অসংখ্য মানুষের কাছে প্রচার করা সম্ভব হচ্ছে। যার ফলে মানুষের শারীরিক পরিশ্রমকমে যাচ্ছে এবং সময়ও বেঁচে যাচ্ছে! ডিজিটাল মার্কেটিং এর সবথেকে বড়ো সুবিধা হচ্ছে – কম্পিউটার অথবা মোবাইল ফোন এবং ইন্টারনেট ব্যবহার করে ঘরে বসেই কাজ করা যায়।
ডিজিটাল মার্কেটিং এ ক্যারিয়ার গড়া
আপনি চাইলেই ডিজিটাল মার্কেটিংকে আপনার পেশা হিসেবে বেছে নিতে পারেন এবং আপনার হাতে রয়েছে ৩টি অপশন।
১. আপনি কোনো প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানি বা আইটিফার্ম এর আন্ডারে কাজ করতে পারেন।
২. ফ্রীলান্সার হিসেবে বিভিন্ন অনলাইন মার্কেট প্লেসএ কাজ করতে পারেন।
৩. স্বাধীন ভাবে নিজে নিজে বাসায় বসে কাজ করতে পারেন।
কোম্পানি বা আইটিফার্ম এর আন্ডারে এ জব করার সুবিধা-অসুবিধা
বর্তমান যুগ হচ্ছে ডিজিটাল যুগ।আর বিভিন্ন ডিজিটাল প্লাটফর্ম মানুষের কাজকে সহজ করে দিয়েছে। যেমন এখন একজন ব্যবসায়ী অথবা কোনো কোম্পানি (হোক সে ছোট বা বড়) ডিজিটাল প্লাটফর্ম ব্যবহার করে তার বা তাদের পণ্যের প্রচার করতে পারছেন খুব সহজেই। তবে সবাই যে নিজে নিজে তার প্রতিষ্ঠানের বাব্যবসার ডিজিটাল মার্কেটিং করতেছেন তা নয়। যারা দক্ষ এবং সময় আছে শুধু মাত্র তারাই নিজেদের কাজ নিজেরা করতেছেন। তাছাড়া সবাই ডিজিটাল মার্কেটারদের দিয়ে কাজ গুলো করিয়ে নিচ্ছেন। তাই ডিজিটাল মার্কেটিং কে আপনার পেশা হিসেবে বেছে নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। তবে এর জন্য অবশ্যই দক্ষ হতে হবে।কারো আন্ডার এ ডিজিটাল মার্কেটিং জব করার সব থেকে বড় সুবিধা হচ্ছে যে আপনি প্রতি মাসে আপনার নির্ধারিত বেতন পাবেন। তাই আপনার ইনকাম নিয়ে টেনশন করা লাগবেনা। তবে অসুবিধা হইলো যে প্রতি মাসে আপনার ইনকাম বাড়ার সম্ভাবনা নাই।
ফ্রীলান্সার হিসেবে বিভিন্ন অনলাইন মার্কেট প্লেসে কাজ করার সুবিধা -অসুবিধা
বিভিন্ন ফ্রীল্যান্সিং ওয়েবসাইট গুলোতে প্রচুর পরিমানে ডিজিটাল মার্কেটিং এর কাজ রয়েছে। সুতরাং আপনি যদি একজন এক্সপার্ট ডিজিটাল মার্কেটার হয়ে থাকেন তাহলে আপনার কাজের কোনো অভাব হবে না এবং আপনার কাজ পেতে ও কোনো সমস্যা হবে না।তবে নতুনদের জন্য এইসব মার্কেট প্লেস থেকে কাজ পেতে কিছুটা সমস্যা হইতে পারে। কারণ অনলাইন মার্কেটপ্লেস গুলোতে কাজ এর জন্য আবেদন করতে হয় এবং যিনি কাজ দিবেন তিনি ইন্টারভিউ এর মাধ্যমে এক-বা একাধিক ব্যক্তিকে কাজ এর জন্য নিয়োগ দিয়ে থাকেন। এবং কাজ দাতারা সাধারণত এক্সপার্টদের বেশি প্রাধান্য দিয়ে থাকেন।উল্লেখ্য – মার্কেটপ্লেস গুলোতে কাজ দাতাদের বায়ার বলে এবং ওয়ার্কারদের ফ্রীলান্সার বলে। এবং দুইটি জনপ্রিয় মার্কেটপ্লেস হচ্ছে আপওয়ার্ক ডট কম এবং ফ্রীলান্সার ডট কম।
স্বাধীন ভাবে নিজে নিজে ডিজিটাল মার্কেটিং এ কাজ করার সুবিধা-অসুবিধা
নিজে নিজে ডিজিটাল মার্কেটিং এ কাজ করার সুবিধা হইলো আপনাকে আপনার কাজ এর জন্য জবাব দিহি করা লাগবে না। এবং আপনার ইনকাম এর কোনো লিমিট থাকবে না। নিজে নিজে কাজ করার অসুবিধা হইলো যে আপনার ইনকাম কখনও ফিক্সড হবে না। প্রতি মাসে আপনার ইনকাম বাড়তেও পারে আবার কমতেও পারে। এমন কি কোনো ইনকাম নাও হইতে পারে! তাই নিজে নিজে কাজ করা সব সময় রিস্কি। যদিও রিস্কি তারপর ও মানুষ নিজে নিজে কাজ করতে বেশি সাছন্দ বোধ করে। কারণ মানুষ স্বাধীনভাবে কাজ করতে ভালোবাসে।নিজে নিজে ডিজিটাল মার্কেটিংএ কাজ করার জন্য যা লাগবে;
প্রথমে কম্পিউটার, মোবাইল ফোন, এবং ইন্টারনেট কানেকশন অবশ্যই থাকা লাগবে এবং এই ডিভাইস গুলি কি ভাবে ব্যবহার করতে হয় সেগুলো জানা লাগবে। তারপর ইংরেজীতে মোটামোটি হলেও পারদর্শী হওয়া লাগবে। তারপর কিভাবে ডিজিটাল মার্কেটিং করতে হয় সেই সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকা লাগবে। সবার শেষে লাগবে ধৈর্য আপনার ধৈর্যনা থাকলে আপনি এখানে কাজ করতে পারবেন না।
ডিজিটাল মার্কেটার হতে হলে যে ধরনের দক্ষতার প্রয়োজন হয়?
ডিজিটাল মার্কেটিং যেহেতু অনেক বড় একটা সেক্টর তাই এটার এক এক অংশের জন্য এক এক রকম দক্ষতার প্রয়োজন হয়। তবে এর মধ্যে কিছু যায়গা আছে যেখানে আপনার অবশ্যই দক্ষতা অর্জন করতে হবে। এই বেসিক যায়গাটাতে যদি দুর্বলতা থাকে তাহলে আপনি কখনই ভাল ডিজিটাল মার্কেটার হতে পারবেন না। এই পোস্টে আমি মূলত আপনাদেরকে এই যায়গাতেই গাইডলাইন দেয়ার চেষ্টা করবো।
১) রিসার্চ
যে কোন মার্কেটিং এর মুল যায়গা হচ্ছে রিসার্চ। কাস্টমার কি চাচ্ছে, তাদের সাইকোলজি, তাদের ভৌগলিক অবস্থা, তাদের ধার্মিক চিন্তা ভাবনা, তাদের সংস্কৃতি ইত্যাদি। এছাড়াও তাদের বয়স, তাদের অর্থনৈতিক অবস্থা এই যায়গা গুলোতেও আমাদের পর্যাপ্ত ধারনা থাকার দরকার পরবে। আপনি যত ভাল রিসার্চ করতে পারবেন, আপনি তত ভাল মার্কেটার হতে পারবেন। আপনার প্রতিটা স্ট্র্যাটেজির ডেভেলপ করার পুর্বে আপনাকে রিসার্চ করতে হবে। শুধু তাই নয়, আপনাকে দেখতে হবে আপনার কম্পিটিটর একচুয়েলি কি করছে? কিভাবে করছে? পসিবল ফিডব্যাক কেমন আসছে?
তাই ডিজিটাল মার্কেটার হতে চাইলে আপনাকে অবশ্যই রিসার্চ করার স্কীল ডেভেলপ করতে হবে।
২) ট্যুল এর ব্যাবহার
ডিজিটাল মার্কেটিং এর প্রতিটা ক্ষেত্রেই আপনার টুল দরকার হবে। ওয়েবের মজার বেপার গুলাই হচ্ছে এই টুল। টুল গুলো আপনার পুরো প্রসেসটা সহজ করে দিবে। ডাটা ট্রাকিং হতে রিপোর্টিং, অরগানাইজিং হতে ফিল্টারিং সব কিছুই করা যায় টুল দিয়ে। আপনার শুধু জানতে হবে কোন টুলটা ভাল এবং কিভাবে কাজ করে। কিভাবে টুল গুলো থেকে পর্যাপ্ত রিটার্ন জেনারেট করা যায়। তাই ডিজিটাল মার্কেটার হতে হলে আপনাকে অবশ্যই নতুন নতুন টুল ব্যাবহার করার মেন্টালিটি তৈরি করতে হবে।
আপনার প্রোডাক্টিভিটি বাড়াতে এই একটি ছোট এবং ফ্রী টূল কিভাবে আপনাকে সাহায্য করতে পারে তার জন্য এই ভিডিওটি দেখতে পারেন।
এছাড়াও মার্কেটিং অটমেশনের জন্য আপনি হাবস্পট, মেইলচিম্প, বাফার এপ ব্যাবহার করতে পারেন।
টিম ম্যানেজমেন্টের জন্য আসানা অথবা ট্রেলো ব্যাবহার করতে পারেন।
ওয়েব রিসার্চ করার সময়ও কিন্তু আপনার বিভিন্ন টুল এর দরকার পরবে।
৩) প্রেসেন্টেশন
ডিজিটাল মার্কেটারকে প্রতিনিয়ত অনেক কিছু প্রেসেন্ট করতে হয়, নানা ভাবে প্রেসেন্ট করতে হয়। বিটুবি তে একরকম প্রেসেন্টেশন আবার বিটুসি তে আরেক রকম। ওয়েব কন্টেন্ট হতে শুরু করে ইমেইল, এড কপি, সব যায়গাতেই কিছুটা ক্রিয়েটিভিটি শো করতে হয়। কাস্টমারের সাইকোলজি, ডিজিটাল চ্যানেলের এলগরিদম এবং টুলের সিমাবদ্ধতা সহ সবকিছু মাথায় রেখে প্রেসেন্টেশন তৈরি করতে হয়। পন্য অথবা সার্ভিসকে প্রেসেন্ট করতে হয়। তাই একজন ডিজিটাল মার্কেটারের অবশ্যই প্রেসেন্টেশন স্কীল ডেভেলপ করতে হয়।
৪) কন্টেন্ট ক্রিয়েশন
ডিজিটাল মার্কেটিং আসলে কন্টেন্টের খেলা। সঠিক সময়ে সঠিক ভাবে সঠিক মানুষের কাছে কন্টেন্ট পৌছে দেয়া। এখন কন্টেন্ট অনেক রকম হতে পারে। টেক্সট, ইমেইজ, ভিডিও। আবার প্রমোশনাল, ইমোশনাল, এডুকেটিভ ইত্যাদি। তাই একজন ডিজেটাল মার্কেটার হতে গেলে কন্টেন্ট তৈরির যায়গাগুলো, ক্ষেত্র গুলো জানতে হবে। তৈরি করা জানতে হবে। হয়ত প্রফেশনাল কপি রাইটার আপনাকে সাহায্য করবে, কিন্তু আপনার তা যাচাই করার দক্ষতা তৈরি করতে হবে।
কন্টেন্ট তৈরির দক্ষতা অর্জনের জন্য অনেক বেশি কন্টেন্ট দেখতে হবে, পড়তে হবে। তারপর সেখান থেকে আইডিয়া নিয়ে কন্টেন্ট তৈরি করার চেষ্টা করতে হবে। এছাড়াও হ্যামিংওয়ে এপ এর মত কিছু টুল আছে যা আপনার প্রসেসকে সহজ করে দিবে।
৫) সেলিং স্কীল
যদিও মার্কেটিংএ আপনাকে সরাসরি সেলিং এর সাথে কানেক্টেড থাকতে হচ্ছে না, কিন্তু আপনার টিম থেকে পর্যাপ্ত রিটার্ন জেনারেট করতে চাইলে আপনাকে অবশ্যই সেলিং স্কীল ডেভেলপ করতে হবে। কিভাবে নেগোশিয়েট করতে হয় তার দক্ষতা তৈরি করতে হবে। কিভাবে কনভিন্স করতে হয় সেই দক্ষতা তৈরি কতে হবে। এটা হয়ত একদিনেই অর্জন করা সম্ভব নয়, তবে একদিন পরে শুরু করা মানে, একদিন পিছিয়ে যাওয়া। পর্যাপ্ত সেলিং স্কীল না থাককে কন্টেন্ট তৈরিতেও অনেক সময় কষ্ট করতে হয়। আমাদের মনে রাখতে হবে মার্কেটিং এর মুল কাজ হচ্ছে সেলস প্রসেসটা সহজ করা, কনভার্ট যাতে হয় সেটা মাথায় রেখেই মার্কেটিং প্লান তৈরি করতে হয়, তাই সেলস রিলেটেড পর্যাপ্ত দক্ষতা না থাকলে অনেক সময় পর্যাপ্ত রিটার্ন জেনারেট করতে একটু সমস্যা হয়ে যায়।
তাই আপনারা যারা ডিজিটাল মার্কেটার হতে চাচ্ছেন তাদের অবশ্যই এই যায়গাগুলোতে ফোকাস করা উচিত। এই যায়গা গুলোতে দক্ষতা তৈরি করতে হবে।
নতুনরা কোথায় ডিজিটাল মার্কেটিং শিখবেন?
আজকাল বাজারে ডিজিটাল মার্কেটিং শিক্ষার বই অথবা ভিডিও ডিস্ক (সিডি/ডিভিডি) কিনতে পাওয়া যায়। সুতরাং আপনি চাইলেই সেগুলো কিনে শিখতে পারেন। আপনি যদি ইন্টারনেট থেকে সার্চ করে কোনো ইনফরমেশন বা তথ্য খুঁজতে জানেন তাহলে আপনি গুগল এ সার্চ করে বিভিন্নও ওয়েবসাইট, ব্লগ অথবা ইবুক পড়েও শিখতে পারেন।
নতুনদের জন্য পরামর্শ
নতুনরা যারা ডিজিটাল মার্কেটিংএ ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহী তারা কাজ শিখে প্রথমে অনলাইনএ নিজে নিজে ট্রাই করতে পারেন। যদি ভালোমতো কাজকরতে পারেন তাহলে পরবর্তীতে আপনি চাইলেই কোনো প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানি বা আইটি ফার্ম এর আন্ডারে কাজ করতে পারেন। অথবা ফ্রীলান্সার হিসেবে বিভিন্ন অনলাইন মার্কেটপ্লেসএ কাজ করতে পারেন।