01/08/2026
স্কুলে পড়া একটা ছেলেপেলেকে নিয়া আমাদের দেশে দুই রকম কথাই শোনা যায়।
এক - হয় "ছেলেটা পড়াশোনায় খুব ভালো।"
দুই - নাহয় "ছেলেটা হাতছাড়া হয়ে যাইতেছে, সারাদিন মোবাইল নিয়া পইড়া থাকে।"
তিন নম্বর কোনো অপশন নাই।
কাল রাতে সেই তিন নম্বরটার সাথে দেখা হইল।
এই ছেলেটার হাতেও মোবাইল আছে। কিন্তু ওই মোবাইলে ও Free Fire এ র্যাংক পুশ করতেছে না। TikTok এর Trending Sound দিয়ে reel বানাইতেছে না।
যেই মোবাইল দিয়ে বাকিরা সময় নষ্ট করতেছে, ও সেই একই মোবাইল দিয়ে content বানাইতেছে।
কী নিয়ে বানাচ্ছে জানেন?
বড় brand গুলো product এর চেয়ে নিজের নামটা নিয়ে বেশি মাথা ঘামায় কেন? মানে, দোকানে গিয়া কিছু কিনতে চাইলে কোন নামটা আপনার মাথায় সবার আগে আসে। কেন ওইটাই মাথায় আসে? এসব নিয়ে। একদম গুছাইয়া। উদাহরণ দিয়ে দিয়ে।
প্রথমে তো ভেবেছিলাম, বয়স হয়েছে দেখে হয়তো ছোট মনে হচ্ছে...
তারপর জানতে পারি এই ছেলে SSC টাই এখনো দেয় নাই।
বুঝতাসেন আপনি বিষয়টা?
ওর নাম Noor Hasan।
আমরা যখন ওই বয়সে ছিলাম, তখন হাতে এই internet টাই এইভাবে ছিল না।
এখন মোবাইল সবার হাতে।
পার্থক্যটা তাই এখন রিসোর্সে না। পার্থক্যটা মাইন্ডসেটে, চিন্তা ভাবনায়।
আরেকটা জিনিস ভালো লাগছে। ও পড়াশোনা ছাড়ে নাই। "পড়ে কী হইব" বইলা বীরত্বও দেখায় নাই।
আমাদের বাংলাদেশে আমরা দুইটা এক্সট্রিম শ্রেণি দেখা যায়। এক, বইয়ের ভিতরে ঢুইকা থাকা পোলাপান। দুই, কথিত মোটিভেশনাল গুরুদের পাল্লায় পড়ে পড়াশোনা ছেড়ে দিয়ে “চাকচেস” হাসিল করতে নামা পোলাপান, ছয় মাস পর যাদের আর খুঁইজা পাওয়া যায় না।
মাঝখানের রাস্তাটাই সবচেয়ে কঠিন। ওইখানে পড়াশুনা আর ক্যারিয়ার দুইটা কাজ একসাথে সামলাতে হয়, কোনো অজুহাত চলে না।
ওই কঠিন রাস্তাটাই এই নূর হাসান ছেলেটা বেছে নিয়েছে।
এইবার একটা কথা সোজাসুজি বলি।
একটা industry তখনই বড় হয়, যখন শুরুর লেভেলের মানটা উপরে উইঠা যায়। এই বয়সের একটা ছেলে যদি brand নিয়া এই লেভেলের আলাপ করতে পারে, তাহলে সিনিয়রদেরও পড়তে হবে, গভীরে যাইতে হবে।
কেকটা ছোট হইতেছে না। কেকটা বড় হইতেছে।
আমার মনে হয় আসল বিষয়টা বয়স না।
আসল বিষয়টা হইল, যেই ছেলেটা এখনো SSC দেয় নাই, সে marketing নিয়া ভাবতেছে, নতুন idea নিয়া পড়তেছে, নিজে কিছু একটা বানাইতেছে, আর সাহস কইরা নিজের চিন্তাটা সবার সামনে বলতেছে।
এই মানসিকতাটাই সবচেয়ে ইম্পরট্যান্ট জিনিস আমাদের জন্য। দেশের জন্য। জাতির জন্য।
ওর এই ভিডিওতে ১৮২টা reaction. কেউ বলবে সংখ্যাটা ছোট।
আমি এই সংখ্যাটা দেখি নাই। আমি দেখছি, ছেলেটার ভেতর একটা আগুণ আছে।যেটা অনেক বড় একটা পরিবর্তন আনবে ইন্ডাস্ট্রিতে।
নূর হাসান, তোমার সাথে কোনোদিন কথা হয় নাই, ব্যক্তিগতভাবে চিনিও না। কিন্তু তোমার কাজের একজন বিরাট ভক্ত আমি। অন্তত আমার জন্য ভিডিও বানানো থামিও না কখনো! প্রাউড অফ ইউ নূর! আল্লাহ তোমার কাজে বরকত দিক।
আর যারা এতদূর পড়লেন, আপনার আশেপাশেও এমন কেও আছে। চুপচাপ কাজ কইরা যাইতেছে, কেউ খেয়াল করতেছে না।
আজকে তার একটা কাজে গিয়া শুধু বলে আসেন, "ভাই ভালো হইতেছে, চালাইয়া যা।"
এভাবেই এই industry অ্যারো টা ২০ বছর আগাইয়া যাবে। ইন শা আল্লাহ।
আমি লিখবো ভাবতেছি.... এর মধ্যে দেখি Sayeed Fahad ভাই লিখেছেন।
তাই লেখা কপি করলাম।
ভাইয়ের লেখার পরে আমার মাথায় নতুন লেখা আসছে না