07/09/2026
সম্পত্তি হস্তান্তর আইনে বাবা-মায়ের সুরক্ষার অজুহাতে এখন যে সংশোধন হয়েছে তার মাধ্যমে আল্লাহর নিয়মকে অবমাননা করা হয়েছে।
এখানে আমার আশঙ্কার বিষয় এই যে হেবা দলিল গ্রহিতা যেহেতু সম্পত্তির অধিকারে থাকবেন না তাই যে প্রক্রিয়ায় সম্পত্তির মালিকানা অধিকার পাওয়া যায় আল্লাহ না করুক মানুষ সেই পথ ধরবে। অথাৎ আগে দায়িত্ব অবহেলা করত আর এখন পথের কাটা সরাবে।
আমার আশঙ্কার বিষয়টি অত্যন্ত গভীর এবং এটি বাস্তবসম্মত একটি মানবিক ও মনস্তাত্ত্বিক দিক স্পর্শ করে। এমনিতে আইন যখন কোনো একটি পক্ষকে সুরক্ষিত করতে যায়, তখন অনিচ্ছাকৃতভাবে অন্য কোনো জটিলতা বা ঝুঁকির তৈরি হচ্ছে কি না, তা নিয়ে বিতর্ক সবসময়ই থাকে।
আমি যে বিষয়টি উল্লেখ করতে চাই—"আগে দায়িত্ব অবহেলা করত, আর এখন পথের কাঁটা সরাবে"—এটি আইনের একটি সম্ভাব্য নেতিবাচক সামাজিক প্রতিক্রিয়ার দিকে ইঙ্গিত করে।
আসুন এই বিষয়টি একটু সহজভাবে এবং আইনি ও সামাজিক প্রেক্ষাপট থেকে বিশ্লেষণ করি-
আইনের মূল উদ্দেশ্য ও বর্তমান প্রেক্ষাপট:-
বাংলাদেশ সরকার এবং আদালত বিভিন্ন সময়ে 'পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩' এবং সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের অপব্যবহার রোধে কিছু কঠোর অবস্থান নিয়েছে। বিশেষ করে, বাবা-মা যেন বৃদ্ধ বয়সে সন্তানকে সম্পত্তি লিখে দেওয়ার পর গৃহহীন বা অবহেলার শিকার না হন, সেজন্য হেবা (দান) দলিল বাতিলের বা শর্তযুক্ত করার কিছু আইনি বিধান ও আদালতের পর্যবেক্ষণ রয়েছে। আইনগতভাবে চেষ্টা করা হচ্ছে যাতে সম্পত্তি হস্তান্তরের পরেও বাবা-মায়ের জীবনযাপনের অধিকার বা ভরণপোষণের নিশ্চয়তা থাকে।
আমার আশঙ্কার যৌক্তিকতা (মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক দিক):-
এ অনুযায়ী, আইন যদি গ্রহীতাকে (সন্তান বা অন্য কেউ) পুরোপুরি অনিশ্চয়তায় ফেলে দেয় যে, সম্পত্তি পাওয়ার পরও ভোগ উপযোগীতা না থাকে, তবে মানুষের অপরাধপ্রবণ মন ভিন্ন ও বিপজ্জনক পথ বেছে নিতে পারে।
অপরাধের ঝুঁকি বৃদ্ধি:
সম্পত্তির মালিকানা স্থায়ী করার জন্য বা যেকোনো আইনি বাধা চিরতরে দূর করার জন্য মানুষ চরম ও অপরাধমূলক পথ (যেমন: বাবা-মায়ের ক্ষতি করা বা তাদের জীবননাশের চেষ্টা) বেছে নিতে পারে।
সম্পর্কের চূড়ান্ত অবক্ষয়:
যেখানে আগে সম্পত্তি পাওয়ার পর সন্তান বাবা-মাকে কেবল "অবহেলো" করত (যা একটি সামাজিক ও নৈতিক অপরাধ), সেখানে আইনের মাধ্যমে সম্পত্তিতে অধিকার না থাকার কারনে তারা বাবা-মাকে "শত্রু" বা "পথের কাঁটা" ভাবতে শুরু করতে পারে।
সামাজিক নিরাপত্তা ও কাউন্সেলিং:
কেবল আইন দিয়ে পারিবারিক সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা যায় না। এর জন্য নৈতিক শিক্ষা এবং পারিবারিক মূল্যবোধের চর্চা জরুরি। আইনের উদ্দেশ্য থাকে দুর্বল পক্ষকে রক্ষা করা, কিন্তু আমার তোলা পয়েন্টটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যে- আইনের অতিরিক্ত কড়াকড়ি যেন কোনো দুর্বল পক্ষকে আরও বড় জীবননাশের ঝুঁকিতে ফেলে না দেয়।
মোটকথা হলো আল্লার আইনের উপর কোন আইন চলে না। আর এটি অবহেলা করা মানে ফরজ বিধান অমান্য কারা এবং এতে ঝুকি নি:শ্চিত।