23/12/2021
সোশ্যাল মিডিয়ায় যদি ভিডিও কনটেন্ট দেখে থাকেন সচরাচর, তবে জিব্রানের কথা শোনা হয়েছে একবার হয়তো। নিজের উপস্থাপনার কারিশমা দেখিয়ে শ্রোতাদের কাছে হয়েছেন পরিচিত।
সুন্দরভাবে কথা বলা রপ্ত করতে সময় লেগেছে বেশ। পরিবারের সবাই প্রচণ্ড প্রমিত ভাষায় কথা বলেন কিন্তু জিব্রানের কথায় আঞ্চলিকতার একটা ছাপ ছিল প্রথম থেকেই। সময়ের সাথে সাথে অনুশীলনের মাধ্যমে রপ্ত করেছেন।
জিব্রান বলেন, রাজশাহী থেকে ৬ হাজার টাকার একটা টিউশনের ব্যবস্থা করে ঢাকায় চলে আসি। কিন্তু ৬ হাজার টাকায় থাকার খরচ, খাওয়ার খরচ ও যাতায়াতের খরচ চালানো ছিল বড্ড যন্ত্রণাদায়ক।
তার উপর শুরুতে আমি থাকি মোহাম্মদপুরে আর টিউশন করাই পুরান ঢাকায়। যখন কোনোভাবেই আর চালানো যাচ্ছিল না, তখন আমার ভাই সমতুল্য বন্ধু আবিদ হাসান বললো, তার কাছে এসে থাকতে। এতে তার সাথে থাকলে তেমন কোনো খরচ দিতে হবে না। শুধু নিজের খাওয়ার খরচটা টানলেই হবে।
সেই সময় টুকটাক চিন্তা করার সময় পাই যে ভালোভাবে টিকে থাকার জন্য কোন কাজটা আমি খুশি মনে করতে পারবো। তখন মনে হয়েছিল যে কথা বলে খুশি মনে রুজি রোজগার করা যেতে পারে।
কিন্তু আমি যে কথা বলতে চাই বা পারি এটা নির্বাচকদের বোঝাতে আমার প্রায় দুই-আড়াই বছরের মতো সময় লেগে যায়। যার মধ্যে একটা অনলাইন রেডিও থেকে প্রত্যাখ্যাত, স্পাইস এফ.এম,রেডিও নেক্সট, রেডিও ধ্বনি এমন আরও কিছু রেডিও থেকে প্রত্যাখ্যাত হয়েছিলাম। অবশেষে বাংলা রেডিও কাজ করার সুযোগ দিয়েছিল।
জিব্রান বলেন, বর্তমান সময়ে বক্তার বড়ই অভাব। কেউ যদি যুক্তিযুক্ত ও সময়োপযোগী কথা বলতে পারে, তবে জনসাধারণের মনে জায়গা করে নিতে তার তেমন বেশি সময় লাগবে না। তবে কোন কিছু না করে শুধু কথা বলে মানুষের অন্তরে প্রবেশ করাটাও এক প্রকার প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয়।
তরুণরা যারা উপস্থাপনায় আসতে চায়, তাদের উদ্দেশ্য জিব্রান বলেন, পৃথিবীতে সব রকম কাজই কঠিন কিন্তু কথা বলা সে অর্থে তুলনামূলক সহজ। তবে জীবিকার তাগিদে এটাকে হালকাভাবে নেওয়ারও বিষয় না। কারণ একজন মানুষ যাকে দেখা যায় না, ছোঁয়া যায় না, শুধু কথা দিয়ে মানুষের মনে জায়গা করে নিতে হয়, সে দক্ষতার জায়গাতে দ্বায়িত্বহীন ও অলস হলে চলবে না। যারা এই অংশে কাজ করতে চায়, তাদের উচিৎ আবেগ দিয়ে কাজটা করা। কারণ বু্দ্ধি দিয়ে দক্ষতা সমৃদ্ধ করা এক প্রকার অনুদৈর্ঘ্য প্রক্রিয়া।