26/09/2024
“অবশেষে মিললো কোটা আন্দোলনের মিসিং লিংক”
সুচতুর অপরাধী অনেক সময় তার করা ক্রাইমের ক্রেডিট নেওয়ার লোভ সামলাতে পারে না। সে ক্রাইম স্পটে একটা সিগ্নেচার রেখে আসে এবং অনেক সময় তার নিজের দেওয়া সূত্রেই ধরা খায়। কোটা আন্দোলনের একটা মিসিং লিংক ছিলো। আওয়ামী সরকারের বিগত সাড়ে পনের বছরের শাসন আমলে তাদের অনেক বড় বড় আন্দোলনের মুখোমুখি হতে হয়েছিলো। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কোন ক্যাজুয়ালিটিস ছাড়াই তারা সেটা ডিল করেছে। কিন্তু, সর্বশেষ কোটা আন্দোলনে ক্যাজুয়ালিটিসের সংখ্যা মাত্রা ছাড়িয়ে যায়। সরকার হিসেবে সেটির দায়ও তাদের বহন করতে হয়। সরকার যেখানে নিজেই প্রথম থেকেই কোটা সংস্কারের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আপিল বিভাগের রায়ের প্রেক্ষিতে মাত্র ১ মাসের সময় চায়, তখনও আন্দোলনের গতি একচুলও কমে না। এবং এই নিরীহদর্শন আন্দোলনটি বহু মানুষের মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। যা পূর্বের যেকোন আন্দোলন প্রশমনে বিগত সরকারের অনুমিত আচরণের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। এটিই ছিল কোটা আন্দোলনের মূল মিসিং লিংক এবং অবশেষে অপরাধীর ক্রেডিট নেওয়ার লোভে সিগনেচার রেখে যাওয়ার মতোই আচরণ করতে গিয়ে মিসিং লিংকটিকে ফাঁস করে দিয়েছেন স্বয়ং ড. ইউনুস।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে ‘Clinton Global Initiative’ আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে ড. মোহাম্মদ ইউনুস বলেন, “It’s amazing meticulously designed thing, it’s not suddenly came. It’s like that very well designed even the leadership patterns. People don’t know who the leaders so you can catch one and say okay it’s over. It’s not over. It’s completely diverse.”
ভাবানুবাদ করলে যা দাঁড়ায় “এটি চমৎকারভাবে যত্ন সহকারে পরিকল্পনা করা একটি আন্দোলন, এটি হুট করে ঘটেনি। এটা অত্যন্ত নিখুতভাবে ডিজাইন করা হয়েছে এমনকি এর নেতৃত্বের ধরণও পরিকল্পিত। মানুষজন জানে না এই আন্দোলনের নেতা কে। তাই আপনি একজনকে ধরে বলতে পারেন যে আন্দোলনের শেষ দেখা হয়ে গেছে কিন্তু এটা তখনও শেষ হয়নি। কারণ এটা অন্যসব আন্দোলন থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন।”
(তথ্যসূত্র- https://www.youtube.com/watch?v=oqdeuA7k87o )
এই আন্দোলনে কেন কেন্দ্রীয় তালিকার কোন সমন্বয়ক আহত বা নিহত হননি, আবু সাঈদের মৃতদেহে মাথায় আঘাতের চিহ্ন কীভাবে আসলো (তথ্যসূত্র- https://www.shokalshondha.com/abusayeed-post-mortem-report-dillema/ ), আবু সাঈদকে কেন প্রায় পাঁচঘন্টা পর রাত ৮ টায় হাসপাতালে মৃত অবস্থায় নিয়ে যাওয়া হলো (তথ্যসূত্র- https://www.jagonews24.com/en/national/news/75597 ), ৭.৬২’র মানে কী, মুগ্ধের মৃত্যু কীভাবে হেডশটে হলো, এতবড় একটা আন্দোলনের মূল নেতৃত্বের প্রায় সবাই কেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন গঠিত একটি অখ্যাত রাজনৈতিক দলের সদস্য, কেন দেশের বড় বড় জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে, উগ্রবাদী দলগুলোকে কেন ড. ইউনুস সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে, বাংলাদেশকে কী জন্য ইউক্রেন মডেল বলা হচ্ছে, সংবিধান কেনো পাল্টে ফেলার চক্রান্ত করা হচ্ছে, পাহাড়ে তীব্র অশান্তির মূল কারণ কী, শিল্পখাতকে ধ্বংস করে কার কী লাভ এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই আন্দোলনে এত ক্যাজুয়ালিটিস হলো কীভাবে এই সকল প্রশ্নের উত্তর মিলে যায় ড. ইউনুসের দেওয়া এই এক বিবৃতিতে।
দুঃখজনক ব্যাপার হচ্ছে স্বজন হারানো মানুষেরা, যারা ভাবছেন তার প্রিয় মানুষটি প্রাণ হারিয়েছে বৈষম্য দূর করার মতো মহৎ কাজ করতে গিয়ে। তারা ড. ইউনুসের এই বক্তব্যের পর হঠাৎ করে আবিষ্কার করবেন এতগুলো মানুষ মারা গেছে স্রেফ একজন মানুষের তার সাম্রাজ্যবাদী প্রভুকে খুশি করে দেশটাকে উপনিবেশ বানানোর পথ তৈরি করে দেবার জন্য।
হেনরি কিসিঞ্জারকে যেকোন সচেতন মানুষই চিনে থাকবেন। কিসিঞ্জার আর ড ইউনুসের ভেতর একটা অদ্ভুত মিল রয়েছে, তারা দু'জনই শান্তিতে নোবেল পেয়েছেন এবং তাদের দু'জনের হাতেই বাংলাদেশের মানুষের রক্ত লেগে আছে।
হেনরি কিসিঞ্জার তো পারেন নাই, ড. ইউনুস কী পারবেন? উত্তরটা সময়ই বলে দেবে।
Top fans
িল ক্লিনটনের সাথে তিন সমন্বয়ককে পরিচয় করিয়ে দিলেন প্রধান উপদেষ্টা | Dr Yunus | Student MovementWelcome ...