03/12/2018
শীত আসছে, আর অতিরিক্ত ঘামে হাত পা একাকার?
অতিষ্ঠ, বিষন্ন? কি করবেন? কি এর প্রতিকার?
জানতে পড়ুন 👇
💦 ঘাম (দরকারী) বনাম অতিরিক্ত ঘাম (অসুবিধা)
ঘাম আমাদের শরীর এর জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। ঘাম এবং এর প্রক্রিয়াকে অনেকটা শরীরের এসি’ও বলা যায়। যা আপনার শরীরের তাপমাত্রাকে ৩৭ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড এ রাখতে সাহায্য করে। কিন্তু অতিরিক্ত ঘাম খুবই বিব্রতকর ও অসহ্য যন্ত্রণাদায়ক ও বটে।
💦 কেন হয়?
• অতিরিক্ত গরম
• পরিশ্রম
• টেনশন বা বিব্রতকর অবস্থায় পড়া
• পারিবারিক (জেনেটিক)
• গর্ভাবস্থায়, মহিলাদের মেনপেস এর সময়
• স্থূলকায় শরীর
• লো ব্লাড সুগার
• থাইরয়েড গ্ল্যান্ড এর সমস্যা
• অতিরিক্ত ক্যাফেইন (চা, কফি)
• অতিরিক্ত এলকোহল/ ড্রাগস
• কিছু মেডিসিন (যেমনঃ এন্টি ডিপ্রেসেন্ট) ও ফুড সাপ্লিমেন্ট (সবার ক্ষেত্রে সমান নাও হতে পারে)
• শারীরিক অবস্থা (ব্লাড ক্যান্সার, গলগণ্ড বা টিবি এবং আরও না জানা কারনে)
✅ প্রতিকারঃ
✅ জীবনযাত্রার পরিবর্তন
• এমন কিছু খাবার পরিহার করা যাতে আপনার অরিরিক্ত ঘাম হয় (আপনার জানা), যেমন অতিরিক্ত ঝাল যুক্ত খাবার । তৈলাক্ত, অধিক মসলা যুক্ত খাবার কম খেয়ে, শাঁক সবজি বেশী করে খান
• চা/ কফি পরিমিত পান করুন, মদ্যপান অভ্যাস পরিমিত/ ত্যাগ (যদি থাকে)
• আঁটোসাঁটো কাপড়, নাইলন এর কাপড় পরিধান ত্যাগ (সাদা কাপড় এ তাপ শোষণ কম হয়, তাই হাল্কা বা সাদা রঙ এর কাপড় পরিধান করা)
• প্রাকৃতিক তন্তুতে (যেমন- তুলা) বোনা পাতলা মোজা ব্যাবহার (এক মোজা ২ দিন এর বেশী ব্যাবহার না করাই উত্তম), বাতাস চলাচলে সহায়ক জুতা পরিধান করা (ফরমাল জুতোর ক্ষেত্রে চামড়ার জুতো, এ ছাড়া কাপড়ের কনভারস ইত্যাদি)
• বাড়তি লবন কম খাওয়া
✅ প্রসাধনী ও ঘরোয়া পদ্ধতির ব্যাবহার
• গোসল করার সময় এন্টি ব্যাকটেরিয়াল সাবান ব্যাবহার করা
• সেন্ট বা ডীওডরেন্ট এর বদলে এন্টী পারস্পিরেন্ট (যেমনঃ এন্টী পারস্পিরেন্ট স্প্রে, রোল অন, ট্যালকম পাউডার ইত্যাদি) এর ব্যাবহার
• পা ঘামার ক্ষেত্রে, পায়ে হাল্কা বরিক পাউডার (সাধারন ওষুধের দোকানে পাবেন) লাগিয়ে মোজা পড়া
• মুখ বা হাত তৈলাক্ত হয় এমন কিছু (লোশান্, পমেড, পেট্রলিয়াম জেলি) কম ব্যাবহার করা
• অনেকে হাত - ঠাণ্ডা/ বরফ পানি দিয়ে ধুয়ে , পা হাল্কা কুসুম গরম পানিতে কয়েক মিনিট ভিজিয়ে রেখে ফলাফল পেতে পারেন
• এপল সিডার ভিনেগার বা লাইম/ লেবুর রস সকালে ও বিকালে হাতের তালুতে লিগিয়ে মুছে ফেলুন
✅ ওষুধ ও চিকিৎসা ব্যাবস্থা
✅ ওষুধঃ
• এন্টি কলিনারজিক ড্রাগ যেমন- প্রপেন্থেলিন ব্রমাইড এক্ষেত্রে বহুল ব্যাবহহৃত
• সেবন বিধি- ৩ বেলা খাবার আধা ঘণ্টা পর ৭ দিন
• সতর্কতা- ১২ বছর বয়েসের নিচে বয়েস, গর্ভবতী মহিলারা সেবন করতে পারবেন না। অসুধ খাবার পর গলা শুকনো লাগতে পারে, খুব কম কিন্ত কিছু ক্ষেত্রে চোখ ঘোলা লাগতে পারে।
• ওষুধ ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে খাওয়া শ্রেয়
✅ 💵💵💵 ব্যায়বহুল চিকিৎসাঃ
• লেসার - অবাঞ্ছিত লোম তোলা ও লোম কুপ বন্ধ করে
• আয়নটোফরেসিস - খুব সামান্য পরিমান বিদ্যুৎ আপানার শরীরের অতিরিক্ত ঘাম হয় এমন জায়গায় ভেজানো কাপড় বা পানিতে ভেজানোর মাধ্যমে প্রয়োগ, যদিও হাত ঘামার ক্ষেত্রে এটি কার্যকর নয়
• বটুলিনাম টক্সিন ইঞ্জেক্সান - ১৫-২০ টি ইঞ্জেক্সান শরীরের বেশী ঘাম হয় এমন জায়গায় দেয়া হয়, প্রতি বার ইঞ্জেক্সান দিতে ৩০-৪৫ মিনিট সময় লাগে, তবে এ চিকিৎসাও দীর্ঘস্থায়ী নয়, ৬-১২ মাস পর পর নিতে হয়, কয়েক লাখ টাকা পর্যন্ত লাগতে পারে এবং যন্ত্রণাদায়ক
• সার্জারি- লমকুপ গুলো যত বেশী পারা যায় অপারেশন করে তুলে ফেলা। যন্ত্রণাদায়ক, ব্যায়বহুল ও অন্যান্য স্বাস্থ্য সম্পর্কীয় সমসসার সম্মুখীন হতে পারেন।
ℹ️ তবে জীবনযাত্রার পরিবর্তন এবং প্রসাধনী ও ঘরোয়া পদ্ধতির ব্যাবহার এর মাধ্যমে এর প্রতিকার ই সর্বোত্তম। দয়া করে যেকোন ওষুধ খাবার পূর্বে রেজিস্টার্ড ডাক্তারের শরণাপন্ন হন।
ভাল থাকুন, সুস্থ থাকুন।
📣 📣📣📣📣📣📣📣📣📣📣📣📣📣📣
স্বাস্থ্য সম্পর্কিত প্রশ্ন করুন আমাদের ইনবক্সে আর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দ্বারা উত্তর পান ২৪ ঘন্টার মধ্যে।
📣📣📣📣📣📣📣📣📣📣📣📣📣📣📣