26/08/2026
এক আপুর একটা পোস্ট পড়ে খুব কষ্ট লাগলো...
বেচারীর আচারের পেজ,
অর্ডার আসছে, সে তখন খুব অসুস্থ। এদিকে সিজন না হওয়াতে আচারের উপকরণ সংগ্রহ করতে পারছিলো না।
পরে অসুস্থ অবস্থায় অনেক কষ্ট করে বেশি দাম দিয়ে উপকরণ সংগ্রহ করে আচার বানিয়ে পাঠিয়েছে...
এদিকে ক্লায়েন্ট আর ফোন ধরে না।
দুই ঘন্টা বারংবার ট্রাই করার পর, ঐ বাসা থেকে বাচ্চারা জানাচ্ছে তাদের মা গেছে কোন এক রোগী দেখতে।
আচারের পেজের আপু স্বাভাবিক ভাবে রেগে বোম হয়ে আছে, স্ক্রিনশট শেয়ার করে গ্রুপে গ্রুপে ছড়িয়ে দিতে চাচ্ছে।
(পরে অবশ্য ক্লায়েন্ট অর্ডার রিসিভ করেছেন, উনিও শান্ত হয়েছেন, এবং আমাদের উপর রেগে নিউক্লিয়ার হয়ে গেছেন :'( )
এখন এখানে একটা জিনিস কিন্তু খুব গুরুত্বপূর্ণ...
মানুষের বিপদ আপদ হতেই পারে, এবং তাই কাস্টমার তার অর্ডার ক্যান্সেল করতেই পারেন,
এটা হর হামেশাই হচ্ছে।
যার চালতা নাই, শরীর অসুস্থ তার অর্ডারও ক্যান্সেল হয়।
আবার যার নিজেরই চালতা বাগান, সময় মতো আচার না বানালে দিনে ২-৩ শত চালতা নষ্ট হয়ে যাবে,
এমন মানুষেরও অর্ডার ক্যান্সেল হয়।
আমরা সমস্যা কারটা দেখবো?
ক্লায়েন্টের? নাকি ব্যবসায়ীর?
আমাদের অনেক পরিচিত ব্যবসায়ী ভাই আপুরা আছে, যারা অফার দেয়,
তাদের প্রোডাক্ট সরাসরি রাইডারের সামনে খেয়ে,
স্রেফ 'ভালো লাগছে না',
এমনটা মনে হলেও রিটার্ন করে দিতে।
তারা পারে, কারণ তাদের কাছে রিটার্ন সামলানোর মতো ক্যাপাবিলিটি আছে।
আর আমরা যারা স্বল্প বাজেটে ব্যবসা করছি, আমাদের জেনেবুঝে ক্লায়েন্ট নিতে হয়, রিভিউ দেখে, ইনবক্সে ডাবল শিওর হয়ে নিতে হয়।
ক্লায়েন্টের বিচারটা তাহলে কার হয়ে করবো?
যার এক পিস বানাতে জান কুরবান করতে হচ্ছে?
নাকি যার গোডাউন ভর্তি আচারের জার?
উদ্যোক্তা ভাইয়া আপুদের বলবো,
দেখুন, ব্যবসা করতে আসছেন, এমন কাস্টমার আসবেই। কাস্টমার সৎ হলেও অর্ডার ক্যান্সেল হবে, অসৎ হলেও অর্ডার ক্যান্সেল হবে।
এসব কারণে, স্কিনশট নিয়ে শেয়ার শেয়ার খেলা এটা কোন ভালো ব্রান্ডের, কোন ফিউচার বড় ব্রান্ডের তরীকা হতে পারে না।
তাতে ভুয়া অর্ডার, ফেক অর্ডার, 'অর্ডার দেয়ার পর বিপদ চলে আসা অর্ডার', কমবে না।
তবে আপনাকে যে এতো কষ্ট ঝামেলা করে ব্যবসা হ্যান্ডেল করতে হচ্ছে,
একটা অর্ডার সামলাতে গিয়ে জান শেষ করে দিতে হচ্ছে,
বিশাল লোকসান যাচ্ছে,
এটা সুপার কনসার্নের একটা জিনিস!
এখানে আপডেটটা আনা জরুরী...
অনিরাপদ, রিস্কি ব্যবসা শুরুতে করার কি দরকার?
হাজার হাজার নিরাপদ প্রোডাক্ট আছে।
অনিরাপদ ব্যবসা বড়রা করুক,
পুরনোরা করুক।
নতুনরা, দূর্বলরা জেনে বুঝে নিরাপদ প্রোডাক্ট বা সার্ভিস চয়েজ করি।
তাও না পারলে চাকরি করি,
পুঁজি জমাই।
নিজের জীবন যৌবন উজাড় করে দিয়ে বাঁশ ঝাড় সামলানোর তো কোন মানে হয় না
(আরেকটা গুরুত্বপূর্ন আপডেট:
পরে আপু আবার এনশিওর করলেন
চালতার কাস্টমার আসলে প্রোডাক্ট রিসিভ করেছিলো। ঝামেলা করেছিলো আম জলপাইয়ের ক্রেতা)