27/03/2022
প্রতিটা উদ্যোক্তা ই চান তার ব্যবসায়ে সফলতা আসুক। কিন্তু উদ্যোক্তা হতে চেয়ে সবাই সফল হতে পারেন না, ব্যর্থ হন অনেকেই।
এমন একটা এনভায়রনমেন্ট কল্পনা করুন যেখানে কর্মীরা কাজটাকে তার নিজের মনে করে করছে, কাজটিতে শতভাগ মনযোগ দিয়ে ১০০% আউটপুট আনার চেষ্টা করছে, একে অপরের সাথে কো-অপারেট করে কিভাবে সহজেই কম সময়ের মধ্যে বেশি আউটকাম আনা যায় তা নিয়ে গবেষণা করছে।
উপরে বর্ণিত পয়েন্টগুলোতে উঠে এসেছে একটা বিজনেসের প্রপার ডেভেলপমেন্টে কর্মী এবং কর্মপরিবেশের সঠিক মডেলটি।
একটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের সফলতা কিংবা ব্যর্থতার পিছনে অনেক কারণ থাকে। আমরা এখন জানবো এক্ষেত্রে সফল যারা কেমন তারা?
১। মিনিংফুল লিডারশীপ
আপনার ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান তেমনি হবে ঠিক যেমন ভাবে এটাকে লিড করা হবে।
ব্যবসায়ের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য একজন লিডারের অগানাইজিং ক্ষমতা থাকতে হবে। ব্যবসায়ের জন্য সঠিক স্থান, কাজ, লক্ষ্য, ইনভেস্টমেন্ট এবং অন্যান্য ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতর উপাদানের উপরই একটি ব্যবসায়ের সাফল্য নির্ভর করে।
একজন লিডারের ব্যবসা সম্পর্কিত নিয়মাবলী, ব্যবস্থাপনা জ্ঞান ও দক্ষতা যদি না থাকে তাহলে ঐ প্রতিষ্ঠানটি সফল হতে পারবে না। আর এই দক্ষতা আর যোগ্যতা অর্জনের জন্য একজন লিডারকে শিক্ষিত ও অভিজ্ঞ হতে হবে এবং একইসাথে জটিল বিষয় নিয়ে চিন্তাভাবনা করার দক্ষতা থাকতে হবে। বিভিন্ন সমস্যায় দ্রুত সমাধান বের করার ক্ষমতা থাকতে হবে।
২। এক্সেপশনাল কাস্টমার রিলেশনশীপ
আপনি পণ্য বা সেবা বিক্রয় ছাড়া আপনার কাস্টমারদের জন্য কি কি করছেন?
সাকসেসফুল কোম্পানিগুলো শুধুমাত্র কাস্টমারদের কাছে পণ্য বা সেবাই বিক্রি করেই ক্ষান্ত হয়না, তারা তাদের কাস্টমারদের সাথে ভালো সম্পর্ক গড়ে তোলায় ফোকাসড থাকে।
শুরু'র দিকে কাস্টমারদের যদি আপনি সন্তুষ্ট করতে পারেন, তাদের সাথে ভালো রিলেশন গড়ে তুলতে পারেন তবে পরবর্তীতে হওয়া আপনার অনেক ভুলকে তারা এড়িয়ে যেতে পারবে।
আর ঠিক এই কারণেই ব্যবসা শুরুর সময়টাতে প্রফিট করার চিন্তা না করে কাস্টমারদের সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করা উচিত। এটা সত্যি যে আপনি অর্থোপার্জনের জন্যই ব্যবসা করবেন।
আমরা সবাই অর্থোপার্জন করার জন্যেই ব্যবসা করি৷ একবার কাস্টমারদের সাথে ভালো সম্পর্ক গড়ে তাদের সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারলে আপনি অর্থোপার্জন করার যথেষ্ট সময় পাবেন৷ সবসময় মনে রাখুন, দীর্ঘদিন ব্যবসায় টিকে থাকতে কাস্টমারদের সন্তুষ্টি অর্জন করা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
৩. কর্মীদের সাথে ভালো সম্পর্ক রাখা
আপনার ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে যে অবস্থানে আছে তার জন্য আপনার কর্মীরা রেসপন্সিবল। একটা প্রতিষ্ঠান যারা লিড করেন তাদেরকে তার অধীনস্ত এমপ্লয়িদের ব্যাপারে মোটাদাগে কয়েকটা বিষয় নিশ্চিত করতে হবে
১. পজিটিভ ওয়ার্কিং এনভায়রনমেন্ট
২. কর্মীদের মূল্যায়ন
৩. কর্মীদের মতামত প্রদানের সুযোগ
৪. কাজের স্বাধীনতা
৫. কাজে উৎসাহ প্রদান করা
৬. বোনাস, প্রমোশন, গিফটের মাধ্যমে মোটিভেট করা।
একটা সাকসেসফুল কোম্পানি গড়ে তুলতে হলে কর্মীদের সাথে ভালো সম্পর্ক গড়া ভীষণ জরুরী, তাদেরকে সবসময় কাজের প্রেসার দেয়া যাবে না, মনে রাখতে হবে তারাও মানুষ, কোনো রোবট নয়।
৪. পারফেক্ট মানি ম্যানেজমেন্ট
একটা বিজনেসের সফলতা তার মানি ম্যানেজমেন্টের উপর অনেকাংশেই নির্ভরশীল। যেই কোম্পানি তাদের বাজেট নির্ধারণ, রিপোর্ট মেকিং, আয়-ব্যয়ের সুষ্ঠু হিসাব, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি বিষয়গুলোর প্রতি গুরুত্বসহকারে ফোকাস করে দিনশেষে ঐ কোম্পানিই সফল হয়।
অপরদিকে যেই কোম্পানি তাদের মানি ম্যানেজমেন্টে খামখেয়ালি ভাব প্রদর্শন করে, আয়-ব্যায়ের হিসাবের ধার ধারে না, ব্যয় বাড়লো কি কমলো সেদিকে বেখেয়াল থাকে দিনশেষে এই কোম্পানি সফলতার মুখ দেখবে না।
সুতরাং, কম খরচে বেশি উৎপাদন করার চেষ্টা না করলে কখনই একটি কোম্পানি সাকসেসফুল হবে না।
৫. আউটস্ট্যান্ডিং প্রোডাক্টস এন্ড কোয়ালিটি সার্ভিস
আপনি কখনোই নিম্নমানের প্রোডাক্ট অথবা সার্ভিস দিয়ে কাস্টমার ধরে রাখতে পারবেন না। প্রথমত আপনার পণ্য বা সেবার মান শতভাগ নিশ্চিত করতে হবে। তারপর আপনার অডিয়েন্সের সাইকোলজি বুঝতে হবে যে তারা এক্টচুয়ালি কি চায়? আপনি যদি অডিয়েন্সের চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হন তাহলে কি তারা বসে থাকবে? না। তারা আপনার কাছে যেটা পাচ্ছে না সেটা আপনার কম্পিটিটরের কাছ থেকে নিয়ে তাদের চাহিদা ঠিকই মেটাবে। আর এতে করে আপনার কোম্পানির সুনাম নামক সম্পদটি হারিয়ে যাবে। তাই, অবশ্যই কোয়ালিটি প্রোডাক্ট এবং সার্ভিস নিশ্চিত করতে হবে। আপনার অডিয়েন্স যদি আপনার প্রোডাক্ট বা সার্ভিসে সন্তুষ্ট হয় তাহলে তারা ভবিষ্যতেও আপনার কাছ থেকে সেই সেবাটি নিতে আগ্রহী হবে এবং আপনার পণ্য বা সেবার গুণগান জনে জনে বলে বেড়াবে।
একটা সফল কোম্পানি গড়ে তুলতে হলে নিজেকে দূরদর্শী নেতৃত্বের অধিকারী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। ব্যবসায়ের ভবিষ্যৎ কোথায় গিয়ে দাড়াবে কিংবা প্রতিষ্ঠানের অবস্থান ও মূল্য ভবিষ্যতে কি হবে বা কতটুকু হবে সে সম্পর্কে আগে থেকেই ধারণা রাখা উচিত একজন উদ্যোক্তার। পাশাপাশি তাকে অসাধারণ ইন্টারপার্সোনাল দক্ষতার অধিকারী হতে হবে। ব্যক্তিত্বহীন মানুষকে কেউই পছন্দ করে না। তাই একজন উদ্যোক্তাকে হতে হবে পজিটিভ মনমানসিকতা ও অসাধারণ ব্যক্তিত্বের অধিকারী।
সঠিক পরিকল্পনা, নির্দিষ্ট লক্ষ্য, ঝুঁকি গ্রহণের ক্ষমতা আর আপনার ইচ্ছে শক্তির সাহায্যে'ই আপনি আপনার স্বপ্নের কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করতে পারবেন।