HB Arif

HB Arif Entrepreneur | Business Consultant | Marketing Consultant HB Arif | SEO Consultant & SEO Analyzer | SEO Specialist. I like Study and Research. I will!

I want to do Creative Something. Do you want, your product, business, website and Yourself to reach out to others. Your Product, Business, Website and Yourself to reach out to others. I am SEO Specialist, SEO Auditor, Creative SEO Thinker. If you trust me! Please do not hesitate to contact me to discuss your project in detail and determine how my skills will positively contribute to your team. Please tell me What Do You Want?

17/01/2024

বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের পক্ষে ভারতীয় পণ্য বয়কট করা সম্ভব হবে?

5th anniversary 06-08
20/01/2023

5th anniversary
06-08

14/04/2022
রোজায় যেসব কাজ নিষিদ্ধরমজান বছরের শ্রেষ্ঠ মাস। এই মাস মুসলিম উম্মাহর প্রতি আল্লাহর বিশেষ নিয়ামত ও অনুকম্পা। রমজানে অত্যধ...
14/04/2022

রোজায় যেসব কাজ নিষিদ্ধ

রমজান বছরের শ্রেষ্ঠ মাস। এই মাস মুসলিম উম্মাহর প্রতি আল্লাহর বিশেষ নিয়ামত ও অনুকম্পা। রমজানে অত্যধিক নেক আমল ও জিকির-আজকার করা উচিত। এতে বিপুল পরিমাণে সওয়াব লাভ হবে।

তবে রমজান মাসের ফজিলত হাসিল করার জন্য এমন কিছু কাজ রয়েছে, যা থেকে বিরত থাকা দরকার। এখানে সে ধরনের কিছু বিষয়ের কথা উল্লেখ করা হলো।

এক. বিলম্বে ইফতার করা

আল্লাহর রাসুল (সা.) দেরিতে ইফতার করতে নিষেধ করেছেন। সময়মতো দ্রুত ইফতার করলে উম্মাহ কল্যাণের ভেতর থাকবেন বলেছেন।

দুই. সাহরি না খাওয়া

সাহরি অনেক বরকতময় খাবার। রাসুল (সা.) সাহরি খেতে উদ্বুদ্ধ করেছেন। সাহরি খেতে না পারলে অন্তত অল্প কিছু হলেও খেয়ে নেওয়া উত্তম।

তিন. কেনা-কাটায় ব্যস্ত থাকা

রমজানের প্রতিটি মুহূর্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই রমজানের সময় যেন কোনোভাবে হেলায়-খেলায় নষ্ট না হয়; সেদিকে সর্বাত্মক খেয়াল রাখতে হবে। অনেকে রমজানের শেষ দিনগুলোতে কেনা-কাটায় মেতে ওঠে। অথচ এমন না করা উচিত; বরং শেষ মুহূর্তের আমলে মগ্ন থাকা চাই।

চার. মিথ্যা বলা ও অন্যান্য পাপ কাজ করা

সত্য মুক্তি দেয় এবং মিথ্যা ধ্বংস ডেকে আনে। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করা মুসলমানদের কর্তব্য। এছাড়াও সব ধরনের পাপ থেকে দূরে থাকা চাই। এটা মুমিনের প্রাত্যহিক কাজ। তবু রমজানে বেশি সতর্কতা কাম্য।

পাঁচ. অপচয় ও অপব্যয় করা

অপচয় কিংবা অপব্যয় করা খুবই বাজে ও গর্হিত অভ্যাস। পবিত্র কোরআনে অপচয়কারীকে শয়তানের ভাই বলা হয়েছে। আল্লাহ তার প্রিয় বান্দাদের পবিত্র কোরআন ও হাদিসের অসংখ্য স্থানে অপচয় করতে নিষেধ করা হয়েছে। তবে এর মানে এই নয় যে অপচয় রোধ করতে গিয়ে কৃপণতা অবলম্বন করবে। মহান আল্লাহ কৃপণদের পছন্দ করেন না। অপচয় ত্যাগ করার অর্থ হলো মধ্যপন্থা অবলম্বন করা।

ছয়. হক আদায় না করে কোরআন খতম করা

কোরআন তেলাওয়াতের অনেক গুরুত্ব ও ফজিলত রয়েছ। পবিত্র কোরআনে কারিম অর্থসহ বুঝে বুঝে খতম করা ও কিংবা তেলাওয়াত করা উত্তম। খেয়াল রাখতে হবে যে, কোরআন তেলাওয়াতের সময় যেন কোরআনের হক নষ্ট না হয়। তাড়াহুড়ো কিংবা অসুন্দরভাবে খতম করা অনুচিত।

সাত. জামাতের ফরজ আদায়ে অলসতা

রমজান মাসে রোজাদাররা সব কাজকর্ম স্থগিত রেখে দূরদূরান্ত থেকে নামাজের সময় মসজিদ অভিমুখে যাত্রা করেন। দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ মসজিদে সমবেত হয়ে জামাতে নামাজ আদায় করেন। এভাবে রোজাদার মুসল্লিরা মসজিদে নামাজ পড়তে এলে তাঁদের পরস্পরের মধ্যে ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ গড়ে ওঠে। আর এতে ২৭ গুণ বেশি সওয়াব পাওয়া যায়। তবে সতর্ক থাকতে হবে যেন নামাজ জামাতে আদায়ে অলসতা তৈরি না হয়।

আট. বেশি বেশি খাওয়া

সাহরি ও ইফতারে কিছুতেই এমন খাবার গ্রহণ করা উচিত নয়, যা পরবর্তী সময় স্বাস্থ্যে বিরূপ প্রভাব ফেলে। আবার এত অল্প আহারও করবে না যে রোজা রাখতে অসুবিধা হয়। কেননা স্বাস্থ্য-সচেতনতাও ইসলামে গুরুত্বপূর্ণ। আল্লাহর ইবাদত করার জন্য শক্তি ও স্বাস্থ্য প্রয়োজন। তাই সুস্থ-সবল মুমিন আল্লাহর অধিক প্রিয়।

নয়. রিয়া বা লোক দেখানো ইবাদাত করা

রিয়া হলো- লোকদেখানো ও আত্মপ্রদর্শনকারী কাজ বা আমল। রিয়া করা শরিয়তে সম্পূর্ণরূপে হারাম। শিরক হলো দুই প্রকার। শিরকে আকবার বা বড় শিরক। আর শিরকে আসগার বা ছোট শিরক। আর এ রিয়া হলো ছোট শিরক। ফলে রিয়া থেকে অবশ্যই বেঁচে থাকতে হবে।

দশ. বেশি বেশি ঘুমানো

অনেকের ধারণা, যত বেশি ঘুম তত বেশি শরীর ভালো থাকবে। অথচ একজন সুস্থ ও প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের জন্য প্রতিদিন সাত ঘণ্টা ঘুম যথেষ্ট। এরচেয়ে বেশি সময় ঘুমালে কিন্তু তা নানা সমস্যা ডেকে আনতে পারে। বেশি ঘুম মাথাব্যথা, পিঠে ব্যথার কারণ হতে পারে। এমনকি দেখা দিতে পারে ডায়াবেটিসের মতো অসুখও। তাছাড়া বেশি ঘুম হতে ডিপ্রেশনেরও কারণ।

এগার. পণ্যের দাম বাড়াতে সংকট তৈরি করা

ভোক্তাদের জিম্মি করা জায়েজ নেই। কেউ তা করে ‘বিত্তশালী’ হয়ে গেলেও কোনো লাভ নেই। তার অবৈধ সম্পদ জাহান্নামে যাওয়ার কারণ হবে। দুনিয়ার জীবনেও তার জন্য অভিশাপ হয়ে দাঁড়াবে। উপরন্তু উপার্জন হারাম হওয়ার কারণে নামাজ, রোজা, হজ, দান-সদকা কিছুই কবুল হবে না। মজুদদারি ও কৃত্রিম সংকট তৈরির মাধ্যমে কোটিপতি হলেও তার জন্য দারিদ্র্য অবধারিত।

বারো. অশ্লীল ছবি-নাটক ইত্যাদি দেখা

বর্তমানে সব রকম নাটকের পূর্ণতা নারীদের ছাড়া হয় না। নারী দিয়ে নাটকগুলো সাজানো হয়। আর নারীদের ছবি দেখা স্পষ্ট হারাম। এসব নাটকের উদ্দেশ্য শিক্ষা, ইসলাম প্রচার কিংবা উপদেশ গ্রহণ নয়। বরং খেল-তামাশা ও অবৈধ আনন্দ উপভোগ করা। অতএব, এসব দেখা থেকে সব সময় বেঁচে থাকা জরুরি।

তের. বেহুদা কাজে রাত জাগরণ করা

রাতে দেরি করে ঘুমাতে নিষেধ করেছেন নবীজি (সা.)। রাসুল (সা.) এশার নামাজের পর গল্পগুজব ও গভীর রাত পর্যন্ত সময় নষ্ট না করে তাড়াতাড়ি ঘুমানোর তাগিদ দিতেন। তবে গুরুত্বপূর্ণ ও কল্যাণজনক কাজে রাত জাগতে নিরুৎসাহিত করা হয়নি। তাই কোনো গুরুত্বপূর্ণ ও প্রয়োজনীয় কারণে রাত জাগতে মানা নেই। তবে অযথা গল্প-গুজব, অহেতুক নেট ব্রাউজিং ও গুরুত্বহীন কাজে সময় নষ্ট উচিত নয়। বরং তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়া আবশ্যক।

চৌদ্দ. দুনিয়াবী ব্যস্ততায় মগ্ন থাকা

ইবাদতের মাস রমজানে বেশি বেশি আমলের কথা রয়েছে। কিন্তু আমরা অনেকেই ব্যস্ত থাকি দুনিয়াবি কাজে। এটা কাম্য নয়। এ মাসে বেশি বেশি দোয়া-ইস্তেগফার করা উচিত। হাদিসে এসেছে, ‘ইফতারের মূহূর্তে আল্লাহ তাআলা বহু লোককে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়ে থাকেন। মুক্তির এ প্রক্রিয়া রমজানের প্রতি রাতেই চলতে থাকে।’ (জামিউস সাগির, হাদিস : ৩৯৩৩)

পনের. বিদআত করা

ইসলামের পরিভাষায় বিদআত বলা হয়, দ্বিনের মধ্যে এমন বিষয় সৃষ্টি করা, যা রাসুলুল্লাহ (সা.) ও সাহাবায়ে কেরামের যুগে ছিল না; বরং পরে তা উদ্ভাবন করা হয়েছে। বিদআতের বিরুদ্ধে মহানবী (সা.) অত্যন্ত কঠিন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। বিদআত জাহান্নামে নিয়ে যায় বলেছেন। তাছাড়া কিয়ামতের দিন বিতআতকারী চরমভাবে লাঞ্ছিত হবে। তাই সব সময় বিদআত থেকে দূরে থাকতে হবে।

রমজানের গুরুত্ব ও তাৎপর্যআরবি মাসসমূহের নবম মাস হচ্ছে পবিত্র রমজান মাস। রোজা হচ্ছে ইসলামের তৃতীয় স্তম্ভ। রোজা শব্দটি ফার...
14/04/2022

রমজানের গুরুত্ব ও তাৎপর্য

আরবি মাসসমূহের নবম মাস হচ্ছে পবিত্র রমজান মাস। রোজা হচ্ছে ইসলামের তৃতীয় স্তম্ভ। রোজা শব্দটি ফারসি। এর আরবি পরিভাষা হচ্ছে সওম, বহুবচনে বলা হয় সিয়াম। সওম অর্থ বিরত থাকা, পরিত্যাগ করা। পরিভাষায় সওম হলো আল্লাহর সন্তুটি কামনায় সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত নিয়তসহকারে পানাহার থেকে বিরত থাকা।

রোজা ফরজ হয় দ্বিতীয় হিজরির শাবান মাসে। এ সম্পর্কে পবিত্র কোরআনের সুরা বাকারার ১৮৩ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, হে মুমিনগণ! তোমাদের প্রতি রোজা ফরজ করা হয়েছে যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের প্রতি, যাতে তোমরা আল্লাহভীরু হতে পারো, পরহেজগার হতে পারো। এ আয়াত থেকে আমরা বুঝতে পারি, রোজার বিধান দেওয়া হয়েছে তাকওয়া অর্জনের জন্য, গুনাহ বর্জন করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যমে জান্নাতের উপযোগী হওয়া, নিজেকে পরিশুদ্ধ করার জন্য।

রমজানের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো, আল্লাহ্ তাআলা এ মাসটিকে স্বীয় ওহি সহিফা ও আসমানি কিতাব নাজিল করার জন্য মনোনীত করেছেন। অধিকাংশ কিতাব এ মাসেই নাজিল হয়েছে।

হাদিসে বর্ণিত, হজরত ইব্রাহিম (আ.)–এর সহিফা রমজানের ১ তারিখে, তাওরাত রমজানের ৬ তারিখে, জাবুর রমজানের ১২ তারিখে, ইঞ্জিল রমজানের ১৮ তারিখে এবং পবিত্র কোরআন কদরের রাত্রিতে নাজিল হয়েছে। নিশ্চয়ই আমি এই কোরআনকে কদরের রাত্রিতে নাজিল করেছি। রমজান মাসের রোজা পালনকে ফরজ আখ্যায়িত করে আল্লাহ্ তাআলা সুরা বাকারা ১৮৫ নম্বর আয়াতে ঘোষণা করেন, রমজান মাস যাতে কোরআন নাজিল করা হয়েছে আর এ কোরআন মানবজাতির জন্য পথের দিশা, সৎপথের সুস্পষ্ট নিদর্শন, হক বাতিলের পার্থক্যকারী। অতএব, তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এ মাসটি পাবে সে এতে রোজা রাখবে, যদি সে অসুস্থ হয়ে পড়ে কিংবা সফরে থাকে, সে পরবর্তী সময়ে গু​েন গুনে সেই পরিমাণ দিন পূরণ করে দেবে। আল্লাহ্ তোমাদের জন্য সহজ করতে চান, তোমাদের জন্য কঠিন করতে চান না, যাতে তোমরা গণনা পূরণ করো এবং তোমাদের হিদায়াত দান করার দরুন আল্লাহর মহত্ত্ব বর্ণনার পর কৃতজ্ঞতা স্বীকার করো।

রোজার প্রতিদান
বুখারি শরিফে বর্ণিত হাদিসে হজরত আবু হোরায়রা (রা.) বলেন, হজরত মুহাম্মদ (স.) ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি ইমানের সঙ্গে সওয়াবের আশায় রমজানের রোজা রাখবে, তার অতীতের গুনাহসমূহ মাফ করে দেওয়া হবে। হজরত আবদুল্লাহ্ ইবনে ওমর (রা.) বর্ণনা করেন রাসুলে পাক (সা.) ইরশাদ করেন, সিয়াম এবং কোরআন হাশরের ময়দানে বান্দা–বান্দীর জন্য সুপারিশ করবে এবং আল্লাহ্ তাআলা তঁাদের উভয়ের সুপারিশ কবুল করবেন। হজরত আবু হোরায়রা (রা.) আরও বর্ণনা করেন রাসুলে পাক (সা.) বর্ণনা করেন, প্রত্যেক বস্তুর জাকাত রয়েছে, তেমনি শরীরেরও জাকাত আছে, আর শরীরের জাকাত হচ্ছে রোজা পালন করা। অর্থাৎ জাকাতদানে যেভাবে মালের পবিত্রতা অর্জন হয়, তেমনি রোজা পালনের মাধ্যমে শরীর পবিত্র হয়, গুনাহ মুক্ত হয়।
হজরত আবু হোরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত রাসুলে পাক (স.) ইরশাদ করেন, মানুষের প্রত্যেক আমলের সওয়াব দশ গুণ হতে সাত শত গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়। হাদিসে কুদসিতে আছে, আল্লাহ্ তাআলা বলেন, ‘রোজা এ নিয়মের ব্যতিক্রম, কেননা তা বিশেষভাবে আমার জন্য আমি স্বয়ং তার প্রতিদান দেব, বান্দা তার পানাহার ও কামনা–বাসনাকে আমার সন্তুষ্টির জন্য ত্যাগ করেছে।’

রোজা রেখে সর্ব প্রকার গুনাহ বর্জনের অঙ্গীকার করতে হবে

রোজার মাসে শুরুতে আল্লাহ্ তাআলা জাহান্নামের দরজা বন্ধ করে দেন, জান্নাতের দরজা খুলে দেন এবং শয়তানকে শিকলবদ্ধ করে রাখেন। তাই শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে বেঁচে থাকা সহজ হয়। নেক কাজে অগ্রগামী হতে পারে। আল্লাহ্ তাআলা পবিত্র কালামের অনেক জায়গায় শয়তানকে মানুষের প্রকাশ্য শত্রু বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি আরও বলেছেন, শয়তান তোমাদের শত্রু, তাকে শত্রু হিসেবেই গ্রহণ করো। সে চায় মানুষের মধ্যে ঝগড়া বিবাদ সৃষ্টি করা, মদ–জুয়ায় নিমগ্ন করা, মিথ্যা বলায় উদ্বুদ্ধ করা, এককথায় খারাপ কাজে জড়িয়ে দেওয়া। তাই হাদিস শরিফে বর্ণিত হয়েছে যে, যে ব্যক্তি রোজা রেখে মিথ্যা কথা ও তৎসংক্রান্ত কাজ পরিত্যাগ করল না, তার রোজা রাখার আমার কোনো প্রয়োজন নেই। তাই শয়তানি কার্যক্রম থেকে আমাদের বেঁচে থাকতে হবে এবং আল্লাহর সাহায্য কামনা করতে হবে।

রোজাদারের জন্য জান্নাতের বিশেষ দরজা

হজরত সাহল বিন সাদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলে পাক (সা.) ইরশাদ করেন, জান্নাতের আটটি দরজা রয়েছে। এর মধ্যে একটি দরজার নাম ‘রাইয়ান’। এ দরজা দিয়ে শুধু রোজাদারগণ প্রবেশ করবে। অন্যরাও এই দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে চাইবে। কিন্তু রোজাদার ব্যতীত অন্য কাউকে এ দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। (বুখারি ও মুসলিম)।

রোজাদারের জন্য দুটি আনন্দ

হজরত আবু হোরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুল পাক (সা.) ইরশাদ করেন, রোজাদারের জন্য দুটি আনন্দ রয়েছে, একটি তার ইফতারের সময়, অপরটি হলো আল্লাহ্ তাআলার দিদার বা সাক্ষাতের সময়। হাদিসে আরও উল্লেখ রয়েছে, ইফতারের সময় দোয়া কবুলের সময়। আল্লাহ্ তায়ালা বান্দার দোয়া কবুল করেন। আর এই সময়ের দোয়া হচ্ছে ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা বিরাহমাতিকাল্লাতি ওয়াসিয়াত কুল্লা শাইয়িন আন তাগফিরা লি জুনুবি।’

লাইলাতুল কদর

লাইলাতুল কদর হচ্ছে একমনে একটি রাত যে রাতে জেগে ইবাদত–বন্দেগি করলে এক হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও উত্তম বলে পবিত্র কোরআনে উল্লেখ রয়েছে। এক হাজার মাসের হিসাব করলে কদরের এক রাতের ইবাদত ৮৬ বছর ৪ মাসের সমান। কিন্তু আল্লাহ্ তাআলা তার চেয়েও বেশি বা উত্তম বলেছেন। যে ব্যক্তি কদরের রাতে সওয়ারের আশায় ইবাদত করবে, তার অতীতের গুনাহসমূহ মাফ করে দেওয়া হবে।

উম্মুল মুমিনিন হজরত আ​েয়শা সিদ্দিকা (রা.) বলেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ (সা.) আমি যদি কদরের রাত্রি পাই, তাহলে আমি কী দোয়া পড়ব? ‘আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুওউন তুহিব্বুল আফওয়া ফাফু আন্নি’ এই দোয়া পড়বে। হাদিসে আছে, তোমরা রমজানের শেষ দশকের বিজোড় রাত্রিতে (২১, ২৩, ২৫, ২৭ ও ২৯ তারিখ) শবে কদর তালাশ করবে।

তারাবি নামাজ

এশার সালাতের (ফরজ ও সুন্নতের) পর বিতরের আগে দুই রাকাত করে মোট ২০ রাকাত নামাজ আদায় করা সুন্নত। সম্ভব হলে খতম তারাবি আদায় করবে।

ইতিকাফ

আল্লাহ্ তাঅালা ইরশাদ করেন, ‘ওয়া আনতুম আকিফুনা ফিল মাসজিদ’ তোমরা মসজিদে ইতিকাফ করো। ইতিকাফ শব্দের অর্থ নিজেকে আবদ্ধ রাখা। শরিয়তের পরিভাষায় ইতিকাফ হলো, মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি ও নৈকট্য লাভের আশায় শর্ত সাপেক্ষে নিয়তসহকারে পুরুষেরা মসজিদে ও নারীরা ঘরের নির্দিষ্ট স্থানে অবস্থান করা। রমজানের শেষ দশক (২০ রমজান থেকে সূর্যাস্তের পূর্ব থেকে শাওয়াল মাসের চঁাদ দেখা পর্যন্ত) ইতিকাফ করা সুন্নতে মুয়াক্কাদায়ে কিফায়া। বিনা প্রয়োজনে অর্থাৎ গোসল, খাবার, প্রস্রাব–পায়খানা ব্যতীত অন্য কোনো অজুহাতে ইতিকাফের স্থান ত্যাগ করতে পারবে না। ইতিকাফ অবস্থায় কোরআন তিলাওয়াত, জিকির, নফল নামাজ ইত্যাদিতে মশগুল থাকবে।

হাফেজ মাওলানা আবদুর রহিম, সিনিয়র পেশ ইমাম ও খতিব:

গুলশান আজাদ মসজিদ, গুলশান, ঢাকা।

রমজান মাসে ১০টি গুরুত্বপূর্ণ আমলরমজান মাস সিয়াম সাধনার মাস, দোয়া কবুলের মাস। রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের এ মাস অন্য সব মাস ...
14/04/2022

রমজান মাসে ১০টি গুরুত্বপূর্ণ আমল

রমজান মাস সিয়াম সাধনার মাস, দোয়া কবুলের মাস। রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের এ মাস অন্য সব মাস থেকে অধিক ফযিলতপূর্ণ। এ মাসেই মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআন নাজিল করেছেন। এ মাসের একটি নফল ইবাদত একটি ফরজ ইবাদতের সমতুল্য। তাই এই মাসে বেশি বেশি আমল করা উচিত।

আজ আমরা রমজান মাসের আমলের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি আমল সম্পর্কে জানব। আসুন জেনে নিই সেসব আমল সম্পর্কে-

রমজান মাসের ১০টি গুরুত্বপূর্ণ আমল:

১. রমজানের চাঁদ দেখা: একজন ইমানদারের গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ হলো শাবান মাসের শেষ তারিখে (২৯ ) আকাশে রমজান মাসের চাঁদকে তালাশ করবেন এবং রমজানের চাঁদ দেখার দোয়া পাঠ করবেন।

হাদিসে বলা হয়েছে, আবু হোরায়ারা থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেছেন, ‘তোমরা চাঁদ দেখে সিয়াম আরম্ভ করবে এবং চাঁদ দেখে ইফতার করবে (ঈদ পালন)।’ (সহিহ বুখারি-হাদিস নং ১৯০৯)

আরও পড়ুন: যে ৪টি কাজ রমজান মাসে অবশ্যই করণীয়

২. রোজা রাখা: রমজানের চাঁদ দেখা গেলে বা রমজান শুরু হলে মুমিনের প্রধান আমল হলো রোজা রাখা। কেননা, ইসলামের তৃতীয় স্তম্ভ রোজা, যা মুসলমানদের জন্য ফরজ করা হয়েছে।

আল্লাহপাক পবিত্র কোরআনে বলেছেন, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেরূপ ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের ওপর, যেন তোমরা পরহেজগারি অর্জন করতে পার।’ (সূরা আল-বাক্বারাহ, ১৮৩)

রাসূলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি রমজান মাসে পুরো মাস ইমান ও ইখলাসের সঙ্গে রোজা রাখবে আল্লাহপাক তার পেছনের সব গুনাহ মাফ করে দেবেন।’

৩. তারাবি নামাজ আদায় করা : তারাবি সালাত আদায় করা সুন্নাত। রমজান মাসে এশার সালাতের পর তারাবি সালাত আদায় করা।

৪. ইফতার করা: ইফতার করা রমজান মাসের গুরুত্বপূর্ণ একটি আমল।

৫. ইফতারের আগে দোয়া করা: ইফতারের আগে দোয়া করা রমজানের আরকেটি গুরুত্বপূর্ণ আমল। কেননা ওই সময়ের দোয়া আল্লাহ কবুল করেন।

৬. সেহরি করা: ইফতারের মতো সেহরি করাও রমজান মাসের গুরুত্বপূর্ণ আমল।

৭. অন্য রোজাদার ব্যক্তিকে ইফতার করানো: রমজান মাসের অন্যতম একটি সওয়াবের কাজ অন্য রোজাদার ব্যক্তিকে ইফতার করানোর চেষ্টা করা।

আরও পড়ুন: রমজান মাসের গুরুত্ব ও ফজিলত

৮. অধিক দান-সদকা করা: আল্লাহর রাসূল (সা.) রমজান মাসে বেশি বেশি দান-সদকা করতেন। তাই আমাদেরও উচিত রমজান মাসে বেশি বেশি দান-সদকা করা।

৯. ওমরা করা: রমজান মাসের বিশেষ আমল হলো সামর্থ্য থাকলে ওমরা করা।

১০. ইতেকাফ করাঃ রমজান মাসের শেষ ১০ দিন মসজিদে ইতেকাফ করা গুরুত্বপূর্ণ একটি আমল।

রমজান মাসের করণীয় ও বর্জনীয়আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের ক্ষমা ও পুরস্কারপ্রাপ্তির মহিমান্বিত মুহূর্তগুলো আমাদের জীবনে বারবার ...
14/04/2022

রমজান মাসের করণীয় ও বর্জনীয়
আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের ক্ষমা ও পুরস্কারপ্রাপ্তির মহিমান্বিত মুহূর্তগুলো আমাদের জীবনে বারবার ঘুরেফিরে আসে। রমজান হলো কল্যাণ ও বরকতের বসন্তকাল। এই মহিমান্বিত রমজানের উপকারিতা ও বরকত পরিপূর্ণরূপে লাভ করার জন্য এ মাসের করণীয় কাজগুলো মহব্বতের সাথে আঞ্জাম দেওয়া এবং বর্জনীয় বিষয়গুলো থেকে সতর্কভাবে বিরত থাকা জরুরি। কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে এ মাসের করণীয় বিষয়গুলো তুলে ধরা হচ্ছে।

এক. রোযা রাখা
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, হে ঈমানদারগণ, তোমাদের ওপর রোযা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর, যেন তোমরা মুত্তাকী হতে পারো।-সূরা বাকারা (০২) : ১৮৩
হযরত আবু হুরায়রা রাদি. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যখন তোমরা রমজানের চাঁদ দেখবে তখন রোযা রাখবে। যখন শাওয়ালের চাঁদ দেখবে তখন থেকে রোযা বন্ধ করবে। আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকলে ত্রিশ দিন রোযা রাখবে।-সহীহ বুখারী : ১৯০৯
অপর এক হাদীসে এসেছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, আল্লাহ তাআলা বলেন, রোযা আমার জন্য, আমি নিজেই এর প্রতিদান দেবো।… কেয়ামতের দিন রোযাদারদের জন্য একটি বিশেষ হাউজ থাকবে, যেখানে রোযাদার ব্যতীত অন্য কারও আগমন ঘটবে না।-মুসনাদে বায্যার : ৮১১৫
রমজানের রোযা প্রত্যেক সুস্থ, মুকীম প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ এবং হায়েয-নেফাসমুক্ত প্রাপ্তবয়স্ক নারীর ওপর ফরজ। শরয়ী ওযর ছাড়া এ মাসের একটি রোযাও কোনো মুসলমান ইচ্ছাকৃতভাবে না রাখলে জঘন্য অপরাধী সাব্যস্ত হবে। দীনের মৌলিক বিধান লঙ্ঘনকারী ও ইসলামের ভিত্তি বিনষ্টকারী হিসাবে গণ্য হবে এবং কঠিন শাস্তির উপযুক্ত হবে।
হাদীস শরীফে এসেছে, হযরত আবু উসামা রাদি. বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, আমি ঘুমিয়ে ছিলাম। স্বপ্নে দেখলাম আমার কাছে দুই ব্যক্তি আগমন করেছে। তারা আমার বাহুদ্বয় ধরে এক দুর্গম পাহাড়ে নিয়ে গেল। আমাকে বলল, আপনি পাহাড়ে উঠুন।
আমি বললাম, আমি তো উঠতে পারব না।
তারা বলল, আমরা আপনাকে উপরে ওঠা সহজ করে দেবো।
আমি উপরে উঠলাম। যখন পাহাড়ের সমতলে পৌঁছলাম, হঠাৎ ভয়ঙ্কর আওয়াজ শুনতে পেলাম। বললাম, এসব কিসের আওয়াজ?
তারা বলল, এটা জাহান্নামীদের আর্তনাদ।
তারপর আমাকে নিয়ে এগিয়ে চলল। হঠাৎ কিছু লোক দেখতে পেলাম, যাদেরকে তাদের পায়ের মাংসপেশি দ্বারা ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তাদের মুখের দুই প্রান্ত ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে এবং তা থেকে রক্ত ঝরছে।
আমি বললাম, এরা কারা?
তারা বলল, যারা ইফতারের সময় হওয়ার আগেই রোযা ভেঙে ফেলে।-মুসতাদরাকে হাকেম : ১, হাদীস নং : ১৬০০

দুই. তারাবীহ নামাজ পড়া
বরকতময় মাহে রমজানের দিন-রাত উভয়টিই মূলত ইবাদতের জন্য। দিনের ইবাদত হলো রোযা যা শরীয়তে ফরজ, আর রাতের ইবাদত হলো তারাবীহ নামাজ যা সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ। এ আমল ফরজ না হলেও এর ফযীলত ও মর্যাদা অনেক। হযরত আবু হুরায়রা রাদি. থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি পূর্ণ ঈমান ও বিশ্বাসের সাথে সওয়াবের আশায় রমজানের রাতে তারাবীহ আদায় করে তার পূর্ববর্তী গোনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।-সহীহ বুখারী : ২০০৯
হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আওফ রাদি. বর্ণনা করেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, আল্লাহ তাআলা তোমাদের ওপর রমজানের রোযা ফরজ করেছেন। আর আমি কিয়ামুল লাইল তথা তারাবীহ সুন্নত করেছি। সুতরাং যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে সওয়াবের আশায় রমজানের রোযা ও তারাবীহ আদায় করবে সে ওই দিনের মতো নিষ্পাপ হয়ে যাবে যেদিন সে মাতৃগর্ভ থেকে সদ্য ভূমিষ্ঠ হয়েছিল। (মুসনাদে আহমদ : ১৬৬০) রমজানের পূর্ণ কল্যাণ ও বরকত লাভ করতে হলে তারাবীর ব্যাপারে অবশ্যই যত্মবান হতে হবে।

তিন. কোরআন তেলাওয়াত করা
রোযা এবং রমজানের সঙ্গে কোরআনের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। এ জন্যই রমজানে কোরআন নাযিল হয়েছে এবং এ জন্যই নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমজান মুবারাকে কোরআন তেলাওয়াতের খুব গুরুত্ব দিতেন। এ প্রসঙ্গে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদি. বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন সবচেয়ে বেশি দানশীল ও বদান্য, রমজানে তাঁর দানশীলতা ও বদান্যতা অনেক বেড়ে যেত। প্রত্যেক রমজানে জিবরাঈল আ. তাঁর সঙ্গে মিলিত হতেন এবং পুরো কোরআন একে অপরকে শোনাতেন।-সহীহ বুখারী : ০৬
মূলত এই সুন্নতের ভিত্তিতেই তারাবীর মাধ্যমে মুসলমানরা সারা রমজানে একবার পুরো কোরআন শরীফ তেলাওয়াত করে এবং শোনে। নামাজের বাইরেও নিজেরা কোরআন খতম করে। যারা রমজান মাসে কোরআন তেলাওয়াতে ব্যস্ত থাকে তাদের ব্যাপারে সুসংবাদ এসেছে। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রাদি. থেকে বর্ণিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, রোযা এবং কোরআন কিয়ামতের দিন বান্দার জন্য সুপারিশ করবে। রোযা বলবে, হে রব, আমি তাকে খাদ্য এবং যৌন সম্ভোগ থেকে বিরত রেখেছি, অতএব তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ গ্রহণ করুন। কোরআন বলবে, আমি তাকে রাতের ঘুম থেকে বিরত রেখেছি (অর্থাৎ না ঘুমিয়ে সে তেলাওয়াত করেছে) অতএব তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ গ্রহণ করুন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তাদের উভয়ের সুপারিশ গ্রহণ করা হবে।-মুসনাদে আহমাদ : ৬৬২৬

চার. সাহরী খাওয়া
রোযার প্রস্তুতির জন্য যে আহার করা হয় তার নাম সাহরী। সাহরী খাওয়া সুন্নত। পেট ভরে খাওয়া জরুরি নয়, এক ঢোক পানি

পান করলেও সাহরীর সুন্নত আদায় হয়ে যাবে। হাদীস শরীফে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, তোমরা সাহরী খাও। কেননা, সাহরীতে বরকত রয়েছে।-সহীহ মুসলিম : ১০৯৫
অন্য হাদীসে এসেছে, সাহরী খাওয়া বরকতপূর্ণ কাজ। সুতরাং তা ছেড়ে দিয়ো না। যদিও তা এক ঢোক পানি দিয়ে হোক না কেন। কেননা, যারা সাহরী খায় আল্লাহ তাআলা তাদের ওপর রহমত বর্ষণ করেন এবং তাঁর ফেরেশতাগণ তাদের জন্য রহমতের দুআ করেন।-মুসনাদে আহমাদ : ১০৭০২
সুবহে সাদেকের কাছাকাছি সময়ে সাহরী খাওয়া মুস্তাহাব। তবে এত দেরি করা মাকরূহ- যে সুবহে সাদেক হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা হয়।

পাঁচ. ইফতার করা
সারা দিন রোযা রাখার পর সূর্য ডোবার সঙ্গে সঙ্গে যে আহার করা হয় তার নাম ইফতার। এটা শরীয়তে অনেক বড় একটি আমল। এ আনন্দপূূর্ণ আমলের জন্য ঘোষণা করা হয়েছে বড় পুরস্কার। ইফতার যেহেতু অনেক বরকতের তাই এই বরকতপূর্ণ আমল শুরু করতে বিলম্ব করতে নিষেধ করা হয়েছে।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, লোকেরা যতদিন প্রথম সময়ে ইফতার করার বিষয়ে যতœবান হবে ততদিন তারা কল্যাণের পথে থাকবে।-সহীহ বুখারী : ১৯৫৭
ইফতার খেজুর দ্বারা করা মুস্তাহাব। খেজুর না পেলে পানি দ্বারা ইফতার করবে। হযরত আনাস ইবনে মালেক রাদি. বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাগরিবের নামাজ পড়ার আগে তাজা খেজুর দিয়ে ইফতার করতেন। তাজা খেজুর না পেলে শুকনা খেজুর দ্বারা ইফতার করতেন। আর তাও না পেলে এক ঢোক পানি দ্বারা ইফতার করতেন।-জামে তিরমিযী : ৬৯২
সাহরী ও ইফতার তখনই বরকতপূর্ণ হবে যখন এ ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি পরিহার করে পূর্ণ সংযম রক্ষা করা হবে। কিন্তু আমাদের রমজান ও সাহরী-ইফতারের অবস্থা কী একটু চিন্তা করে দেখি!
পানাহারের সংযমের মাসে, উপবাসের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের মাসে খাদ্যদ্রব্যের মূল্য আগুনের মত দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠার কারণ কী? আমাদের সমাজে ইফতার কেন পার্টিতে রূপান্তরিত হলো?
এখন ইফতারের সমস্ত নূর থেকে বঞ্চিত হয়, কারণ যে ইফতার ছিল আল্লাহর নবীর একটি প্রিয় সুন্নত তা আজ হয়ে পড়েছে ভোজ-অনুষ্ঠান। যেন সারা দিনের উপবাসের মূল্য এখন কড়ায়গন্ডায় উসুল করে নিতে হবে।
স্ত্রী লোকদের অবস্থা আরও করুণ। প্রত্যেক পরিবারে স্ত্রী লোকদের আছর থেকে মাগরিব পুরো সময়টুকু চলে যায় ইফতারের আয়োজনে। এমন কি ইফতারের পূর্বে যে দুআ কবুলের সময় তখন একটু একাগ্রচিত্তে দুআ করারও তাদের অবসর হয় না। অবশ্য যে স্ত্রীলোক পুরুষের পক্ষ থেকে চাপের কারণে এটা করে তার দায় পুরুষকেই বহন করতে হবে। আর স্ত্রীলোকেরা যদি (অপারগতার কারণে) রান্না ঘরেই তাদের মাওলাকে মনে মনে ডেকে নেয় তিনি তাদের ডাকে ইনশাআল্লাহ সাড়া দেবেন।-ইসলামকে জানতে হলে : ১৫৭-১৫৮

ছয়. রোযাদারকে ইফতার করানো
হযরত যায়েদ ইবনে খালেদ রাদি. থেকে বর্নিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি কোনো রোযাদারকে ইফতার করাবে, সে তার (রোযাদারের) অনুরূপ প্রতিদান লাভ করবে। তবে রোযাদারের প্রতিদান থেকে বিন্দুমাত্রও হ্রাস করা হবে না।-সুনানে তিরমিযী : ৮০৭

সাত. তাওবা-ইস্তিগফার করা
আল্লাহ তাআলা এ মাসে অসংখ্য জাহান্নামীকে মুক্তি দান করেন। যেমন রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, আল্লাহ এ মাসের প্রতিরাতে অসংখ্য জাহান্নামীকে মুক্তি দান করেন।-মুসনাদে আহমাদ : ১৮৭৯৪
সুতরাং আমাদের কর্তব্য তাওবা-ইস্তিগফার করা। কেননা, যে ক্ষমা চায় তাওবা করে তাকেই আল্লাহ ক্ষমা করে দেন। অন্য কাউকে নয়।

আট. দুআ করা
রোযার মাধ্যমে মুমিন বান্দা আল্লাহর এতই নৈকট্য অর্জন করে যে, যতক্ষণ সে রোযা অবস্থায় অথবা রোযার প্রস্তুতির অবস্থায় থাকে (অর্থাৎ রাত-দিন) ততক্ষণ তার কোনো দুআ ফেরত দেওয়া হয় না, সমস্ত দুআ কবুল করা হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, প্রত্যেক মুসলিম (রমজানে) যে দুআ করে তা কবুল করা হয়।-মুসনাদে বায্যার : ৩১৪১
এ মাস দুআ কবুলের মাস। তাই আমাদের উচিত বেশি বেশি দুআ করা।
নয়. ইফতারের আগ মুহূর্তে দুআ করা
ইফতারের সময় দুআ কবুল হয়। আব্দুল্লাহ ইবনে মুলাইকা বলেন, আমি আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রাদি. থেকে শুনেছি তিনি বলছেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, ইফতারের সময় রোযাদারের একটি দুআ কবুল করা হয়।
আব্দুল্লাহ ইবনে মুলাইকা বলেন, আমি হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমরকে ইফতারের সময় এ দুআ করতে শুনেছি, আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা বি রাহমাতিকা আল্লাতি ওসিআত কুল্লা শায়ইন আন তাগফিরলি’। অর্থাৎ, হে আল্লাহ, আমি তোমার দরবারে সেই রহমতের উসিলায় আবেদন করছি যা সকল বস্তুকে বেষ্টন করে রেখেছে, তুমি আমাকে মাফ করে দাও। (মুসতাদরাকে হাকেম : ১/৫২৯, হাদীস নং : ১৫৬৭) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইফতারের সময় আল্লাহর কাছে এ দুআ করতেন। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং : ১৭৫৩)

রমজানে বর্জনীয়
কুরআন-সুন্নাহ ও আসারে সাহাবার (সাহাবায়ে কেরামের বাণী) আলোকে রমজানের করণীয় উল্লেখ করা হলো। এখন বর্জনীয় বিষয়গুলো আমরা জেনে নেব। গোনাহ থেকে সর্বাবস্থায় বেঁচে থাকতে হবে। তবে রোযার অবস্থায় তা আরও বেশি জরুরি। কারণ, গোনাহের কারণে রোযার ফলাফল বরবাদ হয়ে যায়। রোযার ফরজ আদায় হয়ে যায় কিন্তু রোযার নূর ও রুহানিয়াত একেবারে বরবাদ হয়ে যায়। নিম্নে কিছু গোনাহের বিবরণ তুলে ধরা হচ্ছে যেগুলোর আলোচনা হাদীস শরীফে এসেছে।

এক. অশ্লীল কথা না বলা এবং শোরগোল না করা
রোযা অবস্থায় অশ্লীল কথাবার্তা, শোরগোল ও ঝগড়া-ফ্যাসাদ থেকে বিরত থাকা জরুরি। হাদীস শরীফে এসেছে, তোমাদের কেউ যখন রোযা অবস্থায় থাকে তখন যেন অশ্লীল কথা না বলে এবং শোরগোল না করে। আর কেউ যদি তার সঙ্গে ঝগড়া করে, গালি দেয়, তা হলে সে যেন শুধু বলে দেয়, আমি তো রোযাদার। (অর্থাৎ তোমার সাথে বিবাদ করার এবং গালির জবাব দেওয়ার সুযোগ আমার নেই।)-সহীহ বুখারী : ১৯০৪
অপর এক হাদীসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কত রোযাদার এমন আছে, (রোযা অবস্থায় অশ্লীল কথা ও কর্ম থেকে বিরত না থাকার ফলে) ক্ষুধা ও পিপাসা ছাড়া রোযা থেকে সে আর কিছু লাভ করতে পারে না। তদ্রুপ অনেক রাত জাগরণকারী এমন আছে যে তার রাত্রিজাগরণ থেকে জেগে থাকার কষ্ট ছাড়া আর কিছু পায় না।-সুনানে ইবনে মাজাহ : ১৬৯০

দুই. মিথ্যা কথা না বলা
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও ইরশাদ করেছেন, যে রোযা রেখেছে অথচ মিথ্যাচার পরিহার করেনি, তার এই কৃত্রিম পানাহার বর্জনের কোনো প্রয়োজন আল্লাহর নেই।-সহীহ বুখারী : ১৯০৩

তিন. অনর্থক কথা বা কাজ না করা
হযরত আবু হুরায়রা রাদি. বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, রোযা শুধু পানাহার বর্জন করার নাম নয়; বরং রোযা হলো অনর্থক কথা ও কাজ এবং অশ্লীল কথা বর্জন করা।-মুসতাদরাকে হাকেম : ১/৫৩৯, হাদীস নং : ১৬০২

চার. গীবত না করা
হাদীস শরীফে বর্ণিত আছে, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দরবারে দুজন মহিলা উপস্থিত হয়ে (দরজার বাইরে থেকে) অভিযোগ করল, রোযার কারণে তাদের খুব কষ্ট হচ্ছে। পিপাসার কারণে প্রাণ ওষ্ঠাগত প্রায়। এ অবস্থা শুনে তিনি লোকমারফতে তাদের বমি করার আদেশ দিলেন। দেখা গেল, গোশতের টুকরা ও তাজা রক্ত বের হচ্ছে।
সাহাবায়ে কেরাম রাদি. অবাক হলেন। তখন নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এরা হালাল খাদ্য দ্বারা সাহরী করে রোযা রেখেছে, কিন্তু রোযা অবস্থায় হারাম খেয়েছে। অর্থাৎ মানুষের গীবত করেছে। আর গীবত করার অর্থ হলো মৃত ভাইয়ের গোশত খাওয়া।-মুসনাদে আহমাদ : ২৩৬৫৩
এ হাদীস দ্বারা বোঝা যায়, গীবত ও অন্যান্য গোনাহ দ্বারা রোযার কষ্ট অনেক বেড়ে যায়। এ কারণেই দেখা যায় আল্লাহর নেক বান্দারা রোযার তেমন কোনো কষ্ট অনুভব করেন না; বরং তারা অনেক আত্মিক, এমনকি দৈহিক শান্তি লাভ করে থাকেন। পক্ষান্তরে যারা গীবত করে এবং বিভিন্ন গোনাহে লিপ্ত থাকে তারা রোযার কারণে বেশ কাহিল হয়ে পড়ে। ফলে বিভিন্ন বাহানা করে রোযা থেকে রেহাই পেতে চায়। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে তাঁর সন্তুষ্টি মোতাবেক রমজান কাটানোর তাওফীক দান করুন। আমীন।

রমজানের ফজিলত, করণীয় ও বর্জনীয় বিষয়গুলোহে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর রোজা ফরয করা হয়েছে, যেরূপ ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্...
14/04/2022

রমজানের ফজিলত, করণীয় ও বর্জনীয় বিষয়গুলো

হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর রোজা ফরয করা হয়েছে, যেরূপ ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের উপর, যেন তোমরা পরহেযগারী অর্জন করতে পার।

(সুরাহ বাকারাহ: ১৮৩)

উপরের আয়াতে আল্লাহতাআলা বলেন, রোজা এই কারণে ফরজ করা হয়েছে যাতে আমরা পরহেজগার, মুত্তাকী হতে পারি। আর পরহেজগার হবার জন্য প্রথম গোনাহ পরিত্যাগ করতে হবে, তারপর নেকী বেশী বেশী করে করতে হবে।

গোনাহ বর্জন

রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম বলেন "অনেকে রোজার দ্বারা ক্ষুধার্ত এবং তৃষনার্ত ছাড়া অন্য কিছুই লাভ করেনা। অন্য এক হাদিস শরীফে বলেন "যে গর্হিত কথাবর্তা এবং পাপ কাজ পরিত্যাগ করতে পারেনা, আল্লাহ সুবহানাহু তাআলার তার খাবার এবং পানীয় ত্যাগ করায় কোনো প্রয়োজন নেই। অর্থ্যাৎ তার রোজা গ্রহণীয় নয়। সহীহ আল বুখারী (ভলি:৩, হাদিস:১২৭) সবরকম গোনাহ থেকে বেচে থাকতে হবে। এর মধ্যে আর একটি ভয়াবহ গোনাহ হোলো গীবত। গীবতে একটি ঘটনা নীচে বলা হোলো: গীবত থেকে বেচে থাকা: রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম এর যুগে দুই মহিলা রোজা রাখল। রোযায় তাদের এত কষ্ট হোলো যে, তারা মৃত্যুর মুখোমুখী হোলো। রসুলুল্লাহ এর খেদমতে বিষয়টি জানানো হলে তিনি তাদের কুলি করতে বললেন। তারা কুলি করলে তাদের মুখ থেকে ছোটো গোস্তের টুকরা বের হোলো। তারা আশ্চর্য হয়ে বলল, আমরা তো কোনো পানাহারই করিনি। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম বললেন, মুলত তোমরা রোজা রেখে অন্যের গীবত করেছ। আর গীবত হোলো মৃত ভাইয়ের গোস্ত খাওয়া। বর্তমানে আমাদের এমন অব্হা যে, চুপ থাকলে সওয়াব হয়, আর কথা বললে গীবত করি। অনেকে তো এটাকে গোনাহ মনে করি না। সাধারন মুসলমান থেকে শুরু করে আলেমগণ পর্যন্ত এই গোনাহে লিপ্ত। গীবতে আর একটি ভয়াবহ দিক হোলো, আপনি যার গীবত করছেন, তার গোনাহ গুলো আপনার আমলনামায় চলে আসবে আর আপনার নেকীগুলো তার আমলনামায় চলে যাবে। এমনি আমাদের আমল কত কম, এরপর যদি নেকগুলো চলে যায়, তাহলে আফসোসের বিষয়। হযরত শেখ শাদী (রহ:) ছোটকালে তার বাবার সাথে তাহাজ্জুদ নামাজ পড়তেন। একদিন তিনি তার পিতাকে বললেন আব্বা বাসার অন্যান্যরা কিন্তু তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ছে না। তার পিতা বললেন, "তারা তোমার চেয়ে উত্তম, আরো ভালো হোতো তুমি যদি নামাজ না পড়ে তাদের মতো ঘুমিয়ে থাকতে।" শেখ শাদি (রহ:) এর কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন "তারা ঘুমিয়ে আছে অথচ কারো গীবত করছে না , যেটা তুমি করছ"। ভাবলে অবাক হতে হয়, কত সতর্ক ছিলেন তারা। আজ আমরা সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজের নিষেধ মনে করে গীবত করি। যেটাও শয়তানের ধোকা।

অন্যান্য গোনাহ

আসুন এই রোজায় সমস্ত গোনাহ থেকে তওবা করে ফেলি। মনে করি এটাই আমাদের শেষ রোজা। যারা মোবাইলে গান শোনেন তারা অন্তত এই মাসটা গান বন্ধ রাখুন, এর পরিবর্তে কোরআন তেলাওয়াত, হামদ, কাসিদা শুনুন ।যাদের বাজারে দোকান আছে, অন্তত এই মাসের সম্মানে টেলিভিশন বন্ধ রাখুন, গান বন্ধ রাখুন। হয়ত এর ওসীলায় আল্লাহ তাআলা আপনাকে/আমাকে ক্ষমা করে দিবেন। গোনাহ সব সময় বড় ভাবুন, কোনো গোনাহ-ই ছোটা না। আশরাফ আলী থানভী (রহ:) বলেন, কেউ কি কখনও বলে এটা ছোট আগুন ওটা বড় আগুন। ছোট হোক, বড় হোক পুড়িয়ে ধংস করার জন্য এক শলতে আগুনই যথেষ্ট। তেমনি গোনাহ ছোট হোক বা বড় হোক সব ক্ষতিকর। একবার এক বুজুর্গ ব্যক্তি রাস্তা দিয়ে যাবার সময় দেখলেন এক ব্যক্তি বসে বসে কাদছেন। এর কারণ জিজ্ঞেস করলে সেই ব্যক্তি বললেন অনেক আগে এই জায়গায় আমি একটি গোনাহ করেছিলাম, সেই কথা মনে করে কাঁদছি। সুবহানাল্লাহ। একেই বলে প্রকৃত খোদাভীতি। আরা আমাদের অবস্হা এমন, গোনাহ করে গর্ব করে বেড়াই। একটি জিনিস মনে রাখবেন, খাবার থেকে বিরত রাখা নিজেকে সহজ, কিন্তু গোনাহ থেকে নিজেকে বিরত রাখা খুবই কঠিন। আর যদিও গোনাহ থেকে নিজেকে বিরত রাখা সহজ হয়, অন্তরকে আল্লাহ ছাড়া সমস্ত কিছু থেকে বিরত রাখা আরো কঠিন

নেকী অর্জন

সারা বছর আমরা আমাদের জন্য ব্যয় করছি, একটি মাস না হয় আল্লাহর জন্য ব্যয় করলাম । মহিলারা জিকির করতে করতে সেহরী, ইফতার তথা সবসময় খাবার রান্না করতে পারেন পুরুষরা জিকির করতে করতে ফসল কাটবেন অফিসে চাকরী করতে পারেন। এতে আমাদের কাজও সমাধা হবে, সাথে সওয়াবও পেতে থাকব। কাজের শুরুতে বিসমিল্লাহ বললে, সম্পূর্ণ কাজটি তাহলে সওয়াবের মধে গন্য হবে।

নেককারদের আমল

আসুন আমরা দেখি আগেকার মুত্তাকী, পরহেজগার ব্যক্তিগণ কিভাবে নিজের জীবন অতিবাহিত করতেন। ইমাম আবু ইউসুফ (রহ:) ছিলেন প্রধান বিচারপতি অথচ দৈনিক ২০০ রাকাত নফল নামাজ পড়তেন। ইমাম আবু হানিফা (রহ:) রোজার মাসে দিনে এক খতম, রাতে তাহাজ্জুদে ১ খতম এবং তারাবীতে ৩ খতম অর্থ্যাৎ রোজার মাসে আনুমানিক ৬৩ বার কোরআন খতম দিতেন। হযরত আলী কুরাইশি (রহ:) মাঠে কাজ করতে যেতেন আর মুখে মুখে জিকির করতেন। এভাবে প্রতিদিন উনি ৭০ হাজার বার আল্লাহর জিকির করতেন ।জান্নাতে মুমিনদের একমাত্র আফসোস থাকবে একটি বিষয় নিয়ে, দুনিয়াতে জিকির ছাড়া যে সময় অতিবাহিত করেছে শুধুমাত্র সেই সময়টা নিয়ে ।আল্লামা শারানী (রহ:) বলেন, আমরা এমন পুণ্যবাণদের দেখা পেয়েছে যারা রোযার মাসে হাসি-তামাশা থেকেও নিজেকে বিরত রাখত।

নিজেকে জিজ্ঞেস করুন?



চলুন নিজের হিসেব নেয়া যাক। আমাদের রোজা কি অবস্হায় আছে? আসলেও কি আল্লাহর কাছে গ্রহনযোগ্য হচ্ছে? ইমাম গাজ্জালী (রহ:) এর এই বিশ্লেষন খুব মনোযোগ দিয়ে পড়লে আমরা নিজেরাই নিজেদের রোজাকে মুল্যায়ন করতে পারব। ইমাম গাজ্জালী (রহ:) বলেন রোজা ৩ প্রকার ১। সাধারণের রোজা: সাধারণ মুসলিমগণ যে রোজা রাখে, খাবার, পানীয় এবং স্ত্রী-মিলন থেকে বিরত রাখা। ২। যোগ্য ব্যক্তির রোজা বা কতিপয় মুসলিমের রোজা: এই ক্ষেত্রে উপরের বিষয়টি ছাড়াও হাত, পা, দৃষ্টি এমন সমস্ত জিনিসকে গোনাহ থেকে বিরত রাখে। অর্থ্যাৎ চোখের গোনাহ পর-নারী, পর-পুরুষকে দেখা, মুখের গোনাহ যেমন গীবত করা ইত্যাদি থেকে নিজেকে বিরত রাখা। ৩। সর্বোচ্চ পর্যায়ের রোজা: এই ক্ষেত্রে সে ১ম ও ২য় সবকিছু পালন তো করেই, নিজের মনকে সমস্ত খারাপ চিন্তা থেকে বিরত রাখে এবং শুধু আল্লাহর দিকে নিমগ্ন রাখেন। এটা খুবই কঠিন, যেটা একমাত্র নবী, রসুল, সর্বোচ্চ পর্যায়ের যারা মুত্তাকী তারাই এটা পালন করতে পারেন। এখন আমরা নিজেকে প্রশ্ন করি। ওপরের ৩টি শর্ত মেনে আমরা কি আমাদের রোজা পালন করি??

REXO IT পরিবারের পক্ষ থেকে সকল কে ঈদের শুভেচ্ছা, ঈদ মোবারাক।
20/07/2021

REXO IT পরিবারের পক্ষ থেকে সকল কে ঈদের শুভেচ্ছা, ঈদ মোবারাক।

13/07/2021

কান কথা কি রকম মারাত্মক হতে পারে,, ভিডিও টা না দেখলে বুজতে পারবেন না

REXO IT তে iOS Developer সংবর্ধনা অনুষ্ঠান - REXO IT
10/07/2021

REXO IT তে iOS Developer সংবর্ধনা অনুষ্ঠান - REXO IT

REXO IT তে iOS Developer সংবর্ধনা অনুষ্ঠান - REXO IT

REXO IT তে Web Developer সংবর্ধনা অনুষ্ঠান
10/07/2021

REXO IT তে Web Developer সংবর্ধনা অনুষ্ঠান

Web Developer First Day at REXO IT

Address

Dhaka
1212

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when HB Arif posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to HB Arif:

Share