Mother's Farm House

Mother's Farm House Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Mother's Farm House, Advertising/Marketing, Dhaka.

সহজ ভাষায় গবাদি পশুর জেনেটিক্স যাদের ব্রীডিং খামার তারা সময় নিয়ে পুরো লেখাটি অবশ্যই পড়বেন কারন আপনার সাফল্য অনেকাংশেই নি...
16/08/2025

সহজ ভাষায় গবাদি পশুর জেনেটিক্স
যাদের ব্রীডিং খামার তারা সময় নিয়ে পুরো লেখাটি অবশ্যই পড়বেন কারন আপনার সাফল্য অনেকাংশেই নিহিত আছে এখানে।

এনিম্যাল হাজবেন্ড্রি বা ভেটেরিনারি স্টুডেন্টস বা শিক্ষিত খামারী সবারই আশা করি কাজে লাগবে।

ডেইরি জেনেটিক্সঃ পর্ব ১

ডেইরি ফার্মিং এর জন্য এনিম্যাল ব্রিডিং সম্পর্কে জানাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আপনি আপনার গাভীটিকে সবচেয়ে ভাল ফিডিং সিস্টেমে রেখে বা সবচেয়ে ভাল ম্যানেজমেন্টে রেখেও সর্বোচ্চ আউটপুট নাও পেতে পারেন যদি না গাভীটির জেনেটিক পারফর্মেন্স ভাল না থাকে। আপনার ফার্মের গরুগুলোর জেনেটিক মেরিট উন্নত করার জন্য আপনাকে অবশ্যই এনিম্যাল ব্রিডিং এর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। এইজন্য প্রতিটি খামারীর উচিত এনিম্যাল ব্রিডিং এন্ড জেনেটিক্স সম্পর্কে অল্পবিস্তর পড়াশুনা থাকা উচিত। আমি এই লেখাতে এনিম্যাল ব্রিডিং সম্পর্কে সহজ ভাষায় বেসিক কিছু লেখার চেষ্টা করেছি যাতে সবাই এই বিষয়ে একটা ধারনা পেতে পারেন।

এনিম্যাল ব্রিডিং এর সংজ্ঞাটা এইজন্য জানা প্রয়োজন। সহজ ভাষায় এনিম্যাল ব্রিডিং হচ্ছে এমন একটা প্রক্রিয়া যেখানে আপনি আপনার পছন্দের বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন ভাল পিতা-মাতা নির্বাচন করে এদের মাঝে মেটিং করাবেন যার ফলে উন্নতমানের প্রজেনীর তৈরি হবে। অর্থাৎ আপনার প্রধান লক্ষ্য হবে ভবিষ্যত প্রজন্মটা যাতে ভাল মানের হয়।

ব্রিডিং (Breeding) এবং মেটিং (Mating) শব্দ দুটোর মাঝে পার্থক্য রয়েছে। মেটিং বলতে শুধু দুটো বিপরীত লিংগের প্রাণীর মাঝে মিলনকে বুঝানো হয় আর ব্রিডিং বলতে পুরো প্রক্রিয়াটা বুঝায় যেখানে প্রাণি নির্বাচন, মেটিং, প্রজেনী নির্বাচন ইত্যাদিকে বুঝানো হয়।

এনিম্যাল ব্রিডিং এর প্রকারভেদঃ
মূলত দুইভাগে ভাগ করা হয়।

১) ইন ব্রিডিং- রক্তের সম্পর্ক আছে এমন কারো মাঝে যখন ব্রিডিং করানো হয়।
২) আউট ব্রিডিং – রক্তের সম্পর্ক নাই এমন কারো মাঝে যখন ব্রিডিং করানো হয়।

ইন ব্রিডিং কে আবার নিম্নোক্ত ভাবে ভাগ করা হয়ঃ
ক) ক্লোজ ব্রিডিং- যেখানে ভাই-বোন, বাবা-মেয়ে, মা-ছেলের মাঝে মেটিং করানো হয়।

খ) লাইন ব্রিডিং- যেখানে দূরসম্পর্কের কারো সাথে মেটিং করানো হয়।যেমন চাচাতো ভাইবোন বা একটু দূর সম্পর্কের কারো সাথে মেটিং করানো হয়।

আউট-ব্রিডিং কে আবার নিম্নোক্ত ভাবে ভাগ করা হয়ঃ

ক) আউট-ক্রসিং- কোন রকম রক্তের সম্পর্ক নাই এমন প্রাণীদের মাঝে যখন মেটিং করানো হয় তখন তাকে আউটক্রসিং বলা হয়। যেমন হলস্টেইন ফ্রিজিয়ান জাতের দুইটা প্রাণীর মেটিং যাদের মাঝে রক্তের কোন সম্পর্ক নাই।

খ) ক্রস-ব্রিডিংঃ যখন দুইটা ভিন্ন জাতের প্রাণীর মাঝে মেটিং করানো হয়। যেমন হলস্টেইন ফ্রিজিয়ান এবং শাহীওয়াল জাতের কোন প্রাণীর মাঝে মেটিং।

গ) আপ-গ্রেডিং /গ্রেডিং আপ বা টপক্রসিং- মূলত এই সিস্টেমে পিওর ব্রিড তৈরি করা হয়। একটা জাতকে ধীরে ধীরে উন্নত মানের জাতের দ্বারা মেটিং করিয়ে উন্নত জাতের পার্সেন্টেজ বাড়ানো অর্থাৎ জাত উন্নয়ন করা হয়। যেমন একটি দেশি গাভীকে প্রথমে ১০০% ফ্রিজিয়ান বুল দিয়ে মেটিং করালে বাচ্চাটা ৫০% ফ্রিজিয়ান হবে। এরপর মেয়ে প্রজেনীকে আবার ১০০% বুল দিয়ে মেটিং করালে তার প্রজেনী ৭৫% হবে। এইভাবে ৭ টা জেনারেশন পরে প্রায় ৯৯.৯৯% ফ্রিজিয়ান ব্লাড চলে আসে প্রজেনীতে। বাংলাদেশে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর বর্তমানে ব্রীড আপগ্রেডেশন থ্রু প্রজেনী টেস্ট প্রকল্পের মাধ্যমে এইভাবে জাত উন্নয়ন করছে।

ঘ) ব্যাক-ক্রসিং- এই সিস্টেমে প্রথম জেনারেশনের প্রজেনী কে তার বাবা অথবা মায়ের সাথে পুনরায় ক্রস করা হয়। মূলত এই সিস্টেমে ৭৫% ব্লাড ফিক্সড করা হয় প্রজেনীতে। যেসব প্রথম প্রজেনী মেয়ে হয় তারা এই সুবিধাটা নিয়ে থাকে।

এইগুলো ছাড়াও রোটেশনাল ক্রসিং, লিউপ্রেসচট সিস্টেম, জিন পুল, স্পেসিস হাইব্রিডাইজেশন টার্মগুলোর ব্যাখা আপাতত দিচ্ছিনা। যেহেতু আমাদের দেশে এইগুলোর প্রয়োগ আপাতত হবার সম্ভাবনা নেই।

একটা জাত উন্নয়ন করার জন্য এনিম্যাল ব্রিডারদের দুটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হচ্ছে সিলেকশন এবং ক্রসব্রিডিং।

ক্রসব্রিডিং নিয়ে যেহেতু সবার অল্প বিস্তর জানা তাই সিলেকশন নিয়ে কিছু বলার প্রয়োজন বোধ করছি।

একজন ব্রিডার তার খামারে ব্রিডিং এর জন্য তার সমস্ত গরুকে মূল্যায়ন করে যদি দেখে তার খামারের গাভীদের দুধ উৎপাদন কম তখন তার হাতে দুইটা অপশন থাকে।

প্রথমত, সে খামারের সবচেয়ে ভাল ষাঁড় এবং গাভীকে নির্বাচন করে এদের মাঝে মেটিং করিয়ে ভাল প্রজেনী তৈরি করবে। এইটাকে বলা হয়ে “Bred best to the best”। অর্থাৎ উতকৃষ্ট মানের বুল দ্বারা উৎকৃষ্ট মানের গাভীকে প্রজনন করানো। হোক সেটা দেশী বা ক্রস বা পিউর ব্রিড।

দ্বিতীয়ত, উন্নত জাতের গাভী দ্বারা ক্রসব্রিডিং করে ভাল প্রজেনী তৈরি করবে। ক্রসব্রিডিং এর একটা গুরুত্বপূর্ন ফল হচ্ছে হাইব্রিড ভিগর। অর্থাৎ দুইটা ভিন্ন জাতের ষাঁড় এবং গাভীকে প্রজনন করালে এদের বাচ্চাটা অনেক সময় পিতামাতার গড় পার্ফমেন্সের চেয়ে ভাল ফল দেয়। এই সুবিধা একমাত্র ক্রসব্রিডিং এ পাওয়া যায়।

অর্থাৎ দুটো ক্ষেত্রেই প্রথমে সিলেকশন করা হয় এবং পরবর্তীতে মেটিং করা হয়।

এই মেটিং স্ট্র্যাটেজি বা কৌশল আবার দুই প্রকারঃ

১) র‍্যানডম ( Random )বা লক্ষ্যহীন বা এলোমেলো মেটিং এবং
২) এসরটেটিভ বা সিলেকটিভ মেটিং বা বিশেষ শ্রেণিভুক্ত মেটিং

১) র‍্যানডম মেটিং- বাংলাদেশে এই মেটিং স্ট্র্যাটেজী বা কৌশলটাই পালন করা হয়। পালন করা হয় বলতে না বুঝেই মেটিং করা হয়। এই সিস্টেমে সব গাভী এবং ষাড় মিলনে সমান অধিকার (!!) পায় । অর্থাৎ খামারীদের অনুমতি (!) ছাড়াই প্রাণীরা রতিক্রিয়াই (!!) মিলিত হয়। ডেইরি ব্রিডের সাথে বিফ ব্রিডের মেটিং, বাবার সাথে মেয়ের মেটিং, ছেলের সাথে মায়ের মেটিং, যাকে বলে এলোমোলো সিস্টেম যেখানে কোন প্ল্যানিং করা হয়না। একে ব্রিড বাই চান্স ও বলে। এর ফলে ভাল প্রজেনীও আসতে পারে আবার খারাপ প্রজেনীও আসতে পারে।

২) Assortative Mating (এসরটেটিভ বা বিশেষ শ্রেণিভুক্ত মেটিং):
এই সিস্টেমে একটা প্রাণীর বয়স, জেনেটিক মেরিট, বংশ অনুসারে আরেকটা প্রাণীর সাথে মেটিং করা হয়। অর্থাৎ এইখানে ব্রিডার সিদ্ধান্ত নেয় তার কোন প্রাণীটিকে কোনটির সাথে মেটিং করবে। ডেইরি ব্রিডের সাথে ডেইরি ব্রিড, বিফ ব্রিডের সাথে বিফ ব্রিড, ডুয়েল ব্রিডের সাথে ডুয়েল ব্রিড সব মেইনটেইন করেই ব্রিডারের পছন্দমত ব্রিডের সাথে মেটিং করানো হয়। একে ব্রিড বাই চয়েস বলা হয়।

ডেইরি জেনেটিক্সঃ পর্ব ২

এনিম্যাল জেনেটিক্স এবং ব্রিডিং নিয়ে আলোচনায় অনেক সায়েন্টিফিক টার্ম বা শব্দ আসতে পারে যেগুলোর ব্যাখা না জানা থাকলে অনেকের লেখা বুঝতে কষ্ট হতে পারে। তাই আজকের লেখায় কিছু গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনোলজি নিয়ে আলোচনা করবো। সাথে ইনব্রিডিং এবং রেকর্ড নিয়ে ছোট্ট করে লিখবো। তবে আগেই বলে রাখি লেখাটা অনেকের কাছে বিরক্তিকর লাগতে পারে যেহেতু খটমটে সায়েন্টিফিক কিছু ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে। আমি চেষ্টা করেছি যতটা সম্ভব টেকনিক্যাল টার্ম এড়িয়ে লেখাটা যাতে সহজবোধ্য করা যায় সবার কাছে।

জিনঃ
খামারী ভায়েরা সাধারণত জিন শব্দটা ব্যবহার না করলেও রক্ত (Blood) শব্দটা প্রায়ই ব্যবহার করে থাকেন। যেমন তার গরুতে ৫০% ফ্রিজিয়ান রক্ত আছে, ৭৫% ফ্রিজিয়ান রক্ত আছে। কথাটা আক্ষরিকভাবে ঠিক না হলেও ভাবানুবাদ হিসেবে ঠিক আছে। আসলে রক্ত তো আর পিতামাতা থেকে বাচ্চাতে পরিবহন হয়না। পরিবহন হয় জিন (Gene) ।

জিন হচ্ছে হেরেডিটারি ইউনিট যেটা পিতামাতা থেকে সন্তানে যায়। প্রতিটি প্রাণীর ক্রোমোসোমে (Chromosome) এই জিন থাকে। এই ক্রোমোজোম গুলো জোড়ায় জোড়ায় থাকে তেমনি জিনগুলোও জোড়ায় জোড়ায় পাওয়া যায়। গরুর ক্রোমোসোম সংখ্যা হচ্ছে ৬০ টি। অর্থাৎ গরুতে ৩০ জোড়া ক্রোমোসোম আছে। যখন একটা ষাঁড় (পিতা) আর গাভীর (মাতা) মেটিং হয় তখন প্রজেনীতে (বাচ্চা) পিতার ৩০ টি ক্রোমোসোম এবং মাতার ৩০ টি ক্রোমোসোম যায়। অর্থাৎ বাবার কাছ থেকে অর্ধেক জিন যায় এবং মায়ের কাছ থেকে অর্ধেক জিন যায়।

এই প্রসংগে সেক্স লিমিটেড জিন’স (S*x Limited Genes) নামে একটা টার্ম বলি। কিছু কিছু জিন আছে যেগুলো দুইটা সেক্স বা লিংগে পাওয়া যায় । কিন্তু জিনটা প্রকাশিত বা Expressed হয় একটি মাত্র সেক্সে। যেমন দুধ উতপাদন জিন। এই জিনটা ষাড়েও আছে কিন্তু যেহেতু এইটা সেক্স লিমিটেড জিন তাই শুধু গাভীতে প্রকাশিত হয় এবং গাভী দুধ দেয়। নাইলে ষাঁড় থেকেও আমরা দুধ পেতাম !

জিনোমঃ
জিনোম হচ্ছে কোন প্রাণীর দেহে সমস্ত জিনের সমষ্টি। ২০০৯ সালে অস্ট্রেলিয়ান গবেষকরা সর্বপ্রথম হারফোর্ড (Hereford) ডেইরি ব্রিডের এক গাভীর জিনোম প্রকাশ করেন। এই জিনোমে ২২ হাজার জিন তারা চিহ্নিত করেন যার মাঝে প্রায় ১৪ হাজার জিনের মানুষ, ইদুর, কুকুর ইত্যাদি স্তন্যপায়ী প্রাণিদের সাথে মিল রয়েছে।

২০১৮ সালে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পশুপালন অনুষদের এনিম্যাল ব্রিডিং ডিপার্টমেন্ট এর প্রফেসর ইয়াহিয়া স্যারের নেতৃত্বে প্রথমবারের মত ছাগলের জিনোম সিকুয়েন্সিং করা হয়। তবে একটা কথা মাথায় রাখতে হবে, জিনোম সিকুয়েন্সিং করা হয়েছে শুধু, কিন্তু কোন জিনের কি কাজ তা কিন্তু বের করা হয়নি।

বৈশিষ্ট্য বা Trait:
প্রতিটি প্রাণীর কিছু স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য থাকে। যেমন গায়ের রঙ, দুধ উৎপাদন ক্ষমতা, বাচ্চা দেয়ার ক্ষমতা ইত্যাদি। প্রাণীর যেসব বৈশিষ্ট্য জিন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় সেগুলোকে ইংরেজীতে Trait বলে। ডেইরিতে গুরুত্বপূর্ণ কিছু ট্রেইট হচ্ছে , দুধ উৎপাদন, মিল্ক ফ্যাট%, Calving Interval অর্থাৎ এক বাচ্চা হবার পর থেকে পরবর্তী বাচ্চা হবার বিরতি ইত্যাদি। খামারীরা সাধারনত ভাল দুধ দেয়া, সাইজে বড় গাভী কিনেই নিজেদের লাভবান মনে করে। অথচ এইগুলো ছাড়াও আরো গুরুত্বপূর্ণ কিছু বৈশিষ্ট্য বা ট্রেইট আছে যেটাতে বেশি ফোকাস করা উচিত। যেমন, প্রতি বছর বাচ্চা জন্ম দেয়া, বড় বাচ্চা জন্ম দেয়া, নিয়মিত গর্ভবতী হওয়া, রিপিট কম হওয়া, সুস্থ বাচ্চা হওয়া, রোগ বালাই কম হওয়া সবকিছুই এই জিন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। সুতরাং খামারে লাভবান হতে গেলে এই সমস্ত বৈশিষ্ট্য দেখেই গরু কেনা উচিত। সেইজন্য এনিম্যাল জেনেটিক্স বুঝাটা খুবই জরুরি।

এই প্রসংগে চলে আসে রেকর্ড কিপিং এর কথা। একটা গরুর উপরোক্ত রেকর্ড গুলো যদি কেউ সংরক্ষন করে তাহলে আমরা সহজেই গাভীটির জেনেটিক্স সম্পর্কে একটা আইডিয়া নিতে পারবো। রেকর্ড ছাড়া কখনোই কোন ব্রিডিং প্রোগ্রাম বা ডেইরি খামারে সফলতা আসবেনা। গাভীর দুধের রেকর্ড ছাড়াও উপরের কিছু গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ড মেইনটেইন করা উচিত। এতে করে গাভীটির ভ্যালু আরো বেড়ে যায়। যেমন আমার কাছে ২০ লিটার দুধ দেয়া কিন্তু প্রতি বছর বাচ্চা দেয়না বা নিয়মিত গর্ভবতী হয়না এমন গাভীর চেয়ে ১০ লিটার দুধ দেয় কিন্তু নিয়মিত গর্ভবতী হয় এবং প্রতি বছর বাচ্চা দেয় এমন গাভী ভালো মনে হয়।

এবার আসি বোরিং পার্ট টার্মিনলোজিতে ।

সাধারণত কোন জিনগুলি পিতামাতা থেকে প্রজেনীতে ট্রান্সফার হবে সেইটা বুঝার জন্য আমাদের Dominant/ডমিন্যান্ট বা (প্রকট) এবং Recessive/রিসিসিভ (প্রচ্ছন্ন) জিন সম্পর্কে ধারনা থাকতে হবে। এছাড়াও হোমোজাইগোসিটি (Homozygocity) এবং হেটারোজাইগোসিটি (Heterozygocity) এবং এলিল (Allele) সম্পর্কেও একটু জানা প্রয়োজন।

এলিল হচ্ছে একটা জিনের অলটারনেটিভ ফর্ম বা বিকল্প রূপ। যেমন, মানুষের দেহে একটা জিন আছে “স্বাভাবিক হিমোগ্লোবিন”এর জন্য দ্বায়ী। আবার রক্তশূন্যতায় ভোগা কিছু মানুষের দেহে এই জিনেরই একটি অলটারনেটিভ ফর্ম আছে যেটা ডিফেক্টিভ বা অস্বাভাবিক হিমোগ্লোবিন এর জন্য দায়ী। সুতরাং এই দুইটা জিন হচ্ছে একে অপরের এলিল। লম্বা মানুষের দেহে যদি A নামক জীন থাকে তেমনি খাটো মানুষের দেহে a জিন থাকবে। এই এলিলগুলোর একটা হবে ডমিন্যান্ট আরেকটা হবে রিসিসিভ।

যে জিনগুলো অন্য জিনের বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করতে দেয়না বা বাধা দেয় তাকে ডমিন্যান্ট জিন বলে। আর যে জিনকে বাধা দেয় তাকে রিসিসিভ জিন বলে।

একজোড়া জিন একেকটা বৈশিষ্ট্য ধারন করে। যখন একটা মানুষের দেহে দুইটা একই ধরনেই এলিল থাকে অর্থাৎ AA জিন বা দুইটা aa জিন থাকবে তখন তাকে হোমোজাইগোসিটি বলা হয়, আর যখন দুইটা ভিন্ন এলিল অর্থাৎ Aa থাকবে তখন তাকে হেটারোজাইগোসিটি বলা হয়।

যখন জিনের কম্বিনেশন হেটেরাজাইগাস হয় তখন প্রজেনীর পারফর্মেন্স ভাল হয়। সবচেয়ে খারাপ পারফর্মেন্স হয় হোমাজাইগাস রিসিসিভে। রিসিসিভ জিনগুলো ক্ষতিকর। এর ফলে প্রজেনীর দুধ উৎপাদন কমে যায়, রোগ বালাই বেশি হয়, ওজনেও কমে যায়।

জিনের এই AA বা aa বা Aa কম্বিনেশনকে জেনেটিক্স এর ভাষায় বলা হয় জেনোটাইপ এবং এইগুলো যে বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে সেগুলোকে বলা হয় তার ফেনোটাইপ অর্থাৎ বাইরে থেকে যা বুঝা যায় সেটাকে বলা হয় ফেনোটাইপ। যেমন ফ্রিজিয়ানের সাদা কালো স্পটেড কালার হচ্ছে এর ফেনোটাইপ আর এই ফেনোটাইপিক বৈশিষ্ট্যের জন্য দ্বায়ী জেনোটাইপ হবে AA বা Aa ।

এবার নিচের থিয়োরিটিক্যাল উদাহরনটা খেয়াল করুনঃ

BB জেনোটাইপ হচ্ছে কালো রঙের গরু
RR জেনোটাইপ হচ্ছে লাল রঙের গরু
BR জেনোটাইপ হচ্ছে লালচে কালো বা মিক্সড রঙের গরু।

একটি কালো রঙের ফ্রিজিয়ান ষাঁড়ের সাথে লাল রঙের শাহিওয়াল গাভীকে মেটিং করালে প্রথম জেনারেশন প্রজেনী (F1) মিক্সড হবে লালচে কালো হবে,এইক্ষেত্রে দুইটা জিনই কো ডমিনেন্সি দেখিয়ে পাশাপাশি অবস্থান করবে। কিন্তু যদি ফ্রিজিয়ানের কালো রঙটা ডমিন্যান্ট হয় তাহলে বাচ্চাটা কালো হবে সেক্ষেত্রে লাল রঙটা হবে রিসিসিভ। এছাড়া বাস্তব একটা উদাহরন হলো শিংওয়ালা প্রাণীর সাথে শিংহীন প্রাণীর মেটিং এ শিংহীন বাচ্চা হওয়াটাও ডমিন্যান্ট এলিলের উদাহরন। ছবি ১ এ সংযুক্ত করা হলো।

কোনটা হোমোজাইগাস ডমিন্যান্ট বা হেটারোজাইগাস ডমিন্যান্ট জেনোটাইপ এইটা জানার জন্য ব্রিডাররা টেস্টক্রস (Test Cross) করে থাকে। টেস্ট ক্রস হচ্ছে ব্যাকক্রসের মতই একটা ব্রিডিং সিস্টেম যেখানে প্রথম জেনারেশনের প্রজেনীকে হোমোজাইগাস রিসিসিভ পিতা অথবা মাতার সাথে ক্রস করানো হয়। সকল টেস্ট ক্রসই ব্যকক্রস কিন্তু সব ব্যাকক্রস টেস্ট ক্রস না।

গতপর্বের লেখায় ব্যাকক্রস কেন করানো হয় এটা নিয়ে এক ভাই প্রশ্ন তুলেছিল যেহেতু এটা ইনব্রিডিং হয়ে যায়। মূলত ব্যাকক্রস করা হয় পিতা মাতার কিছু গুরুত্বপূর্ণ ট্রেইট বা বৈশিষ্ট্যকে অর্থাৎ জেনোটাইপকে প্রজেনীতে ট্রান্সফার করার জন্য। এই কাজটা বেশী হয় প্ল্যান্ট ব্রিডিং এ যেখানে এলিট জেনোটাইপ বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন পিতা বা মাতাকে সংরক্ষন করা হয়। তাছাড়া পোল্ট্রিতে আমরা যে লেয়ার বা ব্রয়লারের স্ট্রেইন দেখতে পাই এদের পিতা-মাতা বা দাদা-দাদীকে লাইন ব্রিডিং এর মাধ্যমে একটা নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য ধরে রেখে কয়েক জেনারেশনে তৈরি করা হয়েছে। জিন নকআউট করা যায় এই ব্যাকক্রসের মাধ্যমে।

এবার আসি প্র্যাকটিক্যাল কথায়। ইনব্রিডিং এ আসলে কি হয়! আমরা জানি ইনব্রিডিং হচ্ছে রক্তের সম্পর্ক আছে এমন কারো সাথে ম্যাটিং। শর্ত সাপেক্ষে অল্প পরিমানে ইনব্রিডিং অনুমোদন যোগ্য কিন্তু ঘন ঘন ইনব্রিডিং নিচের সমস্যাগুলো তৈরি করেঃ

১) পিতার সাথে মেয়ের মেটিং করলে পিতার ১০০% জিনের সাথে মেয়ের ৫০% রিলেটেড জিনের শেয়ার হয় । যত বেশি জিনের শেয়ার হয় প্রজেনীর পারফর্মেন্স তত কমে। যেহেতু তিনটাতেই একটা করে রিসিসিভ জিন থাকে ফলে পুনরায় বাবা/মা/ভাই/বোন কারো সাথে মেটিং করালে রিসিসিভ জিনের পরিমান বেড়ে যায় এবং প্রজেনীর পারফর্মেন্স খারাপ হয়। একে ইনব্রিডিং ডিপ্রেসন বলে।

২) এর ফলে নতুন কোন জিনের সাথে কম্বিনেশন হয়না ফলে উৎপাদন বাড়ার কোন সুযোগ থাকেনা।

৩) বিভিন্ন ধরনের জেনেটিক ডিসঅর্ডার দেখা দেয়। ফার্টিলিটি কমে যায়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া সহ বিভিন্ন অসুবিধা দেখা দেয়।
আমাদের বাংলাদেশে ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল ইনব্রিডিং এর প্রভাবে আকারে ছোট হয়ে যাচ্ছে। যেহেতু একটি এলাকায় পাঠা থাকে নির্দিষ্ট একটি খামারে বা বাড়িতে। বেশিরভাগ মানুষ তাদের ছাগীকে/ছাগীর বাচ্চাকে/ছাগীর বাচ্চার বাচ্চাকে সেই একই পাঠা দিয়ে প্রজনন করায়। ফলে ইনব্রিডিং ডিপ্রেশন ঘটছে এবং বাচ্চার সাইজ , ওজন ধীরে ধীরে কমে আসছে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও কমে আসছে ছাগলে। যদিও কমিউনিটি বেজড ব্রিডিং সিস্টেম একটা চমৎকার সিস্টেম কিন্তু এসব জায়গায় পাঠা/ষাড়কে নিয়মিত প্রতিস্থাপন না করলে ইনব্রিডিং বেড়ে যায়।

ইনব্রিডিং রোধে করনীয়ঃ
একমাত্র রেকর্ড মেইন টেইন করেই ইনব্রিডিং রোধ করা যায়। বিদেশে ইনব্রিডিং ক্যালকুলেটর আছে, বিভিন্ন ধরনের সফটওয়ার আছে। যদি দেখা যায় কোন প্রজেনীতে পিতার জিন রয়েছে তাহলে ওয়ার্নিং দেয়া হয় ফলে ইনব্রিডিং করানো হয়না।

আমাদের দেশে যেহেতু এত আপডেট সিস্টেম নাই তাই আমাদের ম্যানুয়েল সিস্টেমেই ভরসা রাখতে হবে। প্রতিটি খামারে প্রজনন রেজিস্টার রাখতে হবে। একটা গাভীর বাবা মা বা দাদা দাদী থেকে প্রজনন সম্পর্কিত সব তথ্য রাখতে হবে। যদি গাভীটি বিক্রি করে দেয়া হয় তাহলে রেজিস্টারের তথ্য নতুন মালিককে সরবরাহ করতে হবে। মোটকথা রেকর্ড ছাড়া ডেইরি গাভী বেচাকেনা বন্ধ করতে হবে। এর ফলেই ইনব্রিডিং অনেকাংশে কমে যাবে আশা করি।

আগের লেখাগুলোয় আমি বাংলাদেশের জেনেটিক রিসোর্স এবং ব্রিডিং স্ট্র‍্যাটেজী (পিউর ব্রিডিং এবং ক্রস ব্রিডিং) নিয়ে লিখেছি। আজ ব্রিডিং অবজেক্টিভস, ব্রিডিং গোলস এবং বিদ্যমান ব্রিডিং পলিসি নিয়ে কিছু লিখবো। যদি সম্ভব হয় ব্রিডিং প্রোগ্রাম ডিজাইন নিয়েও লিখবো।

ব্রিডিং অবজেকটিভস (Breeding Objectives)

Objectives মানে উদ্দেশ্য। অর্থাৎ কি উদ্দেশ্য নিয়ে আপনি ব্রিডিং করতে চান?
আপনি কি দুধ উৎপাদন বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে ব্রিডিং করতে চান নাকি মাংসের উৎপাদন বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে ব্রিডিং করতে চান? মুরগীর ক্ষেত্রেও একই রকম উদ্দেশ্য প্রায়? ডিম না মাংসল জাতের মুরগীর উন্নয়ন করতে চান?

বাংলাদেশের বিদ্যমান ব্রিডিং পলিসি দুধ আর মাংসের উন্নতি, এই দুইটা ব্রিডিং অবজেকটিভস নিয়েই বলা আছে।

ব্রিডিং গোলস ( Breeding Goals)

Goal বা Target বা লক্ষ্য হচ্ছে, আপনার ব্রিডিং অবজেকটিভস অনুসারে আমি কোন লক্ষ্যে পৌছতে চান?

যেমন, আপনার গরুর দুধ উৎপাদন বাড়ানোর উদ্দেশ্যে (Breeding Objectives) ব্রিডিং পলিসি বানাবেন এবং একটা নির্দিষ্ট সময় (৫, ১০,১৫) বছর পরে আপনার প্রতিটি গরু থেকে ২০ বা ৩০ লিটার দুধ পাওয়ার (Breeding goals) টার্গেট নিবেন।

এই ব্রিডিং অবজেকটিভস এবং গোল আপনি এখন সারা দেশের উপর ইমপ্লিমেন্ট করা চেষ্টা করুন। যেখানে বিভিন্ন জাতের, বিভিন্ন Rearing System এ রাখা ভিন্ন ভিন্ন উৎপাদনের গরু আছে। যেখানে কারো কারো ৪০ লিটার দুধের গাভীও আছে যারা উন্নত মানের ঘাস খাওয়ানোর সামর্থ্য রাখে, আবার ৫ লিটারের কম দুধের গাভীও আছে যারা খড় আর অল্প দানাদার খাদ্যে খাওয়ানো গরীব খামারীও আছে।

তাই আপনি ইচ্ছে করলেও সবার জন্য এক জাতীয় ব্রিডিং পলিসি দিতে পারেন না। এই জন্য বিদ্যমান ব্রিডিং পলিসিতে এই তিন ধরনের ম্যানেজমেন্ট (High Level Input, Medium Level input and Low level input) এর জন্য তিন ধরনের পলিসি বলা আছে।

জাত উন্নয়নের পদ্ধতি ত্বরান্বিত করার জন্য আজ পর্যন্ত গবেষকরা বেশ কিছু প্রযুক্তি আবিষ্কার করেছেন। প্রাকৃতিক প্রজননের বাইরে রিপ্রোডাকশনকে সহজতর করার জন্য বিজ্ঞানীদের আবিষ্কার করা এই পদ্ধতিগুলো কে Assisted Reproductive Technologies (ART) বলে। এর মাঝে সবচেয়ে প্রচলিত কিছু টেকনোলজির সংক্ষিপ্ত বর্ণনা নিচে দেয়া হল।

১) Artificial Insemination(AI) : কৃত্রিম প্রজনন

সবচেয়ে পুরোনো এবং সবচেয়ে ব্যবহৃত প্রযুক্তি। ষাড়ের সিমেন কৃত্রিম ভাবে গাভীর প্রজননতন্ত্রে ডিপোজিট করা হয়। ডিপোজিটের জায়গা অর্থাৎ Site of Insemination অনুযায়ী এটি তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে:

1) Vaginal Insemination
2) ‎Cervical Insemination
3) ‎Intra Uterine Insemination

বাংলাদেশের এ আই কর্মীরা সবাই সার্ভিক্সে সিমেন দেয় কারন এতে দুর্বল শুক্রানো মারা যায় এবং ভাল শুক্রাণু গিয়ে মিলিত হয়ে ভাল বাচ্চা পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়।
১৯৫৮ সালে বাংলাদেশে সর্বপ্রথম কৃত্রিম প্রজনন কার্যক্রম শুরু হয়।

২) Multiple Ovulation and Embryo Transfer(MOET) : বহু ডিম্বক্ষরণ/ডিম্বস্ফোটন এবং ভ্রুন স্থানান্তর

ভাল গাভীর কাছ থেকে হরমোন ইঞ্জেক্ট করে অধিক ডিম্বাণু উতপন্ন করে সেগুলোকে ভাল মানের বীজ দিয়ে কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে নিষিক্ত করা হয়।
এরপর ভ্রুনগুলো কালেকশন এবং গ্রেডিং করে ক্রায়োপ্রিজার্ভেশন প্রযুক্তিতে সংরক্ষন করা হয়। অতপর অনুন্নত জাতের গাভীকে এই ভ্রুন সরাসরি দেয়া হয়।
বাংলাদেশে সর্বপ্রথম ১৯৯৫ সালে রিসার্চ ইনস্টিটিউটে ভ্রুন স্থানান্তর করা হয়। ২০১৭ সালে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভেড়ায় ভ্রুন স্থানান্তর করে বাচ্চা জন্ম দেয়া হয়।

বর্তমানে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর একটা প্রকল্প হাতে নিয়েছে যার নাম হচ্ছে, কৃত্রিম প্রজনন এবং ভ্রুন স্থানান্তর প্রকল্প (AIET project) যার মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া আরো ত্বরান্বিত হবে।

৩) In Vitro Production: দেহের বাইরে প্রোডাকশন

সোজা বাংলায় টেস্ট টিউব বেবি বা বাছুর তৈরি। গাভী থেকে ডিম্বাণু নিয়ে তা In Vitro Maturation প্রক্রিয়ায় বড় করা হয়। এরপর ডিম্বানু টেস্টটিউব এ ষাড়ের বীজ দ্বারা নিষিক্ত করে গাভীতে ভ্রুন স্থানান্তর করা হয়।

বাংলাদেশে ২০১৬ সালে BLRI সর্বপ্রথম ২টি টেস্ট টিউব বাছুর উৎপাদন করতে সক্ষম হয়।

৪) In Vitro Maturation and In Vitro Fertilization

গাভীর দেহের বাইরে, ল্যাবরেটরিতে কৃত্রিম পরিবেশ তৈরি করে ডিম্বানুর ম্যাচুরেশন এবং শুক্রানূর সাথে নিষেক।

৫) S*xed Semen অর্থাৎ নির্দিষ্ট লিংগের সিমেন

অর্থাৎ বীজ টা গাভী হবে না বকনা হবে তা আগেই নির্ধারন করে সিমেন তৈরি করা।

৬) ক্লোনিং
এটা সবাই জানেন। সেল/ডিএনএ ক্লোনিং করে হুবুহু একই জেনেটিক মেকাপের প্রাণী তৈরি করা।
ক্লোনিং আবার ৩ প্রকার::

সেল ক্লোনিং, অর্গান ক্লোনিং, অর্গানিজম বা প্রাণি ক্লোনিং।

পৃথিবীতে ক্লোনিং করা প্রথম প্রাণীটি ছিল ডলি নামে একটা ভেড়া যা ১৯৯৬ সালে করা হয়।

মোটামুটি এই হলো হিউম্যান এন্ড এনিম্যাল রিপ্রোডাকশের জন্য বর্তমান সময়ের কিছু প্রযুক্তি ।

এ এফ এম ফয়জুল ইসলাম
এম এস ইন এনিম্যাল ব্রিডিং এন্ড জেনেটিক্স
পোল্ট্রি ডেভেলপম্যান্ট অফিসার
আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামার, বাগেরহাট।

 # # # 🐐 **ছাগল পালন: একটি কম খরচে লাভজনক ব্যবসার ধারণা**  ছাগল পালন **কম বিনিয়োগে, ঝুঁকিহীন ও দ্রুত লাভজনক** ব্যবসা। ব...
10/08/2025

# # # 🐐 **ছাগল পালন: একটি কম খরচে লাভজনক ব্যবসার ধারণা**

ছাগল পালন **কম বিনিয়োগে, ঝুঁকিহীন ও দ্রুত লাভজনক** ব্যবসা। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় সীমিত জায়গা ও সম্পদে এটি একটি **আদর্শ পেশা**। নিচে ছাগল পালনের সম্পূর্ণ গাইডলাইন দেওয়া হলো:

---

# # # 🌟 **ছাগল পালনের ৬টি সুবিধা**
১. **কম খরচ**: খাদ্য খরচ গরুর তুলনায় **৬০% কম**।
২. **দ্রুত প্রজনন**: ১২-১৮ মাসেই বাচ্চা প্রসব করে (গরুর চেয়ে দ্বিগুণ দ্রুত)।
৩. **রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা**: সাধারণ রোগে কম আক্রান্ত হয়।
৪. **বহুমুখী আয়**: দুধ, মাংস, চামড়া, গোবর—সবই বিক্রি করা যায়।
৫. **কম জায়গায় পালন**: ১টি ছাগলের জন্য মাত্র **১০-১২ বর্গফুট** জায়গা প্রয়োজন।
৬. **সব ঋতুতে প্রজনন**: বছরের যেকোনো সময় বাচ্চা পাওয়া যায়।

---

# # # 🏡 **প্রাথমিক পরিকল্পনা (শুরু করবেন যেভাবে)**
# # # # 🔹 **জাত নির্বাচন**
- **দুধের জন্য**:
- **জামুনাপাড়ি**: দৈনিক ২-৩ লিটার দুধ দেয়।
- **সানান**: দৈনিক ১.৫-২ লিটার দুধ দেয়।
- **মাংসের জন্য**:
- **বাংলাদেশী কালো ছাগল**: ৬ মাসে ১৫-২০ কেজি ওজন হয়।
- **বোয়ার**: দ্রুত ওজন বাড়ায়।
- **টিপস**: স্থানীয় খামার থেকে **২-৩টি মা ছাগল + ১টি বাপকা ছাগল** কিনুন (প্রাথমিক বিনিয়োগ: ১৫,০০০-২০,০০০ টাকা)।

# # # # 🔹 **খামার স্থাপন**
- **জায়গা**: উঁচু, শুকনো ও বাতাস চলাচল হয় এমন স্থান।
- **ঘর তৈরি**:
- **বাঁশের খুঁটি + টিনের ছাউনি** (প্রতি ছাগলের জন্য ৪x৫ ফুট জায়গা)।
- মেঝে **কাঠের তক্তা** বা **বাঁশের চাটাই** দিয়ে তৈরি করুন (ভেজা থেকে রক্ষা পাবে)।
- **খরচ**: ৫টি ছাগলের ঘর তৈরিতে **৫,০০০-৮,০০০ টাকা** লাগবে।

---

# # # 🌿 **খাদ্য ব্যবস্থাপনা (কম খরচে)**
# # # # 🔹 **প্রাকৃতিক খাদ্য**
- **ঘাস**: নেপিয়ার, গিনি ঘাস চাষ করুন (১ ছাগলের জন্য দৈনিক ৩-৪ কেজি ঘাস লাগে)।
- **গাছের পাতা**: কলা, নারিকেল, কাঁঠালের পাতা দিতে পারেন।
- **সবজির বর্জ্য**: বাজার থেকে পচা সবজি সংগ্রহ করে খাওয়ান।

# # # # 🔹 **ঘরোয়া খাদ্য মিশ্রণ**
| উপাদান | পরিমাণ (প্রতিদিন) |
|-------------------|-------------------|
| ভুট্টা/গমের ভুসি | ২০০-৩০০ গ্রাম |
| খৈল | ১০০-১৫০ গ্রাম |
| চালের�ুটা | ৫০-১০০ গ্রাম |
| খনিজ লবণ | ১০ গ্রাম |
- **খরচ**: প্রতি ছাগলের দৈনিক খাদ্য খরচ **২০-২৫ টাকা** (গরুর চেয়ে ৭০% কম)।

---

# # # 💊 **স্বাস্থ্যসেবা (সহজ ও কম খরচে)**
# # # # 🔹 **প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা**
- **টিকা**:
- **পিপিআর (Peste des Petits Ruminants)**: প্রতি ৬ মাস অন্তর।
- **এন্টারোটক্সেমিয়া**: বছরে একবার।
- **ডিওয়ার্মিং**: প্রতি ৩ মাস অন্তর **অ্যালবেন্ডাজল** ট্যাবলেট দিন (খরচ: ১০-১৫ টাকা/ছাগল)।
- **গোসল**: সপ্তাহে একবার **পানি + নিম পাতার রস** দিয়ে গোসল করান (উকুন দূর হবে)।

# # # # 🔹 **সাধারণ রোগ ও চিকিৎসা**
| রোগ | লক্ষণ | ঘরোয়া চিকিৎসা |
|------------------|------------------------|-------------------------------|
| ডায়রিয়া | পাতলা পায়খানা | চালের মাড় + লবণ পানি দিন |
| খোস/চর্মরোগ | চুল পড়া, চুলকানো | নারিকেল তেল + হলুদ মাখান |
| জ্বর | শরীর গরম, খাবার কম | তুলসী পাতার রস + মধু দিন |

---

# # # 🐐 **প্রজনন ব্যবস্থাপনা**
- **প্রথম প্রজনন**: ১২-১৮ মাস বয়সে।
- **বাচ্চা প্রসবের সময়**: **৫ মাস গর্ভকালীন সময়**।
- **বাচ্চা পালন**:
- জন্মের পর প্রথম ১ মাস **মায়ের দুধ** খাওয়ান।
- ১ মাস পর **ঘাস + দানাদার খাবার** দিন।
- **লাভ**: ১টি মা ছাগল বছরে **২-৩টি বাচ্চা** দিতে পারে। প্রতি বাচ্চা ৬ মাসে **৩,০০০-৫,০০০ টাকায়** বিক্রি করা যায়।

---

# # # 💰 **বাজারজাতকরণ (আয়ের উৎস)**
| পণ্য | বিক্রয় মূল্য (প্রতি ইউনিট) | মাসিক আয় (৫টি ছাগল থেকে) |
|------------|---------------------------|----------------------------|
| দুধ | ৬০-৮০ টাকা/লিটার | ৩,০০০-৪,০০০ টাকা |
|�াংস | ৬০০-৮০০ টাকা/কেজি | বাচ্চা বিক্রি: ৬,০০০ টাকা |
| চামড়া | ৩০০-৫০০ টাকা/পিস | ১,০০০ টাকা |
| গোবর | ৫ টাকা/কেজি | ৫০০ টাকা |
**মোট মাসিক আয়**: **১০,০০০-১২,০০০ টাকা** (খরচ বাদে লাভ: **৮,০০০-১০,০০০ টাকা**)।

---

# # # 📊 **খরচ-আয়ের হিসাব (৫টি ছাগল পালনে)**
| খাত | মাসিক খরচ (টাকা) | মাসিক আয় (টাকা) |
|--------------------|-------------------|-----------------|
| খাদ্য | ৩,০০০ | - |
| ওষুধ/�িকা | ৫০০ | - |
| শ্রমিক (আংশিক) | ১,০০০ | - |
| দুধ বিক্রি | - | ৪,০০০ |
| বাচ্চা বিক্রি | - | ৬,০০০ |
| অন্যান্য | - | ২,০০০ |
| **মোট** | **৪,৫০০** | **১২,০০০** |
| **মাসিক লাভ** | - | **৭,৫০০** |

---

# # # 💡 **লাভ বাড়ানোর ৫টি টিপস**
১. **বাচ্চা উৎপাদন বাড়ান**: ভালো মানের বাপকা ছাগল রাখুন (১টি বাপকা ১৫-২০টি মা ছাগলকে গর্ভবতী করতে পারে)।
২. **দুধ প্রক্রিয়াজাত করুন**: দুধ থেকে **দই, ছানা, ঘি** তৈরি করে বিক্রি করুন (মুনাফা ৫০% বাড়বে)।
৩. **চামড়া সংরক্ষণ করুন**: মরে গেলে চামড়া লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করে বিক্রি করুন।
৪. **গোবর বিক্রি করুন**: গোবর শুকিয়ে **জৈব সার** তৈরি করুন (বিক্রয় মূল্য: ৫-১০ টাকা/কেজি)।
৫. **সরাসরি গ্রাহকের কাছে বিক্রি করুন**: মধ্যস্বত্বভোগী এড়িয়ে স্থানীয় বাজারে নিজেই বিক্রি করুন।

---

# # # ⚠️ **সতর্কতা**
- **অতিরিক্ত ভিড় এড়িয়ে চলুন**: ১০x১০ ফুট জায়গায় সর্বোচ্চ **৮-১০টি ছাগল** রাখুন।
- **বিষাক্ত গাছ এড়িয়ে চলুন**: কাঁঠাল, অর্জুন গাছের পাতা বেশি খেলে বিষক্রিয়া হতে পারে।
- **পানির ব্যবস্থা**: সবসময় বিশুদ্ধ পানি পানের ব্যবস্থা রাখুন।

---

# # # 🌾 **সফল খামারিদের উদাহরণ**
> **"ময়মনসিংহের রহিম মিয়া ৫টি ছাগল দিয়ে শুরু করেছিলেন। ১ বছরের মধ্যে তার খামারে ২০টি ছাগল হয়েছে। মাসিক আয় এখন ২৫,০০০ টাকা!**
> তার সফলতার রহস্য: **স্থানীয় জাত নির্বাচন + ঘাস চাষ + নিজেই বাজারজাতকরণ**।"

---

ছাগলের খামারে লস হওয়ার কারণ সমূহ:আমরা কয়েকটি ছাগলের খামারে লস হওয়ার কারণ সমূহ জেনেছি। এবার জেনে নেই সবচেয়ে বড় কারণটি...
06/08/2025

ছাগলের খামারে লস হওয়ার কারণ সমূহ:

আমরা কয়েকটি ছাগলের খামারে লস হওয়ার কারণ সমূহ জেনেছি।

এবার জেনে নেই সবচেয়ে বড় কারণটি:

আমরা যখন একটি ছাগলে খামার দিই তখন শুরু থেকেই আমাদের ছাগলের খাবার সম্পর্কে ধারণা রাখতে হয়। অনেক সময় দেখা যায় ছাগলের খাবারের মূল্য বাজারে বৃদ্ধি পায়। কিন্তু বাজারে ছাগলের দাম তেমন একটা বাড়ে না। এতেই আমাদের খামারিরা বড় রকম লসের দিকে ধাবিত হয়।

বাংলাদেশে প্রতিনিয়তই ব্যবহার্য পণ্যের দাম ওঠানামা করে। এটি নতুন কোনো বিষয়ও নয়। আবার অনেকেই মনে করেন ছাগলকে শুধু বিভিন্ন রকম খড়, গাছের পাতা, ভাতের মাড় ইত্যাদি খাওয়ালেই যথেষ্ট। কিন্তু একটি ছাগলের খামারে ছাগলের জন্য এসব খাদ্য মোটে উপযুক্ত খাদ্য নয়।

একজন খামারির প্রধান উদ্দেশ্যই থাকে ছাগলকে মোটাতাজা করা। আর এর জন্য আপনাকে ছাগলের খাবারে প্রোটিনের হার সর্বোচ্চ রাখতে হবে। প্রোটিন যুক্ত খাবারগুলো আবার বাজার থেকে কিনতে হয়।

যদি বাজারে খাবারের দাম বেশি উঠে এবং ছাগলের দাম নিচে যায় সেক্ষেত্রে বড় রকম ধরা খেয়ে যেতে পারেন। তবে মনে রাখতে হবে প্রত্যেকটি খাবারের কিন্তু বিকল্প রয়েছে। তাই বাজারে অবস্থা বুঝে বিকল্প খাবারের দিকেও মনোযোগ দিতে হবে।

উপরে ছাগলের খামারে লস হওয়ার কারণ সমূহ জানানোর প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে যাতে আপনি একটি ছাগলের খামার দিলে ভুলেও লস না করে বসেন।

যদি আপনি ছাগলের খামার দিয়ে লাভবান হতে চান সেক্ষেত্রে উপরের কারণগুলো মাথায় রেখে আপনার প্রতিটি পদক্ষেপ নিতে হবে। বিশেষ করে ছাগলের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত, পর্যাপ্ত খাবার ব্যবস্থা, স্থান সংকুলন ও উন্নত জাতের ছাগল নির্বাচন করার ক্ষেত্রে বুদ্ধিমত্তার সাথে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

ছাগলের খামারে লস হওয়ার কারণ সমূহ শুধু জেনে নিলেই হবে না। অবস্থা বুঝে ব্যবস্থাও গ্রহণ করতে হবে। ছাগলের খামারে লস হওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে ধরা হয় বিভিন্ন ধরনের রোগের কারণে ছাগলের মৃত্যু।

তাই আপনার ছাগলকে রক্ষা করতে হলে অবশ্যই সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে এবং প্রতিনিয়ত ছাগলের পরিচর্যা করতে হবে।

কৃষি ভিত্তিক তথ্যের জন্য পেইজটি ফলো দিয়ে রাখবেন ধন্যবাদ ✅🥀💚🌸🤝

তথ্যগুলো সংগ্রহ করে রাখতে শেয়ার দিয়ে রাখুন ✅💚

গবাদিপশুর জন্য প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর কর্তৃক প্রস্তুতকৃত ভ্যাকসিন/ টিকার নাম ও ব্যবহার বিধি:-১। তড়কা রোগের টিকা (Anthrax V...
03/08/2025

গবাদিপশুর জন্য প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর কর্তৃক প্রস্তুতকৃত ভ্যাকসিন/ টিকার নাম ও ব্যবহার বিধি:-

১। তড়কা রোগের টিকা (Anthrax Vaccine) তড়কা টিকা ১০০ মিলি বোতলে তরল অবস্থায় থাকে। পশুর ৬ মাস বয়সে প্রথম টিকা দিতে হয়। গরু ও মহিষের জন্য টিকার মাত্রা হল ১ মিলি. এবং ছাগল ও ভেড়ার জন্য ০.৫ মিলি। ১ বছর অন্তর এ টিকা দিতে হয়। এ টিকা পশুর ঘাড়ের/গলার চামড়ার নিচে দিতে হয়। তবে ৭ মাসের ঊর্দ্ধ বয়সের গর্ভবতী গরু/মহিষকে দেয়া যাবে না। ছাগল/ভেড়ার ক্ষেত্রে গর্ভধারণের ৩ মাস পরে দেয়া যাবে না ।

২। গলাফুলা রেগের টিকা (Haemorrahagic Septicemia vaccine) গলাফুলা টিকা ১০০ মিলি তরল অবস্থায় বোতলে থাকে। পশুর ৬ মাস বয়সে প্রথম টিকা দিতে হয়। গরু ও মহিষের জন্য টিকার মাত্রা হল ২ মিলি. এবং ছাগল ও ভেড়ার জন্য ১ মিলি। প্রতি ৬ মাস অন্তর টিকা দিতে হয়। এ টিকাও পশুর ঘাড়ের চামড়ার নিচে দিতে হয়।

৩। বাদলা রোগের টিকা (Black Quarter Vaccine) বাদলা রোগের টিকা ১০০ মিলি তরল অবস্থায় বোতলে থাকে। পশুর ৬ মাস বয়সে প্রথম টিকা দিতে হয়। গরু ও মহিষের জন্য মাত্রা হল ৫ মিলি এবং ছাগল ও ভেড়ার জন্য ২ মিলি। প্রতি ৬ মাস অন্তর টিকা দিতে হয়। এ টিকা পশুর ঘাড়ের চামড়ার নিচে দিতে হয়। তবে এ রোগের টিকা ২.৫-৩ বছর পরে আর গরু/ মহিষকে দেয়ার প্রয়োজন হয় না ।

৪। ক্ষুরা রোগের টিকা (Foot & Mouth Disease Vaccine) ক্ষুরা রোগের টিকা বোতলে তরল অবস্থায় থাকে। পশুর ৪ মাস বয়সে প্রথম টিকা দিতে হয়। এ রোগের বিভিন্ন স্ট্রেইনের জন্য বিভিন্ন ভ্যাকসিন পাওয়া যায় যেমন- মনোভ্যালেন্ট, বাইভ্যালেন্ট ও ট্রাইভ্যালেন্ট, ইত্যাদি। গরু ও মহিষের জন্য ভ্যাকসিনের মাত্রা মনো হলে ৩, বাই হলে ৬ এবং ট্রাই হলে ৯ মিলি এবং ছাগল ও ভেড়ার জন্য গরুর অর্ধেক ডোজ দিতে হয়। প্রতি ৪ মাস অন্তর টিকা দিতে হয়। এ টিকা পশুর ঘাড়ের চামড়ার নিচে দিতে হয়। উল্লেখ্য, গর্ভবতী পশুকেও এ টিকা দেয়া যায়।

৫। জলাতঙ্ক রোগের টিকা (Rabies Vaccine) জলাতঙ্কের জন্য দুই ধরনের টিকা পাওয়া যায়, যথা: HEP and LEP। জলাতঙ্ক রোগের টিকা ভায়ালে বা এম্পুলে হিমশুষ্ক অবস্থায় থাকে। ভায়ালের টিকা ৩ মিলি বিশুদ্ধ (Distilled water) পানিতে মিশিয়ে সম্পূর্ণ টিকা মাংসপেশীতে ইনজেকশন করতে হয়। উল্লে­খ্য HEP (GBP Bwc) টিকা বিশুদ্ধ পানিতে মিশিয়ে ১.৫ মিলি পরিমাণ গরু ও মহিষের ৬ মাস বয়সে মাংসপেশীতে ইনজেকশন করতে হয়। LEP (GI Bwc) কুকুরের ৩ মাস বয়সে প্রথম এবং প্রতি বছর একই নিয়মে এ টিকা (৩.০ মিলি) দিতে হয়। এছাড়াও পশুকে কুকুরে কামড়ানোর পরে পোস্ট এক্সপোসার ভ্যাকসিন এআরভি (Anti Rabies vaccine/ ARV) দিতে হয়। বেসরকারি ওষুধ কোম্পানির র‌্যাবিসিন (Rabisin) ভ্যাকসিন পাওয়া যায়। মাত্রা হলো- ১ম দিন ৪ মিলি ৪ স্থানে ১ মিলি করে, ৭ম দিনে ৩ মিলি ৩ স্থানে ১ মিলি করে এবং ২১তম দিনে ৩ স্থানে ১ মিলি করে ৩ মিলি মাংসে দিতে হয় ।

৬। ছাগলের বসন্তের টিকা (Goat pox vaccine) ছাগলের বসন্তের টিকা ভায়ালে হিমায়িত অবস্থায় থাকে। ভায়ালের সাথে বিশুদ্ধ পানি থাকে। পানিতে এ টিকা গুলে ২ মিলি প্রতি ছাগলের লেজের গোড়াতে ত্বকের নিচে ইনজেকশন করতে হয়। ছাগলের ৫ মাস বয়সে প্রথম এ টিকা দিতে হয়।

৭। ছাগলের পিপিআর টিকা (PPR Vaccine) ছাগলের পিপিআর ভ্যাকসিন ভায়ালে হিমায়িত অবস্থায় থাকে। ভায়ালের সাথে ১০০মিলি ডাইলুয়েন্ট থাকে। এ টিকা সরবরাহকৃত ডাইলুয়েন্টের ভেতর ভালো করে মিশিয়ে প্রতিটি ছাগলকে ঘাড়ের চামড়ার নীচে ১ মিলি ইনজেকশন করে দিতে হয়। ছাগলের ৩ মাস বয়সে প্রথম এ টিকা দিতে হয়। এ টিকা এক বছর অন্তর দিতে হয়। উল্লে­খ্য, গর্ভবতী ছাগলকেও এ টিকা দেওয়া যায় ।

গ্রামের প্রকৃতি মানেই চোখের সামনে এক বিশাল ক্যানভাস
31/07/2025

গ্রামের প্রকৃতি মানেই চোখের সামনে এক বিশাল ক্যানভাস

অপরূপ আমার গ্রাম বাংলার সৌন্দর্য।
31/07/2025

অপরূপ আমার গ্রাম বাংলার সৌন্দর্য।

গাভীর দুধ উৎপাদনে করণিয়:গাভীতে যেন দুধ উৎপাদন কমে না যায়, তার জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় খেয়াল রাখতে হবে। সুষম খাদ্য ও ...
31/07/2025

গাভীর দুধ উৎপাদনে করণিয়:

গাভীতে যেন দুধ উৎপাদন কমে না যায়, তার জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় খেয়াল রাখতে হবে।

সুষম খাদ্য ও পুষ্টি নিশ্চিত করণ:

গাভীর দুধ উৎপাদনে সঠিক পুষ্টির কোনো বিকল্প নেই।

১/ পর্যাপ্ত দানাদার খাদ্য:
গাভীকে তার উৎপাদন অনুযায়ী পর্যাপ্ত পরিমাণে সুষম দানাদার খাদ্য দিন। এই খাদ্যে শর্করা, আমিষ, চর্বি, ভিটামিন ও খনিজ পদার্থের সঠিক অনুপাত থাকা জরুরি।

২/ কাঁচা ঘাস ও খড়:
প্রচুর পরিমাণে সবুজ ঘাস এবং মানসম্মত খড় (যেমন: ইউরিয়া মোলাসেস স্ট্র) খাওয়ান। কাঁচা ঘাস দুধ উৎপাদনে অত্যন্ত সহায়ক, কারণ এতে প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ থাকে।

৩/ পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি:
গাভী যেন ২৪ ঘণ্টা পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি পান করতে পারে, তার ব্যবস্থা করুন। পানি দুধের একটি প্রধান উপাদান।

৪/ খনিজ মিশ্রণ:
দুধে ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও অন্যান্য খনিজ পদার্থের অভাব হলে দুধ কমে যায়। তাই নিয়মিত খনিজ মিশ্রণ (মিনারেল মিক্সচার) সরবরাহ করুন।

৫/ নিয়মিত খাবার:
প্রতিদিন একই সময়ে, একই পরিমাণে খাবার দিন। এতে গাভীর হজম প্রক্রিয়া ভালো থাকে এবং দুধ উৎপাদনে ধারাবাহিকতা বজায় থাকে।

স্বাস্থ্য পরিচর্যা ও রোগ প্রতিরোধ:

১/ রোগমুক্ত রাখা:
গাভীকে যেকোনো রোগ থেকে রক্ষা করুন। বিশেষ করে ওলান প্রদাহ (Mastitis) দুধ কমে যাওয়ার একটি প্রধান কারণ, তাই ওলানের সঠিক যত্ন নিন এবং নিয়মিত পরীক্ষা করুন। ওলানে কোনো সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত পশু চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

২/ কৃমি নিয়ন্ত্রণ:
নিয়মিত কৃমির ঔষধ খাওয়ান। কৃমি গাভীর পুষ্টি শোষণ কমিয়ে দেয়, যা দুধ উৎপাদনে প্রভাব ফেলে।

৩/ টিকাদান:
সময়মতো ভ্যাক্সিন করুণ, যাতে গাভী সুস্থ থাকে।

৪/ শারীরিক অবস্থা:
গাভীর শারীরিক ওজন ও অবস্থা যেন ভালো থাকে, সেদিকে লক্ষ্য রাখুন। গর্ভকালীন ও প্রসবকালে গাভীর বিশেষ যত্ন ও পুষ্টিকর খাবার প্রয়োজন।

সঠিক দোহন পদ্ধতি:
দুধ দোহন পদ্ধতি দুধের উৎপাদনকে প্রভাবিত করে।

১/ নির্দিষ্ট সময়:
প্রতিদিন একই সময়ে দুধ দোহন করুন। এতে গাভীর দুধ উৎপাদন হরমোনের কার্যকারিতা ভালো থাকে।

২/ নিয়মিত দোহন:
২৪ ঘণ্টার মধ্যে ২-৩ বার দুধ দোহন করা যেতে পারে। এতে দুধের পরিমাণ বৃদ্ধি পেতে পারে।

৩/ সম্পূর্ণ দোহন:
ওলান থেকে সম্পূর্ণ দুধ দোহন করা জরুরি। কিছু দুধ ওলানে রেখে দিলে দুধ উৎপাদন কমে যেতে পারে।

৪/ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা:
দোহনের আগে ও পরে গাভীর ওলান ও বাঁট ভালোভাবে পরিষ্কার করুন। দোহনকারীর হাতও পরিষ্কার থাকা উচিত।

৫/ বাসস্থান:
গাভীর বাসস্থান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, শুষ্ক এবং পর্যাপ্ত আলো-বাতাসযুক্ত হতে হবে। স্যাঁতসেঁতে বা নোংরা পরিবেশ রোগ সৃষ্টির কারণ হতে পারে।

৬/ নিয়মিত ব্যায়াম:
গাভীকে পর্যাপ্ত হাঁটার বা ব্যায়ামের সুযোগ দিন।

প্রজনন ও গর্ভকালীন ব্যবস্থাপনা:
১/ সঠিক প্রজনন:
ভালো জাতের সুস্থ গাভী প্রজননের জন্য নির্বাচন করুন, কারণ জাতের ওপর দুধের পরিমাণ অনেকটা নির্ভর করে।

২/ গর্ভকালীন পরিচর্যা:
গাভী গর্ভবতী হওয়ার পর তার বিশেষ যত্নের প্রয়োজন। প্রসবের ২ মাস আগে দুধ দোহন বন্ধ করে দিন (শুষ্ককাল), যাতে গাভী সুস্থ বাছুর জন্ম দিতে পারে এবং পরবর্তী দুগ্ধকালে ভালো দুধ দেয়।

এই বিষয়গুলো সঠিকভাবে মেনে চললে গাভীর দুধ কমে যাওয়া অনেকটাই রোধ করা সম্ভব এবং ভালো দুধ উৎপাদন পাওয়া যায়।

কৃষি ভিত্তিক তথ্যের জন্য পেইজটি ফলো দিয়ে রাখবেন ধন্যবাদ ।

গবাদি পশুর সম্বন্ধে যে কোন পরামর্শ নিতে যোগাযোগ করুন 01953-201804 IMO WhatsApp

Address

Dhaka

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Mother's Farm House posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share