06/03/2026
পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ বনাম 'গ্রেট ইসরায়েল': মধ্যপ্রাচ্যে কোন ভয়ংকর খেলা চলছে?
আসসালামু আলাইকুম। সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এবং ইরানের ওপর হামলা নিয়ে আমাদের অনেকের মনেই কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন জেগেছে। আজ সেই প্রশ্নগুলোর গভীর বিশ্লেষণ আপনাদের সামনে তুলে ধরছি:
১. ইরান পারমাণবিক সমঝোতায় রাজি হওয়ার পরও কেন হামলা করা হচ্ছে?
ইরান আন্তর্জাতিকভাবে পরমাণু অস্ত্র না বানানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল এবং চুক্তিতেও সই করেছিল। তবুও কেন আমেরিকা ও ইসরায়েল হামলা থামায়নি? এর উত্তর স্পষ্ট—পারমাণবিক অস্ত্র কেবল একটি বাহানা। তাদের আসল লক্ষ্য হলো ইরানের সামরিক শক্তি এবং তাদের আঞ্চলিক প্রভাবকে ধ্বংস করা। তারা চায় না মধ্যপ্রাচ্যে এমন কোনো দেশ শক্তিশালী থাকুক যা তাদের আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে।
২. 'গ্রেট ইসরায়েল' গঠনের পথে কি তবে ইরানই বাধা?
জায়নবাদী আদর্শ অনুযায়ী তারা নীল নদ থেকে ফোরাত নদী পর্যন্ত 'বৃহত্তর ইসরায়েল' বা গ্রেট ইসরায়েল বানানোর স্বপ্ন দেখে। আর এই স্বপ্নের পথে সবচেয়ে বড় দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ইরান ও তাদের সমর্থিত প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলো। তাই ইরানকে সামরিকভাবে পঙ্গু করে দিতে পারলেই তাদের সীমানা বাড়ানোর রাস্তা পরিষ্কার হয়ে যায়। এটি কেবল যুদ্ধ নয়, এটি একটি মানচিত্র বদলের নীলনকশা।
৩. ভারত ও ইসরায়েলের ক্ষমতা ভাগাভাগির সমজোতা কী?
বর্তমান ভূ-রাজনীতিতে ভারত ও ইসরায়েলের মিত্রতা কেবল বাণিজ্যে সীমাবদ্ধ নেই। আন্তর্জাতিক করিডোর (IMEC) এবং I2U2 জোটের মাধ্যমে তারা মধ্যপ্রাচ্যের নিয়ন্ত্রণ ভাগ করে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে। একপাশে ভারত তার অর্থনৈতিক ও নৌ-আধিপত্য বিস্তার করবে, আর অন্যপাশে ইসরায়েল রাজনৈতিক ও সামরিক নিয়ন্ত্রণ নেবে। অর্থাৎ, ইসলামি বিশ্বের প্রাণকেন্দ্রকে দুই দিক থেকে চেপে ধরার এক গোপন আঁতাত চলছে।
সারকথা ও ঝুঁকি:
যদি এই নীল নকশা সফল হয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যে কোনো শক্তিশালী মুসলিম রাষ্ট্র থাকবে না। শিয়া-সুন্নী নির্বিশেষে প্রতিটি ইসলামি শক্তিকে কোণঠাসা করা হবে। এটি কেবল ইরানের জন্য ঝুঁকি নয়, বরং পুরো ইসলামি বিশ্বের অস্তিত্বের জন্য হুমকি। দাজ্জালি শক্তির এই উত্থান রুখতে হলে আমাদের এখনই ঈমানী সচেতনতা বাড়াতে হবে এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতির এই চালগুলো বুঝতে হবে।
আল্লাহ তায়ালা আমাদের ষড়যন্ত্রকারীদের চক্রান্ত থেকে হিফাজত করুন। আমীন।