10/03/2021
ফয়সালের ফয়সালা এবং ফেসবুক বুস্ট
মাস কয়েক হল ফয়সাল তার ফেসবুক পেই খুলেছে। ছেলেদের টি শার্ট, শার্ট, ঘড়ি, জুতা যা পেরেছে এনে সাজিয়েছে তার পেইজ। একালার ভাইদের থেকে অর্ডারও পেয়েছে সে। তবে সেখানেই থামেনি সে, একটি ফেসবুক গ্রুপ ও আছে তার। ফাহাদ জুবায়ের নামের ফেইক আইডি দিয়ে চালায় সেই গ্রুপ। তার ফেসবুক অ্যাড আকাউন্ট টাও এই নামে। পাসপোর্ট, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং একটি ডুয়াল কারেন্সি কার্ড আছে করে নেয় ফয়সাল। আর কি লাগে! স্বাবলম্বী উদ্যোক্তা এবং মার্কেটার মনে হচ্ছে এখন তার নিজেকে। “কেউ থামাতে পারবে নাহ!”
বিপাক হয় তার প্রথম বুস্টেই। ২ দিনের জন্য ৫ ডলারের বুস্ট করেছিল। সারা বাংলাদেশ, মেইল, বয়স ১৮-৩৬। কিন্তু কি ব্যাপার। সারা বাংলাদেশ থেকে নেই কোন সাড়া, এদিকে টাকা যাওয়ার চিন্তায় ফয়সাল তো ঘুম হারা। কিসে সমস্যা বুঝতে পারছে না সে। সবগুলো প্রোডাক্টের ছবিই তো দিলাম। তাও কেউ অর্ডার দিল না!
কয়েকদিন পর আবার আরেক দফা বুস্ট করে ফয়সাল। প্রায় ৭০ খানেক ছবি। সব ধরণের প্রোডাক্ট একসাথে। ইউটিউব দেখে সে জানতে পেরেছে প্রোডাক্ট নিয়ে কিওয়ার্ড লিখতে হবে। গণহারে কিওয়ার্ড অ্যাড করে গেছে ফয়সাল। এবার একটা ফয়সালা করতেই হবে। সাহস করে বাজেটও বাড়িয়েছে সে। ১০ ডলার, দুই দিন। এবার তাকে আর কে পায়। সবার দেখাদেখি তার পেইজেও দাম উল্লেখ নেই, ম্যাসেজ না দিয়ে যাবে কই।
দিন যায়, টাকা যায়, ম্যাসেজ তো আসে না হায়। কিছু ম্যাসেজ যাও আসে, দাম শুনেই বলে বাই।
এক সপ্তাহের মাঝে প্রায় ১,৫০০ টাকা খরচ করে ফয়সালের বিক্রয়ের খাতা শূন্য। তরুন এই উদ্যোক্তার মনে দেখা দেয় শঙ্কা। কোথায় তার ভুলটা হচ্ছে ধরতে পারছে না ফয়সাল।
বেশ কয়েকটা অনলাইন গ্রুপে জিজ্ঞাসা করে, চেক ইনবক্স ছাড়া কাজের কিছু পায়নি সে। পূর্বের অভিজ্ঞতা থাকায় সেদিকে আর আগায়নি সে। তবে এত সহজে হাল ছাড়বার পাত্র সে নয়।
আসুন একটু দেখে নেই ফয়সালের ফয়সালাতে ভুলগুলো কি ছিল।
১। বাজেটঃ ফয়সালের প্রথম বুস্টের বাজেট অনেক কম ছিল। আগে এক সময় হয়ত এই বাজেটে কিছু ম্যাসেজ পাওয়া যেত কিন্তু প্রতিদিন যে পরিমাণে অর্থ বুস্টের পেছনে খরচ হয় সেই তুলনায় ছেলেদের পোশাকের জন্য ৫ ডলারের দুই দিনের বুস্ট কিছুই না। ফয়সালকে বাড়াতে হবে বাজেত, বাড়াতে হবে বুস্টের সময়।
ফেসবুক একটি মেশিন। তাকেও সময় দিতে হবে বিষয়টা বুঝে ওঠার জন্য। দুই দিনের বুস্ট করলে ফেসবুক বুঝেই উঠতে পারব না যে বিজ্ঞাপন সে কাকে দেখাবে, কাকে দেখাবে না। এই বিষয়টা বুঝতে ফেসবুকের কখনও তিন দিন, কখনো বা তার বেশি সময় প্রয়োজন হয়। ফয়সালের প্রথম ভুল ছিল এত অল্প বাজেট এবং এত অল্প সময়ের জন্যে বুস্ট করা।
ভাল রেসপন্স পেতে হলে তাকে বাজেট এবং সময়কাল, দুইটিই বাড়াতে হবে।
২। এক পোস্টে সকল ছবিঃ দুইটি বিজ্ঞাপনেই ফয়সাল একটি পোস্টে তার সকল পণ্যের ছবি দিয়েছে। এবং এটি অন্যতম একটি কারণ ভাল রেসপন্স না পাওয়ার। স্বাভাবিকভাবে চিন্তা করুন, যার ঘড়ি প্রয়োজন তার যে জুতাও প্রয়োজন এমন তো নাও হতে পারে। ঠিক সেভাবেই শার্ট এবং টিশার্ট এর ক্রেতাও এক নন। তাই একসাথে সবগুলো ছবি দেয়াতে ক্রেতা অনেক সময় তার প্রয়োজনের পণ্য দেখার আগেই স্ক্রল করে চলে যাবে। দ্বিতীয় পোস্টে সে ৭০+ ছবি দিয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই অনেকের ধৈর্য থাকবে না শেষ পর্যন্ত দেখার। ফয়সালের ফয়সালার দ্বিতীয় ভুল ছিল এখানে।
৩। টার্গেটঃ বুস্টের জ্বালানি শক্তি হচ্ছে টার্গেটিং। ফয়সালের প্রথম বুস্টে টার্গেটিং ছিল খুব বেশি ব্রড। এত ব্রড টার্গেট হলে ফেসবুকের প]ক্ষে সঠিক অডিয়েন্স এর কাছে বিজ্ঞাপন পৌঁছানো প্রায় অসম্ভব। অনেকেই এরকম বিশাল টার্গেট ঠিক করে বেশি রিচ পাওয়ার উদ্দ্যেশে তবে এতে করে বিক্রয় বৃদ্ধির সম্ভাবনা খুব কম। ফয়সাল তার দ্বিতীয় বুস্টে কিছু কি ওয়ার্ড ব্যবহার করে। কিন্তু এখানেও সে পোস্টে ব্যবহার করেছে সবধরনের প্রোডাক্ট। যে কারণে বাজেট বেশি থাকা সত্ত্বেও যার বিভিন্ন কি ওয়ার্ড এবং প্রোডাক্টের ছবি থাকার কারণে সঠিক অডিয়েন্সের কাছে পৌছায়নি তার বিজ্ঞাপন।
ফয়সালের উচিত ছিল প্রত্যকটি প্রোডাক্টের জন্য আলাদা করে পোস্ট তৈরি করা এবং সেই অনুযায়ী বুস্ট করা। তাহলে তার ফলাফল কিছুটা হলেও ব্যতিক্রম হত। ফেসবুকের জন্য সহজ হত, প্রকৃত ক্রেতার নিকট বিজ্ঞাপনটি পৌঁছানো।
তবে ঘটনা এখানেই শেষ নয়। মনে আছে বলেছিলাম ফয়সালের আই ডি এর নাম ফাহাদ জুবায়ের? এর কারণেই আগামী পর্বে ফয়সাল পড়তে যাচ্ছে আরেকটি বিপদে। ঠিক ধরেছেন, তার অ্যাড অ্যাকাউন্ট ডিস্যাবেল হতে আর বেশি দিন বাকি নেই। ফয়সালের অ্যাড অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধার নিয়ে আগামী পর্বে থাকছে “ফয়সালের ফয়সালা – ফেরত – The Return”