Leadup media

Leadup media অপরাধ ও অপরাধী সম্পর্কে জানতে চোখ রাখুন লিড আপ মিডিয়াতে ।

বাংলাদেশিরা সুইস ব্যাংক থেকে টাকা সরিয়ে কোথায় রাখছেন ?বৈধ-অবৈধ বা পাচারকৃত অর্থ গচ্ছিত রাখতে বাংলাদেশসহ পৃথিবীর অনেক দেশ...
25/06/2023

বাংলাদেশিরা সুইস ব্যাংক থেকে টাকা সরিয়ে কোথায় রাখছেন ?

বৈধ-অবৈধ বা পাচারকৃত অর্থ গচ্ছিত রাখতে বাংলাদেশসহ পৃথিবীর অনেক দেশের বিত্তশালীরাই সুইস ব্যাংকগুলোকে পছন্দ করেন। পরিসংখ্যান বলছে, বিগত নির্বাচনী বছরগুলোতে অন্য বছরের তুলনায় সুইচ ব্যাংকে বাংলাদেশিদের অর্থ জমা রাখার পরিমাণ বাড়ছিল। কিন্তু দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সুইস ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের অর্থ জমার পরিমাণ বৃদ্ধির ধারণা করা হলেও ঘটেছে উল্টো।
এবার নির্বাচনী বছরে সুইজ ব্যাংকগুলো থেকে ৯৩ দশমিক ৭ শতাংশ অর্থ তুলে নিয়েছেন বাংলাদেশিরা, যার পরিমাণ সাড়ে ১০ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু এ টাকা বাংলাদেশে আসেনি। তাহলে টাকাগুলো সরানো হলো কোথায়- সে প্রশ্নের উত্তর মেলাতে কাজ করছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টিলিজেন্স ইউনিটসহ (বিএফআইইউ) একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা।
নির্বাচনি বছরে সুইচ ব্যাংকে টাকা জমা রাখার বদলে কেন টাকা সরিয়ে নিচ্ছেন বাংলাদেশিরা? কোথায় সরানো হচ্ছে এসব অর্থ? এ বিষয়ে সুইস ব্যাংকের বার্ষিক প্রতিবেদনে কিছুই উল্লেখ নেই।
আর সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের জমা অর্থের পরিমাণ একলাফে এক বছরে ৯৪ শতাংশ কমে যাওয়ায় তথ্যটি এমন এক সময়ে এসেছে, যখন দেশে অর্থ পাচারের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
অর্থনীতি বিশ্লেষকরা মনে করেন, সুইজারল্যান্ডে গোপনীয়তা কমতে থাকায়, অনেক ধনী এখন অবৈধ টাকা জমা রাখার জন্য ঝুঁকছেন, লুক্সেমবার্গ, কেম্যান আইল্যান্ড, ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ড কিংবা বারমুডার মতো ট্যাক্স হ্যাভেনের দিকে।
হঠাৎ সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকে বাংলাদেশিদের অর্থ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে যাওয়ার জন্য দেশের চলমান ডলার সংকটকেও বড় কারণ বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদেরা। তারা বলছেন, দেশে ডলারের সংকট দেখা দেওয়ায় দেশটিতে অর্থ জমার বা বিনিয়োগের সক্ষমতা হারিয়েছে অনেক প্রতিষ্ঠান। আবার অনেক প্রতিষ্ঠান সেখান থেকে অর্থ তুলে নিয়েছে।
এদিকে একাধিক বিশেষজ্ঞ ও গোয়েন্দা সূত্র বলছে, সুইস ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশি নাগরিকদের রাখা অধিকাংশ টাকাই অবৈধভাবে উপার্জিত। প্রতিবছর আমানতের তথ্য প্রকাশ করায় এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা পাচার তদারকি সংস্থাগুলো নজর ও তদারকি বৃদ্ধি করায় সুইস ব্যাংকগুলোকে আগের মতো নিরাপদ মনে করছেন না বাংলাদেশিরা। তারা এখন দুবাইকে নির্ভরশীল মনে করছেন। কেননা- দুবাই পাচারকৃত অর্থ কোনো দেশের অনুরোধে ফেরত দেয় না। দুবাই বা সংযুক্ত আরব আমিরাতে অর্থ পাচারকারীদের তথ্য প্রকাশ করা হয় না। সেখানে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ কর দিয়ে যে কেউ যে কোনো পরিমাণ অর্থ রাখতে পারে। যে কেউ যেকোনো সম্পদের মালিক হতে পারে। দুবাই বা সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রধান নীতি হলো- সেখানে বসে যদি কেউ কোনো অপরাধ না করে তাহলে অন্য দেশের অপরাধের জন্য তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে না। ফলে শুধু বাংলাদেশ নয়, বিভিন্ন দেশের লুণ্ঠনকারী, দুর্নীতিবাজ, দুর্বৃত্তদের নিরাপদ স্থানে পরিণত হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত।
গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের (এসএনবি) বার্ষিক প্রতিবেদন বলছে, ২০২১ সাল শেষে সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন ব্যাংকে বাংলাদেশিদের জমা হওয়া অর্থের পরিমাণ ছিল ৮৭ কোটি ১১ লাখ সুইস ফ্রাঁ। গত বছর, অর্থাৎ ২০২২ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫ কোটি ৫৩ লাখ সুইস ফ্রাঁতে। বাংলাদেশে সুইস ফ্রাঁর খুব বেশি লেনদেন হয় না। তবে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রতি সুইস ফ্রাঁর বিনিময় মূল্য প্রায় ১২১ টাকা। সেই হিসাবে ৫ কোটি ৫৩ লাখ সুইস ফ্রাঁতে দাঁড়ায় প্রায় ৬৬৯ কোটি টাকা।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকে শুধু যে বাংলাদেশিদের অর্থ কমেছে, তা নয়। ভারত, পাকিস্তান, সিঙ্গাপুর, চীন, রাশিয়া, সৌদি আরব, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ জমার পরিমাণও কমেছে। ২০২১ সালে সুইস ব্যাংকে ভারতীয়দের জমা অর্থের পরিমাণ ছিল প্রায় ৩৮৩ কোটি সুইস ফ্রাঁ। গত বছর তা কমে দাঁড়িয়েছে ৩৪০ কোটি সুইস ফ্রাঁতে। একইভাবে ২০২১ সালে দেশটিতে পাকিস্তানিদের জমা অর্থের পরিমাণ ছিল প্রায় ৭১ কোটি সুইস ফ্রাঁ। গত বছর তা কমে দাঁড়িয়েছে ৩৯ কোটি সুইস ফ্রাঁতে। আর সৌদি আরবের জমা অর্থের পরিমাণ অর্ধেক হয়ে গেছে এক বছরের ব্যবধানে। ২০২১ সালে সুইজারল্যান্ডে সৌদি আরবের মানুষের জমা অর্থের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৪৫ কোটি সুইস ফ্রাঁ, সেটি গত বছর কমে ৫২১ কোটিতে নেমে এসেছে।
এ ছাড়া ইউরোপের দেশ ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া রাশিয়ার অর্থও কমেছে সুইজারল্যান্ডে। তবে কমার হার সৌদি আরবের চেয়ে কম, সাড়ে ২৮ শতাংশ। ২০২১ সালে সুইজারল্যান্ডে রুশ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের জমা অর্থের পরিমাণ ছিল ২ হাজার ১৩৭ কোটি সুইস ফ্রাঁ। গত বছর তা কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫২৬ কোটি সুইস ফ্রাঁতে।
এসএনবির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত এই ২২ বছরে সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকে বাংলাদেশিদের সবচেয়ে কম অর্থ ছিল ২০০৩ সালে। ওই বছর দেশটির ব্যাংকে বাংলাদেশিদের জমা অর্থের পরিমাণ ছিল মাত্র আড়াই কোটি সুইস ফ্রাঁ। এরপর দেশটিতে বাংলাদেশিদের সর্বোচ্চ পরিমাণ অর্থ জমা হয়েছিল ২০২১ সালে, ৮৭ কোটি সুইস ফ্রাঁর বেশি।
বাংলাদেশ ব্যাংকসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের যেসব অর্থ জমা রয়েছে, সেগুলো যে সব পাচারের অর্থ, তা বলা যাবে না। কারণ, সুইজারল্যান্ড ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বসবাসকারীরাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী বাংলাদেশিরা বৈধভাবেও দেশটিতে অর্থ জমা রাখেন। ব্যক্তির পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিকভাবেও অর্থ জমা রাখা হয় দেশটির বিভিন্ন ব্যাংকে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, নানা কারণে সুইজারল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, সিঙ্গাপুর ইত্যাদি দেশগুলো এখন পাচার করা অর্থ রাখার জন্য নিরাপদ জায়গা বলে বিবেচিত হচ্ছে না। কারণ আন্তর্জাতিক অর্থ পাচার তদারকি এবং তদন্ত এখন আগের চেয়ে অনেক জোরদার হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশগুলো একটি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে অর্থ পাচার রোধ করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বাংলাদেশ থেকে যারা অর্থ পাচারকারী তাদেরকেও নানাভাবে চিহ্নিত করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।
আরেকটি কারণ হলো, সামনে নির্বাচন। নির্বাচনকে ঘিরে অনিশ্চয়তার মধ্যে যদি ক্ষমতার পট পরিবর্তন হয় তাহলে যে দেশগুলোতে পাচারকৃত অর্থের দিকে নজর যাবে তার মধ্যে অন্যতম হলো সুইস ব্যাংকগুলো। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নীতি এবং অন্যান্য পদক্ষেপের কারণে ইতিমধ্যেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকেও পাচারকারীরা অর্থ সরাতে শুরু করেছে। কিন্তু এসব অর্থ সরিয়ে বাংলাদেশে নিয়ে আসছেন না। বাংলাদেশে টাকা আসার পরিমাণ খুবই কম। দুমাস আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে বেশকিছু অর্থ আসছিল। কিন্তু এ নিয়ে আলোচনার পর এখন সেটিও বন্ধ হয়ে গেছে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সুইস ব্যাংকের টাকাগুলো মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে যাচ্ছে বলে তাদের আপাতত মনে হচ্ছে। দুবাই এখন অর্থপাচারের বড় হাব হয়েছে। বিভিন্ন ব্যক্তিরা অর্থ পাচার করে, অর্থ সম্পদ লুট করে দুর্নীতি করে এখন টাকা রাখা নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে বিবেচনা করছেন দুবাইতে। তাদের ভাষ্য, গত কয়েক বছর ধরে দুবাইয়ে সম্পদশালীদের অর্থপাচারের প্রবণতা এবং ঝোঁক বেড়েছে। তারা কথায় কথায় দুবাই যাচ্ছেন এবং দুবাইতে দোকানপাট, শপিং মল, আবাসন খাতে বিপুল পরিমাণ বাংলাদেশিদের বিনিয়োগ হচ্ছে। নানা কারণেই সুইস ব্যাংক, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডার চেয়ে দুবাইয়ে টাকা রাখা সুবিধাজনক হচ্ছে।
অন্যদিকে, সুইস ব্যাংকগুলোতে গুচ্ছিত অর্থ নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে নানারকম লেখালেখি হয়। আন্তর্জাতিক মুদ্রা পাচার তদারকি সংস্থাগুলো সুইস ব্যাংক বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অর্থপাচার গভীরভাবে মনিটরিং করে। এ কারণেই এখন মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো পাচারকারীদের নতুন ঠিকানা হয়েছে।
এ বিষয়ে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘দেশে ডলার সংকট দেখা দেওয়ায় হয়তো এসব প্রতিষ্ঠান সেখান থেকে অর্থ তুলে নিয়েছে বা নতুন করে অর্থ জমা রাখতে পারেনি। এ ছাড়া হয়তো পাচারের কিছু অর্থ দেশটি থেকে সরিয়ে নিয়েছেন কেউ কেউ।
তিনি আরও বলেন, যেহেতু বিশ্বজুড়ে একধরনের অর্থনৈতিক চাপ তৈরি হয়েছে, তাই হয়তো বৈধভাবে যারা সেখানে অর্থ জমা রাখতেন, তাদের সঞ্চয়ের সক্ষমতা কমে গেছে। তাই সার্বিকভাবে হয়তো বাংলাদেশিদের অর্থের পরিমাণ কমেছে দেশটিতে।
প্রসঙ্গত, আন্তর্জাতিক ৬টি সংস্থার রিপোর্টে বাংলাদেশ থেকে টাকা পাচারের তথ্য আসছে। এগুলো হলো-যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংস্থা গ্লোবাল ফিন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি (জিএফআই), সুইস ব্যাংক, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল কনসোর্টিয়াম ফর ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম (আইসিআইজে), পানামা প্যারাডাইস ও পেনডোরা পেপারস, জাতিসংঘের উন্নয়ন প্রোগ্রামের (ইউএনডিপি) রিপোর্ট এবং মালয়েশিয়া প্রকাশিত সেদেশের সেকেন্ড হোম রিপোর্ট।
এছাড়াও সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও সিঙ্গাপুরে বেশকিছু বাংলাদেশির অর্থ পাচারের তথ্য মিলেছে। গত বছর ডিসেম্বরে প্রকাশিত জিএফআই-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, ৬ বছরে দেশ থেকে ৪ হাজার ৯৬৫ কোটি ডলার পাচার হয়েছে। প্রতি ডলার ১১২ টাকা হিসাবে স্থানীয় মুদ্রায় ৫ লাখ ৫৬ হাজার কোটি টাকা। গড়ে প্রতিবছর পাচার হচ্ছে প্রায় ৯৩ হাজার কোটি টাকা।

রাষ্ট্রায়ত্ত বেসিক ব্যাংকের ঋণ কেলেঙ্কারির হোতা, ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হাই বাচ্চু এখন কোথায়? পালিয়েছেন ,নাকি...
18/06/2023

রাষ্ট্রায়ত্ত বেসিক ব্যাংকের ঋণ কেলেঙ্কারির হোতা, ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হাই বাচ্চু এখন কোথায়? পালিয়েছেন ,নাকি তিনি কি দেশে?

বেসিক ব্যাংকের ঋণ কেলেঙ্কারির পরও যে বাচ্চুর নাম দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আসামির তালিকায়ই ছিল না, দীর্ঘ ৮ বছর পর সেই বাচ্চুর নাম দুদকের অভিযোগপত্রে আসায় এ নিয়ে বেশ জোরেসোরে আলোচনা চলছে। বাচ্চু কোথায়- তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। গোয়েন্দাদের একটি সূত্র জানিয়েছে, গত ৭ জুনের পর গ্রামের বাড়ি বাগেরহাট বা ঢাকার কোনো বাড়িতেই তাকে দেখা যায়নি। তবে সূত্রটি বলছে, ৭ জুন বাচ্চু কানাডায় পালিয়ে যান। সেখানে তার বাড়িসহ অঢেল সম্পদ রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ধারণা, দুদকের চার্জশিটে নাম অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে-এমন খবর পেয়ে দেশ ছেড়েছেন বাচ্চু। তাহলে কি দুদকের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মকর্তারা বাচ্চুকে এ খবর দিলেন? তারাই কি তাকে এত বছর বাঁচিয়ে রেখেছিলেন মামলা থেকে? ঘুরপাক খাচ্ছে এ প্রশ্নগুলোও।
গোয়েন্দাদের আরেকটি সূত্র বলছে, বাচ্চু নিয়মিত সিঙ্গাপুরে যাতায়াত করতেন। কানাডা হয়ে সেখানেও পাড়ি জমাতে পারেন তিনি।
এদিকে দুদক কর্মকর্তারা বলছেন, বাচ্চুর দেশত্যাগ ঠেকাতে দেশের জল-স্থল ও বিমানবন্দরে চিঠি পাঠানো হয়েছে, যাতে তিনি কোনোভাবেই দেশ ছাড়তে না পারেন।
বাচ্চু কি দেশে রয়েছেন- এমন প্রশ্নের জবাবে দুদকের কমিশনার জহুরুল হক বলেন, ‘বাচ্চু বিদেশে পালিয়েছেন বলেও কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য-প্রমাণ দুদকের হাতে নেই। সেক্ষেত্রে বাচ্চু দেশে আছেন- এমন ধারণা থেকেই তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার চিঠি পাঠানো হচ্ছে বিমানবন্দরে।’
বাচ্চুর বিষয়ে একটি গোয়েন্দা সংস্থা জানাচ্ছে, দুদকের দায়ের করা ৫৮ মামলায় চার্জশিটভুক্ত আসামি হচ্ছেন-আগেভাগে এই খবর পেয়ে তিনি দেশ থেকে পালিয়ে যান। যদিও তার বিদেশ ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা ছিল। কিন্তু দুদক থেকে নিয়মিত ফলোআপ না করায় তিনি সেই সুযোগ নিয়ে গত ৭ জুন দেশত্যাগ করেন।
সূত্র জানায়, দেশ ছাড়ার আগে বাচ্চু তার বেশ কিছু সম্পদও বিক্রি করে দেন। কিছু সম্পদ দুদক ক্রোক করে রাখলেও সেখানে রিসিভার নিয়োগ না করায় তিনি গোপনে অনেক সম্পদ বিক্রি করার সুযোগ পান। এর মধ্যে বনানীর বাড়ির সব কটি ফ্ল্যাট তিনি বিক্রি করে দেন। তার গ্রামের বাড়ি বাগেরহাটের কিছু সম্পদও তিনি বিক্রি করেছেন বলে জানা গেছে। তবে দুদক থেকে তার বাগেরহাটের বাড়িটি তালা মেরে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে তিনি দেশ থেকে কানাডায় পালিয়েছেন- এমন একটি তথ্য গোয়েন্দা সূত্রে জানতে পেরেছে দুদক। সেখানে তার বাড়ি-গাড়িসহ বিশাল সম্পদ রয়েছে। সেই সম্পদ ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) মাধ্যমে চিঠি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এদিকে বেসিক ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের ১০ জন সদস্য ঋণ বিতরণ প্রক্রিয়ায় জড়িত ছিলেন বলে দুদক টিম তাদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করে। কিন্তু তাদের চার্জশিটভুক্ত না করায় প্রশ্ন উঠেছে।
আব্দুল হাই বাচ্চু বেসিক ব্যাংকের সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা ঋণ জালিয়াতিতে জড়িত হলেও এ বিষয়ে ২০১৫ সালে দুদকের দায়ের করা কোনো মামলায় তার নাম ছিল না। উচ্চ আদালত থেকেও দুদককে বারবার তাগিদ দেওয়া হচ্ছিল। কেন বেসিক ব্যাংক মামলায় আসামি করার ক্ষেত্রে দুদক ‘পিক অ্যান্ড চুজ’ নীতি নিয়েছে সেই প্রশ্নও তোলেন আদালত। এরপরও কেটে গেছে ৮ বছর। অর্থাৎ মামলার ৮ বছর পর গত ১২ জুন আব্দুল হাই বাচ্চুসহ ১৪৭ জনের বিরুদ্ধে ৫৮টি মামলার চার্জশিট দিয়েছে দুদক। যদিও মোট মামলা ছিল ৬১টি। বাকি মামলার চার্জশিটও দেওয়া হবে অচিরেই।
এদিকে দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, চার্জশিট অনুমোদনের পরই বাচ্চুকে গ্রেপ্তারের জন্য চেষ্টা করে দুদক। তার বনানীর বাসভবনেও হানা দেয় দুদক টিম। কিন্তু কোথাও তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরে গোয়েন্দা সূত্রে দুদক জানতে পারে, চার্জশিটের আগাম খবর পেয়ে তিনি কানাডা পাড়ি জমান।
আব্দুল হাই বাচ্চু দেশের বাইরে চলে যাওয়ায় তাকে ফিরিয়ে আনার জন্য কী উদ্যোগ নেওয়া হবে-এমন প্রশ্নের জবাবে দুদক কমিশনার জহিরুল হক বলেন, ‘যে প্রক্রিয়ায় দেশের বাইরে থেকে দুর্নীতিবাজ এবং তাদের সম্পদ ফিরিয়ে আনা হয় তার ক্ষেত্রেও একই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাকে ফিরিয়ে আনতে আইনি সমস্যা হলে তার অনুপস্থিতিতেই বিচারকার্য সম্পন্ন হবে।’
প্রসঙ্গত, আব্দুল হাই বাচ্চুর কাজ ছিল সরকারি এই ব্যাংকটি যাতে ঋণ বিতরণ ও আদায়ে কোনো অনিয়ম না করে, ব্যাংকিং নীতি মেনে আমানতকারীদের স্বার্থরক্ষা করে তা তদারকি করা, ব্যাংকটিকে সুষ্ঠু ও স্বচ্ছভাবে পরিচালনা করে আমানতকারীদের স্বার্থসংরক্ষণ করা। কিন্তু ঘটল তার উল্টোটা। তিনি পুরো ব্যাংকটিকে তার পারিবারিক সম্পদে পরিণত করলেন এবং নজিরবিহীনভাবে লুটপাট আর ঋণ জালিয়াতিতে জড়িয়ে পড়লেন। ব্যাংকিং ইতিহাসে নজিরবিহীন এ আর্থিক কেলেঙ্কারিতে তোলপাড় ছিল সারা দেশে। বিশেষ করে এত বড় অপরাধ করেও তিনি ছিলেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। এমনকি দুর্নীতি দমন কমিশনও (দুদক) তাকে এড়িয়ে যায়, যা ছিল তীব্রভাবে সমালোচিত। শেষ পর্যন্ত উচ্চ আদালতের নির্দেশে দুদকের জিজ্ঞাসাবাদের সম্মুখীন হন আলোচিত এই ব্যক্তি। তার ও পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক হিসাব তলব করা হয়।
২০০৯ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত বেসিক ব্যাংকের গুলশান, দিলকুশা ও শান্তিনগর শাখা থেকে মোট সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করা হয়। ঋণ বিতরণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠলে তা অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। অনুসন্ধানকালে দুদক কর্মকর্তারা জানতে পারেন, ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ ঋণপত্র যাচাই না করে ভুয়া ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে কয়েক হাজার কোটি টাকা ঋণ দেয়। এক্ষেত্রে কোনো ধরনের নিয়মনীতির তোয়াক্কা করা হয়নি। জামানত ছাড়া এবং জাল দলিল মর্টগেজ রেখে বিধিবহির্ভূতভাবে ঋণ অনুমোদন করেন তারা।
দীর্ঘ পাঁচ বছর অনুসন্ধান চলাকালে প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা লোপাটের তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এরপর কমিশনের অনুমোদন নিয়ে ২০১৫ সালের ২১, ২২ ও ২৩ সেপ্টেম্বর তিন দিনে ৫৬টি মামলা দায়ের করা হয়। রাজধানীর মতিঝিল, পল্টন ও গুলশান থানায় দায়ের করা এসব মামলায় মোট ১২০ জনকে আসামি করা হয়। আসামির তালিকায় ৮২ ঋণগ্রহীতা, ২৭ ব্যাংকার ও ১১ জন ভূমি জরিপকারীর নাম থাকলেও ছিল না ঋণ কেলেঙ্কারির মূল হোতা আব্দুল হাই বাচ্চুর নাম। কিন্তু মামলার তদন্তকালে দুদক জানতে পারে আলোচিত এই ঋণ কেলেঙ্কারির পেছনে কলকাঠি নেড়েছেন প্রতিষ্ঠানটির সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হাই বাচ্চু। এ কারণে বাচ্চুসহ আরও বেশ কয়েকজনের নাম চার্জশিটে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

কক্সবাজারে সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খানকে হত্যার পর নতুন করে আলোচনায় আসে পুলিশের ওসি প্রদীপের নাম। এ...
23/05/2023

কক্সবাজারে সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খানকে হত্যার পর নতুন করে আলোচনায় আসে পুলিশের ওসি প্রদীপের নাম। এ হত্যাকাণ্ডে তার সংশ্লিষ্টতা প্রমাণ হওয়ায় এরই মধ্যে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বহুল আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের পর প্রকাশ্যে আসতে থাকে ওসি প্রদীপের নানা অপকর্ম। যদিও এ ঘটনার আগে থেকেই দুদকের জালে ছিলেন প্রদীপ। অবৈধ সম্পদ অর্জনে জড়িয়ে যায় তার স্ত্রীর নামও।
দীর্ঘদিন অনুসন্ধান চালিয়েও ওসি প্রদীপের অবৈধ সম্পদের কোনো কূল-কিনারা করতে পারেনি তদন্ত সংস্থা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। শেষমেশ ওসি প্রদীপের অবৈধ সম্পদ অনুসন্ধানে সাত দেশের দিকে তাকিয়ে দুর্নীতি প্রতিরোধ ও দমনে কাজ করা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানটি।দুদক বলছে, দেশে ওসি প্রদীপের নামে কোনো অবৈধ সম্পদের অস্তিত্ব মেলেনি। তবে ওসি প্রদীপ নিজের নামে সম্পদ না গড়লেও স্ত্রী চুমকি কারণের নামে গড়েছেন অঢেল সম্পদ। দুদকের মামলায় চুমকি কারণকে সাজাও দিয়েছেন আদালত। স্ত্রীর অবৈধ সম্পদ অর্জনে সহযোগিতার জন্য প্রদীপেরও সাজা হয়েছে একই মামলায়।দুদক সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সাল থেকে স্ত্রীসহ ওসি প্রদীপের অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। প্রাথমিক পর্যায়ে অবৈধ সম্পদ অর্জনের সত্যতা পেয়ে কমিশনে প্রতিবেদন দেওয়া হয়। এরপর কমিশনের অনুমোদনের পর ২০১৯ সালের শুরুর দিকে ওসি প্রদীপ ও তার স্ত্রী চুমকিকে সম্পদ বিবরণী জমার নোটিশ দেয় দুদক। সম্পদ বিবরণী জমার পর চুমকির বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, দুদকে দেওয়া সম্পদ বিবরণীতে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার প্রমাণ মেলে। তবে মেজর সিনহা রাশেদ হত্যার আগে ওসি প্রদীপের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেয়নি দুদক।২০২০ সালের ৩১ জুলাই মেজর সিনহা রাশেদ হত্যাকাণ্ডের পর গ্রেফতার হন ওসি প্রদীপ। আর এর ২৩ দিনের মাথায় ২০২০ সালের ২৩ আগস্ট তড়িঘড়ি করেই ওসি প্রদীপের স্ত্রীর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলা করে রাষ্ট্রীয় দুর্নীতি নিরোধক প্রতিষ্ঠানটি। ওই মামলায় ওসি প্রদীপকে স্ত্রীর অবৈধ সম্পদ অর্জনের সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করা হয়।তবে সম্পদ বিবরণী জমা দেওয়ার চার বছর পেরিয়ে গেলেও ওসি প্রদীপের অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়টি দালিলিকভাবে নিশ্চিত হতে পারছে না দুদক। অনুসন্ধানে নিয়োজিত কর্মকর্তারা বলছেন, দেশে ওসি প্রদীপের নামে কোনো অবৈধ সম্পদের হদিস মিলছে না। বিদেশে সম্পদ গড়েছেন কি না, সে বিষয়ে জানতে বাংলাদেশ ব্যাংকের বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) মাধ্যমে সাত দেশের ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিলিজেন্স ইউনিটকে চিঠি দেয় দুদক।
দুদক প্রধান কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ওসি প্রদীপের অবৈধ সম্পদ অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা দুদক চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-২ এর সহকারী পরিচালক নুরুল ইসলাম গত ১৬ এপ্রিল দুদকের পরিচালক (মানি লন্ডারিং) বরাবর চিঠি দেন। এরপর চলতি বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি দুদকের পরিচালক (মানি লন্ডারিং) গোলাম শাহরিয়ার চৌধুরী বাংলাদেশ ব্যাংকের বিএফআইইউর অপারেশন হেড বরাবর চিঠি দেন। ওই চিঠিতে প্রদীপ কুমার দাশের দাখিল করা সম্পদ বিবরণী যাচাই এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের বিষয়টি অনুসন্ধান প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য ভারত, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য থেকে ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিলিজেন্স ইউনিটের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করার অনুরোধ করা হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে দুদক চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-২ এর উপ-পরিচালক আতিকুল আলম বলেন, ওসি প্রদীপের সম্পদ অনুসন্ধান চলমান। দেশে তার স্ত্রীর নামে অবৈধ সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। মামলাও হয়েছে। ওই মামলায় এরই মধ্যে আদালত রায় দিয়েছেন। রায়ে সাজাও হয়েছে। কিন্তু দেশে ওসি প্রদীপের অবৈধ সম্পদের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই বিদেশে সম্পদ গড়েছেন কি না, সে বিষয়ে জানতে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিএফআইইউর মাধ্যমে সাতটি দেশে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তথ্য পেলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এদিকে অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় ওসি প্রদীপের স্ত্রী চুমকিকে ২১ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্ত্রীর অবৈধ সম্পদ অর্জনে সহযোগিতার অপরাধে ওসি প্রদীপ কুমার দাশকেও ২০ বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত। ২০২২ সালের ২৭ জুলাই চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্পেশাল জজ মুন্সী আব্দুল মজিদের আদালত এ রায় দেন।
রায়ে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ২৬(২) ধারায় প্রদীপকে খালাস দেওয়া হলেও তার স্ত্রী চুমকি কারণকে এক বছরের কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ২৭(১) ধারায় দুজনকেই আট বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অন্যদিকে ক্ষমতার অপব্যবহার আইনের ৫(২) ধারায় এ দম্পতিকে দুই বছর করে কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। রায়ে ২০১২ সালের মানি লন্ডারিং আইনে প্রদীপ ও তার স্ত্রীকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড এবং চার কোটি টাকা জরিমানা করা হয়। দুই আসামিই বর্তমানে কারাগারে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ২৩ আগস্ট দুদক চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-২ এর তৎকালীন সহকারী পরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন বাদী হয়ে ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও স্ত্রী চুমকি কারণের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলায় প্রদীপ ও চুমকির বিরুদ্ধে তিন কোটি ৯৫ লাখ পাঁচ হাজার ৬৩৫ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন ও অর্থপাচারের অভিযোগ আনা হয়।২০২১ সালের ২৮ জুলাই মামলার বাদী ও তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। ওই বছরের ১ সেপ্টেম্বর আসামি প্রদীপের উপস্থিতিতে শুনানি শেষে অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন আদালত। ২০২১ সালের ১৫ ডিসেম্বর প্রদীপ ও চুমকি দম্পতির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। মামলার পর থেকে অভিযোগ গঠন পর্যন্ত প্রদীপ আদালতে উপস্থিত থাকলেও তার স্ত্রী পলাতক ছিলেন।২০২২ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি চুমকির অনুপস্থিতিতে তার বিরুদ্ধে আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। মামলায় প্রদীপের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের পর উচ্চ আদালতে রিভিশন আবেদন করেন। ৪ এপ্রিল রিভিশন আবেদন নিষ্পত্তি হওয়ায় ওসি প্রদীপের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। মামলার সাক্ষ্য নেওয়ার শেষ পর্যায়ে চুমকি কারণ আদালতে আত্মসমর্পণ করেন।

ক্সবাজারে সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খানকে হত্যার পর নতুন করে আলোচনায় আসে পুলিশের ওসি প্রদীপের নাম। এ হত্যাকাণ্ডে তার সংশ্লিষ্টতা প্রমাণ হওয়ায় এরই মধ্যে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বহুল আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের পর প্রকাশ্যে আসতে থাকে ওসি প্রদীপের নানা অপকর্ম। যদিও এ ঘটনার আগে থেকেই দুদকের জালে ছিলেন প্রদীপ। অবৈধ সম্পদ অর্জনে জড়িয়ে যায় তার স্ত্রীর নামও।

দীর্ঘদিন অনুসন্ধান চালিয়েও ওসি প্রদীপের অবৈধ সম্পদের কোনো কূল-কিনারা করতে পারেনি তদন্ত সংস্থা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। শেষমেশ ওসি প্রদীপের অবৈধ সম্পদ অনুসন্ধানে সাত দেশের দিকে তাকিয়ে দুর্নীতি প্রতিরোধ ও দমনে কাজ করা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানটি।

বিজ্ঞাপন

দুদক বলছে, দেশে ওসি প্রদীপের নামে কোনো অবৈধ সম্পদের অস্তিত্ব মেলেনি। তবে ওসি প্রদীপ নিজের নামে সম্পদ না গড়লেও স্ত্রী চুমকি কারণের নামে গড়েছেন অঢেল সম্পদ। দুদকের মামলায় চুমকি কারণকে সাজাও দিয়েছেন আদালত। স্ত্রীর অবৈধ সম্পদ অর্জনে সহযোগিতার জন্য প্রদীপেরও সাজা হয়েছে একই মামলায়।

আরও পড়ুন>> ‘পা দিয়ে গলা চেপে সিনহার মৃত্যু নিশ্চিত করেন ওসি প্রদীপ’

বিজ্ঞাপন

দুদক সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সাল থেকে স্ত্রীসহ ওসি প্রদীপের অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। প্রাথমিক পর্যায়ে অবৈধ সম্পদ অর্জনের সত্যতা পেয়ে কমিশনে প্রতিবেদন দেওয়া হয়। এরপর কমিশনের অনুমোদনের পর ২০১৯ সালের শুরুর দিকে ওসি প্রদীপ ও তার স্ত্রী চুমকিকে সম্পদ বিবরণী জমার নোটিশ দেয় দুদক। সম্পদ বিবরণী জমার পর চুমকির বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, দুদকে দেওয়া সম্পদ বিবরণীতে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার প্রমাণ মেলে। তবে মেজর সিনহা রাশেদ হত্যার আগে ওসি প্রদীপের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেয়নি দুদক।

২০২০ সালের ৩১ জুলাই মেজর সিনহা রাশেদ হত্যাকাণ্ডের পর গ্রেফতার হন ওসি প্রদীপ। আর এর ২৩ দিনের মাথায় ২০২০ সালের ২৩ আগস্ট তড়িঘড়ি করেই ওসি প্রদীপের স্ত্রীর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলা করে রাষ্ট্রীয় দুর্নীতি নিরোধক প্রতিষ্ঠানটি। ওই মামলায় ওসি প্রদীপকে স্ত্রীর অবৈধ সম্পদ অর্জনের সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

তবে সম্পদ বিবরণী জমা দেওয়ার চার বছর পেরিয়ে গেলেও ওসি প্রদীপের অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়টি দালিলিকভাবে নিশ্চিত হতে পারছে না দুদক। অনুসন্ধানে নিয়োজিত কর্মকর্তারা বলছেন, দেশে ওসি প্রদীপের নামে কোনো অবৈধ সম্পদের হদিস মিলছে না। বিদেশে সম্পদ গড়েছেন কি না, সে বিষয়ে জানতে বাংলাদেশ ব্যাংকের বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) মাধ্যমে সাত দেশের ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিলিজেন্স ইউনিটকে চিঠি দেয় দুদক।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন>> সিনহা হত্যায় প্রদীপ-লিয়াকতের মৃত্যুদণ্ড

দুদক প্রধান কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ওসি প্রদীপের অবৈধ সম্পদ অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা দুদক চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-২ এর সহকারী পরিচালক নুরুল ইসলাম গত ১৬ এপ্রিল দুদকের পরিচালক (মানি লন্ডারিং) বরাবর চিঠি দেন। এরপর চলতি বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি দুদকের পরিচালক (মানি লন্ডারিং) গোলাম শাহরিয়ার চৌধুরী বাংলাদেশ ব্যাংকের বিএফআইইউর অপারেশন হেড বরাবর চিঠি দেন। ওই চিঠিতে প্রদীপ কুমার দাশের দাখিল করা সম্পদ বিবরণী যাচাই এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের বিষয়টি অনুসন্ধান প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য ভারত, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য থেকে ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিলিজেন্স ইউনিটের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করার অনুরোধ করা হয়।

শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে চিনি সিন্ডিকেটঈদের আগ মুহূর্তে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে চিনির বাজার থেকে অন্তত ১০০ কোটি টাকা হাত...
27/04/2023

শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে চিনি সিন্ডিকেট

ঈদের আগ মুহূর্তে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে চিনির বাজার থেকে অন্তত ১০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে একটি সিন্ডিকেট। মিল থেকে সরবরাহ বন্ধের দোহাই দিয়ে কেজিপ্রতি ৮ থেকে ১০ টাকা বাড়িয়ে ৩৮০০ টাকার চিনি প্রতিমণ বিক্রি করা হয় ৪ হাজার ৪০০ টাকায়। সে হিসবে মনপ্রতি চিনিতে ৬০০ টাকা লাভ করে সিন্ডিকেট।
চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের সাধারণ ব্যবসায়ীদের দাবি, রোজার শুরুতেই পাইকারি পর্যায়ে প্রতি মণ চিনি ৩ হাজার ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। ১৫ রমজান পর্যন্ত চিনির দামের তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি। কিন্ত ১৮ রমজান থেকে দৈনিক মণপ্রতি দাম বেড়েছে ৫০ থেকে ১০০ টাকা করে। ২০ রোজার দিকে প্রতি মণ চিনির দাম ছিল ৪ হাজার টাকা। এরপরে ২২ রমজান আরও ২০০ টাকা বেড়ে ঠেকে ৪ হাজার ২০০ টাকায় এবং ২৫ রমজান চিনির দাম আরও বেড়ে দাঁড়ায় ৪ হাজার ৩৫০ টাকায়। আর ঈদের ঠিক আগ মুহূর্তে প্রতি মণ চিনি পৌঁছে যায় ৪ হাজার ৪০০ টাকার ঘরে।
দাম বাড়ার বিষয়ে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের খুচরা বিক্রেতা মনোরঞ্জন সাহা বলেন, ‘দেশের চিনির মিলগুলো ঠিকমতো সরবরাহ করতে পারছে না। এর জন্য দাম বাড়তি।’
আরেক খুচরা ব্যবসায়ী সমীর ঘোষ বলেন, ‘১৮/২০ রমজানের দিকের প্রতি মণ চিনির দাম ছিল ৪ হাজার টাকা বা বড়জোর ৪ হাজার ১০০ টাকা পর্যন্ত। কিন্তু ২০ রমজানের পর থেকে দাম বেড়ে ৪ হাজার ২৫০ টাকায় উঠে যায়।’
ডলার সংকটের মুখে চলতি অর্থ বছরের শুরু থেকে অন্যান্য পণ্যের মতো চিনির কাঁচামাল আমদানিও কমে গিয়েছিল। কিন্তু রমজান সামনে রেখে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে চলতি বছরের জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি এবং মার্চ মাসে পর্যাপ্ত চিনি আমদানি হয়েছে। একইসঙ্গে মোংলা বন্দর দিয়েও চিনি আমদানির তথ্য জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। কিন্তু বাজারে এখনও চিনির সরবরাহ বাড়াননি মিল মালিকরা। বর্তমানে পাইকারি পর্যায়ে প্রতি কেজি চিনি বিক্রি হচ্ছে ১১৪ টাকা দরে। বাজার কারসাজির অভিযোগ করে খাতুনগঞ্জের আফজাল আলী বলেন, ‘ঈদের আগে আগে ব্যবসায়ীরা বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করেন। যার প্রেক্ষিতে বাজারে সরবরাহ নেই। তাই দামও উর্ধ্বমুখি।’
মিলাররা চিনি সরবরাহ করছে না অভিযোগ করে খাতুনগঞ্জের আরেক খুচরা বিক্রেতা আব্বাস আলী বলেন, ‘মিলাররা সরবরাহ করছেন না, তাই বাজারে চিনির সংকট দেখা দিয়েছে। আমরা অগ্রিম অর্থ দিয়ে রেখেছি মিলগুলোয়, কিন্তু তারপরও তারা চিনি সরবরাহ করছে না।’
দেশের বাজারে চলতি মাসের শুরুর দিকে চিনির দাম প্রতি কেজিতে ৩ টাকা কমিয়ে খুচরা পর্যায়ে প্যাকেটজাত চিনির দাম ১০৯ টাকা এবং খোলা চিনি ১০৪ টাকা নির্ধারণ করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। কিন্তু ঈদের সময় সেই দামে বাজরে চিনি বিক্রি হয়নি।
রপ্তানিকারক দেশগুলোতে কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় দেশের বাজারেও দাম বাড়ছে বলে পাইকারি ব্যবসায়ীদের কাছে দাবি করছেন মিল মালিকরা। এবিষয়ে মেসার্স আলতাফ অ্যান্ড ব্রাদার্সের মালিক আবদুল গফ্ফার বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে চিনির দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে মিলাররা বলছেন যে তাদের উৎপাদন খরচ বেশি হচ্ছে, যে জন্য বাজারে চিনির দাম বাড়ছে। আর মিলাররা আমাদের বলেছেন যে তারা শিগগরিই খুচরা প্রতি কেজি চিনির দাম ১২৫ টাকা করার প্রস্তাব দেবেন।’
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে বছরে ১৮ থেকে ২০ লাখ মেট্রিক টন চিনির চাহিদা রয়েছে। যার কাঁচামাল ৮ থেকে ১০টি প্রতিষ্ঠান বিদেশ থেকে আমদানি করে।

বাবুল-ইলিয়াসের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন বনজ কুমার, প্রতিবেদন দিল পুলিশ, কী আছেবিদেশে অবস্থানরত সাংবাদিক ইলিয়াস হোসেন ও কা...
24/04/2023

বাবুল-ইলিয়াসের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন বনজ কুমার, প্রতিবেদন দিল পুলিশ, কী আছে

বিদেশে অবস্থানরত সাংবাদিক ইলিয়াস হোসেন ও কারাগারে থাকা সাবেক এসপি বাবুল আক্তারের বিরুদ্ধে পিবিআই প্রধানের করা মামলার প্রতিবেদন জমা দিয়েছে পুলিশ। এই মামলায় ইলিয়াস ও বাবুল ছাড়া আরও দুইজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন- বাবুল আক্তারের বাবা মো. আব্দুল ওয়াদুদ মিয়া ও ভাই হাবিবুর রহমান লাবু। ১০ এপ্রিল মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক রবিউল ইসলাম আদালতে এ প্রতিবেদন জমা দেন।
আদালতে জমা দেওয়া ২০ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, বাবুল আক্তার স্ত্রী মিতু হত্যা মামলা থেকে বাঁচতে বিদেশে অবস্থানরত সাংবাদিক ইলিয়াস হোসেনকে দিয়ে পিবিআই প্রধান, পুলিশ এবং সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে একটি ভিডিও তৈরি করেন।
বর্তমানে মামলার আসামি ইলিয়াস হোসেন বিদেশে অবস্থান করছেন। আর এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো বাবুল আক্তার আছেন কারাগারে। তার বাবা ও ভাই বর্তমানে জামিনে রয়েছেন। গতবছরের সেপ্টেম্বরে সাংবাদিক ইলিয়াস ‘স্ত্রী খুন স্বামী জেলে খুনি পেয়েছে তদন্তের দায়িত্ব’ শিরোনামে ফেসবুক ও ইউটিউবে একটি ভিডিও আপলোড করেন।
এর আগে ২৭ সেপ্টেম্বর ধানমন্ডি থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও বিশেষ ক্ষমতা আইনের বিভিন্ন ধারায় মামলা করেন পিবিআই প্রধান বনজ কুমার মজুমদার। মামলাটি তদন্ত করেন থানার পরিদর্শক (অপারেশন) রবিউল ইসলাম। গেল ২১ মার্চ এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ২৭ এপ্রিল দিন ধার্য করে আদালত।
২০১৬ সালের ৫ জুন সকালে চট্টগ্রাম নগরের নিজাম রোডে ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে যাওয়ার পথে দুর্বৃত্তদের গুলি ও ছুরিকাঘাতে খুন হন বাবুলের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু। ঘটনার সময় এসপি বাবুল আক্তার ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। চট্টগ্রামে ফিরে তিনি পাঁচলাইশ থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে বাবুল আক্তারের দায়ের করা মামলায় মিতু হত্যাকাণ্ডে তারই সংশ্লিষ্টতা পায় পিবিআই। ২০২১ সালের ১২ মে আগের মামলাটিতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। একই দিন বাবুল আক্তারকে প্রধান আসামি করে চট্টগ্রাম নগরের পাঁচলাইশ থানায় দ্বিতীয় মামলাটি করেন মিতুর বাবা সাবেক পুলিশ পরিদর্শক মোশাররফ হোসেন। ওই দিনই মামলাটিতে বাবুল আক্তারকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠায় পিবিআই। সেই থেকে কারাগারে রয়েছেন বাবুল। সম্প্রতি এ মামলায় বাবুল আক্তারসহ সাত জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্রও দিয়েছে পিবিআই। আদালত এই অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছেন।
অভিযোগপত্রে যা আছে
মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়, বনজ কুমারের নেতৃত্বে মিতু হত্যা মামলা তদন্তাধীন থাকাকালে প্রধান আসামি মিতুর স্বামী সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের নাম বেরিয়ে আসে। পরে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। কিন্তু মিতু হত্যা মামলার তদন্ত ভিন্ন খাতে নিতে এবং পিবিআইয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে জেলে থাকা বাবুল আক্তার ও অন্য আসামিরা দেশ-বিদেশে অবস্থান করে অপরাধমূলক বিভিন্ন অপকৌশল ও ষড়যন্ত্রের আশ্রয় নেন।
এরই ধারাবাহিকতায় একই বছরের ৩ সেপ্টেম্বর বাবুল আক্তার ও অন্য আসামিদের প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ প্ররোচনায় সাংবাদিক ইলিয়াস হোসেন তার ইউটিউব চ্যানেলে ‘স্ত্রী খুন স্বামী জেলে খুনি পেয়েছে তদন্তের দায়িত্ব’ শিরোনামে একটি ভিডিও আপলোড করেন।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, ইলিয়াস হোসেন ভিডিওতে দেয়া বক্তব্যে দেশের ভাবমূর্তি এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার উসকানি, পুলিশ এবং পিবিআই, বিশেষ করে বাদীর (বনজ কুমার মজুমদার) মানসম্মান ক্ষুণ্ণ করার জন্য বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করেছেন, যা দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে নেতিবাচক মনোভাব সৃষ্টি করেছে।
অভিযোগপত্রে ওই ভিডিওর বিভিন্ন অভিযোগ খণ্ডন করে বলা হয়, ইলিয়াস তার বক্তব্যের মাধ্যমে রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি এবং বাংলাদেশ-ভারতের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করা, রাষ্ট্রের হিন্দু-মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে শত্রুতা, ঘৃণা-বিদ্বেষ, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট ও অস্থিরতা এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপপ্রয়াস করেছেন।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, শুধু মিতু হত্যা মামলার তদন্ত ও বিচারকাজ প্রশ্নবিদ্ধ করতে মামলার ২ নম্বর আসামি মো. হাবিবুর রহমান লাবু, ৩ নম্বর আসামি আব্দুল ওয়াদুদ মিয়া ও ৪ নম্বর আসামি বাবুল আক্তারের প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ প্ররোচনায় ১ নম্বর আসামি ইলিয়াস হোসেন মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন বক্তব্যের ভিডিও ফেসবুক ও ইউটিউবে প্রকাশ করেন।
তদন্ত কর্মকর্তা যা জানালেন
পিবিআই প্রধানের মামলাটি তদন্ত করেন ধানমন্ডি থানার পরিদর্শক রবিউল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে বাবুল আক্তার বিদেশে অবস্থান করা সাংবাদিক ইলিয়াসকে দিয়ে এগুলো করেছিলেন। আমরা সিআইডিতে বিশেষজ্ঞ মতামত জানতে চেয়েছিলাম। সেখানে এসব বিষয় প্রমাণিত হয়েছে। ২০ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে।

পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষ্যে লীডআপ মিডিয়া এর পক্ষ থেকে সকলকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা।
21/04/2023

পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষ্যে লীডআপ মিডিয়া এর পক্ষ থেকে সকলকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা।

19/04/2023

ভদ্রতার মুখোশে বাংলাদেশর কুখ্যাত মাদক সম্রাট একরাম

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর অঞ্চল-১ এর উপ-কর কমিশনার মেহেদী হাসান খন্দকারের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পেয়ে...
18/04/2023

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর অঞ্চল-১ এর উপ-কর কমিশনার মেহেদী হাসান খন্দকারের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অনুসন্ধানে প্রায় ২৫ লাখ টাকার সম্পদের হিসাবে গড়মিল পাওয়া গেছে। এরপর তার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের হিসাব চেয়ে নোটিশ পাঠিয়েছে দুদক।
সোমবার (১৭ এপ্রিল) দুদকের জনসংযোগ দপ্তর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
দুদক থেকে পাঠানো নোটিশে বলা হয়, প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে অনুসন্ধান করে দুদকের স্থির বিশ্বাস জন্মেছে যে, আপনার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত স্বনামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ সম্পদ/সম্পত্তির মালিক হয়েছেন। আপনি আপনার নিজ ও আপনার ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তির নামে-বেনামে অর্জিত যাবতীয় স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ, দায়-দেনা, আয়ের উৎস ও তা অর্জনের বিস্তারিত বিবরণী কমিশনে দাখিল করবেন।
এ আদেশ পাওয়ার ২১ কার্যদিবসের মধ্যে নির্ধারিত ছকে সম্পদ বিবরণী দাখিলে ব্যর্থ হলে কিংবা মিথ্যা সম্পদ বিবরণী দাখিল করলে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৬ এর উপধারা (২) অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
দুদকের নোটিশ পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে কর কর্মকর্তা মেহেদী হাসান খন্দকার বলেন, দুদকের নোটিশ পেয়েছি। এ বিষয়ে পরে কথা বলবো।

16/04/2023

অপরাধের ভয়ংকর কালো অধ্যায় যা অনেকের অজানা।
By Adventure Media #

রাজস্ব ফাঁকির বিপুল অর্থ হুন্ডিতে যাচ্ছে বিদেশে
15/04/2023

রাজস্ব ফাঁকির বিপুল অর্থ হুন্ডিতে যাচ্ছে বিদেশে

দেশে প্রতি বছর ১০ হাজার কোটি টাকার প্রসাধনী আমদানি হয়। আমদানি করা এসব পণ্য অধিক মূল্যে আনা হলেও শুল্কায়নের সময়

দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্প প্রতিষ্ঠান যমুনা গ্রুপের কর্ণধার সালমা ইসলাম। প্রায়শই তার বিরুদ্ধে উঠে এসেছে নানা দূর্নীতির অভি...
13/04/2023

দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্প প্রতিষ্ঠান যমুনা গ্রুপের কর্ণধার সালমা ইসলাম। প্রায়শই তার বিরুদ্ধে উঠে এসেছে নানা দূর্নীতির অভিযোগ

দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্প প্রতিষ্ঠান যমুনা গ্রুপের কর্ণধার সালমা ইসলাম। প্রায়শই তার বিরুদ্ধে উঠে এসেছে নানা দূর...

আত্মসাতের অভিযোগে ফারইস্ট স্টকস অ্যান্ড বন্ডস লিমিটেড
06/04/2023

আত্মসাতের অভিযোগে ফারইস্ট স্টকস অ্যান্ড বন্ডস লিমিটেড

১১৬ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ফারইস্ট স্টকস অ্যান্ড বন্ডস লিমিটেডের সাবেক চেয়ারম্যান এমএ খালেক, তার স্ত্রী সা....

Address

Uttor Badda
Dhaka
1230

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Leadup media posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share