16/11/2025
Meta Andromeda খুবি সিম্পল একটা জিনিস ভাই, কিন্তু বিভিন্ন গ্রুপে গ্রুপে এটারে কঠিন থেকে কঠিনতর বানাই ফেলছে ভাই ব্রাদাররা।
আসেন খুব সিম্পল একটা লজিক, এক্সপ্লেনেশান আর উদাহরণের মাধ্যমে সহজ করে ব্যাপারটা আপনাকে বুঝাই বলি, সাথে এইটাও বুঝাবনে Meta Andromeda আপনার উপকার করতেছে নাকি অপকার! 😀
মেটা এন্ড্রোমেডা হইতেছে ভাই জাস্ট একটা টেকনলজি, হ্যা স্রেফ একটা টেকনলজি এর থেকে বেশি কিছু না। আসেন একটু টেকনলজিটা বুঝার চেষ্টা করি।
Meta Andromeda হইতেছে হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার আর মেশিন লার্নিং এর সংমিশ্রনে ডিজাইন করা একটি নতুন সিস্টেম, যেখানে ব্যবহার হয়েছে MTIA (Meta Training & Inference Accelerator) এবং NVIDIA Grace Hopper Superchip।
**** শুনেন এই টেকনলজি আমি বুঝি নাই, সো আপনার ও বুঝার দরকার নাই। যা পড়ছেন ভুলে যান বাট নিচের গল্পটা খুউউউব মন দিয়ে পড়েন। ওইটাই হইলো গিয়া আসল খেলা। 😀
শুরুতেই বুঝি আগের নিয়ম আর এখনের নতুন নিয়মের মেডা এডের মধ্যে আসলে পার্থক্যটা কোথায়:
আগে Meta শুধু এইটুকু বুঝতে পারতো আপনি জুতার বিজ্ঞাপন দেখেছেন, জুতার পেজে গেছেন, জুতার অ্যাডে ক্লিক করছেন। এতটুকু দেখে বলত - এই মানুষটা জুতা পছন্দ করে।
কিন্তু এখন Andromeda দেখে, আপনি জুতার কোন রঙ পছন্দ করেন, কোন ডিজাইন দেখলে থামেন, কখন স্ক্রল করেন, কখন থামেন, কোন সময় আপনি কেনাকাটা করতে বেশি আগ্রহ দেখান, আপনি ভিডিও বেশি দেখেন নাকি স্ট্যাটিক? আপনি কোন environment এ কিনেন বাড়িতে? অফিস ব্রেকের সময়? রাত ১০টার পর? নাকি ঘুমাতে যাবার আগে? কোন কনটেন্টে আপনি বেশি engage করেন- emotion? realistic? নাকি humor?
উফফফ লিখতে লিখতে টায়ার্ড হয়ে গেলাম। 😀
আচ্ছা যাক টপিকে ফিরি, এই যে উপরে একটা ফিরিস্তি দিলাম এগুলা সব মিলিয়ে ঝিলিয়ে মেটা আপনার একটা বিহেভিওরাল প্যাটার্ন তৈরি করে। আর এই প্যাটার্ন তৈরিতে মেটাকে কে হেল্প করে যানেন?
ওইযে উপরের টেকনলজিটা যেটা আমরা বুঝি নাই! 😀
আশা রাখি মেটা এন্ড্রোমেডা কি জিনিস, এইটার ফলে মেটা মার্কেটিং এর এক্সাক্ট কোন জায়গাটায় পরিবর্তন আসছে এই ব্যাপারটা আপনি এখন পানির মতন ক্লিয়ার।
এখন ফ্যাক্ট যেটা সেটা হইলো, এই পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে হলে আপনাকে কি কি করতে হবে।
আপনাকে যেটা করতে হবে সেটা হচ্ছে অনেক পরিশ্রম। 🤣
রাইট ঠিকই শুনছেন, আপনাকে মেলা পরিশ্রম করা লাগবে ভাই। কোন উপায় নাই। আর এই পরিশ্রমটা আপনাকে করতে হবে কন্টেন্ট বানানোর পিছে টাইম দিয়ে। লজিক বুঝাই, যেহেতু মেটা এখন একজন অডিয়েন্সকে আরো ডিপলি এনালাইসিস করে সো সে এখন আরো বেটার জানে কোন অডিয়েন্সের কাছে কোন কন্টেন্ট পাঠালে আপনার এড আগের থেকে আরো বেটার পারফর্ম করবে। সো আপনাকে এখন একটা কাজই করা লাগবে আর সেইটা হইলো মেটাকে মাল্টিপল অফ কন্টেন্ট এবং মাল্টিপিল অফ ভেরিয়াশনের কন্টেন্ট প্রোভাইড করতে হবে। মেটা যেটা করবে সে একদিকে অডিয়েন্সের ডেপথ বিহেভিওর দেখবে আরেকদিকে আপনার কন্টেন্টে চোখ বুলাবে। যেই অডিয়েন্সের সাথে যেই কন্টেন্ট ম্যাচ করবে বলে মনে হবে সেই অডিয়েন্সকে সেই কন্টেন্টই পাঠাবে।
লেখা কিন্তু শেষ না, আরো আছে পড়তে থাকেন, কাজে আসবে। 😜
আরেকটা জিনিস এন্ড্রোমেডা আপডেট আসার আগে ও কিন্তু মেটা আগে থেকেই বেটার ক্রিয়েটিভিটি, বেটার কন্টেন্ট, বেটার কমিউনিকেশন এইগুলাকে প্রিফার করতো। সে সব সময়ই বলতো আপনি ভালো কন্টেন্ট বানালে ভালো এনগেজমেন্ট পাবেন। আর ভালো এনগেজমেন্ট পেলে আপনার এড রিলেভেন্সি আরো বাড়বে এন্ড এডে আরো ভালো রেসাল্ট আসবে।
তবে এন্ড্রোমেডা আপডেট আসার পর সে এখন আর এটা বলতেছে না, আপনি ভালো কন্টেন্ট বানান, সে বলতেছে আপনি অনেক কন্টেন্ট বানান, ভিন্ন ভিন্ন এঙ্গেল থেকে বানান যেমন problem/solution, storyline, pain point, testimonial ইত্যাদির উপর বেইস করে বানান।
ভিন্ন ভিন্ন ফরম্যাট ব্যাবহার করেন এডে যেমন shorts video, long video, static, carousel, collection ইত্যাদি। ভিন্ন ভিন্ন buyer persona র উদ্দেশ্যে কন্টেন্ট তৈরি করুন যেমন খেজুর একজন মুরব্বি ও খেতে পারে, বাচ্চা ও খেতে পারে আবার একজন এথলেট ও খেতে পারে। এরপর সে এটা ও বলছে ভিন্ন ভিন্ন কনটেক্সট থেকে ও আপনি কন্টেন্ট বানান যেমন শীতকালে ফ্যামিলির জন্য শিতের কাপড় কিনা একটা ফেস্টিভ্যাল এর মত, আবার এটা একটা নিড, আবার এটা ফ্যামিলির প্রতি রেস্পন্সিবিলিটি ও।
উপরেই বলছি কন্টেন্টের পিছনে আপনাকে ভালো এফোর্ট দেয়া লাগবে মাস্ট। বিভিন্ন এঙ্গেল থেকে আপনাকে কন্টেন্ট মেইক করে সেটা মেটাকে দিতে হবে এখন। আর মেটা ডিসিশন নিবে কোন এঙ্গেলের কন্টেন্ট কোন অডিয়েন্সের কাছে পাঠালে সেটা সেই অডিয়েন্সকে ট্রিগার করতে পারবে।
এই হলো মোটামুটি এন্ড্রোমেডার মেইন ঘটনা, আপনাকে ফেসবুক খুব ক্লিয়ার একটা ডিরেকশন দিছে ভাই অডিয়েন্স টার্গেট এখন আর এড সেটের মধ্যে নাই, অডিয়েন্স টার্গেট এখন ক্রিয়েটিভের ভিতর বা তোমার এডের ভিতর।
আরেকটা জিনিস, আগে আমরা অনেক এডসেট ব্যাবহার করতাম এডে। এখন মেটা বলে এডসেটের পরিমাণ কমাও। কারণ টার্গেট যেহেতু করবানা সো অনেক এডসেট রেখে আসলে লাভ নাই। বরং এডের পরিমাণ বাড়াও।
N.B. উপরের শর্ত গুলা রিটার্গেটিং এডের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য না ও হতে পারে। আমার মতে একদম ই প্রযোজ্য না। রিটার্গেটে আপনি সেই রিলেভেন্ট ম্যাসেজই দিবেন যেটা আপনার TOFU লেয়ারের ছিল।
ওহ একটা লাস্ট ডিসকাশন রয়ে গেছে, এন্ড্রোমেডা আপনার উপকার করতেছে নাকি অপকার?
যদি আপনার মাল্টি ভেরিয়েশন কন্টেন্ট বানানোর স্ট্রেন্থ থাকে তাহলে ভাই আপনার উপকার করতেছে আর যদি এই স্ট্রেন্থ না থাকে তাইলে ভাই অপকার করতেছে। সোজা সাপ্টা আন্সার দিলাম। 😀
গেলাম আজকে, আসবোনে আরেকদিন নতুন কোন কন্টেন্ট নিয়ে।