17/02/2026
স্ত্রীর পাশে একান্তে বসে কখনো কি জিজ্ঞেস করেছেন—
“তোমার মনের ভেতরটা কেমন আছে?”
আপনি সারাদিন পরিশ্রম করেন, রোজগার করেন, সংসারের খরচ চালান—এগুলো নিঃসন্দেহে আপনার দায়িত্ব।
কিন্তু দায়িত্বের বাইরে গিয়ে, শেষ কবে এক কাপ চা হাতে নিয়ে তার পাশে বসে বলেছিলেন—
“তোমার মনটা আজ কেমন আছে?”
যে মেয়েটি একদিন নিজের ঘর, বাবা-মা, ভাই-বোন, শৈশবের স্মৃতি—সবকিছু ছেড়ে শুধু আপনার উপর ভরসা করে আপনার জীবনে এসেছিল,
সে কি শুধু রান্না করার মানুষ?
শুধু কাপড় ধোয়ার মানুষ?
শুধু সন্তানের মা?
না…
সে-ও একজন মানুষ।
তারও অভিমান আছে,
তারও স্বপ্ন আছে,
তারও ভয় আছে,
তারও কষ্ট আছে—
আর আছে আপনার কাছ থেকে একটু যত্ন আর ভালোবাসা পাওয়ার নীরব আশা।
অনেক স্ত্রী মুখে কিছু বলে না।
অভিযোগ করে না।
চুপচাপ সংসার সামলায়, হাসিমুখে দায়িত্ব পালন করে।
কিন্তু সেই হাসির আড়ালে জমে থাকে না-বলা কষ্ট,
অদেখা চোখের পানি,
নীরব অপেক্ষা।
রাতে আপনি ঘুমিয়ে গেলে,
হয়তো সে একা চুপচাপ ভাবতে থাকে—
“আমি কি সত্যিই তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ?”
মনে রাখবেন,
স্ত্রীরা সবসময় বড় কিছু চায় না।
দামী শাড়ি, সোনা-গয়না, বড় বাড়ি—
এসবের চেয়েও তাদের কাছে বেশি মূল্যবান হলো—
স্বামীর একটু সময়,
একটু সম্মান,
একটু মনোযোগ,
আর ভালোবাসার কয়েকটি আন্তরিক কথা।
আপনার একটি কঠিন কথা,
একটি অবহেলা—
তার হৃদয়ে গভীর আঘাত হয়ে লাগে।
আবার আপনার একটি মিষ্টি কথা,
একটি ছোট যত্ন—
তার পুরো দিনটাই সুন্দর করে দিতে পারে।
ভাবুন তো—
শেষ কবে তার হাত ধরে বলেছিলেন,
“তুমি থাকলে আমার জীবনটা সত্যিই সুন্দর।”
শেষ কবে জিজ্ঞেস করেছিলেন,
“তোমার কোনো কষ্ট থাকলে আমাকে বলো।”
মনে রাখবেন—
অভাব সংসার ভাঙে না,
অবহেলা সংসার ভাঙে।
টাকা দিয়ে ঘর বানানো যায়,
কিন্তু ভালোবাসা ছাড়া পরিবার তৈরি হয় না।
আজই একটু সময় বের করুন।
তার পাশে বসুন।
তার চোখের দিকে তাকিয়ে শুধু একটি প্রশ্ন করুন—
“তুমি ঠিক আছো তো?”
দেখবেন,
তার মুখের সেই ছোট্ট হাসিটাই
পুরো ঘরকে শান্তি আর সুখে ভরে দেবে।
কারণ সত্যিই—
স্ত্রীর হাসি থাকলে
সংসার জান্নাতের মতো হয়ে যায়।