29/10/2024
সক্রিয়ভাবে গ্রাফিক্স ডিজাইনের সাথে যুক্ত থাকায় আমি কোনো দুটি ডিজাইনের মধ্যে সময়ের ব্যবধান পেলেই সেটাকে বিভিন্নভাবে চিন্তা করি। মাথা থেকে পা অব্দি তুলনা করে কয়েকটি সিদ্ধান্ত নেই সেই ডিজাইনদ্বয়ের বৈশিষ্ট্যকে কেন্দ্র করে।
আজকে সকালে হঠাৎ মানিব্যাগে দুটি ভিন্ন সালের ৫ টাকার কয়েন আমার বাংলা টাকা ও কয়েনের বাক্সে রাখার সময় খেয়াল করলাম, একটা ১৯৯৬ সালের, আরেকটা ২০০৮ সালের। যমুনা বহুমুখী সেতু চিত্রিত পাশের উল্টো পাশে বাংলাদেশ সরকারের এম্বলেম দেখেই চোখে পড়লো, আসলে একের অধিক ডিজাইনে পরিবর্তন রয়েছে, আরো খেয়াল করে মোট ৬টা বড় পরিবর্তন ও ১টা ছোট পরিবর্তন খেয়াল করলাম। চলেন এই কৌতুহলের বিষয়টা জেনে নেই।
দুটি ভিন্ন সালের কয়েনের জন্য ছয়টা পয়েন্ট বিবেচ্য, কোনটা জিতেছে সেটাও উল্লেখ করবো।
১. এম্বলেমে একটা বড় অংশ হচ্ছে শাপলা ফুলের নিচে পানির ঠেউ। এখানে ১৯৯৬ সালের কয়েনে ঠেউয়ের স্ট্রোক মোটা বেশি ও অধিক জড়ানো, যেখানে ২০০৮ সালের কয়েনে স্ট্রোকটা চিকন ও ফাঁকা ফাঁকা করে দেয়া। [এখানে ১৯৯৬ সালের কয়েনটা জিতেছে।]
২. “বাংলাদেশ ব্যাংক” শব্দদ্বয় ১৯৯৬ সাল ও ২০০৮ সালেরটায় একেবারেই আলাদা দুটি ফন্ট রয়েছে। ২০০৮ সালের কয়েনে লেখাটা আরও নিঁখুত ও চিকন ধরণের হলেও ১৯৯৬ সালের কয়েনের ফন্ট অধিক নান্দনিক। [এখানে ১৯৯৬ সালের কয়েনটা জিতেছে।]
৩. উপরে পাট গাছের ৩টি পাতার দুই পাশে দুটি করে মোট ৪টি তারকা বা স্টার রয়েছে। ১৯৯৬ সালের কয়েনের তারকার ডিজাইন একেবারেই অপরিশোধিত এবং সরাসরি মাঝের অংশে পরিসীমা বরাবর ইনস্ক্রিপশন করা হয়েছে, যেখানে ২০০৮ সালের কয়েনের তারকাগুলো নিখূত এবং “শ্যাডো-গ্রেডিয়েন্ট” ভাবটা পরিপূর্ণ রয়েছে। [এখানে ২০০৮ সালের কয়েনটা জিতেছে।]
৪. শাপলা ফুলের ক্ষেত্রে দুটি সালে বলা যায় সম্পূর্ণ ভিন্ন “মেশ-গ্রেডিয়েন্ট” ডিজাইন ব্যবহার হয়েছে, তবে ২০০৮ সালের কয়েনের শাপলা ফুল পরিশোধিত এবং নিঁখুত। [এখানে ২০০৮ সালের কয়েনটা জিতেছে।]
৫. পাট গাছের ৩টি পাতার ডিজাইনেও একইভাবে ১৯৯৬ সালের কয়েনে একদমই অপরিশোধিত ডিজাইন ব্যবহার হয়েছে, যেখানে ২০০৮ সালের কয়েনে চিত্রিত পাতা ৩টা রিয়েলিস্টিক ভাব দেয়। [এখানে ২০০৮ সালের কয়েনটা জিতেছে।]
৬. ধান/গমের শীষের ক্ষেত্রে ২০০৮ সালের কয়েনটি যথাযথ নিঁখুত হয়েছে, ১৯৯৬ সালের কয়েনের ডিজাইনটা অপরিশোধিত হওয়ার চেয়ে দেখতেই বাজে লাগছে। [এখানে ২০০৮ সালের কয়েনটা জিতেছে।]
৭. একটা ছোট পার্থক্য হচ্ছে কয়েনের পুরুত্ব ও ক্রিজ করা রিংয়ের শেইপের অবস্থান, যেহেতু এটা দুটির ক্ষেত্রে বেশ কাছাকাছি, তাই এখানে তুলনা করার কিছু নেই।
আমার মন্তব্য: যদি নান্দনিকতার বিচার করেন, তবে ১৯৯৬ সালের ৫ টাকার কয়েনটি জিতেছে, আর কেউ যদি ৫ টাকার কয়েন নিজে বেআইনিভাবে তৈরি করতে চায়, তার জন্য ২০০৮ সালের কয়েনটা কপি করা কষ্টকরের থেকে প্রায় অসম্ভব হবে এটার নিঁখুত বৈশিষ্ট্যের ডিজাইনগুলোর জন্য।
কমেন্টে বলেন আপনার কাছে কোনটা সুন্দর লেগেছে, ১৯৯৬ সালের ৫ টাকার কয়েন, নাকি ২০০৮ সালেরটা?