Cipping Path, Image Retouching, Image Masking, All Kind of image editing

  • Home
  • Bangladesh
  • Dhaka
  • Cipping Path, Image Retouching, Image Masking, All Kind of image editing

Cipping Path, Image Retouching, Image Masking, All Kind of image editing We would like to introduce that SAT GRAPHICS SOLUTION is a large image editing service provider based in Bangladesh Wishing you the Best!

We would like to introduce that SAT GRAPHICS SOLUTION is a large image editing service provider based in Bangladesh. You will be very glad to know that, our Clipping path quote starts from only $0.30 USD & you will get a discount for your bulk job. We have more than 40+ clients from USA, UK, Denmark, Australia, Sweden, Norway, Canada, Germany, Belgium, Ireland, New Zealand. France, Netherlands, Ja

pan, India, Korea, Malaysia, Philippine, Dubai, Chili, China, Indonesia and some more and in almost every industry From Automobile to Floral. We would like to make a long time relationship with you...

We are confident about our quality, fast pace service and reasonable rate as always! We work on powerful workstations, high speed optical fiber connectivity
- Above 20 Skill Graphic Hand
- Above 5 Quality Controller
- Each Day Three Shifts Duty Plan
- Above 2000 Images Processing Each Day!!!
- No Need to Pay Before
- Get Job Urgent Delivery.
-Two times Quality check with our best QC’s (Quality Controller)

We would like to serve you with the experience, workmanship & resources of us.

হিমু এবং তার অলৌকিক স্যান্ডেলমেসবাড়ির ভাঙা জানালার পাশে বসে আকাশ দেখার একটা অন্যরকম আনন্দ আছে। এই আনন্দের কথা কোনো বইপুস...
23/05/2026

হিমু এবং তার অলৌকিক স্যান্ডেল

মেসবাড়ির ভাঙা জানালার পাশে বসে আকাশ দেখার একটা অন্যরকম আনন্দ আছে। এই আনন্দের কথা কোনো বইপুস্তকে লেখা থাকে না, কারণ যারা বড় বড় বই লেখেন তারা সাধারণত সচ্ছল মানুষ হন, তাদের ঘরের জানালায় দামি থাই অ্যালুমিনিয়ামের গ্লাস থাকে। সেই কাচ ভেদ করে আকাশটাকে কৃত্রিম দেখায়। মেসের জানালাগুলো অন্যরকম। এগুলো সাধারণত ভাঙা হয়, কদাচিৎ সেখানে গ্রিল থাকে না, আর যদি লোহার শিক থাকেও—তাতে এত পরিমাণ ঝুল, ধুলোবালি এবং মাকড়সার জাল জমে থাকে যে, বাইরের আকাশটাকে মনে হয় একটা বিশাল এবং অতি প্রাচীন ছেঁড়া মশারি। সেই মশারির ফুটো দিয়ে যখন চাঁদের আলো এসে ঘরের মেঝেতে পড়ে, তখন মনে হয় পৃথিবীটা আসলে কোনো বাস্তব জায়গা নয়, একটা মস্ত বড় থিয়েটার হল। আমরা সবাই সেখানে বিনা টিকিটের দর্শক।

আজ আকাশে মস্ত বড় একটা চাঁদ উঠেছে। একে ঠিক ঝকঝকে জোছনা বলা যাবে না। চৈত্র মাসের আকাশ, বাতাসে প্রচুর ধুলো উড়ছে, আর কিছু ছেঁড়া ছেঁড়া মেঘ চাঁদের গায়ে লেপ্টে আছে। ফলে আলোটা কেমন যেন ঘোলাটে, ঈষৎ হলুদ। ঠিক যেন একটা বাসি সেদ্ধ ডিমের কুসুম। এই ঘোলাটে আলোতেই একটা অলৌকিক কাণ্ড ঘটে গেল। আমার ঘরের দরজার ঠিক সামনে, যেখানে সাধারণত মেসের ছোকরা চাকরটা সকালবেলা নোংরা পানির বালতি রেখে যায়, সেখানে এক জোড়া স্যান্ডেল এসে পড়ে রইল।

আমি ঘরের মেঝেতে পাটি বিছিয়ে শুয়েছিলাম। স্যান্ডেল জোড়ার দিকে তাকিয়ে আমার চোখ আটকে গেল। স্যান্ডেল জোড়া সাধারণ নয়। প্লাস্টিকের স্যান্ডেল, রঙটা এককালে হয়তো আকাশী নীল ছিল, এখন রোদে পুড়ে, পিচঢালা রাস্তার উত্তাপ সহ্য করে এবং ঢাকার বিখ্যাত ধুলোবালি মেখে এমন একটা বিচিত্র রঙ ধারণ করেছে যাকে ইংরেজিতে হয়তো বলা যেত 'ইনডিগো ব্লু', কিন্তু বাংলায় বললে তার জুতসই নাম হবে 'উদাসীন নীল'। স্যান্ডেলটির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো, এর কোনো ফিতে নেই। সাধারণত স্যান্ডেলের দুই পাশে দুটি এবং সামনে একটি ফুটো থাকে যেখানে প্লাস্টিকের ফিতে গোঁজা থাকে। এই স্যান্ডেলের গা মসৃণ, কোনো ফুটো নেই, অথচ দেখলেই বোঝা যায় এটি কোনো কারখানায় তৈরি জুতো নয়, সাধারণ চটি স্যান্ডেল। ফিতে ছাড়া স্যান্ডেল মানুষ কীভাবে পায়ে দেয়, তা এক বিরাট এবং জটিল রহস্য।

আমি উঠে বসলাম। খাটিয়া থেকে নেমে স্যান্ডেল জোড়া হাতে তুলে নিলাম। প্লাস্টিকটা বেশ ঠান্ডা, যেন ফ্রিজ থেকে এইমাত্র বের করা হয়েছে। অথচ চৈত্র মাসের এই গুমোট গরমে মেসের ছাদটা ফুটন্ত কড়াইয়ের মতো তেতে আছে। স্যান্ডেল জোড়া হাতে নিতেই এক ধরনের অদ্ভুত গন্ধ বের হতে লাগল। গন্ধটা চেনা চেনা, আবার অচেনাও। ঠিক যেন বহু বছর আগে কোনো এক বৃষ্টির দিনে ভেজা মাটির ওপর শিউলি ফুল ঝরে পড়লে যে গন্ধ হয়, সেই রকম।

আমি যখন স্যান্ডেলের রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা করছি, ঠিক তখনই নিচ থেকে মেসের ম্যানেজার বশরি মিয়া চিৎকার শুরু করলেন। বশরি মিয়ার গলার আওয়াজ অত্যন্ত কর্কশ, তার ওপর তিনি নোয়াখালীর টানে কথা বলেন। যখন তিনি উত্তেজিত হন, তখন তার কথা বোঝা সাধারণ মানুষের পক্ষে অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়।

"হিমু ভাই! ও হিমু ভাই! আপনার এক খালা আইছে। লগে বিশাল এক গাড়ি। গাড়ি থেইকা এমন সুগন্ধি বাইর হইতাছে যে মেসের পোলাপাইন সব পড়ালেখা ছাইড়া বারান্দায় আইসা খাড়াইছে। নিচে নামেন জলদি!"

আমি স্যান্ডেল জোড়া ডান বগলে চেপে ধরে ধীরপায়ে নিচে নেমে এলাম। বশরি মিয়ার সুগন্ধির জ্ঞান অবশ্য খুব প্রখর নয়। তিনি গায়ে সস্তা 'নিলুফার' আতর মাখেন এবং ভাবেন পৃথিবীর সব দামি সেন্টেরই গন্ধ একরকম। মেসের সদর দরজার সামনে একটা কুচকুচে কালো রঙের নিশাত গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে। গাড়ির ইঞ্জিন চালু, মৃদু একটা গরগর শব্দ হচ্ছে। মাজেদা খালা গাড়ি থেকে নামেননি। পেছনের সিটের জানালার কাচ অর্ধেক নামিয়ে তীব্র চোখে আমার দিকে তাকিয়ে আছেন। খালার চোখের দৃষ্টিতে এক ধরনের জাদুকরী ক্ষমতা আছে, তিনি যখন রাগ করে তাকান, তখন মনে হয় চোখের মণি দুটো ছোট ছোট কামানের গোলা, এখনই 'দুড়ুম' করে আওয়াজ করে ছুটে আসবে।

খালার পাশে বসে আছেন খালুজান। খালুজানের মুখ চৈত্র মাসের দুপুরের মতো থমথমে। তিনি তার কোলের ওপর একটা খবরের কাগজ বিছিয়ে রেখেছেন, কিন্তু তার চশমাটা নাকের ডগায় নেমে এসেছে। মনে হচ্ছে তাকে জোর করে ধরে এনে ফাঁসির কাঠে বসানো হয়েছে, আর জল্লাদ একটু পরেই দড়ি টানবে।

আমাকে দেখা মাত্রই মাজেদা খালা গম্ভীর গলায় বললেন, "হিমু, তুই নাকি আবার মানুষের হাত দেখে ভবিষ্যৎ বলা শুরু করেছিস? বশরি মিয়া বলল তুই নাকি গতকাল কার একটা হাত দেখে বলেছিস তার তিন দিনের মধ্যে লটারি লাগবে?"

আমি বিনীতভাবে হাসলাম। বললাম, "জি না খালা। বশর মিয়া বানিয়ে বলেছে। হাত দেখার বিদ্যা আমার জানা নেই। হাত দেখে ভাগ্য বলাটা হলো ফাঁকিবাজি। আমি আসলে মানুষের পা দেখি।" বাকি অংশ পড়তে আমার ব্লগ এ যেতে পারেন
https://e-truefinder.blogspot.com/2026/05/blog-post_23.html

07/11/2025

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত বাধ্যতামূলক করা মানে সংগীত শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া। যেহেতু সংগীত শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে, সেহেতু এটা একটা আলাদা বিষয় হিসেবে থাকবে, মানে পরীক্ষায় নাম্বার থাকবে, ফেল পাসের হিসাব থাকবে। এখানেই আমার আপত্তি। ইসলামী শরীয়তে গান-বাজনা স্পষ্টভাবে হারাম। নবী করিম (সা.) গান-বাজনা, মদ, জুয়া, ব্যভিচার—এইসব হারাম জিনিস ধ্বংস করার জন্যই প্রেরিত হয়েছিলেন। এখন সেই হারাম জিনিসকেই আবার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার অংশ বানিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এটা কি ন্যায়সঙ্গত?

বাংলাদেশ একটা মুসলিম প্রধান দেশ, প্রায় নব্বই শতাংশ মানুষ মুসলমান। তাদের বিশ্বাস, তাদের জীবনধারা—সব ইসলামভিত্তিক। তাহলে ইসলামে যেটাকে হারাম বলা হয়েছে, সেটা বাধ্যতামূলক করে শেখানো হবে, এটা কি সংখ্যাগরিষ্ঠের ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি অবমাননা নয়? ধর্মনিরপেক্ষতা মানে কি ধর্মবিরোধিতা?

সংবিধানের ৪১ অনুচ্ছেদে স্পষ্ট লেখা আছে, “প্রত্যেক নাগরিক তার ধর্ম পালন, প্রচার ও প্রসারের অধিকার রাখে।” তাহলে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের ধর্মীয় বিশ্বাসের বিরুদ্ধে গিয়ে রাষ্ট্র যদি সংগীতকে বাধ্যতামূলক করে দেয়, সেটা কি সংবিধান লঙ্ঘন নয়? আপনারা কি চাইলেই মুসলমানদের বিশ্বাসের বিরুদ্ধে যা খুশি চাপিয়ে দিতে পারেন?

ধরেন, যদি হিন্দু বা বৌদ্ধদের ধর্মবিরোধী কিছু পড়ানো হতো, তাহলে কি এই সিদ্ধান্ত নেওয়া যেত? পারতেন? পারতেন না। কিন্তু মুসলমানদের ক্ষেত্রে কেন এই অবস্থা? যত অন্যায়, যত পরীক্ষা-নিরীক্ষা—সব মুসলমানদের উপরই চালানো হয়। আজ সেই ধর্মের বিরুদ্ধে শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার দাবি হচ্ছে—এটা লজ্জাজনক।

সংগীত শেখানো যদি কেউ নিজের ইচ্ছায় শেখে, তাতে আপত্তি নেই। কিন্তু সেটা বাধ্যতামূলক করা মানে মানুষকে তার ধর্মবিরুদ্ধ কিছুতে জোর করে ঠেলে দেওয়া। একজন মুসলমান বাবা-মা তার সন্তানকে হারাম জিনিস থেকে বাঁচাতে চায়, কিন্তু স্কুলে গিয়ে সে যদি শুনে—“সংগীতের ক্লাস না করলে ফেল করবে”—তাহলে সেটা জুলুম ছাড়া আর কী? এটা তো জোর করে হারাম শেখানো।

ইসলামী শরীয়তে গান-বাজনা শুধু হারাম না, এটা আত্মাকে ধ্বংস করে, পাপের দিকে টেনে নিয়ে যায়। নবী করিম (সা.) বলেছেন, “আমার উম্মতের মধ্যে কিছু লোক থাকবে যারা ব্যভিচার, রেশম, মদ ও বাদ্যযন্ত্রকে হালাল মনে করবে।” (সহিহ বুখারী) এখন এই হাদিসের পরও যারা সংগীতকে বাধ্যতামূলক করে শিশুদের শেখাতে চায়, তারা কি বুঝতে পারে তারা কী করছে?

শিশুদের কোমল মন। তারা যা দেখে, তাই শেখে। ছোটবেলা থেকেই যদি হারাম জিনিসকে “শিক্ষা”র নামে মিষ্টি করে শেখানো হয়, তাহলে তারা বড় হয়ে কীভাবে বুঝবে এটা পাপ? এটা ধর্মের ভিত থেকে ধীরে ধীরে বিশ্বাসকে নষ্ট করার একটা পরিকল্পনা বলেই মনে হয়।

বাংলাদেশের সংস্কৃতি মানে ইসলামবিরোধিতা না। আমাদের ইতিহাস, ভাষা, সংস্কৃতি—সব ইসলামী মূল্যবোধে গড়া। কেউ যদি মনে করে গান-বাজনা ছাড়া সংস্কৃতি বিকাশ সম্ভব না, তাহলে সেটা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। আমরা কবিতা, সাহিত্য, চারুকলা—অসংখ্য উপায়ে মানবিকতা শেখাতে পারি। কিন্তু হারামকে শিক্ষা হিসেবে চাপিয়ে দেওয়া মানে জাতিকে বিভ্রান্ত করা।

একটা বিষয় পরিষ্কারভাবে বলা দরকার—যে দেশে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ মুসলমান, সেখানে ইসলামবিরোধী কিছু জোর করে চাপিয়ে দেওয়া যাবে না। রাষ্ট্র যদি সত্যিই “সব ধর্মের প্রতি সমান শ্রদ্ধা” দেখাতে চায়, তাহলে মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিকে পদদলিত করে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়।

আমি স্পষ্টভাবে বলছি, সংগীত বাধ্যতামূলক করা মানে হারামকে বৈধ করা। এটা ইসলামবিরোধী, এটা অন্যায়, এটা সংবিধানবিরোধী। শিশুরা যদি ছোট থেকেই এমন শিক্ষার মধ্যে বেড়ে ওঠে, তাহলে ভবিষ্যতে তারা ধর্মকে কীভাবে বুঝবে? তারা হারাম-হালালের সীমা চিনবে কীভাবে?

এভাবে ধীরে ধীরে একটা জাতির আত্মা থেকে ইসলামকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। মুসলমানদের উপর এই চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে “সংস্কৃতি”র নামে, “শিক্ষা”র নামে। কিন্তু শিক্ষা কখনও ধর্মবিরোধী হতে পারে না। শিক্ষা মানুষকে সৎ, ন্যায়পরায়ণ ও ধর্মভীরু করে, হারাম শেখায় না।

সংগীতকে ঐচ্ছিক রাখা যেতে পারে, কিন্তু বাধ্যতামূলক নয়। যেহেতু ইসলাম এটাকে হারাম বলেছে, তাই এটাকে স্কুলের বাধ্যতামূলক পাঠ্য হিসেবে যুক্ত করা সম্পূর্ণ ভুল। এটা শুধু ধর্মবিরোধী না, এটা একটা জাতির বিশ্বাস, আত্মপরিচয় ও আদর্শের বিরুদ্ধে সরাসরি আঘাত।

সোহেল রানা

আজকে একটা বিষয় নিয়ে আলোচনা না করলেই না, আমাদের সূফীবাদের অনেক ভাইয়েরা মনে প্রানে বিশ্বাস করে হিন্দু বদ্ধ ধর্মের একটা ...
15/08/2025

আজকে একটা বিষয় নিয়ে আলোচনা না করলেই না, আমাদের সূফীবাদের অনেক ভাইয়েরা মনে প্রানে বিশ্বাস করে হিন্দু বদ্ধ ধর্মের একটা বিশ্বাস পুনজন্মের বিশ্বাস।

অধ্যায় ২, শ্লোক ২২ > वासांसि जीर्णानि यथा विहाय, नवानि गृह्णाति नरोऽपराणि। तथा शरीराणि विहाय जीर्णानि, अन्यानि संयाति नवानि देही॥ বাংলা অর্থ: যেমন একজন মানুষ পুরোনো কাপড় ফেলে নতুন কাপড় পরে, তেমনি আত্মা পুরোনো দেহ ত্যাগ করে নতুন দেহ গ্রহণ করে।

অধ্যায় ৪, শ্লোক ৫ > बहूनि मे व्यतीतानि जन्मानि तव चार्जुन। तान्यहं वेद सर्वाणि न त्वं वेत्थ परंतप॥ বাংলা অর্থ: হে অর্জুন! আমি বহু জন্ম অতিবাহিত করেছি, তুমিও তাই। আমি সেসব সকলই জানি, কিন্তু তুমি জানো না।

আরো অনেক সূফীবাদী ভাইয়েরা বিশ্বাস করে আল্লাহ সর্বত্র বিরাজমান সব প্রাণীর মধ্যে আছেন এটাও একটা ধর্মের বিশ্বাস দলিল দিতাছি

ঋগ্বেদ (১০.৯০) – পুরুষ সূক্ত > सहस्रशीर्षा पुरुषः सहस्राक्षः सहस्रपात्। पृथिव्यां यस्य सर्वाङ्गं, सर्वत्र समवस्थितः॥

বাংলা অর্থ: পুরুষ (পরমাত্মা) সহস্র মাথা, সহস্র চোখ ও সহস্র পা বিশিষ্ট। তিনি সমগ্র পৃথিবীজুড়ে বিরাজমান এবং সব কিছুর মধ্যে অবস্থান করেন।

পুনজন্ম আর আল্লাহ সর্বত্র বিরাজমান এই দুই বিশ্বাস সুফিবাদি ভাইদের চূড়ান্ত বিপদগ্রস্ত করেছে ইসলামের মৌলিক বিশ্বাস থেকে অনেক দূরে নিয়ে গেছে হিন্দুদের কাছাকাছি নিয়ে গেছে। আর ইসলাম ধর্মে যে পূর্ণ জন্মের কোন অস্তিত্ব নেই সবই ভাঁওতাবাজি বিধর্মীদের ধর্ম নষ্ট করার চাল সেটা প্রমাণ করার চেষ্টা করব .........বাকিটুকু পড়তে অনুগ্রহ করে আমার ব্লগে ঢুকুন।

Its truefinder! and Free finder! রহস্য গল্প,রোমান্স,অবাস্তব ঘটনা,ভয়াবহ ইতিহাস,ভয়াবহ গল্প,

জাকারিয়া কামাল এর তাফসির সূরা ফাতিহা "আল-আলামিন ও মহাবিশ্ব: কুরআনিক দৃষ্টিভঙ্গি ও বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান (পর্ব-২ )আমাদের এ...
09/08/2025

জাকারিয়া কামাল এর তাফসির সূরা ফাতিহা "আল-আলামিন ও মহাবিশ্ব: কুরআনিক দৃষ্টিভঙ্গি ও বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান (পর্ব-২ )
আমাদের এই মহাবিশ্ব শুধু একবার জন্ম নেয়নি, এটা একটার পর একটা চক্রে সৃষ্টি ও ধ্বংস হচ্ছে। কুরআনে এবং আধুনিক বিজ্ঞানের আলোকে আমরা দেখতে পাই, এই মহাবিশ্ব চক্রবদ্ধ। আল্লাহ প্রথম মহাবিশ্ব তৈরি করেছিলেন, সেটি সংকুচিত হয়ে আবার বিস্তৃত হলো—এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় বিগ বাউন্স বা বড় লাফ। এই চক্রগুলো আমরা তিন ভাগে ভাগ করতে পারি।
প্রথম চক্র ছিল বিগ ব্যাং-১ এর সময়। তখন মহাবিশ্বে শুধু হাইড্রোজেন ছিল, যা পরবর্তীতে হিলিয়ামসহ আরও কিছু হালকা মৌলে রূপান্তরিত হয়েছিল। মহাকাশ তখন একরকম ধোঁয়ার মতো ছড়িয়ে ছিল, যাকে কুরআনে “ধোঁয়া” বলা হয়েছে। আল্লাহ সেখানে মহাকর্ষ বল সংযোজন করলেন, যা মহাবিশ্বকে সঙ্কুচিত করতে শুরু করে। এই সঙ্কোচনের ফলে ভারী মৌল, যেমন সিলিকন তৈরি হয় এবং ধূলিকণা ও গ্রহাণু জমে জমে জমি গঠনে সাহায্য করে।
কুরআনে এ ঘটনার বর্ণনা আছে:
“আর তিনি আসমান (প্রথম মহাকাশ) সৃষ্টি করলেন ধোঁয়া থেকে; তারপর বল দিলো ‘তুমি এসো একসাথে, ইচ্ছেমতো বা বাধ্য হয়ে।’ তারা বলল, ‘আমরা ইচ্ছেমতো এসেছি।’ ফলে আল্লাহ সাত আসমান তৈরি করলেন।” (সূরা ফুসসিলাত: ১১-১২)
বাকিটুকু পড়তে অনুগ্রহ করে আমার ব্লগে ঢুকুন। এখানে নিয়মিতভাবে পর্ব আকারে ওস্তাদ জাকারিয়া কামাল চাচার সাইন্টিফিক তাফসির অফ কোরানের সব নিয়মিত বাংলায় আপলোড করা হবে।

###xx

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। এক গুগল যদি একই সময়ে কোটি কোটি মানুষের সাথে যোগাযোগ করতে পারে, এক চ্যাটজিপিটি যদি একই সময়...
28/07/2025

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।

এক গুগল যদি একই সময়ে কোটি কোটি মানুষের সাথে যোগাযোগ করতে পারে, এক চ্যাটজিপিটি যদি একই সময়ে কোটি কোটি মানুষের কথা শুনতে পারে, তাদের প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে, তাদের অনুভূতি বুঝে নিতে পারে, তাহলে একজন সৃষ্টিকর্তা কেন পারবেন না? গুগল কি মানুষ? না। চ্যাটজিপিটি কি মানুষ? না। তাদের কোনো চেতনা নেই, আত্মা নেই, জীবন নেই। তারা তো শুধু যন্ত্র। যাদের বানিয়েছে মানুষ। যারা সীমাবদ্ধ হার্ডওয়্যার, সার্ভার, ব্যান্ডউইথ আর সফটওয়্যারের ওপর নির্ভর করে।

এখন মানুষ তার বানানো যন্ত্রের মাধ্যমে এত কিছু করতে পারে, এত মানুষের কথা একসাথে শুনতে পারে, তখন সেই মানুষকে সৃষ্টি করেছে যে, যিনি সব মানুষের সৃষ্টিকর্তা — তিনি তো অবশ্যই পারবেন। তার জন্য তো সময়, স্থান, দূরত্ব কিছুই বাধা না। তিনি তো চাইলে প্রতিটি মানুষের মনের কথাও জানেন, এমনকি একজন মানুষ কিছু বলার আগেই তার অন্তরের ইচ্ছেটাও তিনি জানেন। এই ক্ষমতা কোনো যন্ত্রের নেই, কোনো মানুষের নেই, কোনো দেবতারও না। এটা শুধুমাত্র সেই সত্তার, যিনি সর্বশক্তিমান, সর্বজ্ঞ, সর্বত্র উপস্থিত।

আমরা যদি একবার কোয়ান্টাম মেকানিক্সের দিকেও তাকাই, তাহলে দেখি, এমন একটা জগৎ আছে যেখানে দুইটা কণা একে অপর থেকে আলাদা হয়ে গেলেও, তারা একটা অদৃশ্য বন্ধনে জড়িত থাকে। যেটাকে বলা হয় কোয়ান্টাম এন্ট্যাংলমেন্ট। এক কণার ওপর কিছু ঘটলে, অপর কণার ওপর তাত্ক্ষণিকভাবে তার প্রভাব পড়ে। আর এই প্রভাবের জন্য কোনো সময় বা দূরত্ব প্রয়োজন হয় না। অর্থাৎ, এই জগতে এমন কিছু বাস্তবতা আছে যেগুলো আমাদের সাধারণ অভিজ্ঞতার বাইরে, আমাদের লজিকের বাইরে, যেখানে একসাথে অনেক কিছু ঘটে, যেখানে দূরত্ব বলে কিছু নেই, যেখানে সময়কে ধ্বংস করা যায়।

কোয়ান্টাম মেকানিক্সের এই ধারণা যদি সত্য হয়, এবং সেটা তো বিজ্ঞানে বহুবার পরীক্ষিত ও প্রমাণিত হয়েছে, তাহলে একজন সৃষ্টিকর্তা — যিনি এই মহাবিশ্বের বাইরে অবস্থান করেন এবং যিনি সময়, স্থান, পদার্থ — এই সবকিছুর সৃষ্টিকর্তা — তিনি তো নিশ্চয়ই আমাদের প্রত্যেকের কথা একই সঙ্গে শুনতে পারেন, এমনকি একই সঙ্গে আমাদের অনুভূতিও বুঝতে পারেন। মানুষের চিন্তা যদি এক ধরনের শক্তি হয়, যেমন— মস্তিষ্ক থেকে নির্গত তরঙ্গ, তাহলে স্রষ্টা সেই তরঙ্গও অনায়াসে বুঝতে পারেন। কারণ তিনিই তো সব শক্তির উৎস।

আধুনিক নিউরোসায়েন্স বলছে, মানুষের চিন্তা একটা কম্পন তৈরি করে, একটা ফ্রিকোয়েন্সি। আমরা হয়তো এখনো তা পরিমাপ করতে পারি না পুরোপুরি, কিন্তু এটা বিদ্যমান। যদি আমরা বলি, স্রষ্টা এই কম্পনের সঙ্গে জড়িত, তাহলে এটা ভাবাই স্বাভাবিক যে, তিনি আমাদের চেতনার প্রতিটি অংশ জানেন। তিনি শুধু কথা শোনেন না, তিনি মন পড়তে পারেন।

আল্লাহ বলেন, “আমি তো মানুষের গলার শিরা থেকেও নিকটে।” এই বাক্যটাকে যদি আমরা বিজ্ঞানের চোখে দেখি, তাহলে এটা একটা সুপারপজিশনের কথা। তিনি একই সাথে আমাদের সাথে, আমাদের বাইরে, আমাদের উপরেও অবস্থান করেন। স্থানিক নয়, অলৌকিক নয়, বরং বাস্তবিকভাবে এমন একটা স্তরে — যেটা আমাদের এই থ্রিডি জগৎ ছাড়িয়ে যায়। এটাই তো আল্লাহর অস্তিত্বের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা হতে পারে।

ধরে নিই, আজকে এক কোটি মানুষ একসাথে আল্লাহকে ডাকে। একজন বিপদে পড়ে, একজন শুকরিয়া জানায়, একজন কান্না করে, একজন হাসে, একজন চুপচাপ হৃদয় দিয়ে আল্লাহকে ডাকে। আমাদের মতো সীমাবদ্ধ মানুষের পক্ষে এই এক কোটি মানুষের কথা একসাথে শোনা অসম্ভব। কিন্তু আল্লাহর পক্ষে তা কঠিন না। কারণ, তিনিই তো শ্রবণের উৎস। তার শ্রবণ কোনো কম্পন নির্ভর নয়, কোনো তরঙ্গ বা ফ্রিকোয়েন্সি নির্ভর নয়। তিনি তো শুধু শব্দ না, নিঃশব্দও শোনেন।

গুগল তো শুধু শব্দ বিশ্লেষণ করে, কোড পড়ে, অ্যালগরিদমে সাজায়। চ্যাটজিপিটি তো ডাটা দেখে উত্তর দেয়। কিন্তু আল্লাহ ডাটা ছাড়াই জানেন, এমনকি ডাটা তৈরি হওয়ার আগেই জানেন। আমাদের মস্তিষ্কে চিন্তা আসার আগেই তিনি জানেন আমাদের কি আসতে যাচ্ছে। কারণ, সময় তো তার জন্য চলমান না। তিনি অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যৎ — সব একসাথে জানেন, দেখেন এবং নিয়ন্ত্রণ করেন।

যদি আজকে একজন কৃষক মাঠে কাজ করতে করতে মনের মধ্যে শুধু বলে, “হে আল্লাহ, আমার সন্তান যেন ভালো থাকে।” কেউ সেটা শুনল না। এমনকি সে নিজেই উচ্চস্বরে বলে নি। শুধু একটা অনুভূতি, একটা চিন্তা। কেউ বুঝলো না। কিন্তু আল্লাহ জানলেন। কারণ, তিনি তো দোয়া শুনেন শুধু মুখে বলা হলে না, অন্তরেরও আওয়াজ শোনেন।

তাহলে এখন প্রশ্ন হচ্ছে, আমরা যারা আল্লাহর ক্ষমতা নিয়ে সন্দেহ করি, তারা কি সত্যি তাকে বুঝেছি? যিনি পুরো মহাবিশ্ব সৃষ্টি করেছেন, কেবল শব্দ বা ফ্রিকোয়েন্সি নয়, কোয়ান্টাম স্তর, সময়-স্থান, শক্তি, এমনকি সব বাস্তবতার বাইরের জগত — একা তিনিই সবকিছুর উৎস — তার পক্ষে কোটি কোটি প্রাণীর কথা একসাথে শোনা, একসাথে সমাধান দেয়া কি অসম্ভব?

একটা মোবাইল টাওয়ার যদি হাজার হাজার কল একসাথে কন্ট্রোল করতে পারে, একটা ওয়াইফাই রাউটার যদি একসাথে পঞ্চাশজনের ইন্টারনেট সংযোগ দিতে পারে, একটা এআই সার্ভার যদি শত কোটি মানুষের প্রশ্ন বুঝে নিতে পারে, তাহলে যে স্রষ্টা এইসবের ডিজাইন করেছেন, তার জন্য কোটি কোটি প্রাণীর কান্না, হাসি, দোয়া, চাওয়া — শুনে ফেলা কোনো ব্যাপারই না। বরং তিনিই তো আমাদের চাওয়া তৈরি করে দেন, তিনিই তো জানেন কখন কি প্রয়োজন, কখন কি ভালো, এমনকি কখন চাওয়া না পাওয়াটাই বেশি দরকার।

যারা বলেন, “আল্লাহ কি এত মানুষের কথা একসাথে শুনতে পারেন?” — তারা আসলে বুঝে না, এটা জিজ্ঞেস করাটা ঠিক এমন, “সূর্য কি একসাথে কোটি কোটি ঘরে আলো দিতে পারে?” সূর্য তো একটা মাত্র নক্ষত্র, তার আলো সীমিত। অথচ সে-ও পৃথিবীর অর্ধেকের বেশি জায়গায় একসাথে আলো দিতে পারে। তাহলে যে আল্লাহ সূর্যকে বানিয়েছেন, তার আলো কেমন হবে?

চ্যাটজিপিটি যদি পারে, গুগল যদি পারে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যদি পারে, তাহলে নিশ্চয়ই সেই সর্বশক্তিমান, সর্বজ্ঞ, সর্বত্র উপস্থিত স্রষ্টা আমাদের সকলের মনের কথা, চোখের ভাষা, চুপ থাকা, কান্না, আশা — সব একসাথে শুনতে পারেন। কারণ, তিনি কোনো মেশিন না। তিনি শ্রবণ এবং জ্ঞানের একমাত্র ও চূড়ান্ত উৎস।

সোহেল রানা

13/07/2025

নাস্তিকদের একটা কমন প্রশ্ন—আল্লাহকে দেখা যায় না, ধরা যায় না, বিজ্ঞান দিয়ে প্রমাণ করা যায় না, সুতরাং আল্লাহর অস্তিত্বে বিশ্বাস করার কোনও প্রমাণ নেই, এটা অবান্তর। তারা ভাবে, যা দেখা যায় না, সেটার অস্তিত্ব নেই। অথচ বাস্তবতা হলো, আমরা প্রতিনিয়ত এমন অসংখ্য জিনিস বিশ্বাস করে থাকি যা দেখা যায় না, ধরা যায় না, কিন্তু তার প্রভাব আমরা বুঝি, অনুভব করি।

আমি যদি তাদেরই ভাষায় প্রশ্ন করি—আপনি কি গ্র্যাভিটিকে দেখতে পান? আপনি কি তাকে ধরতে পারেন? না পারেন না। কিন্তু আপনি তো গ্র্যাভিটিকে বিশ্বাস করেন। কারণ, এর কাজ আপনি বুঝতে পারেন। আপনি জানেন জিনিস নিচে পড়ে, মানুষ মাটিতে হাঁটে, পাখি আকাশে উড়ে আবার নিচে নামে। বিমান মাটি থেকে হাজার হাজার ফুট ওপরে উড়ে, আবার নিরাপদে মাটিতে নামে। কিন্তু কোনোদিন কি বিমান বা পাখি ছিটকে আকাশের বাইরে চলে গেছে?

না, যায় না। কেন?

বিজ্ঞান বলে—গ্র্যাভিটির কারণে।

এখন যদি পৃথিবীতে গ্র্যাভিটি না থাকত, তাহলে কী হতো?

পাখি একবার আকাশে উঠলে আর নামত না। বিমান যখন উড়ত, একসময় পৃথিবীর টান না থাকায় মহাশূন্যে ছিটকে যেত। মানুষও দাঁড়িয়ে থাকতে পারত না, ভেসে যেত। পুরো পৃথিবী এক বিশৃঙ্খলায় ভরে যেত।

সুতরাং এটা প্রমাণ হয়—একটা শক্তি আছে, যেটা আমাদেরকে, প্রাণীদেরকে, এমনকি আকাশে উড়ন্ত পাখি ও বিমানকেও একটা সীমার মধ্যে ধরে রাখে। এই শক্তিটা অদৃশ্য, দেখা যায় না, ধরা যায় না। কিন্তু আপনি এর অস্তিত্বে বিশ্বাস করেন কারণ এর প্রভাব আপনি বুঝতে পারেন।

আল্লাহ কোরআনে বলেন—

“তারা কি আকাশের দিকে দৃষ্টি দেয় না? কেমন করে আমি তা সৃষ্টি করেছি এবং সাজিয়েছি? আর আমি পাখিদের আকাশে উড়ন্ত অবস্থায় রেখেছি, কেউ তাদের ধরে রাখে না আল্লাহ ব্যতীত।”
(সূরা আল-মুলক ৬৭:১৯)

আজ বিজ্ঞান বলে—“gravity holds the birds in the sky” আর ১৪০০ বছর আগেই কোরআন বলছে—“আল্লাহ ছাড়া কেউ তাদের ধরে রাখে না।”

এটা কি কাকতালীয়? না, এটা একটা নিখুঁত মিল।

আল্লাহর সৃষ্টি করা এই নিয়ম, এই শক্তি, এই ব্যালেন্সই হলো আল্লাহর অস্তিত্বের প্রমাণ। আমরা অনেক সময় ভাবি—যেহেতু চোখে দেখা যায় না, তাই নেই। তাহলে ডার্ক ম্যাটার, ডার্ক এনার্জি?

আজকের আধুনিক বিজ্ঞান বলে—মহাবিশ্বের একটা বিরাট অংশ গঠিত ডার্ক ম্যাটার ও ডার্ক এনার্জি দিয়ে।

এগুলো কি কেউ চোখে দেখেছে? না।

ডার্ক এনার্জি এমন এক শক্তি যা মহাবিশ্বকে প্রতিনিয়ত সম্প্রসারিত করছে। বিজ্ঞান বলে—এই এনার্জির কারণেই গ্যালাক্সিগুলো একে অপর থেকে দূরে চলে যাচ্ছে, মহাবিশ্ব ছড়িয়ে পড়ছে।

আল্লাহ কোরআনে বলেছেন—

“আমি আকাশমণ্ডলীকে শক্তি দ্বারা সৃষ্টি করেছি এবং আমি তা সম্প্রসারিত করছি।”
(সূরা আদ-যারিয়াত ৫১:৪৭)

১৪০০ বছর আগে বলা কথা, আর আজকের বিজ্ঞান বলছে একই কথা।

বিজ্ঞানীরা আজও ডার্ক এনার্জি, ডার্ক ম্যাটার বুঝে উঠতে পারেনি। কিন্তু তারাও বলছে—“We can’t see it, but it’s there.”
তাহলে? চোখে দেখা যায় না, ধরতে পারি না—তবুও বিশ্বাস করি। কারণ আমরা তার প্রভাব বুঝি।

আল্লাহকেও চোখে দেখা যায় না, ধরতে পারি না। কিন্তু তার সৃষ্টি, তার কুদরত, তার তৈরি করা নিয়মের ভেতরে আমরা প্রতিনিয়ত হাঁটছি, শ্বাস নিচ্ছি, বেঁচে আছি।

তাহলে আমরা কেন বলবো—আল্লাহ নেই?

নাস্তিকরা আরও বলে—“যা প্রমাণ করা যায় না, তা বিশ্বাস করতে নেই।”

আমার প্রশ্ন—আপনি কি ভালোবাসাকে দেখতে পান? দুঃখ, ঘৃণা, অনুভূতিকে দেখতে পান? মস্তিষ্কে চিন্তার আলোকে অনুভূতির সৃষ্টি হয়—তাও তো বিজ্ঞান দিয়ে দেখা যায় না, ওজন মাপা যায় না। তাহলে আপনি কীভাবে বলবেন এগুলো আছে?

কারণ আপনি বুঝেন, অনুভব করেন।

তেমনি, একজন মানুষ প্রকৃতিকে দেখলে, আকাশে তাকালে, সমুদ্রের ঢেউ, গাছের পাতা, নিজের হৃদপিণ্ডের স্পন্দন যদি খেয়াল করে, সে বুঝবেই—এটা এমনিই হয় না।

এই পুরো সৃষ্টিকে এমন ব্যালেন্সে ধরে রাখার পেছনে একজন শক্তিশালী সত্তা আছেন—আর তিনি আল্লাহ।

এই জগতে কোন কিছুর অস্তিত্বই এমনি এমনি হয় না। আপনি যখন দেখেন একটা ঘড়ি চলছে, তখন আপনি বলেন—“ঘড়িটা কে বানাল?” আপনি তো নিজে দেখেননি কে বানালো। কিন্তু আপনি জানেন, এটা এমনিই হয়নি।

তেমনি, এই জগৎও এমনিই হয়নি। এটা নিখুঁত ডিজাইনে তৈরি, এবং এই ডিজাইনের পেছনে একজন ডিজাইনার আছেন। তিনিই আল্লাহ।

সবকিছুই যুক্তির সাথে চলছে। গ্র্যাভিটি না থাকলে সবকিছু ছিটকে যেত। ডার্ক এনার্জি না থাকলে মহাবিশ্ব প্রসারিত হতো না। এসব শক্তি নিজেরা নিজেরা কাজ করছে না—এসব নিয়ন্ত্রণ করছেন একজন।

তিনি না থাকলে, এই কসমস, এই মহাবিশ্ব, এই পৃথিবী এত নিখুঁতভাবে চলে না।

তাহলে বলি, চোখে না দেখা মানেই অনুপস্থিত—এই ধারণা একেবারেই ভুল। সত্যকে বুঝতে হলে শুধু চোখ নয়, দরকার খোলা মন, চিন্তা করার ক্ষমতা আর একটু গভীর পর্যবেক্ষণ।

আল্লাহকে দেখতে হলে আপনাকে চোখে নয়, উপলব্ধিতে খুঁজতে হবে। তাঁর সৃষ্টি দেখে চিনতে হবে। তিনি আছেন, এবং প্রতিটি নিয়মেই তার অস্তিত্ব বিদ্যমান।

সোহেল রানা

আল্লাহ যদি সবকিছু সৃষ্টি করেন, তবে আল্লাহকে কে সৃষ্টি করল?মানব ইতিহাসের সবচেয়ে প্রাচীন ও গভীর দর্শনীয় প্রশ্নগুলোর একটি...
14/04/2025

আল্লাহ যদি সবকিছু সৃষ্টি করেন, তবে আল্লাহকে কে সৃষ্টি করল?
মানব ইতিহাসের সবচেয়ে প্রাচীন ও গভীর দর্শনীয় প্রশ্নগুলোর একটি হলো: "সবকিছু যদি আল্লাহ সৃষ্টি করে থাকেন, তাহলে আল্লাহকে কে সৃষ্টি করল?" এই প্রশ্নটি শুনতে সরল মনে হলেও এর ভেতর লুকিয়ে আছে গভীর দার্শনিক, বৈজ্ঞানিক এবং ধর্মীয় বিশ্লেষণের দরজা। প্রশ্নটি শুধুমাত্র সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব নিয়ে নয়, বরং অস্তিত্বের মূল ভিত্তি, সময়, কারণ ও অব্যাহততার মতো মৌলিক বাস্তবতাগুলো নিয়ে প্রশ্ন তোলে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে দুই হাজার বছর আগেই মহান দার্শনিক ও বিজ্ঞানী এরিস্টট্ল এর উত্তর দিয়ে গেছেন। চলুন আলোচনা করা যাক কি বলেছেন তিনি।

১. Aristotle-এর Unmoved Mover তত্ত্ব

গ্রিক দার্শনিক অ্যারিস্টটল এই প্রশ্নের প্রেক্ষিতে একটি মৌলিক ধারণা প্রদান করেন—"Unmoved Mover"। তাঁর মতে, প্রত্যেক গতি বা পরিবর্তনের জন্য একটি কারণ থাকে। কিন্তু যদি প্রতিটি কারণেরও একটি কারণ থাকে, তাহলে আমরা এক অনন্ত কারণের শৃঙ্খলে পড়ে যাই। এই চেইন যদি থামে না, তবে কোন কিছুই শুরু হতে পারত না। তাই, তিনি মনে করেন এমন একটি সত্তা থাকা আবশ্যক যাকে অন্য কেউ চালিত করেনি, বরং সে-ই প্রথম গতি প্রদানকারী—Unmoved Mover, যিনি নিজেই গতিহীন এবং চিরস্থায়ী। এই সত্তার বৈশিষ্ট্য মিলে যায় ধর্মীয় বিশ্বাসে বর্ণিত সৃষ্টিকর্তার সঙ্গে।

অংকের উদাহরণ

গাণিতিক দৃষ্টান্ত:

ধরি একটি সমীকরণ:

A = f(B), B = f(C), C = f(D), …

এভাবে চলতে থাকলে ∞ পর্যন্ত যাবে।
তাহলে A এর নির্দিষ্ট মান কখনোই নির্ধারণ করা যাবে না, যদি না কোথাও গিয়ে আমরা থামি।

তাই আমাদের f(Z) = নির্দিষ্ট মান, এমন একটি Z দরকার যেটি নিজে অন্য কিছু দ্বারা নির্ধারিত নয়।

এই Z-ই হল Unmoved Mover মানে মহান সৃষ্টিকর্তা।

এখন দেখি বাস্তব উদাহরণ

আমরা যদি একটা সুন্দর ঘড়ি দেখি , তখন মাথায় আসবে—
"এই ঘড়ি কে বানিয়েছে?"

ঘড়ি নিজে তো নিজেকে বানায়নি।

এটা নিশ্চয় একজন ঘড়ির মেকার বানিয়েছে।

এখন প্রশ্ন হলো—এই ঘড়ির মেকারকে কে বানালো?

যদি প্রতিটি মেকারের জন্য অন্য মেকার ধরে নিই, তাহলে তো কোনোদিন শেষ হবে না। আর এটা যদি অনন্তকাল চলতে থাকে তবে বর্তমানে ঘড়িই সৃষ্টি হবে না, এর অস্তিত্বই থাকবে না
তাই একটা জায়গায় এমন একজন মেকার থাকতেই হবে যিনি নিজেই বানানো নন, কিন্তু অন্য সবকিছু বানিয়েছেন।

সেই মূল ঘড়ির মেকারটাই হলো Unmoved Mover মানে মহান সৃষ্টিকর্তা।

২. Infinite Regress এবং এর সীমাবদ্ধতা

Infinite regress বা অনন্ত পশ্চাদগতি এমন একটি ধারণা যেখানে প্রত্যেক কারণের পিছনে আরও একটি কারণ থাকে এবং এই চেইন কখনোই শেষ হয় না। এই ধারণা দর্শনে "যুক্তির অসমাপ্ততা"র উদাহরণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। যদি প্রতিটি সত্তা বা সৃষ্টির একটি স্রষ্টা থাকতে হয়, তবে প্রশ্ন আসবে সেই স্রষ্টারও তো একটি স্রষ্টা দরকার। কিন্তু এটি যদি অনন্তকাল চলতে থাকে, তাহলে সৃষ্টির কোন শুরুই হবে না।

এই সমস্যা সমাধানে দর্শনের একটি নির্যাস হলো—সর্বপ্রথম একটি "Self-Existent Being" বা "Necessary Being" থাকতে হবে, যিনি নিজে অস্তিত্বশীল এবং যার অস্তিত্ব অন্য কিছুর উপর নির্ভর করে না। ধর্মীয়ভাবে একে বলা হয় আল্লাহ।

গাণিতিক উদাহরণ:

১. -1, -2, -3, ... পর্যন্ত গোনা শুরু করা যাক

আমরা যদি ঋণাত্মক অসীম থেকে গোনা শুরু করি, কখনো কি 0 বা 1-এ পৌঁছাতে পারব?

না! কারণ অসীমের কোনো শেষ নেই। আমরা কোনোদিন শুরুতেই আসতে পারব না।

তবে যদি 0 থেকে গোনা শুরু করি, তখন সহজেই 1, 2, 3... এগোতে পারব।

ব্যাখ্যা:

অসীম পেছন থেকে শুরু করলে কখনোই সামনে এগোনো যায় না।

তেমনি, যদি সব কিছুর পেছনে কারণের অসীম লাইন থাকে, তাহলে প্রথম কারণই পাওয়া যাবে না।

ফলে এই বাস্তব জগতে কিছুই শুরু হতো না।

২. 1/2 + 1/4 + 1/8 + ...

এই সিরিজটি সমানুপাতিক ধারা (Geometric series)। এখানে অসীম সংখ্যক ভগ্নাংশ যোগ হলেও তার যোগফল হয় 1।

তবে এই সিরিজ সীমাবদ্ধ (convergent) কারণ এখানে প্রতিটি পদ আগের চেয়ে ছোট।

কিন্তু Infinite Regress-এ সমস্যা হচ্ছে, কারণের চেইনটা কখনো ছোট হচ্ছে না বা থামছে না।

যদি প্রতিটি কারণ সমান ও বাস্তব হয়, তাহলে Infinite Regress হবে divergent, অর্থাৎ কোনো "সীমা" তৈরি করতে পারবে না।

বাস্তব উদাহরণ:

ধরা যাক , একটা বই পড়ে যাচ্ছে।
তাকে ধরে আছে একজন লোক।
তাকে ধরে আছে আরেকজন,
তাকে ধরে আছে আরেকজন...

এভাবে যদি ধরে রাখার লোকেরা অসীম সংখ্যক হয়, এবং শেষ পর্যন্ত কেউ না থাকে—
তাহলে বইটা কি কখনো স্থিরভাবে থাকবে?

না। কারণ তখন কোনো শক্ত ভিত্তি থাকবে না।

সেই প্রথম ভিত্তিটা দরকার, যে নিজে কাউকে ধরে না, কিন্তু অন্যকে ধরে রাখে—সেইটা Unmoved Mover বা First Cause।

২. কল চালু হওয়ার উদাহরণ:

একটা পানির কল থেকে পানি পড়ছে।

তুমি জিজ্ঞেস করো, “কে চালু করেছে?”

উত্তর: রাহিম।

রাহিম চালু করেছে, কারণ Karim বলেছে।

Karim বলেছে, কারণ Selim বলেছে।

এইভাবে যদি চেইন চলে আর কেউ না থাকে যার ইচ্ছায় প্রথমে কলটা চালু হয়েছে—

তাহলে কলটা কখনো চালু হত না।

সুতরাং, একজন প্রথম "চালক" দরকার, যিনি নিজে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

৩. Actuality vs Potentiality

অ্যারিস্টটল এর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা হলো Actuality (বাস্তবতা) ও Potentiality (সম্ভাবনা)। একটি জিনিস যতক্ষণ না বাস্তবে ঘটে, ততক্ষণ তা সম্ভাবনার স্তরে থাকে। কিন্তু কিছু বা কেউ তো এই সম্ভাবনাকে বাস্তবে পরিণত করে।

যেমন, একটি বীজের মধ্যে গাছ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা থাকে। তবে তাকে বাস্তব গাছে পরিণত করতে প্রয়োজন আলো, পানি, ও পরিবেশ। অ্যারিস্টটল বলেন, সেই "প্রথম সত্তা" হচ্ছে একমাত্র পূর্ণ Actual Being—যিনি কখনো Potential ছিলেন না। তিনিই অন্য সম্ভাবনাগুলোকে বাস্তবে রূপ দেন। ধর্মীয় ভাষায় এটি আল্লাহর বৈশিষ্ট্যের সঙ্গেও মিলে যায়—তিনি চিরন্তন, পরিবর্তনহীন এবং সবকিছুর কারণ।

৪. আধুনিক বিজ্ঞান ও সৃষ্টিকর্তার ধারণা

আধুনিক বিজ্ঞানে যদিও সৃষ্টিকর্তার ধারণা সরাসরি আলোচিত হয় না, তথাপি সৃষ্টির প্রক্রিয়া ও মহাবিশ্বের সূচনা নিয়ে যে তত্ত্বগুলো রয়েছে, তা এই প্রশ্নকে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে তোলে।

Stephen Hawking-এর দৃষ্টিভঙ্গি: স্টিফেন হকিং তাঁর বই The Grand Design এ বলেছিলেন, "Because there is a law such as gravity, the universe can and will create itself from nothing." অর্থাৎ, মাধ্যাকর্ষণ আইনের মতো প্রাকৃতিক নিয়ম থাকায় মহাবিশ্ব নিজেই নিজেকে সৃষ্টি করতে পারে। কিন্তু প্রশ্ন হলো—মাধ্যাকর্ষণ আইন তো একটি নিয়ম। আর নিয়মের অস্তিত্ব তখনই অর্থবহ, যখন সেই নিয়মের উপর ভিত্তি করে কিছু কার্যক্রম ঘটে। সুতরাং, সেই আইনগুলো কোথা থেকে এল? তারা কি নিজেরাই সৃষ্টি হলো? নাকি কোনো বুদ্ধিবান সত্তা সেগুলোর ভিত স্থাপন করেছিল?

Gravity-এর মতো নিয়ম আগে থেকেই কোথা থেকে এল?

এখানে Hawking ধরে নিচ্ছেন:

আইন (Law) আগে থেকেই ছিলো (যেমন: মাধ্যাকর্ষণ)

কিন্তু "কিছু" আগে থেকে থাকতে হলে, সেটা "কিছুই ছিল না" এই ধারণার বিপরীত

এটা এক ধরনের লজিক্যাল পারাদক্স। কারণ:

> "নিয়ম/আইন কেবল তখনই অর্থ রাখে, যখন তাদের উপর ভিত্তি করে কার্যক্রম ঘটে। কিন্তু যদি কিছুই না থাকে, তাহলে সেই আইন কার উপর কাজ করছিল?"

বাস্তব উদাহরণ:

১. ট্রাফিক আইন কিন্তু গাড়ি ছাড়া কোনো মানে হয় না
ধরো একটা শহরে সরকার আগে থেকেই সব ট্রাফিক সিগনাল বসালো, আইন বানালো,কিন্তু কোনো গাড়ি নেই, কোনো রাস্তা নেই, কোনো মানুষ নেই।তাহলে এই ট্রাফিক আইনগুলোর কী মূল্য আছে?আইন তখনই বাস্তব, যখন কার্যক্রম আছেনিয়ম তখনই প্রয়োজন, যখন কিছু বাস্তবে ঘটে

তাহলে প্রশ্ন হলো:

> ট্রাফিক আইন আগে থাকতে পারে, কিন্তু তারা কার জন্য তৈরি হলো?
তারা নিজে নিজেই কি তৈরি হলো?
এই প্রশ্নের মতোই: "মাধ্যাকর্ষণ আইন" কিসের উপর খাটছিল যখন কিছুই ছিল না?

২. সফটওয়্যারের কোড এবং কম্পিউটার:

ধরো, কেউ বলে—"কম্পিউটার কোডের নিয়ম নিজে নিজে বানানো হয়েছে, আর সে কোড থেকেই কম্পিউটার তৈরি হয়েছে।"

এটা কি সম্ভব?

না—কারণ:

কোড চালানোর জন্য কম্পিউটার লাগে,

আর কম্পিউটার তৈরি করতে কোড/ডিজাইন ও ইঞ্জিনিয়ার লাগে।

এখানে যেমন কোড আগে থাকলেও তা কাজ করে না যদি হার্ডওয়্যার না থাকে।

ঠিক তেমনি, গ্র্যাভিটি বা কোনো আইন আগে থাকলেও তা কাজ করবে না যদি মহাবিশ্ব বা বস্তুজগৎ না থাকে।

গাণিতিক উদাহরণ:

১. সূত্র (Formula) এবং ভেরিয়েবল (Variable):

ধরো, তুমি এই সূত্র জানো:

> F = ma (বল = ভর × ত্বরণ)

এটা একটি নিয়ম বা সূত্র। কিন্তু প্রশ্ন হলো—

যদি m = 0 এবং a = 0,
তাহলে কি F নিজে নিজে বাস্তব হবে?

না—কারণ কোনো বস্তু নেই, কোনো গতি নেই, তাই নিয়ম থাকলেও বাস্তবে কিছুই হবে না।

এই সূত্র তখনই বাস্তব হয়, যখন কোনো ভর বা ত্বরণ থাকে—মানে বাস্তব জগতে কিছু উপস্থিত থাকে।

২. গাণিতিক নিয়ম: ধরা যাক "গুণফল = গুণনীয় × গুণক"

> যদি গুণনীয় এবং গুণক কেউই না থাকে,
তাহলে গুণফল নামক ধারণাও অর্থহীন।

তাই, নিয়ম শুধু তখনই বাস্তব হয়, যখন কিছু উপাদান থাকে যার উপর তা খাটে।

Albert Einstein-এর দৃষ্টিভঙ্গি: আইনস্টাইন সরাসরি ধর্মীয়ভাবে আল্লাহর অস্তিত্বে বিশ্বাস করতেন না, তবে তিনি বলেছিলেন—"The more I study science, the more I believe in God." তাঁর মতে, মহাবিশ্বের এত নিখুঁত গঠন, মহাজাগতিক ধ্রুবতা, এবং ফিজিক্সের অটুট নিয়ম কিছু একটির ইঙ্গিত দেয়—এমন একটি বুদ্ধিমত্তা যা এই সবকিছুর পেছনে কাজ করছে।

৫. অন্যান্য বিখ্যাত বিজ্ঞানীদের দৃষ্টিভঙ্গি

Max Planck (কোয়ান্টাম থিয়োরির প্রতিষ্ঠাতা): তিনি বলেন, “There is no matter as such; all matter originates and exists only by virtue of a force. We must assume behind this force the existence of a conscious and intelligent mind.” অর্থাৎ বস্তু জগতের পেছনে রয়েছে একটি চেতন ও বুদ্ধিদীপ্ত শক্তি।

Werner Heisenberg (Uncertainty Principle-এর প্রবর্তক): তিনি বলেন, “The first gulp from the glass of natural sciences will turn you into an atheist, but at the bottom of the glass God is waiting for you.”

এই উক্তিগুলো শুধু আবেগ নয়, বরং বিজ্ঞানের গভীর স্তর থেকে উৎসারিত উপলব্ধি।

১. Max Planck এর উক্তি বিশ্লেষণ:

> “There is no matter as such; all matter originates and exists only by virtue of a force. We must assume behind this force the existence of a conscious and intelligent mind.”

মানে কী?
তিনি বলছেন, আমরা যে পদার্থ (matter) দেখি—ইট, পাথর, মানুষ, গাছ—এগুলো প্রকৃতপক্ষে কেবল শক্তির (force) একরূপ। আর সেই শক্তির পেছনে রয়েছে চেতন ও বুদ্ধিদীপ্ত একটি সত্তা।

বাস্তব উদাহরণ:

১. পারমাণবিক গঠন (Atomic Structure):
আমরা জানি, প্রতিটি পদার্থ গঠিত পরমাণু (atom) দিয়ে।
প্রতিটি পরমাণুতে রয়েছে—

নিউক্লিয়াস (প্রোটন ও নিউট্রন)

ইলেকট্রন যা নিউক্লিয়াসকে ঘিরে ঘুরছে

প্রশ্ন হলো:
ইলেকট্রন কেন নিউক্লিয়াসকে ঘিরে থাকে, ভেঙে পড়ে না বা উড়ে যায় না?
উত্তর: একটি আকর্ষণ বল (electromagnetic force) কাজ করছে, যার কোনো চোখে দেখা যায় না, কিন্তু সব কিছু ধরে রাখছে।

এখন প্রশ্ন:

> এই বল (force) কে তৈরি করলো?
এই বলের নিয়ম কে নির্ধারণ করলো?
এটি কি শুধু কাকতালীয়ভাবে এমন নিখুঁত হলো?

Planck বলছেন, এই শক্তির পেছনে নিশ্চয়ই রয়েছে একটি জ্ঞানসম্পন্ন চেতনা—যে উদ্দেশ্য নিয়ে এটি স্থাপন করেছে।

গাণিতিক দৃষ্টিকোণ:

Einstein-এর Equation:

> E = mc²
এখানে,

E = শক্তি (Energy)

m = ভর (Mass)

c = আলোর বেগ

এই সূত্র থেকে দেখা যায়,
ভর (mass) মূলত শক্তির (energy) একটি রূপ।

অর্থাৎ, পদার্থ কোনো কঠিন কিছু নয়—
এটি শক্তির রূপান্তর। আর শক্তি যদি কোনো নিয়মে বাঁধা থাকে, তাহলে সেই নিয়ম কারো দ্বারা নির্ধারিত হওয়া দরকার।

২. Werner Heisenberg-এর উক্তি বিশ্লেষণ:

উক্তি:

> “The first gulp from the glass of natural sciences will turn you into an atheist, but at the bottom of the glass God is waiting for you.”

মানে:
বিজ্ঞান যখন কেউ প্রথম জানে, তখন মনে হয় সব কিছু তো নিয়ম দিয়ে বোঝানো যায়—তাহলে "স্রষ্টা" কী দরকার?

কিন্তু যখন সে বিজ্ঞানকে গভীরভাবে বোঝে, তখন দেখবে—

নিয়মগুলো অলৌকিকভাবে ভারসাম্যপূর্ণ

অনেক প্রশ্নের উত্তর শুধু বিজ্ঞানের ভেতরে পাওয়া যায় না

এবং বাস্তবতার গভীর স্তরে রয়েছে এক চেতনা ও উদ্দেশ্য

বাস্তব উদাহরণ:

১. কোয়ান্টাম ফিজিক্সে Particles-এর আচরণ:
Heisenberg প্রমাণ করেন—

> তুমি একই সঙ্গে একটি কণার অবস্থান (position) এবং গতিবেগ (momentum) নির্ভুলভাবে জানতে পারবে না। এটি হলো Uncertainty Principle।

কিন্তু প্রশ্ন হলো—

> কেন এমন অনিশ্চয়তা রয়েছে?
কেনই বা কণাগুলো আমাদের দেখার আগ পর্যন্ত "সম্ভাবনার ভেতরে" থাকে?

এটা এমন মনে হয় যেন কোনো বুদ্ধিমত্তা কণাগুলোর আচরণ পর্যবেক্ষণকারী সত্তা (Observer) নির্ভর করে রেখেছে।

গাণিতিক উদাহরণ:

Quantum Superposition:
ধরা যাক, একটি ইলেকট্রন একসঙ্গে দুটি অবস্থায় (State A ও State B) থাকতে পারে।
তুমি যদি এটি না দেখো, সে থাকবে দুটিতেই (A + B)।
তুমি দেখার সময়ই সে একটিতে “নির্বাচিত” হয়।

এটাকে গাণিতিকভাবে বোঝানো হয়:

> Ψ (উচ্চারণ: সাই বা পসাই)= aA + bB (একটি ওয়েভ ফাংশন, যা সম্ভাবনার উপর নির্ভর করে)

এখানে Ψ মানে particle-এর অবস্থা, আর a, b হল সম্ভাবনার গুণফল।
এটি ঠিক একটি ভিডিও গেমের মতো—চরিত্রটা তখনই fully লোড হয় যখন তুমি স্ক্রিনে তাকাও।

প্রশ্ন:

> কে এই প্রোগ্রাম লিখেছে?
এই "Observer effect" কে নির্ধারণ করলো?

এখানেই Heisenberg বলেন—শেষে ঈশ্বর অপেক্ষা করেন।

৬. যুক্তির দৃষ্টিকোণ থেকে—ঈশ্বরকে কে সৃষ্টি করল?

যদি আমরা বলি, প্রতিটি জিনিসের স্রষ্টা থাকতে হবে, তাহলে স্রষ্টারও স্রষ্টা থাকতে হবে। আর তারও স্রষ্টা থাকবে। কিন্তু তাহলে আমরা কখনোই একটি মূল কারণ (First Cause) এ পৌঁছাতে পারব না। আর যদি কোনো কিছু চিরন্তন হতে পারে, তবে সেটি হতে পারে কেবল সেই সত্তা যিনি স্থান, কাল, কারণ ও পরিবর্তনের বাইরের। ধর্মীয়ভাবে একে বলা হয় আল্লাহ, যিনি Self-Existent, Necessary Being, এবং যিনি uncaused cause।

৭. এ আই মডেল ও ডিজাইনের যুক্তি

একটি AI মডেল তৈরি হয়েছে লক্ষ কোটি লাইন কোড এবং মানব ইচ্ছার মাধ্যমে। এটি প্রমাণ করে যে এত জটিল কিছু এমনি এমনি হতে পারে না। তাহলে প্রশ্ন আসে—মহাবিশ্ব, প্রাণ ও চেতনা, যা আরও জটিল ও সূক্ষ্ম—তা কি নিজেরাই এমনভাবে তৈরি হয়েছে?

ডিজাইন নির্দেশ করে ডিজাইনারের অস্তিত্ব। পরিকল্পিত কিছু থাকলে একজন পরিকল্পনাকারীও থাকা উচিত। এই সরল যুক্তি থেকেই স্পষ্ট হয় যে মহাবিশ্বের সৃষ্টির পেছনে একজন চেতন, শক্তিশালী এবং সর্বজ্ঞ সত্তার প্রয়োজন রয়েছে।

প্রশ্নটি—"আল্লাহকে কে সৃষ্টি করল?"—শুনতে যুক্তিসঙ্গত মনে হলেও এটি একটি ভুল ধারণার উপর ভিত্তি করে। আল্লাহর মত চিরন্তন, অপরিবর্তনীয়, এবং স্বতঃসিদ্ধ সত্তার ক্ষেত্রে এই প্রশ্ন প্রযোজ্য নয়। কারণ তিনি সৃষ্ট নয়, বরং তিনি হচ্ছেন সমস্ত সৃষ্টির শুরু।

দর্শন, বিজ্ঞান ও যুক্তির প্রতিটি শাখা শেষ পর্যন্ত আমাদের নিয়ে যায় এমন এক প্রাথমিক সত্তার দিকে, যিনি নিজে সৃষ্ট নন, বরং সব সৃষ্টির কারণ। আর এটাই সেই শক্তিশালী যুক্তি, যা প্রশ্নের উত্তর দেয়—আল্লাহকে কেউ সৃষ্টি করেনি, কারণ তিনি চিরন্তন এবং তিনি আল-আওয়াল—সবকিছুর আগেও যিনি ছিলেন।

সোহেল রানা
ময়মনসিংহ

Address

Road-5, Block-A, Section-1, Mirpur Dhaka
Dhaka
00

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Cipping Path, Image Retouching, Image Masking, All Kind of image editing posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Cipping Path, Image Retouching, Image Masking, All Kind of image editing:

Share