06/11/2020
Post # 8
২.৫) Blockchain Technology এবং Bangladesh: Fin Tech এর এই যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশেরও ব্লকচেইন প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করার সময় এসে গেছে। কিন্তু তার আগে জানতে হবে আমরা কি নতুন প্রযুক্তি গ্রহণে প্রস্তুত ? আশার কথা হচ্ছে স্বল্প পরিসরে হলেও এবার আমরা এ ধরনের প্রযুক্তির সাথে কাজ করার ব্যাপারে আগ্রহী হয়ে বিনিয়োগ করা শুরু করছি যা আমাদেরকে বহি বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে সাহায্য করবে।
নিম্নে আমরা কয়েকটি সরকারী ও বেসরকারী রিপোর্ট তুলে ধরছি যেখানে বক্তারা বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশে Blockchain এর সম্ভাবনা ও ব্যবহার নিয়ে কথা বলেছেন......
রিপোর্ট-১: ডিজিটাল মুদ্রা ব্যবস্থা ব্লকচেইন প্রযুক্তি চালু করার ঘোষণা এসেছে নতুন বাজেটে। ২০১৯-২০ অর্থবছর হতেই এই প্রযুক্তির পরীক্ষামূলক ব্যবহার শুরু করার কথা বলেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। ১৩ জুন ২০১৯ ইং জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে নতুন বছরের বাজেট প্রস্তাবে বলা হয়, বিশ্বজুড়ে তথ্য আদান-প্রদানের অপরিবর্তনীয় ও নিরাপদ মাধ্যম হয়ে উঠেছে ব্লকচেইন।এতে বলা হয়েছে, এই পদ্ধতিতে আর্থিক লেনদেন ছাড়াও ব্যবসা-বাণিজ্য, মেধাসত্ব, স্বাস্থ্যসেবা, মালিকানার তথ্য সংরক্ষণ ও আদান-প্রদান শুরু হয়েছে। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশেও ব্লকচেইন প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করার সময় এসেছে। তাই আগামী অর্থবছরে দেশে বক্লচেইন প্রযুক্তির পরীক্ষামূলক ব্যবহার হবে।
ব্লকচেইন নিয়ে অনেক দিন হতেই কাজ করছে দেশীয় কোম্পানি ইজেনারেশন। কোম্পানিটির চেয়ারম্যান শামীম আহসান বলেন, অর্থনৈতিক প্রযুক্তিতে ব্লকচেইন একটি উন্নয়নশীল জাতির অর্থনৈতিক অবস্থা পরিবর্তন করার ক্ষমতা রাখে।বাজেটে ব্লকচেইন চালুর ঘোষণা সরকারের সুদূরপ্রসারী ভাবনার প্রতিফলন উল্লেখ করে বেসিসের সাবেক এই সভাপতি বলেন, ব্লকচেইন প্রযুক্তি চালুর ফলে সরকারের কাজে স্বচ্ছতা আসবে। ভুলভ্রান্তি কমে আসবে, সেবার মান উন্নতি হবে। ইজেনারেশন দু’বছর আগে হতে মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপে এই ব্লকচেইন সেবা দিয়ে আসছে জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কাজ করতে তারা দক্ষতা নিয়েই প্রস্তুত আছেন। এছাড়া অল্প সংখ্যক আরও কিছু প্রতিষ্ঠানও রয়েছে যারা ব্লকচেইন নিয়ে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে চাইছেন।
রিপোর্ট-২: গত ২৪ শে জানুয়ারী ২০২০ ইং এ অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, বর্তমান বিশ্ব চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এ শিল্প বিপ্লবের প্রধান নিয়ামক হবে প্রযুক্তি। প্রযুক্তিনির্ভর এ বিপ্লবের সুযোগ নিতে সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রধান নিয়ামকের ভূমিকায় থাকবে ন্যানো টেকনোলজি, রোবোটিকস, ব্লকচেইন, এনার্জি স্টোরেজ ও কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের মতো বিষয়গুলো। এ শিল্প বিপ্লবের সুফল পেতে হলে তার জন্য উপযোগী জনবল কাঠামো গড়ে তুলতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়কে এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন্স সিস্টেমস (এআইএস) বিভাগের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ২৫ বছর ও এআইএসের ৫০ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
অত্যাধুনিক আর্থিক প্রযুক্তি ব্লকচেইন বিষয়ে অ্যাকাউন্টিং বিভাগ যদি কোনো কোর্স চালু করে, তাহলে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তা দেয়া হবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।
রিপোর্ট-৩: ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার বলেন, ব্লকচেইন ডাটা নিয়ে কাজ করা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গৌরবের বিষয়। বাংলাদেশের জন্য এটি নিয়ে কাজ করা অন্যতম এক অর্জন।
বিগত ১০ ই জানুয়ারী ২০২০ ইং এ বেসিস মিলনায়তনে ইজেনারেশনের উদ্যোগে 'বৈশ্বিক অর্থায়ন ব্যবস্থায় ব্লকচেইন-বাংলাদেশের করণীয়' শীর্ষক আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্লকচেইন নিয়ে কাজ করতে পারে এটা এক সময় অকল্পনীয় ছিলো। বর্তমানে বাংলাদেশ তথ্য প্রযুক্তি খাতে একটি সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। এই সম্ভাবনাকে যদি কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যেতে না পারি তাহলে আমরা এগোতে পারবো না।
তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রযুক্তির প্রতি যে আগ্রহ তা সচরাচর দেখা যায় না। ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারে যারা কাজ করছে তারা কিন্তু প্রযুক্তিতে মহাপণ্ডিত নয়। ইচ্ছাশক্তি ও প্রযুক্তি ব্যবহারই তাদের এগিয়ে দিয়েছে। তবে দুর্ভাগ্য যে শিক্ষা ব্যবস্থা এখনো বদলাতে পারিনি। এটা চলতে থাকলে এক সময় মানবসম্পদ বোঝা হয়ে দাঁড়াবে। সবচেয়ে বড় কথা হলো যতক্ষণ পর্যন্ত তথ্যপ্রযুক্তি সাধারণ জনগণের কাছে পৌঁছাতে না পারি, জনগণ যদি সেই প্রযুক্তির ব্যবহার করতে না পারে, তাহলে এই সম্ভাবনা কোনো কাজে আসবে না।
গোলটেবিল আলোচনায় ই-জেনারেশন গ্রুপের চেয়ারম্যান বলেন, গণমাধ্যমে ইন্টারনেট যেমন ভূমিকা রাখছে, ব্যাংকিং খাতে ব্লকচেইনও তেমনি ভূমিকা রাখবে। স্বাস্থ্যসেবা, ব্যাংকিং, রিয়েল স্টেট এবং বিনিয়োগের ক্ষেত্রে যথেষ্ট পরিবর্তন নিয়ে এসেছে এই প্রযুক্তি। যেহেতু ক্রিপ্টোকারেন্সির সচেতনতা ছড়িয়ে যাচ্ছে এবং ছোট পরিসরে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই মনে করা হয় যে, ব্লকচেইন প্রযুক্তি বিনিয়োগ শিল্পকে হাতের মুঠোয় নিয়ে এসেছে। বর্তমানে গতানুগতিক ও বিকেন্দ্রীভূত প্রতিষ্ঠানগুলো ইনিশিয়াল কয়েন অফারিং দ্বারা বিনিয়োগের তহবিল সংগ্রহ করছে।
আলোচনায় এস এম আশরাফুল ইসলাম বলেন, বিশ্ব দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। ২০১৭ সালের প্রযুক্তি পরিবেশ ২০১৮ সালে এসে অনেকটাই বদলে যাবে। ডাটার অপেন অ্যাক্সেসের কারণে কপিরাইট সংরক্ষণ একটি বিশাল চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হবে। কপিরাইট নিশ্চিতকরণে ব্লকচেইন বড় ভূমিকা পালন করবে। দেশে ভূমি রেকর্ড ব্যবস্থাপনায় ব্লকচেইনের ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।
রিপোর্ট-৪: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক দেশে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত ব্লককচেইন অলিম্পিয়াডে অংশ নেওয়া বিজয়ী দলগুলোকে অভিনন্দন জানিয়ে দেশের শিক্ষার্থীদের নতুন নতুন উদ্ভাবনী দ্বারা সমস্যাকে সুযোগে পরিণত করার আহবান জানিয়েছেন।
বিগত ৩ রা মে ২০২০ ইং এ ডিজিটাল প্লাটফর্মে ব্লকচেইন অলিম্পিয়াড বাংলাদেশ ২০২০’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় আরও বলেন, উদ্ভাবনী এবং সৃজনশীল চিন্তা থেকে যে কোন সমস্যাকে সুযোগে পরিণত করতে পারে দেশের তরুণ শিক্ষার্থীরা। তাদের উদ্ভাবনী ও সৃজনশীল চিন্তার সাথে ব্লকচেইনের মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটিয়ে কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তা ব্যবহার করা হলে দেশ অনেকদূর এগিয়ে যাবে।
তিনি বলেন, প্রয়োজন থেকেই নতুন নতুন উদ্ভাবনের জন্ম হয়। করোনাকালে আমরা সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখছি ঠিকই কিন্তু বুদ্ধিবৃত্তিক উদ্ভাবনের দ্বারা ভার্চুয়াল জগতে আমরা একে অপরের কাছাকাছি আছি।
অনুষ্ঠানে ব্লকচেইন অলিম্পিয়াড বাংলাদেশ এর সমন্বয়ক হাবিবুল্লাহ এন করিম দেশে প্রথবারের মতো অনুষ্ঠিত ব্লকচেইন অলিম্পিয়াড প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারিদের মধ্য থেকে ১০টি দলকে বিজয়ী ঘোষণা করেন।
অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিজয়ী দলগুলোকে পুরস্কারের অর্থের ভার্চুয়াল চেক প্রদান করা হয়। আর চ্যাম্পিয়নশিপ অ্যাওয়ার্ডটি প্রদান করা হয় সদ্য প্রয়াত জাতীয় অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরীর নামে, যিনি ব্লকচেইন অলিম্পয়াড বাংলাদেশের একজন উপদেষ্টা
ছিলেন।
আইসিটি প্রতিমন্ত্রী চ্যাম্পিয়ন দলের প্রধান অনিরুদ্ধ’কে তার নগদ অ্যাকাউন্টে পুরষ্কারের এক লক্ষ টাকা ট্রানসফার করেন। বিজয়ীদের হংকং ব্লকচেইন অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণের স্পনসর করা হবে বলে জানানো হয়।
হাবিবুল্লাাহ বলেন, একটি জুরি বোর্ডের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারি ৬২টি দলের জমাকৃত ৬২টি প্রকল্পের মূল্যায়ন করে ১০ দলকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।
বিজয়ী দলগুলো হচ্ছে: হাইপারঅ্যাকটিভ অরেঞ্জেস, টীম লীড চেইন, ডিইউ নিমবাস, টীম ডিজিটাল ইনোভেশন, টর, ওয়েব থ্রি ডট ওয়ান, ব্রোগ্রামারস, এভিয়াটো, ডিইউ হাইপালেজার, কসমিক ক্রিউ।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ৫৭ জন বিচারক নিয়ে গঠিত বোর্ড গত এপ্রিলে অনুষ্ঠিত ব্লকচেইন অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণকারিদের জমাকৃত ৬২টি প্রকল্পের মূল্যায়ন করে এ ১০টি দলকে বিজয়ী দল হিসেবে নির্বাচন করে।
রিপোর্ট-৫: তথ্য প্রযুক্তি খাতের আলোচিত ব্লকচেইন প্রযুক্তি ব্যাংকিং খাতের জন্য এক অপার সম্ভাবনা নিয়ে এসেছে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এসএমই) অর্থায়নে মর্টগ্যাজসহ সকল ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও নির্ভরযোগ্যভাবে ডাটা ব্যবস্থাপনায় এটি খুবই সম্ভাবনাময়।
বিগত ২৬ শে অক্টোবর ২০১৯ ইং এ বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) এবং ব্রাক ব্যাংকের যৌথ আয়োজনে এক কর্মশালায় হংকং ব্লকচেইনের প্রেসিডেন্ট ড. লরেন্স মা এ সব কথা বলেন।
রাজধানীর গুলশানে ব্র্যাক ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।
ব্র্যাক ব্যাংকের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, কর্মশালায় লরেন্স মা বলেন, ইন্টারনেট যখন কালের পরিক্রমায় দ্বিতীয় প্রজন্মে পদার্পণ করছে, তখনই বিশ্ব প্রযুক্তির বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে এই ‘ব্লকচেইন’।
তিনি বলেন, তথ্য প্রবাহের প্রথম যুগটি ছিল যে কোনো জায়গায় যে কোনো সময়ে তথ্যের সহজলভ্যতা। কিন্তু এখন ব্লকচেইন প্রযুক্তি নামে ক্রিপ্টোগ্রাফি, গণিত, সফটওয়্যার প্রকৌশল আর আচরণগত অর্থনীতির এই বুদ্ধিদীপ্ত সমন্বয় নিয়ে আসছে। ইন্টারনেট অব ভ্যাল্যু, যা একটি নতুন ডিস্ট্রিবিউটেড প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বাণিজ্যে রূপান্তর ঘটিয়ে পৃথিবীকেও একভাবে বদলে দেবে।
কর্মশালাটির আলোচ্য বিষয় ছিল ব্লকচেইনের কৌশলগত, ব্যবসায়িক আর আইনী দিকগুলো বিশ্লেষণ করা। একইসঙ্গে ক্ষুদ্র ও মাঝারি (এসএমই) উদ্যোক্তাদের জন্য এই ডিস্ট্রিবিউটেড লেজার প্রযুক্তিটির প্রয়োগ কীভাবে হবে।
শিক্ষাবিদ, গবেষক, অর্থনীতিবিদ, বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং ব্যাংকিং, টেলিকম, আইসিটি আর উন্নয়ন খাতের পেশাজীবিরা কর্মশালায় অংশ নেন।
ব্র্যাক ব্যাংকের চেয়ারম্যান এবং পিআরআই’র নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর কর্মশালায় ব্লকচেইন বিষয়ক একটি প্যানেল আলোচনা সঞ্চালন করেন।
আলোচনায় অংশ নেন ড. লরেন্স মা, টেকনোহ্যাভেন কোম্পানি লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী হাবিবুল্লাহ এন করিম এবং এশিয়ান টাইগার ক্যাপিটাল পার্টনারসের চেয়ারম্যান ইফতি ইসলাম।
পিআরআই চেয়ারম্যান ড. জাইদী সাত্তার এবং ব্র্যাক ব্যাংকের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাব্বির হোসেন এতে উপস্থিত ছিলেন।