21/05/2026
দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার আশ্বাস বারবার দেওয়া হলেও বাস্তবে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। নতুন গেজেট প্রকাশ করে দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির সভাপতি হিসেবে সংসদ সদস্যদের (এমপি) দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এই সিদ্ধান্ত ঘিরে ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক ও সমালোচনা।
অভিভাবক, শিক্ষাবিদ ও সচেতন মহলের প্রশ্ন—শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কি ধীরে ধীরে পুরোপুরি রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণে চলে যাচ্ছে? কারণ এর আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একাধিকবার বলা হয়েছিল, এমপিরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনায় হস্তক্ষেপ করবেন না। কিন্তু নতুন গেজেট সেই বক্তব্যের সঙ্গে স্পষ্ট সাংঘর্ষিক অবস্থান তৈরি করেছে বলে মনে করছেন সমালোচকরা।
বিতর্ক আরও বাড়িয়েছে আদালতের পূর্ববর্তী নির্দেশনার বিষয়টি। ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, হাইকোর্ট বিভাগের রিট পিটিশন নং ২৯০৩/২০১৭ ও ৬৩২১/২০১৯-এর আদেশ অনুযায়ী সংসদ সদস্যরা গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। এরপরও নতুন করে এমপিদের সভাপতির দায়িত্ব দেওয়ার উদ্যোগ আদালতের পর্যবেক্ষণের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে।
শিক্ষাবিদদের মতে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখা। কিন্তু সেখানে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সরাসরি প্রভাব বাড়ানো হলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। একই সঙ্গে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে মতপ্রকাশের স্বাধীনতাও বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরেই শিক্ষা খাতে যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার চেয়ে রাজনৈতিক পরিচয়কে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ফলে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ধীরে ধীরে স্বজনপ্রীতি ও ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হচ্ছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। নতুন এই সিদ্ধান্ত সেই আশঙ্কাকে আরও জোরালো করেছে।
গেজেট প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার কথা বলা হলেও কেন আবার রাজনৈতিক ব্যক্তিদেরই সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে? এটি কি শিক্ষার উন্নয়নের উদ্যোগ, নাকি রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করার কৌশল?
সচেতন মহলের দাবি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক প্রভাবের বাইরে রাখতে হলে পরিচালনা কমিটিতে শিক্ষাবিদ, অভিভাবক প্রতিনিধি ও যোগ্য ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দিতে হবে। অন্যথায় দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় নিরপেক্ষতা ও শিক্ষার মান ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।