28/08/2019
#নামাযে মনোযোগ আসে না? শুরু করলে আর পড়তে ইচ্ছে করে না? নীচের লেখাটা হয়তো সহায়ক হবে।
চিন্তা করুন আপনি কি করতে যাচ্ছেন?
আপনি নামায পড়তে যাচ্ছেন। সে রব্বের আদেশ পালন করতে যাচ্ছেন, যাঁর দয়ায় আপনি এখন অলসতা দেখানোর স্পর্ধা পাচ্ছেন। যাঁর অনুগ্রহে আপনি নামায পড়ার ইচ্ছে রেখেছেন।
আপনি কি রব্বকে ভালোবাসেন না? অবশ্যই। আপনি নামায পড়তে যাচ্ছেন মানেই তাঁকে ভালোবাসেন। যাকে ভালোবাসা যায় না, তার আদেশ পালন করা যায় না। আল্লাহও আপনাকে ভালোবাসেন। কিভাবে বুঝবেন?
আপনি একটু ভাবুন - অনেক মানুষ রয়েছে, যারা এখনো ইসলামের পেয়ালায় চুমুক দিতে পারে নি। কিন্তু আপনি মুসলমানদের একজন, গুনাহ করলেও ঈমানের বদৌলতে এক সময় আপনি মুক্তি পাবেনই। আরও দেখুন! মুসলিম হয়েও কতজনে ইসলামের ব্যাপারে উদাসীন। যেন তারা ঘুমন্ত। আযান শুনেও যাদের নামাযের কথা ইয়াদ হয় না, শাদীদুল ই'ক্বাবের শাস্তির কথা মনে পড়ে না। বরঞ্চ তারা যেন জমাট পাথর। তাদের থেকেও খাস করে আল্লাহ্ আপনাকেই নামাযের কথা স্মরণ করিয়েছেন। স্বীয় রহমতের বারিতে সিক্ত করতে চাইছেন। এ কি ভালোবাসা নয়?
যখন বান্দা ও রব্বের ভালোবাসা আপনি উপলব্ধি করে ফেলবেন, একটু আকুলতা তৈরী হবে নিজের ভালোবাসার জানান দিতে। উৎসাহ পাবেন অলসতার চাদর ছুঁড়ে ফেলতে। এবার নামাযে দাঁড়ান।
যখন কেউ নামাযের জন্যে দাঁড়ায়, অন্তরে থাকে ভীতি ও আশার সংমিশ্রণ - সে জানে যাঁর সামনে সে এখন দাঁড়িয়ে তাঁর সামনেই তাকে স্বীকারোক্তি দিতে হবে স্বীয় কৃতকর্মের, সে এও জানে যে, এ নামায তাকে পারে সে সত্ত্বার কাছাকাছি স্থান করে দিতে - তখন নামাযে তার প্রতিটি সানা ও হামদ হবে শুধুই আল্লাহর জন্যে। সানার পর যখন আপনি হাত বেঁধে সূরা ফাতিহা শুরু করবেন তখন নীচের ভাবনাগুলো অন্তরে উপস্থিত করুন -
আপনি যখন পড়ছেন - 'আলহামদু...... সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্যে' আল্লাহ্ বলছেন - 'আমার বান্দা আমার প্রশংসা করলো।'
আপনি যখন বলছেন - 'আররাহমানির রাহীম...... যিনি করুণাময়, দয়ালু' আল্লাহ্ বলছেন - 'আমার বান্দা আমাকে সম্মান দিলো।'
আপনি যখন বলছেন - 'মালিকি ইয়াওমিদ্দীন.... কিয়ামাত দিবসের অধিকর্তা', আল্লাহ্ বলছেন - 'আমার বান্দা আমার তারীফ করলো।'
আপনি যখন বলছেন - 'ইয়্যাকা না'বুদু....... আমরা আপনারই ইবাদত করি এবং আপনার কাছেই সাহায্য চাই', আল্লাহ্ বলছেন - 'এ বাক্য আমার আর আমার বান্দার মাঝের কথা। এখন আমার বান্দা যা চাইবে আমি তাই দিবো।'
এরপরই আপনি চাইলেন - 'ইহদিনাস সিরাত্বাল.........দাল্লীন....আমাদের সরল সঠিক পথ দেখান। তাঁদের পথ, যাদের উপর আপনি নিআ'মাত বর্ষণ করেছেন। তাদের পথ নয়, যাদের উপর রাগান্বিত।' আল্লাহ্ বলছেন - ''আমি বান্দাকে তাই দিলাম, যা সে চেয়েছে!'
(মুসলিম শরীফ)
এরপর আপনি বলছেন - 'আমীন.....হে আল্লাহ্! ক্ববূল করুন।'
দেখুন তো! এত ভালোবাসাময় কথোপকথন আর কার কাছ থেকে আপনি পাবেন? কে এত ভালোবাসবেন আপনায়, যে আপনার সব চাহিদা পূরণ করতে প্রস্তুত??
আরও দেখুন নামাযের বহুবিধ বাহ্যিক উপকারাদিও!
নামায গুনাহ করতে দেয় না!
দেয় না অশ্লীল কাজে লিপ্ত হতেও!
আল্লাহ্ বলছেন - 'নিশ্চয়ই নামায গর্হিত ও অশ্লীল কাজ থেকে বিরত রাখে।' (সূরা আনকাবূতঃ৪৫)
নামায আপনার মুসীবতের সময় সাহায্যের সম্বল!
কষ্ট-ক্লেশে মহাঅধিপতির কাছে বার্তা পাঠানোর মাধ্যম!
আল্লাহ্ বলছেন - 'সবর ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য চাও।' (সূরা বাক্বারাঃ৪৫)
নামায আপনাকে ডাকছে চিরস্থায়ী সুখের দিকে!
বলছে অনাবিল সুখ আপনার হাতেয় মুঠোয় পুড়তে!
হাবীবে রব্ব বলছেন - 'নামায জান্নাতের চাবিকাঠি!'
নামায নেক আমল!
হিসাবের প্রথম ঘাঁটি!
উত্তীর্ণ হলেই পরম মুক্তি!
সারওয়ারে কায়েনাতের ভাষায় - 'কিয়ামাতের দিন সর্বপ্রথম হিসাব হবে নামাযের।'
আল্লাহ্ বলছেন - 'নিশ্চয়ই যারা ঈমান আনে এবং সৎকাজ করে, আমি তার প্রতিদান নষ্ট করি না।'
তবে কেন নামাযে গাফলতি বলুন!
আসুন না, রব্বের সান্নিধ্যে কিছু পবিত্র সময় কাটাই। যাঁর জন্যে আমরা 'আমরা' বলতে পারছি, তার জন্যে কি ১০/১৫ মিনিট করে সময় আমরা দিতে পারি না?
আল্লাহ্ আমাদের তাওফীক দিন।