11/10/2025
রিকশাচালক রহিম ও বিবেকের মূল্য
রহিম একজন গরিব রিকশাচালক। তার জীবনে অভাব নিত্যসঙ্গী, কিন্তু সে ছিল প্রচণ্ড সৎ। নৈতিকতা ছিল তার জীবনের প্রধান পুঁজি।
একদিন এক ধনী ব্যবসায়ীকে পৌঁছে দেওয়ার পর রহিম তার রিকশার সিটে একটি মোটাসোটা চামড়ার মানিব্যাগ খুঁজে পেল। ভেতরে ছিল তার বছরের পর বছর ধরে রোজগারের চেয়েও বেশি টাকা, সাথে অনেক মূল্যবান কার্ড।
মানিব্যাগটা হাতে নিতেই তার মনে এলো মেয়ের অসুস্থতা, ভাঙা ঘরের চালের কথা। তার ভেতরের লোভ একবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠল—"কেউ তো দেখেনি, এই টাকা দিয়ে সব সমস্যা দূর হয়ে যাবে!"
কিন্তু পরক্ষণেই তার বিবেক বলল, "না রহিম! এই টাকা তোমার নয়। তোমার সততা তোমার জীবনের সবচেয়ে বড় অলংকার, সেটাকে নষ্ট করো না। অন্যের কষ্টার্জিত অর্থে শান্তি আসে না।"
মুহূর্তের মধ্যে সে কঠিন সিদ্ধান্তটি নিল। সে দ্রুত সেই ব্যবসায়ীর বাড়িতে গিয়ে মানিব্যাগটি ফিরিয়ে দিল। ব্যবসায়ী তখন চরম দুশ্চিন্তায় ছিলেন। তিনি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, "এত টাকা দেখেও কেন তুমি ফিরিয়ে আনলে?"
রহিম বিনয়ের সঙ্গে বলল, "স্যার, আমার জীবনে অভাব আছে, কিন্তু আমার নৈতিকতা নেই—এমনটা আমি হতে দিতে পারি না। এটা আমার কর্তব্য ছিল।"
ব্যবসায়ী মুগ্ধ হলেন। তিনি রহিমকে মোটা অঙ্কের পুরস্কার দিতে চাইলেন, কিন্তু রহিম নিতে অস্বীকার করল। শেষে ব্যবসায়ী তার মেয়ের চিকিৎসার জন্য সামান্য কিছু টাকা জোর করে দিলেন এবং তাকে নিজের অফিসে ভালো একটি চাকরির প্রস্তাব দিলেন।
রহিম বুঝতে পারল, লোভকে জয় করে সে শুধু একটি মানিব্যাগই ফেরৎ দেয়নি, বরং তার নৈতিকতা তাকে অভাবের জীবন থেকে সম্মানের জীবনে উত্তরণের পথ দেখিয়েছে।
নৈতিক শিক্ষা: অর্থের লোভ বা জীবনের চরম অভাবও যেন আপনার নৈতিক আদর্শকে নষ্ট করতে না পারে। বিবেকের শান্তি সব সম্পদের চেয়ে মূল্যবান।