15/12/2025
বিশ্বাসঘাতকরা কোনোদিন হুট করে জন্মায় না। আগে বছরের পর বছর মাস্তানির মতো মুখে মধু মাখিয়ে সবার আস্থা আদায় করে — তারপর পিঠে ছুরি মারে। মুখে দুধের স্বাদ, বুকে বিষ। এরা অফিসে বসে মালিকের সামনে দরবেশ সেজে থাকে, পেছনে বসে কোটি কোটি টাকা গিলে খায়, আর ফ্যাক্টরির লোহার গেট বন্ধ করে হাজার হাজার শ্রমিককে বেকার করে দেয় — কই একবারও কি গর্দানে লজ্জা ঢোকে?
এই ভদ্রবেশী শয়তানদের জন্যই দিনের পর দিন প্রতিষ্ঠান ঘুনে ধরে খেয়ে ফেলে — বাইরে থেকে কিছু বোঝা যায় না। এরা এমন কাইঁত, এমন ধূর্ত, যে একবার ধরা পড়লে প্রমাণের অভাবে সবাই চুপ মেরে যায়। এরা আবার বিদেশে গিয়ে সুইস ব্যাংকে টাকা রাখে, ঘুরে বেড়ায় সপরিবারে, আর হাজার হাজার কর্মীর ভাতের হাঁড়ি তুলে নেয় — অথচ মালিকরা তখনো ভাবে, “ও তো কত বিশ্বস্ত!” হ্যা, বিশ্বস্ত! জাহান্নামের সবচেয়ে বিশ্বস্ত দালাল!
এইসব মুখোশধারী চোর, শুয়োরের বাচ্চাদের জন্যই এক একটা ফ্যাক্টরি, ব্যাংক বা অফিস ভেঙে যায় — আর কত মানুষ রাস্তায় নামে, কত পরিবার শেষ হয়ে যায়, তার খবর এদের কুড়িতেও আসে না। কারণ পকেটে ডলার থাকলেই এদের চামড়া মোটা হয়। গাল ভরা বক্তৃতায় নীতি শেখায়, আর ভেতরে ভেতরে নিজের বংশের সাত পুরুষকে বসিয়ে খাওয়ানোর বন্দোবস্ত করে।
এইসব লোভী কুকুরদের থামাতে হলে একটাই উপায় — চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করলে হবে না। মালিকরা জেগে উঠো, শুয়ে শুয়ে স্বপ্ন দেখলে হবে না। অডিট করো, হিসাব মিলাও, বড় বড় চেয়ারে যেই বসুক, জবাব চাইতে শিখো। আর ভেতরের ভালো মানুষগুলোকেও সাহস দিতে হবে — যাতে এই চোরগুলার খবর প্রকাশ করতে না ভয় পায়।
একটা বিশ্বাসঘাতক পুরো প্রতিষ্ঠান গিলে খেতে কতক্ষণ? একবার চুপ করে থাকতে থাকতে গলা পর্যন্ত ঘুনে ধরে যায়। তখন চিৎকার করেও লাভ হয় না। তাই এখনই সাবধান হও, চোখ খোলা রাখো। গলার কাঁটা, ঘাড়ের পেছনে ছুরি, আর মুখোশধারী শুয়োর চেনা শিখো। না হলে শেষ পর্যন্ত তোমার পকেট খালি হবে, আর এই হারামজাদারা বিদেশে বসে প্যাট্টি খেলবে!