20/04/2022
ফসল রক্ষা বাঁধই হোক হাওরের সমাধান।
এই কিছুদিন আগেও ধানে ধানে সবুজ ছিল যে হাওড়টি এখন পানিতে তলিয়ে জলমগ্ন হয়ে ঢেউ খেলছে, কচুরিপানা ভাসছে হাওড়ের বুকে। পানি বেড়ে হাওর তলিয়ে যাওয়ায় ফসল হারিয়ে কাঁদছেন সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ ও নেত্রকোনার কৃষকরা। এ কান্না শুধু স্থানীয় কৃষকেরই নয়- এ কান্না সারা বাংলাদেশের। এই দূর্যোগ উত্তর বঙ্গের মঙ্গার চেয়েও কম নয়। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুচিন্তা ও বুদ্ধিদীপ্ত বলিষ্ঠ পদক্ষেপে তা থেকে আমারা মুক্তি পেয়েছি।
হাওরের এমন দূর্যোগ এখন প্রতি বছরের কৃষকের কান্না- যা থেকে দেখা দিতে পারে খাদ্য ঘাটতি। এ নিয়ে হাহাকার চারিদিকে কিন্তু সমাধানের পথ খোঁজে ক’জন? অথচ 'ফসল রক্ষা বাঁধ’ প্রস্তুত প্রণালী প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই সমস্যার সমাধান করা যায় খুব সহজেই। মঙ্গা মোকাবেলার মতো আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যদি এই পদ্ধতিটি খুব সহজেই অনুমোদন দেন তবে এ সমস্যা অচিরেই ও স্বল্প সময়েই সমাধান করা সম্ভব। যা ইতিমধ্যে প্রস্তাবনা আকারে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পেশ করা হয়েছে। আমাদেরই কিছু অভিজ্ঞ চৌকস ও উদ্ভাবনী গবেষক কতিপয় ইঞ্জিনিয়ার এই পদ্ধতিটি উদ্ভাবন করেছেন যার নেতৃত্বে ছিলেন জনাব মোঃ ফজলে রব্বে, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক, সওজ, মাতারবাড়ী কয়লা নির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প (সওজ অংশ)।
খুব সহজ করে বর্ণনা করলে পদ্ধতিটি এমন- স্থানীয় পর্যায়ের মাটি ও বালুর সাথে Acrylic Polymer ব্যবহার করে নির্দিষ্ট একটি প্রসেসের মাধ্যমে বাঁধ তৈরী। যা এই ইঞ্জিনিয়াররা গবেষণা ও নমুনা সড়ক তৈরী করে প্রমাণ করেছেন যে, এ পদ্ধতিতে সড়ক বা সড়কবাঁধ নির্মাণ ব্যয় সাশ্রয়ী (Cost Effective), টেকসই ও মজবুত। বহুবিধ সুবিধার মধ্যে এই পদ্ধতির একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য হল এটি পানি বা জলরোধী। যে কোন বন্যা বা প্রাকৃতিক দূর্যোগে এটি একটি নির্ভরশীল সমাধান।
সাধারণ জনগণের মতো আমারও সৌভাগ্য হয়েছে এই গবেষণাকে খুব কাছ থেকে দেখার। আশাকরি আমাদের বাংলাদেশের একমাত্র আধুনিক রূপকার জননেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করলেই হাওরের এই চিরাচরিত দূর্যোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। চিনের দুঃখ হোয়াংহো নদীকে নিয়ন্ত্রণ ও জয় করে চিনারা আজ যেভাবে সফল; আমরাও এমন একটি উদাহরণ হই না কেন!
-দেলোয়ার হোসেন
২০ এপ্রিল, ২০২২, শঙ্কর, ঢাকা।
ছবি: ডিজিটাল ফটো।