17/03/2024
দ্য ফিনান্সিয়াল টাইমস পত্রিকা বলেছিলো, 'মুজিব না থাকলে বাংলাদেশ কখনই জন্ম নিত না।'
ফিদেল ক্যাস্ট্রো বলেছিলেন, 'আমি হিমালয় দেখিনি, বঙ্গবন্ধূকে দেখেছি। তাঁর ব্যক্তিত্ব ও নির্ভীকতা হিমালয়ের মতো। এভাবেই তার মাধ্যমে আমি হিমালয়কে দেখেছি।'
প্রভাবশালী ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানের মতে, 'শেখ মুজিব ছিলেন এক বিস্ময়কর ব্যক্তিত্ব।'
ভারতীয় বেতার 'আকাশ বানী' ১৯৭৫ সালের ১৬ আগস্ট তাদের সংবাদ পর্যালোচনা অনুষ্ঠানে বলে, 'যিশু মারা গেছেন। এখন লক্ষ লক্ষ লোক ক্রস ধারণ করে তাকে স্মরণ করছে। মূলত একদিন মুজিবই হবেন যিশুর মতো।'
বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর দিনে লন্ডন থেকে প্রকাশিত ডেইলি টেলিগ্রাফ পত্রিকায় বলা হয়েছে, 'বাংলাদেশের লক্ষ লক্ষ লোক শেখ মুজিবের জঘন্য হত্যাকান্ডকে অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে বিবেচনা করবে।'
নিউজউইকে বঙ্গবন্ধুকে আখ্যা দেওয়া হয়, "পয়েট অফ পলিটিক্স বলে"।
বৃটিশ লর্ড ফেন্যার ব্রোকওয়ে বলেছিলেন, "শেখ মুজিব জর্জ ওয়াশিংটন, গান্ধী এবং দ্যা ভ্যালেরার থেকেও মহান নেতা"।
আমাদের দেশের নামটাও যে স্বয়ং বঙ্গবন্ধু রেখেছিলেন, এই তথ্য আমরা কয়জন জানি? তিনি ছিলেন এমন একজন মানুষ, যে শুধু আমাদের একটি স্বাধীন দেশ উপহার দেন নি। তিনি এই দেশের নামটাও ঠিক করে রেখে গিয়েছিলেন।
১৯৬৯ সালের ৫ ডিসেম্বর হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বঙ্গবন্ধু পূর্ব বাংলার নামকরণ করেন ‘বাংলাদেশ’। কেন এই নামকরণ, সেটাও তিনি গুছিয়ে ব্যাখা করেছিলেন সেদিনঃ
‘একসময় এদেশের বুক হইতে, মানচিত্রের পৃষ্ঠা হইতে ‘বাংলা’ কথাটির সর্বশেষ চিহ্নটুকুও চিরতরে মুছিয়া ফেলার চেষ্টা করা হইয়াছে। একমাত্র ‘বঙ্গোপসাগর’ ছাড়া আর কোনো কিছুর নামের সঙ্গে ‘বাংলা’ কথাটির অস্তিত্ব খুঁজিয়া পাওয়া যায় নাই। জনগণের পক্ষ হইতে আমি ঘোষণা করিতেছি-আজ হইতে পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশটির নাম হবে ‘পূর্ব পাকিস্তান’ এর পরিবর্তে শুধুমাত্র ‘বাংলাদেশ’।
(অসমাপ্ত আত্মজীবনী, পৃষ্ঠা ২৯৭)
এ আমাদের পরম সৌভৈাগ্য যে তাঁর মতো এক মহান নেতা আমাদের মাটিতে জন্ম নিয়েছিলো। এই মহাপুরুষের ১০৫ তম জন্মবার্ষিকীতে জানাই অশেষ শ্রদ্ধাঞ্জলী।