12/08/2026
বন্দরে অবৈধ গ্যাস সংযোগ উচ্ছেদে অভিযান, বিচ্ছিন্ন প্রায় ২৫০ সংযোগ ।
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি :
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে অবৈধ গ্যাস সংযোগের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে প্রায় ২৫০টি আবাসিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের জোনাল বিক্রয় অফিস-বন্দর।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) মদনপুর ও কুড়িপাড়া এলাকায় পৃথক তিনটি স্পটে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে দুটি স্পটে অবৈধ গ্যাস ব্যবহারের দায়ে মোট ২ লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়,
নারায়ণগঞ্জের সহকারী কমিশনার ও বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিজ সুহা তাবিলের নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়।
অভিযানে তিতাস গ্যাসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে অবৈধ গ্যাস সংযোগ ও বিতরণ লাইনের বিভিন্ন অংশ বিচ্ছিন্ন এবং পাইপলাইন ও বার্নারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম অপসারণ করেন।
মদনপুরে প্রথম অভিযানে দেড় লাখ টাকা জরিমানা ।
অভিযানের প্রথম স্পট ছিল বন্দরের মদনপুর এলাকায়, বন্দর স্টিলের বিপরীতে। সেখানে আবাসিক ও বাণিজ্যিক পর্যায়ে অবৈধভাবে গ্যাস ব্যবহারের তথ্য পেয়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযান সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ওই এলাকায় প্রায় ৭টি বাণিজ্যিক বার্নার এবং আনুমানিক ১০০টি আবাসিক ডাবল বার্নার পাওয়া যায়। এসব অবৈধ সংযোগের সম্ভাব্য গ্যাস লোড ছিল বাণিজ্যিক পর্যায়ে ঘণ্টায় প্রায় ৪৬০ ঘনফুট এবং আবাসিক পর্যায়ে প্রায় ২ হাজার ১০০ ঘনফুট।
অভিযানকালে একটি ১০০ ঘনফুটের স্টার বার্নার, দুটি ৭৫ ঘনফুটের স্টার বার্নার, একটি ৪৫ ঘনফুটের স্টার বার্নার, একটি মডিফাইড বার্নার, প্রায় ৩০ ফুট ১.৫ ইঞ্চি পাইপ, ৬০ ফুট ১ ইঞ্চি পাইপ, ৮০ ফুট ৩/৪ ইঞ্চি পাইপ ও দুটি রেগুলেটর অপসারণ করা হয়।
এ ঘটনায় মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। তবে কোনো মামলা করা হয়নি।
দ্বিতীয় স্পটেও অবৈধ সংযোগ, জরিমানা ৭০ হাজার ।
একই এলাকার আকিব সিএনজির পাশে দ্বিতীয় স্পটে অভিযান চালানো হয়। সেখানে বাণিজ্যিক ও আবাসিক উভয় শ্রেণির অবৈধ গ্যাস সংযোগের সন্ধান পাওয়া যায়।
অভিযান সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, সেখানে প্রায় ৩টি বাণিজ্যিক বার্নার এবং আনুমানিক ১০০টি আবাসিক ডাবল বার্নার ছিল। বাণিজ্যিক সংযোগের সম্ভাব্য লোড ঘণ্টায় প্রায় ১৭৫ ঘনফুট এবং আবাসিক লোড প্রায় ২ হাজার ১০০ ঘনফুট বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযানে দুটি ৭৫ ঘনফুটের স্টার বার্নার ও একটি ২৫ ঘনফুটের স্টার বার্নার অপসারণ করা হয়। এ ঘটনায় মোবাইল কোর্ট ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। এখানেও কোনো মামলা বা এফআইআর করা হয়নি।
একই উৎস থেকে প্রায় ২০০ আবাসিক সংযোগ
অভিযানের গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মদনপুরের প্রথম ও দ্বিতীয় স্পটে থাকা অবৈধ বিতরণ লাইনের সংযোগের উৎস ছিল একই। অভিযানকালে ওই মূল উৎসে ‘কিলিং’ করে অবৈধ বিতরণ লাইন বিচ্ছিন্ন করা হয়।
এর ফলে আনুমানিক ২ কিলোমিটার এলাকার প্রায় ২০০টি আবাসিক গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। একই উৎস থেকে দীর্ঘ এলাকায় অবৈধভাবে গ্যাস বিতরণের বিষয়টি স্থানীয়ভাবে অবৈধ গ্যাস নেটওয়ার্কের বিস্তারের একটি চিত্র তুলে ধরেছে।
কুড়িপাড়ায় আরও ৫০ আবাসিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন
অভিযানের তৃতীয় স্পট ছিল বন্দরের কুড়িপাড়া এলাকা। এটি ছিল আবাসিক এলাকা। সেখানে আনুমানিক ৫০টি আবাসিক ডাবল বার্নার অবৈধ গ্যাস সংযোগের আওতায় ছিল বলে অভিযান সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সম্ভাব্য গ্যাস লোড ঘণ্টায় প্রায় ১ হাজার ৫০ ঘনফুট।
এখানে অবৈধ ১ ইঞ্চি বিতরণ লাইনের সংযোগ উৎসে কিলিং করে দেওয়া হয়। এর ফলে প্রায় ৫০টি আবাসিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় কোনো জরিমানা কিংবা মামলা করা হয়নি।
মোট চিত্র
তিনটি স্পটে পরিচালিত অভিযানে অবৈধ গ্যাস সংযোগের বিভিন্ন সরঞ্জাম ও বিতরণ লাইনের অংশ অপসারণ করা হয়। মদনপুরের দুটি স্পটে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে মোট ২ লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। একই সঙ্গে মদনপুর ও কুড়িপাড়া মিলিয়ে আনুমানিক ২৫০টি আবাসিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।
অভিযান সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, তিনটি স্পটেই অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ গ্যাস ব্যবহারের সম্ভাবনা ছিল।
বিশেষ করে একই উৎস থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকায় অবৈধভাবে গ্যাস বিতরণের বিষয়টি জ্বালানি অপচয় ও নিরাপত্তা ঝুঁকির দিকটি সামনে এনেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অবৈধ গ্যাস সংযোগ শুধু রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতিই করে না, নিম্নমানের বা অননুমোদিত পাইপলাইন ব্যবহারের কারণে অগ্নিকাণ্ড ও দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ায়। তাই অবৈধ সংযোগের মূল উৎস শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি এসব সংযোগ পুনরায় স্থাপিত হচ্ছে কি না, সে বিষয়েও নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন।
তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের এ ধরনের অভিযান অবৈধ গ্যাস ব্যবহার ও বিতরণ বন্ধে কতটা কার্যকর হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। একই সঙ্গে অবৈধ সংযোগের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা চক্রকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
তারেক হাসান চৌধুরী।
দৈনিক পত্রিকার পাতা
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
মোবাইল - ১৯১৭৫৫ ৭৭ ৪২