25/02/2024
এক কথায় Brand Value হলো, একটা ব্র্যান্ড এর নাম দেখলে সেই ব্র্যান্ড সম্পর্কে যা কিছু আপনি বুঝেন, অনুভব করেন তাই হলো Brand Value। যদি বলা হয় একটা ব্র্যান্ড সম্পর্কে অডিয়েন্স এর যে পার্সপেক্টিভ, পারসেপশন থাকে তাই হলো ব্র্যান্ড আউটলুক। ব্র্যান্ড আউটলুক গণ্য করা হয় অনেক বিষয়ের উপর বেজ করে। যেমন , ব্র্যান্ড ইমেজ, ব্র্যান্ড ভ্যালুস, ব্র্যান্ড এর সুনাম, মার্কেটে ব্র্যান্ড এর পজিশনিং ইত্যাদি। পজিটিভ ব্র্যান্ড আউটলুক কাস্টমারের ট্রাস্ট, লয়্যালিটি অর্জনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
ব্র্যান্ড আউটলুক কাস্টমারের সাথে প্রোডাক্টকে কানেক্ট করতে বিভিন্ন উপায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে -
১। ধারাবাহিকতা: কনসিস্টেন্ট ব্র্যান্ড আউটলুক কাস্টমারের কাছে ব্র্যান্ডকে ফ্যামিলিয়ার ও রিলায়েবল করে তুলে , যা একটি ব্যবসার জন্য জরুরি। যখন একটি ব্র্যান্ড ধারাবাহিকভাবে অডিয়েন্স এর কাছে তার প্রতিজ্ঞা রক্ষা করে চলে স্বাভাবিকভাবেই কাস্টমার এর ব্র্যান্ড এর প্রতি ট্রাস্ট এবং ভরসা তৈরি হয়। এবং এই ধারাবাহিকতা সকল ক্ষেত্রে রাখা জরুরি যেমন, ব্র্যান্ড মেসেজ, প্রোডাক্ট/সার্ভিস কোয়ালিটি, এবং কাস্টমার সার্ভিস, এগুলো যখন নিশ্চিত করা যায় একটা ব্র্যান্ড এর সাথে অডিয়েন্স এর স্ট্রং কানেকশন তৈরি হয়। উদাহরণস্বরূপ জিপি'র সার্ভিসকে ধরা যায়, তারা সবসময় বলে আসছে “শক্তিশালী নেটওয়ার্ক”। এবং এই মেসেজ এবং প্রমিজ সবসময়ই রক্ষা করে আসছে।
২। ইমোশনাল আপিল: যেসব ব্র্যান্ড এর স্ট্রং ব্র্যান্ড আউটলুক আছে তারা খুব সহজেই অডিয়েন্সকে ইমোশনালি কানেক্ট করতে পারে। যেমন, জিপির "স্বপ্ন যাবে বাড়ি আমার" তাদের ব্র্যান্ড মেসেজ "শক্তিশালী নেটওয়ার্ক" এর পারফেক্ট রিপ্রেজেন্টশন। এই ক্যাম্পেইনে অডিয়েন্স সাধারণত নিজেকে ইমোশনালি কানেক্ট করতে পারে। ব্র্যান্ড ফেস/ মডেলের জায়গাতে নিজেকে কল্পনা করতে পারে।
৩। কমিউনিটি বিল্ডিং: আকর্ষণীয় ব্র্যান্ড আউটলুক ব্র্যান্ড এর কমিউনিটি গড়ে তুলতে সাহায্য করে। এখানে অডিয়েন্স স্বেচ্ছাপ্রণোদিত হয়ে কমিউনিটি গড়ে তুলে সেখানে ব্র্যান্ড সম্পর্কে নিজের এক্সপেরিয়েন্স শেয়ার করে। এবং এই কমিউনিটি মনে করে তারা ব্র্যান্ড ফ্যামিলি। যা একটি ব্র্যান্ড এর জন্য অবশ্যই কাম্য।
৪। ব্র্যান্ড লয়্যালিটি: আসলে যখন কোনো ব্র্যান্ড এর স্ট্রং ব্র্যান্ড আউটলুক থাকে তা কাস্টমারকে লয়্যাল বানাতে খুব বেশি সাহায্য করে। যখন কাস্টমারের একটা ব্র্যান্ড সম্পর্কে পজিটিভ পারসেপশন থাকে, সে নিজ উদ্যোগে ওই ব্র্যান্ডকে তার কমিউনিটির মধ্যে প্রচার করে। যাকে মার্কেটিং এর ভাষায় বলা হয় ওয়ার্ড অব মাউথ মার্কেটিং।
যদি পুরো বিষয়টা সামারি করা হয় তাহলে বলা চলে, ব্র্যান্ড আউটলুক প্রোডাক্ট এবং কাস্টমারের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে, এবং কাস্টমারের টপ অব মাইন্ডে ব্র্যান্ড সম্পর্কে পজিটিভ পারসেপশন, ইমোশন এবং এক্সপেরিন্স ও কম্পিটিটর থেকে পার্থক্য করতে সাহায্য করে এবং কমিউনিটি বিল্ডিং ও লয়্যাল হওয়ার পথে কাস্টমারকে বিভিন্নভাবে সাহায্য করে। একটা প্রোপার ব্র্যান্ড আউটলুক শুধুমাত্র কাস্টমারকে এট্রাক্ট করেনা, পাশাপাশি কাস্টমারের সাথে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক তৈরি করে দেয়, যা যেকোনো ব্যবসার সাফল্যের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ।