21/11/2022
ব্যবসায় ১৫ টি ভুল যা আমরা করে থাকি - পর্ব ০১
আমরা যখন কোন বিজনেস শুরু করি তখন পুরো উদ্যম পুরো জোস নিয়েই শুরু করি কিন্তু একটা পর্যায়ে যেয়ে দেখা যায় আমরা আমদের উদ্যম আর ধরে রাখতে পারিনা এবং এটাও মনে হয় যে শুরুতেই আসলে আমরা অনেক ভুল করে এসেছি যা এখন না সংশোধন করতে পারছি না আবার বিজনেস অফ করে দিতে পারছি । নানা বিধ শঙ্কায় আমরা হতাশ হয়ে পড়ি ।
এখান থেকে তারাই পরিত্রাণ পায় যারা একটু পিছনে যেয়ে ভুল গুলো শূদ্রে আবার শুরু করে ।
আজকে আমি সেরকম ই কিছু কমন ভুল নিয়ে আপনাদের সাথে কথা বলব যে গুলো শুরু থেকেই আমাদের এড়িয়ে চলতে হবে । যদি শুরু থেকেই আমরা আমাদের ভুল নিয়ে সচেতন হই তাহলে আশা করছি আমরা সফল হব ইনশা আল্লাহ । তো চলুন শুরু করা যাকঃ
০১। বিজনেস মডেল ভেলিডেশন না করেই ইনভেস্ট করে ফেলা ।
হাতে টাকা পয়সা আছে বাঁ কিছু সেভিংস করে টাকা পয়সা জমিয়েছেন মনে মনে চিন্তা করছেন বিজনেস করবেন এর মধ্যে একদিন কোন একটা বিজনেস দেখে আপনার ভালো লেগে গেল অথবা আপনার বন্ধু আপনাকে উস্কানি দিল যে চল এই বিজনেস শুরু করি অনেক লাভ ।
এই জোকের বসে পরে কোন না জেনে না বুঝে আপনি কোন বিজনেস খুলে বসলেন বাঁ ইনভেস্ট করে বসলেন প্রপার বিজনেস মডেল না স্টাডি না করেই ।
দিন শেষ এ লস গুনতে গুনতে গুনতে আপনি হতাশ । কিন্তু আপনার লক্ষ ছিল আপনি বিজনেস করে লাভ করবেন এখন লাভে পৌঁছাতে যে স্টেপ গুলো আমাদের নিতে হবে সেইটাই মূলত বিজনেস মডেল ।
এইটাকে আরো ভেঙ্গে বললে এমন বলা যায় যে বিজনেস মডেল একটি ব্যাবসার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ের কার্যক্রমের পরিকল্পনা ও গবেষণার লিপিবদ্ধ রুপ। যেমন, মালিকানা, মূলধন, মূল-নীতি, বাজার, পণ্য ও সেবা, বাজারজাতকরণ ও বিপণন কৌশল ইত্যাদি।
এখন এই সকল পরিকল্পনা মার্কেট অনুয়ায়ী ঠিক আছে কিনা সেটা যাচাই বাছাই করে তারপর ইনভেস্ট করুন ।
০২। গ্রাহক যা চায় সেটার সাথে এডজাস্ট করতে না পারা ।
মনে করেন আপনি একটা প্রডাক্ট বানিয়েছেন সব কিছু চেক করেছেন শতভাগ কোয়ালিটিও মেইন টেইন করে বাজারে ছেড়েছেন । আপনার কাছে মনে হচ্ছে আসলে আপনি সঠিক জিনিস বানিয়েছেন । কিন্তু তারপর ও কাস্টমার অভিযোগ দিচ্ছে যে এইটা হয় নাই ওইটা হয়না এভাবে না ওভাবে এইটা সেইটা নানান কিছু । কিন্তু আপনি এই অভিযোগ বাঁ সাজেশন কে আমলে না নিয়ে আরো কাস্টমারের কাছে যাচ্ছেন কারণ আপনি জানেন আপনার পণ্য ঠিক আছে ।
এতে দিন শেষে যে সমস্যাটা হয় সেটা হল আপনি অনেক গ্রাহকের কাছে জান কিন্তু বিক্রি আর বাড়ে না । এই প্রবলেম টা সব থেকে বেশি হয় যখন আপনি কোন ম্যানুফ্যাকচারিং বিজনেস করু করছেন অথবা আপনি কোন ডিজিটাল প্রোডাক্ট / এপ এসব কিছু বানিয়েছেন ।
তাই জন্য যখন ই কোন পণ্য বাজারে নিয়ে আসবেন চেষ্টা করবেন সেটাকে প্রথমে ১০ জনের কাছে পৌঁছাতে তারপর তাদের থেকে ফিডব্যাক নিয়ে ইম্প্রোভ করে আবার ২০ জনের কাছে যাবেন তারপর আবার ফিডব্যাক এই সার্কেল চলতেই থাকবে । এতে করে আপনি একটা রিফাইন্ড প্রডাক্ট পাবেন যেটা আসলেই গ্রাহকের জন্য কার্যকরী । এতে করে কিন্তু আপনার রিটার্নিং কাস্টমার ও বাড়বে এবং ওয়ার্ড অফ মাউথ মার্কেটিং ও হবে ।
০৩। স্বল্প সময়ের মধ্যে অন্ন বিজনেস শুরু করে দেওয়া ।
আমাদের উদ্যোক্তাদের মধ্যে একটা কমন সমস্যা হচ্ছে ফোকাস ঠিক রাখতে না পারা ।
দেখা যায় যে একটা বিজনেস আমরা অনেক প্যাশন এর সাথে শুরু করি কিন্তু ৬ মাস ১ বছর যাওয়ার পর আমরা সেই বিজনেস এ আর কন্টিনিউ করতে পারিনা কারণ এই সময়ের মধ্যে অনেকেই আমরা প্রফিটের মুখ দেখতে পাইনা । খুব বেশি সেলস ও হয়না যে আগ্রহ থাকবে বিজনেসে যার কারণে অধিকাংশ বিজনেস প্রথম এক বছরেই ঝরে যায় ।
সেই কারণে যখন ই কোন বিজনেস শুরু করবেন চেষ্টা করবেন সেই বিজনেসে মিনিমাম ৩ বছর লেগে থাকা এতে করে আপনি আস্তে আস্তে আপনার ভুল গুলো বুঝতে পারবেন সেই অনুযায়ী স্টেপ নিতে পারবেন এবং নিজেকে রিফাইন করে ক্রিয়েট করতে পারবেন যা আপনাকে সামনে অনেক গতি এনে দিতে সক্ষম ।
০৪। একটা স্বচ্ছ এবং গুছানো ইনভেস্টর পিচ না থাকা ।
আমরা যারা ছাত্র অথবা ছোট চাকরি করি তারা অনেকেই অল্প অল্প করে টাকা জমিয়ে বুটস্ট্রেপিং করে বিজনেস শুরু করে দেই এবং মনে মনে ভাবতে থাকি যে আসলে ২-৪ মাস যাক কিছু রেভিনিউ আসুক সেটা দেখিয়ে ইনভেস্টমেন্ট নিয়ে আসব বাঁ একটা পাইলটিং করে এইটা ভাবি যে সফল হলে ইনভেস্টর ত পাব ই ।
একজন ইনভেস্টর শুধুই যে রেভিনিউ এর উপর ইনভেস্টমেন্ট করে তা কিন্তু না সে ইনভেস্ট করে আপনার প্লান পরিকল্পনা ভিশন মিশনের উপর আপনার উপর । সেই কারণে একটা স্বচ্ছ ও গুছানো পিচ ডেক প্রেজেন্টেশন আপনার অবশ্যই থাকা লাগবে ।
ইনভেস্টর টাকা দিবে কিন্তু আপনি এই টাকা নিয়ে কি করবেন কিভাবে খরচ তাঁর ক্লিয়ার উত্তর না দিতে পারলেই আপনে বাদ ।
০৫। প্রফিটে ফোকাস না করে রিভিনিউ তে প্রচুর ফোকাস করা এবং ক্লিয়ার রেভিনিউ মডেল না থাকা ।
এইটা ঠিক যে বিজনেসে সেলস অনেক জরুরি কিন্তু যদি সেল দিয়েও লাভ না হয় তাইলে আপনি নিজেই নিজের গলায় ফাঁসি দিয়ে বসতেছেন । যারা ছোট বিজনেস শুরু করেন বুটস্ট্র্যাপ করে তাদের আসলে জমানো টাকা দিয়েই শুরু করতে হয় সে জন্য যদি প্রফিট ছাড়া বিজনেস করেন তাইলে আপনার টাকা দ্রুতই ফুরিয়ে আসবে ।
আপনার হয়ত মনে হচ্ছে যে মেকিং কষ্টেই সেল করছেন সো লস কোথায় কিন্তু প্রোডাক্ট এর শুরু থেকে এন্ড পর্যন্ত হিসেব আপনি রাখেন না অনেক হিসেব ই আপনি তুলেন না সেজন্যই লস হয় যেটা আপনি শুরুতে বুঝতে পারেন না ।
তাই পণ্য বিক্রি এর সাথে প্রফিট অবশ্যই আপনাকে করতে হবে সেটা কম হলেও কেননা মানি বার্ন করার জন্য ইনভেস্টর হয়ত এখনো আপনার নাই ।
যে এখন খরচ করে পরে মার্কেট থেকে তুলে নিবেন । তাই জন্য আপনি আপনার পরিশ্রমের মূল্য না কেন কিন্তু শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বিক্রিত পণ্যের পুরো খরচ সহ কিছু হলেও যেন লাভ উঠে আসে সেই খেয়াল রাখবেন ।
এরপর আবার অনেকের ক্ষেত্রে এমন হয় যে আইডিয়া আছে প্রোডাক্ট আছে কিন্তু সেখান থেকে টাকা কিভাবে আসবে সেই মডেল উনি জানেন না । আবার অনেকেই ভেবে বসে থাকেন যে আচ্ছা দেখিনা সোশ্যাল অয়ার্ক এর মত করতে থাকি টাকা ত এক সময় আসবেই ! ভাই আপনে স্বপ্নে বসবাস করছেন । বিজনেস কোন সোশ্যাল ওয়ার্ক না !
হ্যাঁ এখন যদি আপনি সোশ্যাল বিজনেস করেন সেটাও একটা বিজনেস সেটার ও একটা মডেল আছে ।
যদি আপনার সঠিক কোন রেভিনিউ চ্যানেল না থাকে তাহলে শুধু টাকা সময় অপচয় করেই যাবেন কাজের কাজ কিছুই হবেনা ।