30/12/2025
বাংলাদেশের রাজনীতি আজ শোকস্তব্ধ। এক দীর্ঘ সংগ্রাম, আত্মত্যাগ ও গণতান্ত্রিক লড়াইয়ের অধ্যায় শেষ হলো। বেগম খালেদা জিয়া—একটি নাম নয়, একটি সময়, একটি সংগ্রামের ইতিহাস।
১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট জন্ম নেওয়া এই মহীয়সী নারী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের পর এক গভীর অসহায়তার মধ্য দিয়ে রাজনীতির কঠিন ময়দানে প্রবেশ করেন। ব্যক্তিগত শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে তিনি পরিণত হন গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আপসহীন নেত্রীতে। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তাঁর নেতৃত্ব ছিল সাহসী, দৃঢ় ও ঐতিহাসিক।
১৯৯১ সালে প্রধানমন্ত্রী হয়ে তিনি একদলীয় স্বৈরতন্ত্রের ধ্বংসস্তূপের ওপর সংসদীয় গণতন্ত্র পুনর্গঠন করেন এবং জনগণের ভোটাধিকারকে রাষ্ট্রের কেন্দ্রবিন্দুতে পুনঃস্থাপন করেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তনের মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করেন—ক্ষমতার চেয়েও নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা বড়।
২০০১ সালে দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হয়ে বেগম খালেদা জিয়া শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নকে রাষ্ট্রনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে আনেন। নারী শিক্ষায় উপবৃত্তি ও শিক্ষা সম্প্রসারণ কর্মসূচির মাধ্যমে তিনি লাখো দরিদ্র পরিবারের মেয়েকে বিদ্যালয়ের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেন, যা নারী শিক্ষায় এক নীরব বিপ্লব সৃষ্টি করে। গ্রামীণ সড়ক, কালভার্ট, ব্রিজ ও অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে তিনি গ্রামকে বিচ্ছিন্নতা থেকে মুক্ত করে জাতীয় অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত করেন। বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ খাতে তাঁর সময়ের বাস্তবমুখী সিদ্ধান্ত শিল্প, কৃষি ও কর্মসংস্থানের নতুন গতি সঞ্চার করে, ফলে উন্নয়ন শহরের সীমানা পেরিয়ে প্রত্যন্ত জনপদ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়।
প্রশ্নে আপস না করায় তাঁকে বারবার নির্যাতন, মিথ্যা মামলার শিকার হতে হয়েছে, কারাবরণ করতে হয়েছে। শারীরিক অসুস্থতা ও নিঃসঙ্গ বন্দিজীবনও তাঁর রাজনৈতিক বিশ্বাসকে নত করতে পারেনি। শেষ দিন পর্যন্ত তিনি ছিলেন গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকারের প্রতীক। আজ তাঁর প্রস্থান কেবল একজন নেত্রীর মৃত্যু নয়; এটি গণতান্ত্রিক সংগ্রামের এক অমূল্য অধ্যায়ের সমাপ্তি।
আজ তাঁর প্রস্থান জাতির জন্য এক অপূরণীয় শূন্যতা। ইতিহাস তাঁকে মনে রাখবে সংগ্রামের সাহস, আত্মমর্যাদা ও গণতন্ত্রের অদম্য প্রতীক হিসেবে।
“একটি জীবন, একটি সংগ্রাম—
বেগম খালেদা জিয়া-গণতন্ত্রের নাম ।”