04/12/2022
লিটন কুমাস দাসের অধিনায়কত্বে প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমেছিল বাংলাদেশ। ভারতকে মাত্র ১৮৬ রানে থামিয়ে দিয়ে অনায়াস এক জয়ের স্বপ্নও হয়তো দেখে থাকবেন টাইগার ক্রিকেটাররা। কিন্তু চরম ব্যাটিং ব্যর্থতায় মাত্র ১৩৬ রানেই ৯ উইকেট হারিয়ে ফেলে টাইগারেরা। আরেকটা লজ্জাজনক পরাজয় অপেক্ষায় ছিল যেন। কিন্তু এরপরে যা হলো, সেটা এক কথায় স্রেফ অবিশ্বাস্য! চোখে দেখেও বিশ্বাস হতে চায় না! মাত্র ৩৯ বলে ৫১ রানের অসমসাহসী এক জুটিতে এক উইকেটের অসামান্য এক জয় নিয়ে ফিরলেন মেহেদি হাসান মিরাজ ৩৮* (৩৯) এবং মুস্তাফিজুর রহমান ১০* (১১)।
ওয়ানডে নেতৃত্বের অভিষেকে টস জিতে ভারতকে ব্যাটিংয়ে পাঠান লিটন দাস। নতুন বলে মুস্তাফিজুর রহমান ও হাসান মাহমুদ শুরু করলেও তৃতীয় ওভারেই মেহেদী হাসান মিরাজের স্পিন আক্রমণে আনেন অধিনায়ক। প্রথম সাফল্যও আসে তার হাত ধরে। কিছুটা ধীরগতির শুরুর পর পঞ্চম ওভারে মিরাজকে রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে বল স্টাম্পে টেনে আনেন শিখর ধাওয়ান (১৭ বলে ৭)। বল হাতে নিয়েই আবার চিত্র পাল্টে দেন সাকিব। প্রথম ওভারেই বিদায় করে দেন তিনি রোহিত ও বিরাট কোহলিকে! প্রথমটি অসাধারণ ডেলিভারিতে, পরেরটি লিটনের চোখধাঁধানো ক্যাচে। রোহিত (৩১ বলে ২৭) বুঝতেই পারেননি সাকিবের আর্ম ডেলিভারি। স্পিন করবে ভেবে ব্যাট পেতে দেন তিনি, সাকিবের স্লাইডার ব্যাট-প্যাডের ফাঁক দিয়ে ছোবল দেয় স্টাম্পে। এক বল পরই আরেক জোর ধাক্কা ভারতের। সাকিবের ঝুলিয়ে দেওয়া ডেলিভারিতে বিভ্রান্ত কোহলি (১৫ বলে ৯) টাইমিং করতে পারেনি ঠিকমতো। শর্ট কাভারে ডান দিকে ঝাঁপিয়ে দুর্দান্ত রিফ্লেক্স ক্যাচ নেন লিটন। ৮ মাসের বেশি সময় পর ওয়ানডে খেলতে নেমে সাকিবের শিকার ৩৬ রানে ৫ উইকেট। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে এই স্বাদ পেলেন তিনি চতুর্থবার। ভারতর বিপক্ষে আগে ৪ উইকেটও ছিল না তার।
টেস্ট দলের নিয়মিত পেসার ইবাদত ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ওয়ানডে খেলতে নেমেই দেখা পেলেন ৪ উইকেটের। ভারতের টপ ও মিডল অর্ডারের অন্যদের ব্যর্থতাই একাই লড়াই করেন লোকেশ রাহুল। এমনিতে ওপেনার হলেও এ দিন পাঁচে নেমে তিনি ৭৩ করেন ৭০ বলে। ভারত অল আউট হয় ১৮৬ রানে।
১৮৭ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে প্রথম বলেই আউট হন নাজমুল হোসেন শান্ত, অল্প রানেই ফেরেন এনামুল বিজয়ও। লিটন ৪১ ও সাকিব ২৯ রানে আউট হবার পর হাল ধরেন মুশফিক-মাহমুদুল্লাহ। কিন্তু তাদের সম্মিলিত খেলা ৮০ বলে দল পিছিয়ে পড়ে, ওঠে মাত্র ৩২ রান। পর পর দুই বলে এই দুজন আউট হয়ে গিয়ে দলকে ফেলে যান গভীর বিপদে। ১৮৭ রান তাড়ায় এক সময় ৪ উইকেটে ১২৮ রানের স্কোর ছিল বাংলাদেশের। সে সময় নামে নাটকীয় ধস, ৮ রানের মধ্যেই ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলে তারা। জয়ের পথে ছুটতে থাকা বাংলাদেশ হুট করেই হাজির হয় হারের দ্বারপ্রান্তে।
আটে নামা মিরাজের সঙ্গে যখন শেষ ব্যাটসম্যান মোস্তাফিজ যোগ দেন, বাংলাদেশের তখনো প্রয়োজন ছিল ৫১ রান। শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের প্রায় অর্ধেক দর্শক তখন মাঠ ছেড়ে চলে গেছেন। কিন্তু যাঁরা ছিলেন, তাঁদেরকে অনেক দিন মনে রাখার মতো এক ম্যাচ উপহার দিল মিরাজ-মোস্তাফিজের শেষ উইকেট জুটি। মিরাজ করেছেন দারুণ আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিং, মাঝে ভাগ্যের সহায়তাও পেয়েছেন। মোস্তাফিজ তাঁকে সঙ্গে দিয়েছেন দারুণভাবে। মিরাজও আস্থা রেখেছেন তাঁর ওপর।
২০১৫ সালে ভারত যখন বাংলাদেশে সর্বশেষ দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলতে এসেছিল, সিরিজ জিতেছিল বাংলাদেশ। ওই সিরিজেই ভারতকে এর আগে সর্বশেষ এ সংস্করণে হারায় বাংলাদেশ। আজ সাত বছর পর এলো আরেকটি জয়। সব মিলিয়ে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের এটি ষষ্ঠ ওয়ানডে জয়।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
ভারত: ৪১.২ ওভারে ১৮৬ (রোহিত ২৭, ধাওয়ান ৭, কোহলি ৯, শ্রেয়াস ২৪, রাহুল ৭৩, ওয়াশিংটন ১৯, শাহবাজ ০, শার্দুল ২, চাহার ০, সিরাজ ৯, কুলদিপ ২*; মুস্তাফিজুর ৭-১-১৯-০, হাসান ৭-১-৪০-০, মিরাজ ৯-১-৪৩-১, সাকিব ১০-২-৩৬-৫, ইবাদত ৮.২-০-৪৭-৪)
বাংলাদেশ: ৪৬ ওভারে ১৮৭/৯ (শান্ত ০, লিটন ৪১, এনামুল ১৪, সাকিব ২৯, মুশফিক ১৮, মাহমুদউল্লাহ ১৪, আফিফ ৬, মিরাজ ৩৮*, ইবাদত ০, হাসান ০, মুস্তাফিজ ১০*; চাহার ৮-১-৩২-১, সিরাজ ১০-১-৩২-৩, কুলদিপ ৫-০-৩৭-২, শাহবাজ ৯-০-৩৯-০, ওয়াশিংটন ৫-০-১৭-২, শার্দুল ৯-১-২১-১)