04/06/2021
আপনি কি একজন অনলাইন ব্যবসায়ী বা উদ্যোক্তা?
তাহলে আপনার জন্যই এই লেখাটি। 👇
বর্তমান সময়ে অনলাইনে ব্যবসা করাটা একরকম ট্রেন্ড হয়ে দাড়িয়েছে বলা যায়। করোনা মহামারী তো আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়েই বুঝিয়ে দিলো ভবিষ্যতে টিকে থাকতে হলে সকল ক্ষেত্রে অনলাইনের ব্যবহার অত্যাবশ্যকীয়।
তবে প্রতিদিন যেভাবে নতুন নতুন অনলাইন বিজনেস শুরু হচ্ছে ঠিক একই ভাবে ব্যবসায়ীরা ঝরেও পরছে। আসলে অনলাইন বিজনেস আর আমাদের দেশে প্রচলিত গতানুগতিক অফলাইন বিজনেস দুটি সম্পুর্ণ আলাদা বিষয়। বেশিরভাগ উদ্যোক্তারাই প্রথমিকভাবে ঠিক বুঝতে উঠতে পারেনা কোথা থেকে কিভাবে শুরু করতে হবে। যে কারনে তারা তাদের চোখের সামনে যা দেখে বা অন্যকে যেভাবে করতে দেখে হুবহু সেটাই ফলো করে বিজনেস করার চেষ্টা করে। আর এখানেই বাধে যত বিপত্তি।
বর্তমান সময়ে অনলাইন বিজনেস উদ্যোক্তারা তাদের বিজনেসের প্রোমশনের জন্য বেশকিছু কমন পন্থা অবলম্বন করেন তার মধ্যে অন্যতম হলো বিভিন্ন বিজনেস গ্রুপে প্রোমোশনাল পোস্ট দেয়া এবং টাকার বিনিময়ে লাইক ক্রয় করা যেমন ৫০০ টাকায় ১০০০ লাইক ইত্যাদি। এছাড়াও ফেসবুকের বিভিন্ন বিজনেস গ্রুপে পোস্ট দিয়ে সেল করতে গেলে বর্তমানে অধিকাংশ গ্রুপেই নির্ধারিত ফি দিয়ে সেলার কোড নিতে হচ্ছে এবং সেই কোড দিয়ে পোস্ট দিতে হচ্ছে। আবার কিছু কিছু গ্রুপে সেলার কোড ফ্রিতে দিলেও দেখা যাচ্ছে সেসব গ্রুপের মেম্বার মাত্র হাজার খানিক যার মধ্যে ৯৯০ জনই হলো সেলার অর্থাৎ তারা কাস্টমার নয়।
কিভাবে সেল বৃদ্ধি করবেন সেজন্য আজকাল আবার বিভিন্ন গ্রুপে সেমিনারের আয়জনও হচ্ছে যেখানে অংশগ্রহন করতে হলে নির্ধারিত ফি প্রদাণ করতে হবে। সেখান থেকে গ্রুপ এডমিন যাকে পছন্দ করবেন হয়তো তার ছবিটা কভার ফটোতে ঝুলিয়ে দিবেন এবং ভাগ্যবান সেলার একরাতে কল্পিত লাখপতি বনে যাবেন। ঠিক একইভাবে টাকা দিয়ে পেইজ লাইক কেনা গেলেও সেই লাইক থেকে কখনো সেল হওয়ার সম্ভাবনা নেই কারন, ধরুন আপনি বরিশাল সিটির মধ্যে হোম মেড দধি বিক্রি করেন আর আপনার পেইজে লাইক দিয়ে রেখেছে নোয়াখালীর স্বপ্নের নায়ক জিসান। অথবা আপনি হাতে বানানো নকশী কাথা বিক্রি করেন যার মূল্য আনুমানিক ১০ হাজার টাকা আর আপনার পেইজে লাইক দিয়ে রেখেছে আমার মতো কোনো এক গরীব মানুষ যার সামর্থ্য নেই এতো টাকা দিয়ে কাথা ক্রয় করার।
এরকম আরও শত শত অসঙ্গগতির কারনেই অধিকাংশ অনলাইন বিজনেস টিকে থাকতে পারছেনা বা যারা বিজনেস শুরু করতে চাচ্ছে তারাও শুরু করতে পারছে না। তাহলে অনলাইনে বিজনেস করতে হলে কি করা উচিৎ বা কিভাবে শুরু করা যাবে? এবার মূল আলোচনায় আসা যাক, বিজনেস করতে হলে অবশ্যই আপনাকে আগে মার্কেটিং বুঝতে হবে বিশেষত অনলাইন বিজনেসের জন্য অনলাইন মার্কেটিং। আপনার প্রোডাক্টের মার্কেট ডিমান্ড, কম্পিটিটর, সুযোগ সুবিধা, আপনার বিশেষত্ব, দুর্বলতা, কি কি আপনার জন্য হুমক স্বরূপ সবকিছুই শুরুতে গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে নিতে হবে।
এছাড়াও সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে ব্রান্ড বিল্ডিং এর ক্ষেত্রে। ব্রান্ডিং বিষয়টা আসলে অনেক জটিল এবং এর গভীরতা অনেক বেশি। বিশ্বের যত বড় বড় কম্পানি আছে তারা মূলত তাদের ব্রান্ড তৈরির দিক থেকেই সফলতা অর্জন করে এতোটা বড় হতে পেরেছে।
এই ব্রান্ডিং এর সাথেই জড়িয়ে থাকবে আপনার বিজনেসের সকল কিছু। কিভাবে আপনি পোস্ট লিখবেন কিভাবে ভিউজুয়াল তৈরি করবেন, কালার সেট কেমন হবে, লোগো কেমন হবে, কোন ফন্টে লেখা হবে এসব কিছু মাথায় রেখেই আপনার ব্রান্ড বিল্ড করতে হবে। যখন আপনি আপনার নিজস্ব ব্রান্ড তৈরিতে সক্ষম হবেন তখন সবাই আপনাকে বিশ্বাস করা শুরু করবে।
আপনি যদি প্রোমশনাল প্লাটফর্ম (গ্রুপ) হিসেবে এমন কিছু সিলেক্ট করেন যেখানে ক্রেতার চেয়ে বিক্রেতাই বেশি তবে সেখান থেকে শুরুতে কিছু কাস্টমার পেলেও সারা জীবন টিকে থাকা একেবারেই অসম্ভব। আর টাকা দিয়ে লাইক কেনার কথা কেউ ভুলেও ভাববেন না। শুধুমাত্র ফেসবুকের মাধ্যমেই একটা অনলাইন বিজনেস দাড় করাতে হলে একটা স্টান্ডার্ড কোয়ালিটির পেইজ দরকার আর একটা পেইজের জন্য লোগো, প্রোফাইল ফটো, কভার ফটো, স্টোরি, লোকেশন সহ আরও প্রায় কয়েক ডজন ফিচার এনাবেল করার প্রয়োজন হয়।
অর্ডার গ্রহণ করা থেকে শুরু করে, ডেলিভারি ডেট, পেমেন্ট রিসিভ, লাভ-লস, কাস্টমার রিলেশন ম্যানেজমেন্ট সহ যাবতীর রেকর্ড সংরক্ষণের জন্য আপনার বিজনেসের ধরন অনুযায়ী রেকর্ড বুক বা টেমপ্লেট দরকার হবে।
আপনি যদি সঠিক ভাবে নিয়মিত এসব রেকর্ড সংরক্ষণ করতে পারেন তবে নির্দিষ্ট সময় পর পর আপনার বিজনেস কি উর্ধ্বমুখী না নিম্নমুখী সেটাও সহজে বুঝতে পারবেন।
এছাড়াও পেইড প্রোমশনের ক্ষেত্রে আপনার বিজনেসের বর্তমান পরিস্থিতি, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং কারা আপনার সম্ভাব্য কাস্টমার এ সবকিছুই মাথায় রাখতে হবে। শুধুমাত্র বুস্ট দিয়ে টাকাগুলো জলে ফেলবেন না। আপনার প্রোডাক্ট বা সার্ভিসকে সবার সামনে সঠিক উপায়ে তুলে ধরার জন্য ফেসবুক বর্তমানে এমন সব ফিচার নিয়ে এসেছে যার মাধ্যমে আপনি কেবল স্পেসিফিক আপনার ক্রেতাকে খুজে বের করে টার্গেট করতে পারবেন। ফেইসবুকে পেইড প্রোমশনের জন্য বেশকিছু বিষয় আপনাকে মাথায় রাখতে হবে চলুন সেগুলো নিয়ে একটু আলোচনা করা যাক।
প্রথমে আপনাকে আপনার ক্যাম্পেইন অব্জেক্টিভ নির্ধারন করতে হবে। ফেসবুকে প্রায় ১১ ধরনের ক্যাম্পেইন অব্জেক্টিভ রয়েছে যেগুলো হলো,
• awareness
• Brand Awareness
• Reach Consideration
• Traffic
• Engagement
• App Installs
• Video Views
• Lead Generation
• Messages Conversion
• Conversions
• Catalog Sales
• Store Traffic
এখান থেকে অবশ্যই আপনার বিজনেসের বর্তমান কন্ডিশন এবং ধরন অনুযায়ী ভবিষ্যতে আপনি কি চাচ্ছেন তার উপর নির্ভর করে অবজেক্টিভ সিলেক্ট করতে হবে। উল্লেখিত ১১টি অব্জেক্টিভের মধ্যে রয়েছে আরও কয়েক ডজন আলাদা আলাদা ফিচার যেগুলো আপনার অবজেক্টিভকে আরও বেশি স্পেসিফিক করবে এবং আপনার ROI বৃদ্ধি করবে।
এরপরে আপনি ক্যাম্পেইন সেট করে তার মধ্যে একাধিক এড সেট তৈরি করে A/B টেস্ট করতে পারেন কেননা সবসময় সব রকমের এড থেকে ভালো ফলাফল পাওয়া যায়না সেক্ষেত্রে স্প্লিট টেস্টের মাধ্যমে সেরাটা বাছাই করে নেয়া অত্যন্ত জরুরী। এই কাজটি আপনি এড লেভেলে গিয়ে ফেসবুককে দিয়েও করিয়ে নিতে পারবেন।
এরপরে কথা বলা যায় বাজেটিং নিয়ে, এটা খবই গুরুত্বপুর্ন কেননা বাজেটের উপরেই আপনার প্রোমশনের ফলাফল নির্ভর করে। তবে বেশি রিচ পাওয়ার আশায় বেশি বাজেট করলে শুধুই আর্থিক লস হবে।
পেইড প্রোমশনের সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং পার্ট হলো অডিয়েন্স সিলেক্ট করা। মূলত এখানে যতটা দক্ষতার পরিচয় দিতে পারবেন ততোই আপনি লাভবান হবেন। লোকেশন, এইজ, জেন্ডার, ইন্টারেস্ট সহ অন্যান্য ডেমোগ্রাফিক যাই বলেন কি নেই এখানে! ফেইসবুকের এরকম ইউজফুল এবং মজাদার ফিচার নিয়ে বলতে গেলে আসলে একটা পোস্টের মাধ্যমে বুঝানো সম্ভব হবেনা। সবকিছু মাথায় নিতে গেলে দীর্ঘ সময় এবং প্রাক্টিসের দরকার।
এখন আপনার মনে প্রশ্ন জাগতে পারে আমি কি বিজনেস করবো নাকি এসব নিয়ে বসে থাকবো? এর উত্তর হলো আপনার এসব নিয়ে বসে থাকার দরকান নেই। প্রোমশনাল কাজগুলো ছেড়ে দিন প্রফেশনালদের হাতে আর আপনি নিশ্চিন্তে বিজনেস করুন।
তো এখন ট্রাস্টেড প্রফেশনাল কই পাবেন?
আপনাদের এই চাহিদা মেটানোর জন্যই আমরা কাজ করে যাচ্ছি ফেসবুক মার্কেটিং সহ সকল প্রকার ডিজিটাল মার্কেটিং নিয়ে। আপনার যদি বর্তমান একটা ফেইসবুক বিজনেস পেইজ থাকে এবং সেটিকে প্রফেশনাল করতে চান অথবা আপনার কিছুই নেই কিন্তু এখন থেকে শুরু করতে চাচ্ছেন তাহলে আপনার জন্যই আমরা রয়েছি। শুরু থেকে এই পোস্টে যেসকল রিকয়ারমেন্টের কথা উল্লেখ করেছি তার সবকিছুই আমরা প্রোভাইড করছি।
আপনার যেরকম সার্ভিস প্রয়োজন বিজনেসের ধরন অনুযায়ী আগা গোড়া বিশ্লেষণ করে সে অনুযায়ী আমি সেরাটাই দেয়ার চেষ্টা করবো। প্রয়োজন হলে আমাদের পেইজের page Creation সার্ভিসটি দেখে নিতে পারেন সার্ভিস না নিলেও আপনার পেইজে কি কি ফিচার থাকা উচিৎ তার একটা আইডিয়া পাবেন। এছাড়াও সকল প্রকার পেইড এডভার্টাইজিং/বুস্টিং সার্ভিস তো পাচ্ছেনই।
- Tech Makki
- Contact Us - ☎ +8801537652663