06/07/2021
“নিজস্ব ব্র্যান্ড ভ্যালু তৈরি করে মার্কেটপ্লেসের রেগুলার প্রাইসের চাইতে কয়েকগুন বেশি দামে নিজের সার্ভিস সেল করা সম্ভব”
আমাদের মধ্যে অনেকেই আছে যাদের গিগ র্যাঙ্ক কিভাবে করবে সে চিন্তায় দিন রাত এক করতেসে। আজকের পোস্ট টা হয়ত তাদের কিছুটা হলেও উপকারে আসবে।
মার্কেটপ্লেস থেকে যাদের রেগুলার কাজ আসতেছে অথবা যারা এখনও কাজ পান নাই উভয়ের জন্যেই কথা গুলো। যদি সম্ভব হয় নিজের ব্র্যান্ডিং-এ কিছুটা সময় দিবেন প্রতিদিন। দেখবেন একটা সময় নিজের রেগুলার ক্লাইন্ট দের কাজ করেই শেষ করতে পারবেন নাহ। পার্সোনাল ব্র্যান্ডিং-এ খুব সহজেই পার্মানেন্ট ক্লাইন্ট খুঁজে পাওয়া যায়। আর এই সকল ক্লাইন্ট এর কাছ থেকে আপনার সার্ভিসের জন্য খুব বড় অ্যামাউন্ট এর চার্জ করতে পারবেন। তবে কোয়ালিটি এ্যান্সিউর করতে হবে আপনাকে। কোয়ালিটি অ্যান্ড কনভারসেশন যদি প্রপারলি করতে পারেন তাহলে সামান্য একটা “প্যাজেল ডিজাইন” দিয়েও ভালো অ্যামাউন্ট চার্জ করতে পারবেন ক্লাইন্ট দের কাছ থেকে।
গত ৩ তারিখে ক্যানাডিয়ান একজন ক্লাইন্ট আমার হোয়াটস্যাপ-এ নক দেয়। তার একটা “প্যাজেল ডিজাইন” করে দিতে হবে। যেহেতু উনার সাথে আমার এর আগেও কাজ করা হয়েছে তাই তাকে বললাম, “আচ্ছা আমাকে ফাইল এবং রিকয়্যারমেন্ট পাঠাও, আমি করে দিচ্ছি”। সে ফাইল এবং রিকয়্যারমেন্ট পাঠালো। সব দেখে বুঝলাম, কাজটা করতে আমার সর্বচ্চ ২ ঘন্টা লাগবে। কিন্তু হাতে অন্য কাজ থাকায় তাকে বললাম, আমি কাল কমপ্লিট করে দিবো কাজ টা। সে রাজি হয়ে গেলো, এবং জিজ্ঞেস করলো কত ডলার দিতে হবে। আমি যেহেতু জানি উনি ক্যানাডিয়ান, সো উনি CAD তে হিসেব করেন সবসময়। তাই আমি 200$ (USD) চাইলাম। ভাবলাম হয়ত কিছু কমাতে বলবে, কিন্তু আমাকে অবাক করে দিয়ে উনি তাতেই রাজি হয়ে গেলেন। কাজ করে দিলাম পরদিন, উনি হাজার হাজার থ্যাঙ্কস এর সাথে টাকাটা পাঠিয়ে দিলেন। তবে উনি যেহেতু USD তে কনভার্ট করতে পারেনা তাই উনি হিসেব করে 246.75$ (CAD) পাঠিয়ে দিলেন জুম এর মাধ্যমে। এতে করে আবার ২% র্যামিটেন্স ও পেয়ে যাই প্রতিবার।
পার্সোনাল ব্র্যান্ডিং এর শুরুটা যেভাবে করবেনঃ
ব্যাসিক লেভেলঃ
স্টেপ-০১ঃ প্রথমে বিহ্যান্স, পিন্টারেস্ট অথবা ড্রিবল এর মত প্ল্যাটফর্ম গুলোতে একটু ফোকাস করুন। রেগুলার কিছু ডিজাইন আপলোড দেয়া শুরু করুন আজ থেকেই। প্রপার টাইটেল এবং ট্যাগ ব্যবহার করবেন মাস্ট।
স্টেপ-০২ঃ যখন দেখবেন যথেষ্ট পরিমান কাজ আপলোড করা হয়ে গেসে। এবার চলুন একটু মার্কেটিং করি। মার্কেটিং এর জন্য ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ইমেইল এর মার্কেটিং ট্যাক্টিস গুলো ফলো করতে পারি আমরা। যখন কোন ক্লাইন্ট কে নক করবেন, অবশ্যই গ্রিটিংস টা যেন সুন্দর হয় সেই দিকে খেয়াল রাখবেন। প্রপার গ্রিটিংস এর পরে আমরা তাদেরকে আমাদের সার্ভিস সম্বন্ধে বলবো। কাজের ডেমো হিসেবে আমাদের বিহ্যান্স, ড্রিবল বা অন্য প্ল্যাটফর্ম গুলোর লিঙ্ক দিবো, যেখানে আমাদের কাজ গুলো আপলোড করা আছে প্রপার ওয়ে তে। আর কখনো ক্লাইন্ট এর নাম্বার চাইবেন নাহ, তারা এটাকে আনপ্রফেশনাল মনে করেন বেশিরভাগ ক্ষেত্রে। ইমেইল টা স্ট্যান্ডার্ড কমিউনিক্যাশন এর জন্য। (এখানে অনেকগুলো ভালো মানের ফ্রি ওয়ে আছে নিজের সার্ভিসটাকে ক্লাইন্ট এর দরজায় নিয়ে যাওয়ার জন্য। ম্যক্সিমাম ক্লাইন্ট এর রিস্পন্স পাওয়ার জন্য। যদি আপনারা আগ্রহী থাকেন কমেন্টে জানাবেন, পরবর্তী কোন পোস্টে সেই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করবো)।
স্টেপ-০৩ঃ এবার আপনার সার্ভিসের প্রাইস নিয়ে ক্লাইন্ট এর জন্য একটা প্রাইস সীট তৈরি করুন। প্রাইস সীট টা একটু আট্রাক্টিভ রাখার চেষ্টা করবেন। আর অবশ্যই প্রাইস সীটের মধ্যে ৩টা ক্যাটাগরী রাখবেন, ঠিক ফাইভারের ৩টা প্রাইস সেগমেন্ট এর মত। কিন্তু প্রাইস টা অবশ্যই ফাইভারের চাইতে বেশী রাখবেন। প্রাইস কত রাখবেন সেটা আপনার ব্যাক্তিগত ব্যাপার। একটা আইডিয়া দেই আমি লোগো ডিজাইনের জন্যঃ আপনি ব্যাসিক প্যাকেজটা 50$, স্ট্যান্ডার্ড প্যাকেজটা 70$ আর প্রিমিয়াম প্যাকেজটা 100$ রাখতে পারেন প্রথম দিকে, পরে চাইলে আপনি বাড়িয়ে নিতে পারেন। ওহ, আরেকটা কথা প্রাইস সীট টা পি.ডি.এফ এবং জে.পি.জি দুই ফাইলেই রাখবেন। যখন যেটা লাগে সেটা ব্যবহার করবেন।
অ্যাডভান্সড লেভেলঃ
ওয়েবসাইটঃ নিজস্ব সার্ভিস এর একটা ওয়েবসাইট তৈরি করে শুরু করতে পারে আপনার ব্র্যান্ডিং। সেক্ষেত্রে খুব সহজেই একটা ডোমেইন এবং হোস্টিং কিনে ওয়ার্ডপ্রেস এর মাধ্যমে একটা সার্ভিস ওয়েবসাইট তৈরি করে নিতে পারেন। আর যদি কোডিং নলেজ থাকে তাহলে প্রপার ওয়ে তে HTML, CSS, BOOTSTRAP, JS, PHP, MySql দিয়ে একটা সুন্দর ল্যন্ডিং পেজ এবং ডাটাবেজ তৈরি করে একটা পারফেক্ট ওয়েবসাইট তৈরি করে নিতে পারেন। ওয়েবসাইটে ৪ টা জিনিস কমন থাকবে।
১। আপনার সংক্ষিপ্ত পরিচয় (হোমপেজ)
২। আপনার করা বেস্ট কিছু কাজের ডেমো (প্রিভিয়াস প্রোজেক্ট পেজ)
৩। আপনার অফার করা সার্ভিস এবং তার প্রাইসিং এর পেজ (সার্ভিস পেজ)
৪। আপনার সাথে যোগাযোগ এর তথ্য (কন্টাক্ট পেজ)
সব কমপ্লিট!!! এবার একটু এস.ই.ও এর দিকে খেয়াল করুন। ইউটিউব ঘাটলে অনেক ভালো ভালো রিসোর্স পাবেন এস.ই.ও সম্পর্কে। কিছু টার্গেটেড কিওয়ার্ড (আপনার সার্ভিস রিলেটেড)এর দিকে ফোকাস রেখে এস.ই.ও টা করবেন। তাহলে গুগল সার্চ র্যাঙ্কে ধীরে ধীরে ওই কিওয়ার্ড গুলোর মাধ্যমে উপরে উঠতে পারবেন। যদি সম্ভব হয় গুগল অ্যাডওয়ার্ডস এবং ফেসবুক অ্যাডম্যনেজার টাও শিখে ফেলার ট্রাই করবেন। তাহলে প্রয়োজনে পেইড ওয়ে তেও এগিয়ে যেতে পারবেন।
নোটঃ বিষয়গুলো হয়ত অনেকের কাছে একটু জটিল বা কষ্টসাধ্য মনে হতে পারে। কিন্তু আপনি যদি কষ্ট করে হলেও একটু বিষয়গুলো নিয়ে এগিয়ে যেতে পারেন, আশা করি কখনো কাজের অভাবে পড়বেন নাহ।
হ্যাপি ফ্রিল্যান্সিং
লেখা: Sh Prince