15/05/2022
ইসরাইলি সেনাদের গুলিতে নিহত আল জাজিরার সাংবাদিক শিরিন আবু আকলে তার ফেসবুকে এই পোস্টটি করেছিলেন মার্চ মাসে। ইসরায়েলি আগ্রাসনের শিকার ফিলিস্তানের মানুষের জীবনকে কতটা দুর্বিসহ করে তুলেছে তার ছোট্ট একটি উদাহরন এই পোস্ট।
এই চিঠিটি লিখেছেন ফিলিস্তানের ৪ বছরের শিশু আহমেদ তার প্রয়াত দাদীকে। স্কুলে তার ক্লাসে শিশুদের নিজেদের আগ্রহ থেকে কিছু লিখতে বলা হলে আহমেদ এই চিঠি লিখেন ।
চিঠিতে আহমেদ যা লিখেছেন:
হাই সবাইকে,
দুর্ভাগ্যবশত আমি আজ খুব ব্যথিত। " হয়তো তুমি জানো না, কিন্তু আমি মূলত গাজা থেকে এসেছি, গতকাল আমি গাজায় বসবাসরত আমার দাদীকে হারিয়েছি। ৩২ দিন ধরে সে আইসিইউতে ছিল। দখলদারিত্বের কারণে ( ইসরায়েলি দখলদার বাহিনীর কারনে) এতদিন তার সাথে সরাসরি দেখা করার সৌভাগ্য আমার হয়নি, কারণ আমি গাজায় যেতে পারিনি।আমি ভিডিওর মাধ্যমে তার সাথে কথা বলছিলাম এবং আমরা খুব কাছাকাছি ছিলাম। সে উদার মনের মানুষ ছিল এবং আমি তাকে সবসময় মনে রাখবো ।
একদন মানুষ জানেনা তার প্রিয়জনকে কখন তাকে ছেড়ে যাবে, কিন্তু আমরা সব সময় তাদের জন্য ভালোবাসা জমিয়ে রাখি।
শোনার জন্য ধন্যবাদ"
যা ঘটার তা ঘটবেই। শান্তিতে ঘুমাও…।
আহমেদ রামাল্লায় বসবাস করেন। সে স্বতঃস্ফূর্তভাবে লিখেছিলেন ফিলিস্তিনি শিশুর যন্ত্রণার কথা যে তার দাদীর কাছ থেকে মাত্র দশ কিলোমিটার দূরে থাকে এবং জীবনে একবারও দেখার সুযোগ পায়নি !
ফিলিস্তানিদের এমন যন্ত্রনার গল্পই তুলে ধরতেন শিরিন। আর সেকারণেই ইসরায়েলি সেনারা সাংবাদিক শিরিনকে গুলি করে হত্যা করে।
[প্রথম ছবি দুটি শিশু আহমেদের চিঠি এবং ৩য় ছবিটিতে সাংবাদিক শিরিন আবু আকলে]