01/03/2024
নামাজে ওয়াসওয়াসা দুই কারণে হয়ে থাকে।
(ক) অভ্যন্তরীণ কারণ।
(খ) বহিরাগত কারণ।
➤ (ক) অভ্যন্তরীণ অর্থাৎ ভিতরের কারণ যা সম্পূর্ণ রূপে অন্তরের সঙ্গে জড়িত ।
মানুষের অন্তর/নফস তিন প্রকার।
(১) "নফসে মুতমায়িন্নাহ" এটা মানুষকে সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজ হতে বিরত রাখতে সচেষ্ট থাকে।
(২)" নফসে লাওয়ামাহ"এটা ভালো কাজের আদেশ করতে পারে না।
(৩)" নফসে আম্মারাহ"এটা নেক কাজের আদেশ করে না শুধু খারাপ ও হীন কাজের আদেশ দিয়ে থাকে। এটা মানুষকে একেবারে ধ্বংস করে দেয়।
☞ যার মাঝে যে নফস/অন্তর বেশি শক্তিশালী হয়, সে ওই নফসের অনুকরণে কাজ করে থাকে।
শয়তান সর্বদাই নাফসে আম্মারাহকে শক্তিশালী করার প্রচেষ্টা করে । আর এর মধ্যেই শয়তান ওয়াসওয়াসা তৈরি করে ।
যার ফলে মাঝে মাঝে নামাজের মধ্যে অবাস্তব ও অশ্লীল চিন্তা ভাবনা বা খারাপ চিন্তা ঘোরাফেরা করে ।
➤ (খ) বহিরাগত কারণ
দিবারাত্রিতে রাস্তাঘাটে ঘোরাফেরার দরুন অসংখ্য দৃশ্য পরিলক্ষিত হয়। নামাজে দাঁড়ালে ওইসব দৃৃশ্য ভেসে ওঠে। ফিজিক্যালি বাস্তবে যে সমস্ত ঘোরাফেরা ও কাজকর্ম হয়ে থাকে সেটাকে নামাজের মধ্যে খিনজিব শয়তান বেশি বেশি মনে করিয়ে দেয় ।
তাহলে নামাজের মধ্যে খারাপ চিন্তা ভাবনা বা দুনিয়ার বিভিন্ন কথা মনে আসে কেন,তা আপনারা পরিষ্কার বুঝতে পারলেন ।
➤ শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে বাচার পদ্ধতি-
(১) নাফসে মুতমায়িন্না ও নফসে লাওয়ামাহ কে বেশী বেশী নেক আমল করে শক্তিশালী করতে হবে ।
(২) ভালভাবে অযু করতে হবে ।
(৩) নামাজ শুরু করার পূর্বে একবার বিশেষ করে আউযুবিল্লাহ ও বিসমিল্লাহ পড়তে হবে ।
(৪) নামাজের সূরা, রুকুর তাসবীহঃ, সেজদার তাসবিহ, আত্তাহিয়্যাতু দরুদ শরীফ ইত্যাদি ধীর-স্থিরভাবে মনোযোগ সহকারে পড়তে হবে । এবং সর্বদাই সেই গুলির দিকে মনোযোগ স্থির রাখার চেষ্টা করতে হবে ।
তাহলে নামাজের মধ্যে আজেবাজে চিন্তা আশা থেকে মুক্তি পাওয়া এবং নামাজে মনোযোগী হওয়া যাবে ।
➤ তার পরেও যদি নামাজের মধ্যে কোন কোন সময় আজেবাজে চিন্তা চলে আসে তাহলে যা করতে হবে তা হল- নামাজের মধ্যেই খাস করে আল্লাহর কাছে শয়তান থেকে আশ্রয় চাইতে হবে ।
☞ পবিত্র হাদীছ শরীফ এর মধ্যে এসেছে ।
উসমান ইবনে আবুল আস (রাঃ) নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট এসে বললেন-হে আল্লাহর রসূল! শাইতান আমার নামাজ ও কিরাআতের মধ্যে বাধা হয়ে দাঁড়ায় এবং সব কিছুতে গোলমাল বাধিয়ে দেয়।
তখন রসুলূল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: এটা এক (প্রকারের) শাইতান-যার নাম ‘খিনযিব’। যে সময় তুমি তার উপস্থিতি বুঝতে পারবে তখন তার অনিষ্ট হতে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চেয়ে তিনবার তোমার বাম পাশে থু থু ফেলবে।
তিনি বলেন, তারপরে আমি তা করলাম আর আল্লাহ আমার হতে তা দূর করে দিলেন।
( এরপর এমন হলে আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ও সাল্লামের কথা মতো কাজ করতাম আর সমস্যা দূর হয়ে যেত)
☞ মনে মনে আঊযুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম একবার পাঠ করে বামদিকে হালকা মাথা ঘুরিয়ে তিনবার থুথু ফেলবেন । তবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন জায়গায় বা ঘরে অথবা মসজিদে যদি কেউ থুতু ফেলে তাহলে সেটা কেউ পছন্দ করবে না সকলে নোংরা মানুষ ভাববে এবং এর দ্বারা বিতর্ক সৃষ্টি হতে পারে ,তাই খুব হালকা বাম দিকে মাথা ঘুরিয়ে কাঁধের উপরে শুধুমাত্র থু থু করবেন যার দ্বারা খুব সামান্য পরিমাণ কুয়াশার মতো বের হয়ে ছিটে লাগবে ।
এবং পোশাকের ওপর আলকাপ থুথুর ছিটে পড়বে , তারপর নামাজ পড়া হয়ে গেলে ভেজা গামছা দিয়ে মুছে নেবেন ।