04/08/2026
বাংলাদেশের জায়গা-জমি কেনা-বেচা, হস্তান্তর এবং দলিল সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয় প্রধানত রেজিস্ট্রেশন আইন, ১৯০৮ (Registration Act, 1908) এবং সম্পত্তি হস্তান্তর আইন, ১৮৮২ (Transfer of Property Act, 1882) দ্বারা পরিচালিত হয়। জমির বৈধ মালিকানা প্রমাণের জন্য দলিল রেজিস্ট্রি করা বাধ্যতামূলক।জমি রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত মূল বিধিমালা ও নিয়মাবলী নিচে সাজিয়ে দেওয়া হলো:১. দলিল রেজিস্ট্রেশনের নিয়ম ও স্থানরেজিস্ট্রেশন অফিস: জমির অবস্থান বা মৌজা যে উপজেলা বা থানা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের আওতাধীন, সেই অফিসেই দলিলের যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করতে হবে।উপস্থিতি: বিক্রেতা (দাতা) ও ক্রেতা (গ্রহীতা) উভয়কেই সশরীরে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে উপস্থিত হয়ে স্বাক্ষর এবং ছবি তুলতে হবে।দলিলের ভাষা: দলিল অবশ্যই বাংলায় লিখিত হতে হবে। ক্রেতা ও বিক্রেতা যদি বাংলা না বোঝেন, তবে দলিলের মর্মার্থ তাদের বুঝিয়ে বলতে হবে এবং দলিলের নিচে দোভাষীর স্বাক্ষর থাকতে হবে।২. প্রয়োজনীয় দালিলিক প্রমাণাদিজমি রেজিস্ট্রি করার সময় সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রারের কাছে নিচের কাগজপত্র জমা দিতে হবে:ক্রেতা এবং বিক্রেতা উভয়ের জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) এবং পাসপোর্ট সাইজের ছবি।বিক্রেতার মালিকানার মূল দলিল এবং পূর্ববর্তী সকল বায়া দলিল (Bia Dalil)।সর্বশেষ হালনাগাদ খতিয়ান বা পর্চা (যেমন: সিএস, এসএ, আরএস, বিএস বা সিটি জরিপ)।জমির বর্তমান বছরের খাজনা (Land Development Tax/খাজনা) পরিশোধের রসিদ।উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত জমির ক্ষেত্রে ওয়ারিশান সনদ এবং বণ্টননামা দলিল।৩. দলিলের শ্রেণিবিভাগবাংলাদেশে জমির ধরন ও হস্তান্তরের উদ্দেশ্যের ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন ধরনের দলিল হয়ে থাকে:সা-কবলা (Saf-Kavala): নগদ মূল্যের বিনিময়ে জমি সম্পূর্ণভাবে বিক্রি বা হস্তান্তর করা হলে এই দলিল তৈরি হয়।দানপত্র (Heba/Gift): কোনো বিনিময় ছাড়া আত্মীয়-স্বজনের মধ্যে জমি দান করা হলে দান দলিল হয়।এওয়াজ (Exchange): দুই ব্যক্তি বা পক্ষের মধ্যে জমির পারস্পরিক বিনিময়ের জন্য এওয়াজ দলিল ব্যবহৃত হয়।বণ্টন (Partition): ওয়ারিশ বা যৌথ মালিকরা নিজেদের মধ্যে জমি ভাগ-বাঁটোয়ারা করে নিলে এই দলিল তৈরি হয়।৪. নামজারি বা মিউটেশন (Mutation)দলিল রেজিস্ট্রি করলেই জমির মালিকানা চূড়ান্ত হয় না। দলিল সম্পন্ন হওয়ার পর জমির মালিকানা সরকারি রেকর্ডে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য স্থানীয় সহকারী কমিশনার (ভূমি) [AC Land] অফিসে নামজারি বা মিউটেশনের আবেদন করতে হবে।নামজারি সম্পন্ন হলে সরকার কর্তৃক Duplicate Carbon Receipt (DCR) প্রদান করা হয়, যা জমির বৈধতার অন্যতম প্রধান প্রমাণ।৫. আইনি সতর্কতারেজিস্ট্রিবিহীন যেকোনো চুক্তি বা স্ট্যাম্পে (যেমন: ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প) সম্পাদিত ক্রয়-বিক্রয় আইনত অবৈধ এবং এর কোনো আইনি ভিত্তি নেই।সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ই-রেজিস্ট্রেশন সিস্টেম চালু রয়েছে। ভূমি মন্ত্রণালয়ের ভূমি মন্ত্রণালয় পোর্টালে জমির সঠিকতা ও ফি সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়।আপনি কি নির্দিষ্ট কোনো এলাকার জমি সংক্রান্ত তথ্য খুঁজছেন, নাকি জানতে চান দলিল রেজিস্ট্রি ও নামজারির বর্তমান সরকারি খরচ (ফি ও ট্যাক্স) সম্পর্কে?