30/05/2026
" একজন গরীব প্রেসিডেন্ট "
অবিশ্বাস্য মনে হলেও সত্য, প্রেসিডেন্ট জিয়ার বাসায় সর্বদাই কন্ট্রোলের চাল পাক হতো। সঙ্গে ভাজি, একটি তরকারি ও ডাল থাকত।
প্রেসিডেন্ট জিয়ার বাসায় ভালো খাবার রান্না হতো না, এমনটা নয়। তবে শুধুমাত্র বছরের দুই ঈদ বা অন্য কোন উৎসব উপলক্ষে বাসায় ভালো খাবার রান্না হতো।
প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত কর্মকর্তারা প্রেসিডেন্টকে ছেঁড়া কাপড় ব্যবহার না করতে অনেকবার নিষেধ করতেন। শুনে প্রেসিডেন্ট জিয়া মৃদু হেসে বলতেন, ঘরের ভিতরে কে দেখবে।
এক কর্মকর্তা ইসলামী শীর্ষ সম্মেলনের সময় জেদ্দা হতে প্রেসিডেন্ট জিয়ার জন্য দুটি স্লিপিং স্যুট কিনে ছিলেন। কিন্তু প্রেসিডেন্ট জিয়া সেগুলো ব্যবহার করেননি। এমনকি পাকিস্তান হতে আগত তাঁর এক বন্ধুর আনা একটি কোর্তাও তিনি জমা দিয়েছেন বঙ্গভবনের তোষাখানায়।
প্রেসিডেন্ট জিয়ার ভালো কাপড় বেশী ছিল না। তাই তিনি ঘরের ভিতরে একান্ত নিভৃতে থাকতেন একজন অতি সাধারণ মানুষের বেশে। ছেঁড়া কাপড় তালি দিয়ে, রিফু করে ব্যবহার করতেন।
অনেকবার রিফু করা, তালি দেয়া একটি হালকা প্রিন্টের পাজামা এবং বারবার সেলাই আর তালির অত্যাচারে পিঠের ডান দিকে চটের মত ভারি হয়ে যাওয়া একটি ঢিলা শার্টও তিনি ব্যবহার করতেন। কখনও বঙ্গভবনে বিশ্রামের সময় পেলে তিনি এই ছেঁড়া পাজামা শার্ট স্লিপিং স্যুট হিসাবে পরতেন।
তবে বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা এবং রাষ্ট্রীয় সফরে বিদেশে গেলে তিনি সবসময়ই ভালো কাপড় পরতেন। সাফারী এবং সানগ্লাস ছিল প্রেসিডেন্ট জিয়ার অনেক পছন্দের।
চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে তিনি শহীদ হওয়ার পরে পাওয়া গিয়েছিল একটি রংচটা টিনের ভাঙ্গা স্যুটকেস ও একটি আধাছেঁড়া গেঞ্জি।
ফলে তাঁর মৃত্যুর পর দেখা যায় তাঁর বিধবা পত্নী এবং এতিম দুই নাবালক ছেলে নিঃসম্বল। আর তাই শহীদ জিয়ার নিঃস্বম্বল পরিবারকে সাহায্যের জন্য জনগণের মধ্য হতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অসংখ্য প্রস্তাব এসেছিল।
কিন্তু শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়ার নিঃসম্বল ও অসহায় সহধর্মিণী বেগম খালেদা জিয়া নিজের আত্মসম্মানের কথা ভেবে ব্যক্তিগত পর্যায়ের সকল সাহায্য সানন্দে প্রত্যাখ্যান করেন।