08/08/2024
#গল্পঃ না বলা ভালোবাসা
#পর্বঃ২
মাগরিবের নামাজের পর বাসর ঘরে অধরাকে নিয়ে মুরাদের চাচাতো বোনরা আর ভাবিরা বসে আছে। অনেক সুন্দর করে বাসর ঘর সাজানো হয়েছে। গোলাপ আর গাঁদা ফুলে সব কিছু ঢেকে গেছে। এমনিতেও মুরাদের রুম বিলাশ বহুল। বিছানার পাশে একটা টেবিল রাখা আছে। সেখানেও ফুলের তোড়া রাখা। রুমের একটা দেয়ালে অনেক সুন্দর বইয়ের তাক আছে। ইসলামিক বই, গল্পের বই, উপন্যাস আরো হরেক রকমের বইয়ের সমাহার সেখানে। দেখতে বেশ ভালোই লাগছে। দীর্ঘ সময় ধরে অধরা এসব দেখতে ছিলো।
বিকাল থেকে অনেক প্রতিবেশী এসেছিলো নতুন বউ দেখতে। কেউই অধরাকে পছন্দ করেনি। কারণ তার গায়ের রঙ। অনেকেই মুরাদকে বলেছে তোমার মতো সুন্দর ছেলের সাথে এমন মেয়ে মানায় না। এসব শুনে মুরাদের অনেক খারাপ লেগেছে। কাউকেই কিছু বলেনি।
এশার নামাজের পর অধরাকে অনেক সুন্দর করে সাজিয়ে দিয়েছে মুরাদের ভাবীরা। মুরাদের ভাবীদের প্রথমে অধরাকে পছন্দ না হলেও অধরার কথা বার্তা, আচার-আচরণে ভালো লেগে গেছে।
_____________________________________________
রাত ১০টা বেজে গেছে। এখনো মুরাদ আসছেনা কেন? কি হলো কি জানি একা একা এভাবে থাকতে আর ভালো লাগছে না। বিছানায় বসে এসব ভাবছি আর হঠাৎ দরজায় টোকা লাগার শব্দ হলো।
মুরাদ: আসসালামু আলাইকুম। আসতে পারি?
অধরা: ওয়া আলাইকুমুস সালাম। জ্বি অবশ্যই। ভিতরে আসেন।
মনের সব সংকোচ কাটিয়ে ভিতরে প্রবেশ করলাম। অধরা বিছানায় বসে আছে। চারিদিকে ফুল তার মাঝে লাল শাড়ি পড়ে একটা মেয়ে বসে আছে। এত দিন এই দিনটার জন্য অপেক্ষায় ছিলাম। আজ সেই দিন চলে আসলো। কিন্তু আগের মতো সেই ফিলিংস কাজ করছে না। রুমের মধ্যে এসে দাঁড়িয়ে গেলাম। এর আগে কোন মেয়ের কাছে যায় নি। আজকে যাবো তাও আবার মনের বিরুদ্ধে যেয়ে। সবাই যেভাবে অধরার চেহারার দূর্ণাম করলো না জানি ও দেখতে কেমন। এই ভেবে বিছানায় বসে পড়লাম। ২জন অনেক সময় চুপচাপ বসে আছি। অনেক সংকোচ কাটিয়ে ওর সাথে কথা শুরু করলাম।
মুরাদ: রাতে খেতে কোন সমস্যা হয়নি তো?
অধরা: না কোন সমস্যা হয় নি।
মুরাদ: বাবা- মায়ের সাথে কথা বলেছো এখানে এসে?
অধরা: জ্বি বলেছি। আম্মুর মোবাইল থেকে কথা হয়েছে।
মুরাদ: আমি কি তোমার মুখ দেখতে পারি?
অধরা: এখন থেকে আমার উপর আপনার সম্পূর্ন অধিকার আছে। আপনি অবশ্যই দেখতে পারেন।
মুখের উপর থেকে ওড়নাটা সরিয়ে দিলাম। অধরা খুব লজ্জা পেয়েছে। ও দেখতে সত্যি অনেক কালো। এত কালো মেয়ে আমি বিয়ে করলাম? এসব ভেবে মন খারাপ হয়ে গেলো। কিন্তু ওর চেহারায় একটা মায়া আছে।
মুরাদ: আচ্ছা চলো আমরা ২ রাকাত নামাজ পড়ি।
অধরা: আমার ওজু আছে।
মুরাদ: আচ্ছা তাহলে আসো
নামাজ শেষ করে অধরাকে রুমে থাকতে বলে বাইরে চলে আসলাম। অজানা একটা অবহেলা কাজ করছে মনে। তারপরেও অধরাকে আজ রাতে কোন কিছু বলতে দিতে চাইনি। আবার রুমে গেলাম।
আলমারিটা খুলে অধরাকে আসতে বললাম।
মুরাদ: অধরা এদিকে আসো।
অধরা: জ্বি
মুরাদ: এই নাও এটা তোমার।
অধরা: এটা কি?
মুরাদ: খুলে দেখো
অধরা হাত থেকে প্যাকেট নিয়ে খুলে দেখে অনেক গুলো চুড়ি, কানের দুল আর পায়ের তোড়া।
অধরা: এত কিছু আমার জন্য? অনেক সুন্দর লাগছে এই গুলো। আমার অনেক পছন্দ হয়েছে।
মুরাদ: আমি এই গুলো ১ বছর আগে কিনেছিলাম। ভেবেছিলাম যাকে বিয়ে করবো তাকে দিয়ে দিবো। তাই তোমাকে দিলাম।
অধরা: আমার অনেক পছন্দ হয়েছে এই গুলো।
মুরাদ: অনেক রাত হয়েছে। আর আমি অনেক ক্লান্ত। এখন ঘুমিয়ে যাবো। তুমিও ঘুমিয়ে যাও।
অধরা: আপনি যা বলবেন তাই হবে
মনে অনেক অবহেলা কাজ করতে ছিলো তাই অধরার সাথে ভালো করে কথা না বলেই ক্লান্ত হওয়ার অজুহাত দেখিয়ে ঘুমিয়ে গেলাম।
বিয়ের ৭ দিন হয়ে গেছে। এই কয় দিনে মুরাদ অধরার সাথে খুব একটা ভালো করে কথা বলেনা। কোন কিছু জিজ্ঞাসা করলে শুধু উত্তর দেয়। নিজে ইচ্ছে করে কোন কথায় বলে না। রাতে ঘুমানোর সময় ও অন্য দিক ঘুরে ঘুমিয়ে পরে। একবারে খাবার খেতে ডাকে না।
কিন্তু অধরার শশুড় -শাশুড়ি অধরাকে অনেক ভালো বাসছে। আগে পড়াশোনায় ব্যস্ত থাকতো তাই অনেক কাজ অধরা পারে না। সেইগুলো অধরার শাশুড়ি সব শিখিয়ে দেয়। নিজের মেয়ে নেই তাই মেয়ের মতোই যত্ন করে। আর অধরাও নিজের মায়ের মত ভাবে। অধরাকে ওর শশুর একটা মোবাইল কিনে দিয়েছে যাতে সবার সাথে যোগাযোগ করতে পারে।
অনেক সময় ধরে চিন্তা ভাবনা করছি। আমি কালো বলে কি মুরাদ আমার সাথে কথা বলেনা? ও তো সবার সাথেই হাসি মুখে কথা বলে। তাহলে আমার সাথে কথা বলেনা কেন? আজ আমি নিজেই সাহস করে জিজ্ঞাসা করবো। রাতে বাসায় আসুক
রাত ৯ টায় মুরাদ বাসায় আসলো। সবাই মিলে খাওয়া দাওয়া শেষ করলো। এবার মুরাদ আর অধরা রুমে।
অধরা: আমি আপনাকে একটা কথা বলতে চাই। আপনি কি ব্যস্ত আছেন?
মুরাদ: না বলো।
অধরা: আমি এই কয় দিন লক্ষ্য করেছি আপনি আমাকে এড়িয়ে চলা ফেরা করেন। ঠিক মত কথাও বলেন না। আমি কি কোন ভুল কাজ করেছি যার জন্য আপনি এমন করছেন?
মুরাদ: না করো নি।
অধরা: তাহলে আমার সাথে এমন করেন কেন?
মুরাদ: জানতে চাও?
অধরা: জ্বি জানতে চাই।
মুরাদ: বাইরে অনেক সুন্দর চাঁদের আলো। চলো বারান্দায় যায়। বাইরে বসে বলি।
অধরা: আচ্ছা ঠিক আছে।
২জন বারান্দায় চলে গেলো। অধরার মনে অজানা ভয় কাজ করছে। না জানি কি বলে.....
#চলবে
পরের পর্ব গুলো পড়তে এবং আরও নতুন নতুন গল্প পেতে পেইজটি ফলো দিয়ে রাখুন।