17/01/2018
পাইপ দিয়ে বঙ্গবন্ধু, চশমা দিয়ে মহাত্মা গান্ধি, শেষের নাম্বারটি দিয়ে নেলসন ম্যান্ডেলাকে স্মরণ করা হয়েছে যে নম্বরটি ম্যান্ডেলার কয়েদি নাম্বার।
এখানে সকল স্বাধীনতাকামী, মুক্তিকামী নেতাদের স্মরণ করা হয়েছে, যাদের দুরদর্শী চিন্তার ফসলে বিজয়ের মাধ্যমে আমরা আলোকিত হয়েছি।
এটি ডেইলি স্টারে প্রকাশিত হয়েছে, ১৬ ডিসেম্বর। ভিশন ইলেকট্রনিক্স এর কাজ। কিন্তু তাদের পেইজে বিজ্ঞাপনটি দেখতে পেলাম না।
হঠাৎ করে একটি কথা মনে হলো। পৃথিবীর অনেক দেশেই বড় বড় রাজনৈতিক নেতাদের নিয়ে বিজ্ঞাপন তৈরি হতে দেখি। বিশেষ করে যারা স্বাধীনতাকামী নেতা তাদের নিয়ে প্রচুর কাজ আছে। আমাদের পাশের দেশের স্বাধীনতার অগ্রদুত মাহাত্মা গান্ধীকে ব্যবহার করে প্রচুর বিজ্ঞাপন আছে।
অথচ আমাদের বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে তেমন কোন বিজ্ঞাপনই চোখে পড়ে না। আমাদের দেশের স্বাধীনতা, বিজয়কে স্বীকার করলে বঙ্গবন্ধুকেও স্বীকার করতে হবে। সেখানে স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবসের বিজ্ঞাপনগুলোয় বঙ্গবন্ধু প্রায় অনুপস্থিত।
বঙ্গবন্ধুকে উপস্থাপন করতে কি ভয় পায়? বঙ্গবন্ধুকে উপস্থাপন করলে কি ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের অনুসারীরা তাদের প্রডাক্ট ব্যবহার করবেনা? নিশ্চয় এই দেশে বড় শিল্পপতি আছেন, যারা আওয়ামী লীগের অনুসারী। আওয়ামী অনুসারী হয়েও কি তাদের প্রতিষ্ঠানগুলো বঙ্গবন্ধুর অস্তিত্বকে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে উপস্থাপন করে?
যদি না করে থাকে, তাহলে কেন করেনা? বঙ্গবন্ধু যে পাহাড়সম ছিলেন, তাতে তিনি তো শুধু বাংলাদেশের না, তিনি পুরো বিশ্বের নেতা। যেখানে অন্য অনেক দেশেই বড় বড় নেতাদের জাতীয় দিবস উপলক্ষে তৈরি বিভিন্ন বিজ্ঞাপনে উপস্থাপন করা হয়, সেখানে আমাদের এখানে, আমাদের নেতার অনুপস্থিতি কি একটু ভাবায় না?
এটা ঠিক আমাদের অনুভুতি বেশি। কখন কিসে অনুভুতি আহত হয় বোঝা যায় না। সেই ভয় থেকেই হয়ত, কেউ বঙ্গবন্ধুকে উপস্থাপন করতে ভয় পায়।
বঙ্গবন্ধু একজন স্টাইলিশ মানুষ ছিলেন। তাঁর পাইপ, চশমা, কোট ইত্যাদির মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুকে সহজে ফুটিয়ে তোলা সম্ভব। আর এগুলো ব্যবহার করে জাতীয় দিবসগুলোয় চমৎকার চমৎকার প্রিন্ট অ্যাড সম্ভব।
বঙ্গবন্ধু উদার নেতা ছিলেন। বঙ্গবন্ধু নিজেই একটা শিল্প। শিল্পের বাণিজ্যিক রুপ হলো, বিজ্ঞাপন। সেই শিল্পে বঙ্গবন্ধুর উপস্থিতি থাকা উচিত।