17/02/2025
একটি শিশুকেও ব্লক চেইন বুঝিয়ে দেওয়া সম্ভব। শুনুন কীভাবে?
" ধর তোমাদের গ্রামে সবাই যত কিছু কেনা বেচা হয় তা সব তুমি খাতায় লিখে রাখ।
তোমার দুই বন্ধুও লিখে রাখে।
তারপরে রাতের বেলায় সবাই একসাথে বস। একজন আরেকজনের সাথে মিলিয়ে দেখ সব লেখা ঠিক আছে কিনা।
তারপরের সেই খাতা তালা মেরে দাও।
পরের দিন আবার আরেকটা খাতা নাও এবং সেই দিনের সব লেনদেন লিখে রাখ। তারপরে আবার বন্ধুরা মিলে রাতের বেলায় একজন আরেকজনের সাথে খাতা মিলিয়ে দেখে নাও সব ঠিক আছে কিনা।
আবার তালা মেরে দাও। তবে এবারে একটি কাজ কর। তা হচ্ছে নতুন তালা আগের তালার সাথে খাপ খাইয়ে মেলাও।
তৃতীয় দিন আবার লিখ, এবং আবার দ্বিতীয় দিনের সাথে খাপ খাইয়ে তালা বানাও।"
শিশু প্রশ্ন করলো "খাপ খাইয়ে তালা বানানো কী?"
গুরু বললেন, "এই যে দেখ তুমি , তোমার জন্ম হয়েছে তোমার বাবার থেকে। তোমাদের দুই জোনের মধ্যে মিল আছে (জেনেটিক্স), আবার তোমার বাবার জন্ম তোমার দাদার থেকে, দাদার জন্ম তার বাবার থেকে। এভাবে সবার মাঝে একটা সম্পর্ক আছে না?"
"হ্যাঁ আছে"
"এখন চিন্তা কর এর বাহিরের নতুন কাউকে এনে যদি বলা হয় এইটা তোমাদের বংশের লোক তোমারা কি মেনে নিবে?"
"না"
"ঠিক, তোমারা মেনে নিবে না। কারণ সবাই জানো তোমাদের বংশে কে কে আছে এবং শরীরের ভিতর কোষে কোষে তার প্রমাণ। যার কোষ আলাদা সে মানুষও আলাদা।
ঠিক একই ভাবে খাতার ভিতরে তথ্য যদি কেউ বদলে ফেলে তালার পরিচয় বদলে যাবে। তখন কেউ মানবে না যে এই খাতার লেখা ঠিক। সেজন্য এই কাজে কেউ চুরি করতে পারে না। চুরি করতে গেলেই ধরা পড়বে। কারণ সবার খাতায় তথ্য থাকে এবং এই তথ্য সবার কাছে ছড়ানো ও জানা থাকে। সেজন্য কেউ নিজের মত করে মিথ্যা কথা লিখলেই ধরা পড়ে।"
এই কাজগুলো আমরা চাইলে কম্পিউটারে করতে পারি। কম্পিউটারে সারা দিন লিখবো। সেরকম একটা খাতার নাম হচ্ছে ব্লক। এরকম অনেকে লিখবে এবং সবাই দিন শেষে এগুলো মিলিয়ে চেক করে লক করবো। এভাবে প্রতিদিন লিখবো। একটার পর একটা লক শিকলের মতন জোড়া লেগে থাকবে। শিকলকে ইংরেজিতে বলে চেইন। তাই এই প্রযুক্তিকে বলে ব্লক চেইন।