03/07/2025
ভিজিটিং কার্ডের আদ্যপান্ত বুঝতে অবশ্যই ভিডিওটি আগাগোড়া দেখবেন।
ভিজিটিং কার্ড বিজনেস কার্ড এবং নেইম কার্ড নামেও পরিচিত।
ব্যবসায়িক আলোচনা বা নতুন পরিচয়ে প্রথমেই আমার ভিজিটিং কার্ড দেই। এই ছোট্ট কার্ডটিই আমার ব্যাক্তিত্ব এবং রুচির প্রকাশক। তাই কার্ডটি হতে হবে ইউনিক এবং রুচি সম্মত।
বাংলাদেশে অনেক ধরনের ভিজিটিং কার্ড প্রচলিত আছে।
প্রথমেই ট্রান্সপারেন্ট বা স্বচ্ছ ভিজিটিং কার্ড প্রসঙ্গে:
বিচক্ষন পেশাদার লোক অবশ্যই ট্রান্সপারেন্ট ভিজিটিং কার্ড করবে। এটি ইউনিক হওয়ায় ব্যবসায়িক মিটিংএ আলাদা ফোকাস পাওয়া যায়।
একসময় মানুষ ট্রান্সপারেন্ট কার্ড ভারত বা চায়না থেকে তৈরি করে আনতো। বাংলাদেশে প্রথম “রেনডার বাংলাদেশ” বানিজ্যিকভাবে এই কার্ডটি প্রচলন করে। বর্তমানে “রেনডার বাংলাদেশ” সবার জন্য পাইকারী রেটে ট্রান্সপারেন্ট কার্ড দিচ্ছে। উপরন্তু ৩দিনে ডেলিভারি দিচ্ছে। কুরিয়ারের মাধ্যমে সারাদেশে হোম ডেলিভারি দেয়।
ট্রান্সপারেন্ট ভিজিটিং কার্ড প্লাস্টিক ফ্লিম দিয়ে তৈরি তাই মজবুত, কয়েক বছরেও নষ্ট হয় না।
এটি পানি, ঘাম অথবা কুয়াশায় কোন প্রকার ক্ষতিগ্রস্থ হয় না।
বাংলাদেশের সবচেয়ে উন্নত প্রযুক্তিতে ছাপানো হয় বিধায় এর রং নষ্ট হওয়ার কোন রিস্ক নাই।
নখ দিয়ে রং তোলা যাবে না।
ট্রান্সপারেন্ট ভিজিটিং কার্ড দুই পদ্ধতিতে প্রিন্ট করা হয়। ইউভি প্রিন্ট এবং মেটালিক প্রিন্ট।
ইউভি প্রিন্ট হলো সবচেয়ে উন্নত মানের নিখুঁত প্রিন্ট। ইউভি প্রিন্টে খরচ বেশী হলেও সুবিধা অনেক। ইউভি প্রিন্টে সর্বনিম্ন ১০০পিছ কার্ড প্রিন্ট করা যায়। সাধারনত ২ থেকে ৩ দিনের মধ্যে ডেলিভারি দেয়া যায়। এই প্রিন্টে কালার এক্যুরেসি বেশী থাকে। লেখাগুলো স্পট আকারে হাতে বাজে।
অন্যদিকে মেটালিক প্রিন্ট একটি বিশেষ ধরনের প্রিন্ট, যে পদ্ধতিতে প্রিন্টের পরে তাপ দিয়ে কালি শুকাতে হয়। এই প্রিন্টে খরচ অপেক্ষাকৃত কম, তবে সময় একটু বেশি প্রয়োজন। সাধারনত, ২০ জনের কার্ডের অর্ডার নিয়ে একসাথে প্রিন্টে তুলতে হয়। তাই এটি ডেলিভারি দিতে ৩ থেকে ২০ দিনের মতো লেগে যায়।
ট্রান্সপারেন্ট ভিজিটিং কার্ডের সাইজ ২টি:
রেগুলার সাইজ: সোয়া ৩ ইঞ্চি বাই ২ ইঞ্চি
বড় সাইজ: সাড়ে ৩ ইঞ্চি বাই ২ ইঞ্চি
ট্রানস্পারেন্ট ভিজিটিং কার্ড সাধারনত ৩০মিলি মাইক্রোন পুরুত্বে হয়। যা কাগজের ৩৫০গ্রামের সাথে তুল্য
ট্রান্সপারেন্ট কার্ড, কাঁচের মতো স্বচ্ছ হওয়ায় দুই পাশে ছাপানো যায় না। তাই অনেকে দুই পাশে ছাপানোর জন্য দুধ কালার প্লাস্টিক কার্ড করে। দুধ কালার প্লাস্টিক কার্ডগুলো টেনে ছেড়া যায় না এবং পানিতে নষ্ট হয় না। এর পুরুত্ব ১৫-৬০ মিলি মাইক্রোন হতে পারে
এরপরে রয়েছে গ্লোসি লেমিনেটেড ভিজিটিং কার্ড। গ্লোসি লেমিনেটেড ভিজিটিং কার্ড গ্লাসের মতো চকচকে হয়।
কর্পোরেট উচ্চ রুচির ব্যক্তিরা আবার চকচকে জিনিস পছন্দ করে না, তাই তারা ম্যাট ল্যামিনেটেড কার্ড করে। ম্যাট ল্যামিনেশন, কার্ডের ঔজ্জ্বল্য কমিয়ে ১টু ডিপ কালছে করে।
যাদের বাজেট ১টু বেশী থাকে তারা ম্যাট+স্পট ল্যামিনেটেড কার্ড করে থাকে। এই কার্ডে ২টা ল্যামিনেশন থাকে। প্রথমে ম্যাট ল্যামিনেশন তারপরে কার্ডের উল্লেখযোগ্য অংশসমুহ কে হাইলাইট করার জন্য সিলেক্টেড অংশে আরেকটি লেমিনেশন করা হয়। ফলে হাইলাইট অংশসমূহ হাতে বাজে এবং চকচকে হয়।
অনেকে স্পট, গুটি স্পট এবং ফুল বডি স্পট ব্যাপারটি গুলিয়ে ফেলে। মূলত এই ৩ধরনের কার্ডের খরচ একই। গুটি স্পট ও ফুল বডি স্পটের ক্ষেত্রে কার্ডের পুরো অংশে স্পট করা হয়।
অনেকের ইচ্ছা হয় তার ভিজিটিং কার্ডটি আইডি কার্ডের মতো মোটা হবে। তখন ২টা কার্ড পেস্টিং করে ৫০০ অথবা ৬০০গ্রাম মোটা করা হয়।
রাউন্ড কর্নার কাটিং বা কোনা কাটিং কার্ডে কর্নারগুলো রাউন্ড করে কেটে নেয়। অনেকে আবার রুচি অনুসারে বিভিন্ন সেইপে ডাই-কাটিং কার্ড করে থাকেন।
অনেকেই আছেন যারা কার্ডে কিউআর কোড দেন। কিউআর কোডে সাধারত ১ বা ২ লাইন লেখা দেয়া যায়। সেক্ষেত্রে অনেকের নিজস্ব ওয়েবসাইট না থাকলে ফেইসবুকের লিংক দিয়ে থাকেন।
প্রেসের ছাপায় কখনোই গোল্ডেন বা সিলভার কালার প্রকৃত কালার আসে না তাই কার্ডে অনেকে একধরনের ফয়েল প্রিন্ট করে থাকেন। ফলে মনে হয় সেখানে অরিজিনাল গোল্ডেন বা সিলভারের আছড় দেয়া আছে।
এছাড়াও আছে বিভিন্ন প্রকারের দেশী এবং বিদেশী ক্রাফট পেপারের কার্ড। সাধারনত গ্রাহকই এই ক্রাফট পেপারের নমুনা নিয়ে আসে। অনেক সময় ডিজাইনারের কাছে থাকা ক্রাফট পেপারের নমুনা থেকে গ্রাহক পছন্দ করে দেয়।
রেনডার বাংলাদেশ প্রিন্টিং সব ধরনের কাজ করে থাকে। যেমন:
প্যাড, ছোট খাম, মাঝারি খাম, A4 সাইজ খাম, মেমো বই, রশিদ বই, বিল বই, মানি রিসিপ্ট, ব্রোশিওর, ক্যাটলগ, ফ্লায়ার, লিফলেট, পোস্টার, স্টিকার, ট্রান্সপারেন্ট স্টিকার, আইডি কার্ড, আইডি কার্ডের ফিতা, টিস্যু ব্যাগ, ক্রাফট পেপার ব্যাগ, পেপার ব্যাগ, মগ, টি-শার্ট, হ্যাং-ট্যাগ, ডায়েরি, ক্যালেন্ডার, বান্টিং, পিভিসি প্রিন্ট ইত্যাদি।
প্রিন্টিং সব ধরনের কাজের নমুনা দেখতে ফেইসবুক অথবা গুগলে রেনডার বাংলাদেশ লিখে সার্চ দিয়ে পেইজে ঢুকে ফটো গ্যালারি ভিজিট করুন।
আরো তথ্যের জন্য রেনডার বাংলাদেশ পেইজে মেসেজ দিন, হোয়াটস্এপে মেসেজ দিন অথবা সরাসরি রেনডার বাংলাদেশের অফিস ভিজিট করুন।
ধন্যবাদ, আপনার সুস্বাস্থ্য কামনায় রেনডার বাংলাদেশ।