CDOTTechnology

CDOTTechnology Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from CDOTTechnology, Advertising agency, Dhaka.

23/02/2017

গল্পে গল্পে শিক্ষা -------------;;
এক কৃষকের একটি ঘোড়া ও একটি ছাগল ছিলো ৷ একদিন ঘোড়াটি অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনি একজন পশু ডাক্তার ডেকে আনলেন । পরীক্ষা করে ডাক্তার বললেন "ঘোড়াটি ভাইরাস আক্রান্ত, আমি তিন দিনের ঔষধ দিচ্ছি । তিন দিন পর যদি অবস্থার উন্নতি না হয় তবে ঘোড়াটিকে মেরে ফেলতে হবে । তা না হলে চারদিক ভাইরাস ছড়িয়ে পড়বে !" কাছে থাকা ছাগলটি তাদের এই কথাবার্তা সব শুনলো --------;
-
পরদিন ঘোড়াটিকে ঔষধ দেয়ার পর ছাগলটি তার কাছে এসে বললো "শক্তি অর্জন করো বন্ধু, উঠে দাঁড়াও!
তা না হলে ওরা তোমাকে মেরে ফেলবে!"
দ্বিতীয় দিন ঔষধ দেওয়ার পর ছাগলটি ঘোড়ার কাছে এসে বললো "দোস্ত উঠে দাঁড়াও, তা না হলে তো তুমি মারা পড়বে!
তৃতীয় দিনে ঘোড়াটিকে ঔষধ দেয়ার পর ডাক্তার কৃষককে বললেন "ভাগ্য খারাপই মনে হচ্ছে,, কালকে বোধ হয় এটাকে মেরেই ফেলতে হবে ;তা না হলে ভাইরাস চারদিকে ছড়িয়ে পড়বে, অন্য ঘোড়াগুলোও তাতে আক্রান্ত হবে --------;;
-
এ কথা বলে তারা চলে যাবার পর ছাগলটি ঘোড়ার কাছে এসে বললো "শোনো দোস্ত, এখনই শেষ সময়, আর সুযোগ পাবে না ;
উঠে দাঁড়াও!
সাহস অর্জন করো!
মনে শক্তি আনো,
ওঠো, উঠে দাঁড়াও!
এই তো..গুড...
ধীরে ধীরে..!.দারুন..!!
এবার হাঁটো দেখি..??
ওয়ান, টু, থ্রি... ওয়াও!
বেশ পারছো---------;
এবার দৌড়াও!!!
" কৃষকটি ঘোড়ার কাছে এলো আর দেখলো ঘোড়াটি দৌড়ে মাঠের দিকে চলে যাচ্ছে -----------''
তিনি আনন্দে চিৎকার করে উঠলেন "আরে!!
এটা একটা অলৌকিক ব্যাপার!
আমার ঘোড়াটি সুস্থ হয়ে গেছে?
ওকে এই কারনে ছাগলটা জবাই করে আমি কাল পার্টি দিবো ------------;
-
এ ধরণের ঘটনা আমাদের জীবনে প্রায়ই ঘটে থাকে----;
সত্যিকার অর্থে অনেক সময় কেউই জানতে পারে না আসলে কোন ব্যক্তি এই সফলতার পেছনে অবদান রেখেছে বা দরকারী সাপোর্ট দিয়েছে স্বীকৃতিটা কার প্রাপ্য -----------;;
স্বীকৃতির আশা করে ভালো কাজ হয় না --------;;
ভালো কাজ করতে হয় নিজের আত্মতৃপ্তির জন্যই ; স্বীকৃতি ছাড়া বাঁচতে শেখার মাঝে এক ধরনের আত্মতৃপ্তি লুকিয়ে থাকে -----------;;
নামে কিছুই হয় না;হয় কর্মে--------;
ভাল কর্ম ই নাম কে বিখ্যাত করে----;
অবশ্যই নাম নয়

21/02/2017

দ্রুত কাজ করার দশটি সেরা অ্যাপ্লিকেশন

কিছু নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করে আপনার সময়ের অপচয় কমান আর গুছিয়ে কাজ করুন।

১। আপনার ইমেইল গুছিয়ে রাখুন : সেনবক্স (SaneBox)

সেনবক্স অ্যালগরিদম ব্যবহার করে আপনার দরকারী আর অদরকারী মেইলগুলো আলাদা করে ফেলে। বিশ্বাস করে একবার ব্যবহার করে দেখুন।

টিপসঃ দিনে দুবার চেক করুন, খবর পড়তে চাইলে বা নতুন অফার জানতে চাইলে চেক করুন, আর ফালতু যত মেইল আসবে সেগুলো যাবে -এ।

২। আপনার সকল নোটের খোঁজ রাখুনঃ এভারনোট (Evernote)

আপনার সকল নোট, এভারনোট ক্লাউডে সেভ করে রাখবে। এতে করে আপনি যেখানেই থাকুন না কেন ইন্টারনেট ব্যবহার করে মোবাইল বা কম্পিউটার থেকে নোট চেক করতে পারবেন।

টিপসঃ ব্যক্তিগত এবং ব্যবসায়িক সবক্ষেত্রেই এটা ব্যবহার করুন। সব ব্যবসায়িক নোট সরাসরি এভারনোটে টুকে রাখুন। আর যেসব ডকুমেন্ট আপনি নিজের কাছে রাখতে চান, সেগুলো সরাসরি ফ্যাক্স বা স্ক্যান করে এভারনোটে রাখুন।

৩। আপনার ডকুমেন্ট ইন্টারনেটে সেভ করুনঃ ড্রপবক্স (DropBox)

আপনার যত জরুরী কাগজপত্র আছে সেগুলোর ইলেক্ট্রনিক ব্যবস্থায় নিরাপদে ক্লাউডে সেভ করুন। পরে যে কোন জায়গা থেকে সেগুলো ব্যবহার করতে পারবেন।

টিপসঃ ডকুমেন্ট গুলো এমনভাবে সাজান যাতে নতুনগুলো প্রথমে দেখায়। কম্পিউটারে কিছু সেভ না করে বরং ক্লাউডে সেভ করুন। নতুন যা করবেন সরাসরি ক্লাউডে সেভ করবেন।

৪। আপনার কাজের লিস্টকে কার্যকর করুনঃ অ্যাকশন মেথড (Action Method)

এটা একটা অনলাইন অ্যাপ্লিকেশন, যার কাজ হল আপনার কাজের লিস্ট সাজানো। কোন কাজটা আগে করা দরকার, কোন কাজটা হয়ে গেছে এসব ব্যাপারগুলো এই অ্যাপ খুব সহজে সাজিয়ে রাখে।

টিপসঃ অ্যাপটির তিন রঙের কালার কোড ব্যবহার করুন। কমলা-অত্যন্ত জরুরী, নির্ধারিত দিনে অবশ্যই শেষ করতে হবে, নীল- যে কাজের ডেডলাইন এক দুই দিন পেছানো যাবে, ধূসর- যে কাজগুলো কমলা আর নীল রঙের কাজের চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ। এটার একমাত্র সমস্যা হল, এটা ইন্টারনেট ছাড়া ব্যবহার করা যায় না। তবে আপনার লিস্টের একটা পিডিএফ আপনি চাইলেই পাবেন।

৫। ভ্রমণের পরিকল্পনা সাজান। ট্রিপ-ইট (TripIt)

এটা আপনার সব তথ্য এক জায়গায় সেভ করে রাখবে। আপনি কোথায় আছেন, এই তথ্যটি আপনি স্বয়ংক্রিয়ভাবে অথবা নিজেও যে কারো কাছে পাঠাতে পারেন। এর উন্নত সংস্করণ আপনাকে ফ্লাইট ডিলে হওয়ার সতর্ক বার্তা পাঠাবে।

৬। আপনার ভয়েস-মেইলগুলো লিখে রাখুনঃ ইউ-মেইল (YouMail)

এই সার্ভিসটা আপনার সকল ভয়েস-মেইলকে টেক্সটে পরিবর্তন করে দেয়। ফলে আপনি সহজেই মেইল দেখতে, পড়তে পারবেন।

৭। আপনার সামাজিক যোগাযোগের অ্যাকাউন্টগুলো একত্রিত করুনঃ হুটস্যুট (HootSuite)

এই ওয়েবসাইটটি আপনাকে টুইটার, ফেইসবুক, ইয়ামার সবকিছু এক জায়গা থেকে ব্যবহার করার সুবিধা দিচ্ছে।

টিপসঃ হুটস্যুটের “অটো শিডিউল” ব্যবস্থা ব্যবহার করুন। এতে করে আপনার সকল পোস্টগুলো সহজে ছড়িয়ে দিতে পারেন।

৮। আপনার পুরো টিমের সাথে যোগাযোগ রাখুনঃ ইয়ামার (Yammer)

এটা একটা ব্যক্তিগত টুইটারের মত। আপনার কোম্পানির জন্য ব্যবহার করতে পারেন।

টিপসঃ আপনার কোম্পানির সবাইকে বলুন এটা ব্যবহার করতে। যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম হিসেবে এটা ব্যবহার করুন। কর্মচারীদের ব্যবসা বা অন্য যেকোন বিষয়ে কিছু শেয়ার করার থাকলে এখানে শেয়ার করতে বলুন। কাজও হবে মজাও হবে।

৯। সুস্থ থাকুনঃ এমআই-কোচ(miCoach)

ব্যায়াম করলে শরীর মন দুটোই চাঙা থাকে। এই অ্যাপ আপনার ব্যক্তিগত ট্রেনার হিসেবে থাকবে।

টিপসঃ আগে থেকে ব্যায়াম ঠিক করে রাখুন। হার্ট রেইট মনিটর দেখে নিজের অবস্থা বুঝে নিন।

১০। ভালো করে ঘুমানঃ আই-স্লিপ ইজি (iSleep Easy)

রাতে ঘুম খুবই জরুরী। সারা দিনই আপনি কাজ করেন। এই মেডিটেশন অ্যাপ আপনাকে ঘুমাতে সাহায্য করবে। বিশেষ করে আপনার যদি জেট ল্যাগ থাকে।

[অনুবাদ]

21/02/2017

১২টি প্রেরণা মূলক উক্তি

এখানে দেওয়া প্রেরণা্মূলক উক্তিগুলো আপনাকে কাজে নেমে পড়ার উদ্যম যোগাবে।

নিজের লক্ষ্য ও স্বপ্নকে আপনার আত্মার সন্তান হিসেবে লালন করুন, এগুলোই আপনার চূড়ান্ত সাফল্যের নকশা হবে। নেপোলিওন হিল (নেপোলিওন হিল একজন আমেরিকান লেখক ছিলেন যিনি নতুন চিন্তাধারা নিয়ে লিখতেন। ব্যক্তিগত সাফল্য নিয়ে লেখা লেখকদের মধ্যে তিনি অন্যতম ছিলেন।)

সাফল্যের মূলমন্ত্র হল যা আমরা ভয় পাই তার উপর নয় বরং আমরা যা চাই তার উপর আমাদের চেতন মনকে কেন্দ্রীভূত করা। ব্রায়ান ট্রেসি (ব্রায়ান ট্রেসি একটি প্রেরণাদায়ী স্পিকার এবং লেখক)

সাফল্য হল আপনি যা চান তা হাসিল করা। আনন্দ হল আপনি যা চান তা পাওয়া। ডেল কার্নেগি (ডেল কার্নেগী একজন আমেরিকান লেখক এবং তিনি আত্মোন্নতি, বিক্রয় দক্ষতা, কর্পোরেট প্রশিক্ষণ, পাবলিক ভাষাভাষী, এবং আন্তঃব্যক্তিগত দক্ষতা ইত্যাদি বিষয়ে কোর্স তৈরি করতেন)

সাফল্যের জন্য প্রতিবন্ধকতার দরকার আছে কারণ গুরুত্বপূর্ণ ক্যারিয়ার হিসেবে সেলসে আপনি তখনি বিজয় পাবেন যখন আপনি প্রচুর পরিশ্রম ও অসংখ্য পরাজয় সহ্য করতে পারবেন। অগ মান্ডিনো (অগ মান্ডিনো একজন আমেরিকান লেখক ছিলেন. তিনি সবচেয়ে বিক্রিত বই “The Greatest Salesman in the World” এর লেখক ছিলেন।

আপনি নতুন কোন কাজ নিলেন কিনা তার উপর একটি সত্যিকারের সিদ্ধান্ত নির্ভর করে। যদি কোন কাজের সম্পর্ক না থাকে, তাহলে আপনি সত্যিকার অর্থে সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হননি। টনি রবিনস (টনি রবিনস একটি ব্রিটিশ অভিনেতা, কৌতুকাভিনেতা, অপেশাদার ইতিহাসবিদ, টিভি উপস্থাপক ও রাজনৈতিক কর্মী)

যদি আপনি আপনার রাগ সংবরণ করতে না পারেন, তাহলে আপনি আক্রমণে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা আছে এমন একটি দেয়ালবিহীন শহরের মতই অসহায়। দা বুক অফ প্রভার্বস

সাধারণ মানুষ কথা বলে। ভাল মানুষ ব্যাখ্যা করে। উত্তম মানুষ কাজ করে দেখায়। মহৎ মানুষ অন্যদেরকে কাজের ব্যাপারে অনুপ্রেরণা যোগায়। হার্ভি ম্যাকে (হার্ভে ম্যাকে একজন ব্যবসায়ী এবং কলাম লেখক। তার লেখা বিখ্যাত বই হল, Swim With the Sharks, Beware the Naked Man Who Offers You His Shirt and Dig Your Well Before You’re Thirsty।

স্বাধীনতা, অগ্রাধিকার, বিকল্প – এগুলো সবসময় যাচাই করে নিতে হয় এমনকি যদি এগুলো অসুবিধা সৃষ্টি করে তবুও। জ্যাক ভ্যান্স (জ্যাক ভ্যান্স একজন আমেরিকান রহস্য, ফ্যান্টাসি এবং বিজ্ঞান কথাসাহিত্য লেখক)

নিজের দেহের যত্ন নিন। এই দেহ নিয়েই আপনাকে বাঁচতে হবে। জিম রন (জিম রন ছিলেন একজন আমেরিকান উদ্যোক্তা, লেখক এবং প্রেরণাদায়ী স্পিকার)

যদি আপনি অন্যদেরকে তাদের চাওয়া পূরণে সাহায্য করেন তবেই আপনি জীবনে আপনার নিজের চাওয়াও পূরণ করতে সক্ষম হবেন। জিগ জিগলার

আমি ততবারই সফল হই যতবার আমি ব্যর্থ হই এবং তারপরও চেষ্টা চালিয়ে যাই। টম হপকিন্স (টম হপকিন্স একটি প্রগতিশীল শিক্ষা তাত্তিক, কনসালটেন্ট, এবং পাঠ্যক্রম নেতা)

নিজের থেকেও বড় কিছু সৃষ্টি করার সব রকম সামর্থ্যই আপনার মাঝে রয়েছে। সেথ গডিন (একজন আমেরিকান লেখক, উদ্যোক্তা, বিপনন বিশেষজ্ঞ, এবং পাবলিক স্পিকার)

16/02/2017

তুতেনখামেন মিশরের সব থেকে অল্পবয়সি রাজা। মাত্র ন’বছর বয়সে সিংহাসনে বসেন তিনি। কিন্তু খুবই অল্প দিন রাজত্ব করে মারাও যান। সে দেশের নিয়মানুযায়ী, তাঁর নামাঙ্কিত পিরামিড তৈরি করে যুবক ফারাওকে সেখানে সমাধিস্থ করা হয়। কথিত আছে, মিশরীয় ফারাওদের সমাধিস্ত করার সময় তাঁদের যাবতীয় পার্থিব জিনিস, ধন-রত্নও রেখে দ...

16/02/2017

এই ম্যাজিক মিশ্রণ এর মাধ্যমে ফুসফুসের সব ময়লা সাফ হবে

আমার দিন: বাংলাদেশে মধ্যম সারির ব্যবস্থাপক নেই!লিখছেন তথ্যপ্রযুক্তিবিদ জাকারিয়া স্বপন। বাংলাদেশের এন্ট্রি লেভেলে দারুণ স...
13/02/2017

আমার দিন: বাংলাদেশে মধ্যম সারির ব্যবস্থাপক নেই!

লিখছেন তথ্যপ্রযুক্তিবিদ জাকারিয়া স্বপন। বাংলাদেশের এন্ট্রি লেভেলে দারুণ সব কর্মী থাকলেও মিড লেভেলে রয়েছে দক্ষ ব্যবস্থাপক অভাব। মধ্যম সারির দক্ষ ব্যবস্থাপক কেন গড়ে উঠছে না, তাই নিয়ে লিখেছেন আজ।

এক.
অনেক দিন পর আসিফ সালেহ-এর সঙ্গে দেখা। আমেরিকায় থাকার সময় অনেক যোগাযোগ ছিল। দেশ নিয়ে ভাবনা, নিজেদেরকে দেশের কোনোও কাজে লাগানো যায় কি না, দেশের নানান সমস্যা এবং সেগুলোর সম্ভাব্য সমাধান, আরও কত কী! ব্যক্তিগত সম্পর্কের চেয়ে বাংলাদেশ নিয়ে ওর সঙ্গে আমার সম্পর্ক ছিল অনেক বেশি। ‘ছিল’ বলছি এই কারণে যে, আসিফের সঙ্গে অনেক দিন এগুলো নিয়ে কথা হয় না। একই শহরে থাকার সুবাদে দেখাও হয় না। বাংলাদেশে কোনোও কিছু সিনসিয়ারলি করতে যে পরিমাণ পাথর ঠেলতে হয়, তারপর আর অন্য দিকে সময় করে উঠা যায় না। যুদ্ধ করে জীবন চলা যাকে বলে।

এর ভেতর আসিফ ওয়াল স্ট্রিটের বিশাল চাকুরি ছেড়ে ঢাকায় ফিরে প্রথমে এ-টু-আই, এবং পরে ব্র্যাকে কাজ শুরু করেন। বর্তমান ব্র্যাকের সিনিয়র ডিরেক্টর হিসেবে কর্মরত এবং আটটি বিভাগ দেখাশুনা করেন। একজন খুবই ক্যাপাবল মানুষ। দেশের জন্য ভালোবাসা আপাদমস্তক।

সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎ। দু’জনেরই দৌড়ের শেষ নাই। স্বল্পতম সময়ের সাক্ষাতে অসংখ্য বিষয় টুকরো টুকরো করে উঠে এলো। কিছুদিন আগে আমি লিখেছিলাম, বাংলাদেশ থেকে যেদিন দারিদ্রতা চলে যাবে, সেদিন ব্র্যাকের দারিদ্রবিমোচন প্রোগ্রামটি বন্ধ করে দিতে হবে। আসিফ ব্যাখ্যা করলেন, মানব উন্নয়নে তারা আর কী কী করছেন। সর্বশেষ যুক্ত হয়েছে বিদেশে দক্ষ শ্রমিক রপ্তানি। দেশের শ্রমিকদেরকে প্রশিক্ষণ দিয়ে, তাদেরকে বিশেষ কাজে দক্ষ করে তারপর বিদেশে পাঠানো।

ব্র্যাককে বিশ্বের সবচে’ বড় এনজিও হয়ে নিজেকে পরিচালনা করতে নিশ্চয়ই অনেক সমস্যা হয়। আমি ভাবছিলাম, আসিফের কাজ থেকে সেই চ্যালেঞ্জগুলো শুনব। কিন্তু সেই প্রসঙ্গে যাবার আগে সে নিজেই আমাকে জিজ্ঞেস করল, বাংলাদেশে লোক পাচ্ছেন? মিড লেভেল ম্যানেজার?

আমাকে উত্তর দেওয়ার আগেই নিজেই প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দিয়েছে। আমি বলতে চেয়েছিলাম, বাংলাদেশে মিড লেভেল ম্যানেজার পাওয়া যায় না। আমাদের অসংখ্য ভালো এন্ট্রি লেভেল কর্মী আছে। ফ্রেশ এবং বুদ্ধিমান। আমাদের অনেক ভালো ভিশনারি লিডার আছেন। কিন্তু মাঝখানটা একদম ফাঁকা। মাঝখানের কর্মী নেই, একদম নেই।

আসিফও আমার সঙ্গে মাথা নেড়ে বললেন, এটাই বাংলাদেশের উন্নয়নের সবচে বড় বাধা। মানুষ তো আছে প্রচুর, কিন্তু তাদেরকে ম্যানেজ করার মতো মানুষ নেই। ছোট একটা প্রজেক্ট তুলতেও মাথা খারাপ হয়ে যায়। আমাদের এই শিক্ষাটা নেই।

আমি বললাম, একজন ভারতের কিংবা শ্রীলংকার ম্যানেজার যেরকম দক্ষ হয়, সময়ের ব্যাপারে যেমন পটু হয়, ডেডলাইন মিস করে না, কিংবা একটা টিমকে যেভাবে ফোকাস রাখতে পারে, আমাদের ছেলেমেয়েরা সেটা পারে না। তারা এটাকে নিজের বাসা-বাড়ি বানিয়ে ফেলে। নয়তো চরম কঠিন বস হয়ে সবার ওপর ছড়ি ঘুরাতে থাকে। এটাকে প্রফেশনালি কীভাবে পরিচালনা করতে হয়, সেটা আমরা শিখিনি এবং শিখছি না।

আসিফ বললেন, ভাবছি এটাকে কীভাবে আরেকটু উন্নত করা যায়। কোনোও একটা ট্রেনিং ইনস্টিটিউট বানানো যায়?

আমি বললাম, যায় এবং সেটাই ব্যাপক হারে করা প্রয়োজন।

দুই.
বিষয়টি যে শুধু আসিফ সালেহ-এর সঙ্গে কথা বলে বুঝতে পেরেছি তা নয়। আমার নিজের অভিজ্ঞতা তো আছেই; তার ওপর বিভিন্ন সেক্টরে সিইও লেভেলে এবং বোর্ড অফ ডিরেক্টর লেভেলে কথা বলেও আমি এটা নিশ্চিত হয়েছি। আমরা যে মাঝে মাঝে রিপোর্টে দেখি, বাংলাদেশ থেকে একটি বড় অঙ্কের টাকা পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে চলে যায়, তার একটি বড় পরিমাণ হলো তাদের কর্মীরা আমাদের এখানে কাজ করে। এবং এটাকে কিন্তু ফেলে দেওয়া যাবে না। কালকে যদি আপনি এদেরকে দেশ থেকে বের করে দিয়ে নিজেদের লোক দিয়ে চালাতে চান, তাহলে শিল্পগুলো ভেঙে পড়ার সম্ভাবনাই বেশি। আমাদের গ্রোথের সঙ্গে এরা জড়িত। তবে নিশ্চিয়ই এটা কারো কাম্য নয়। চলুন কয়েকটা সেক্টরের দিকে তাকাই, তাহলে অনেকের ধারণা পরিষ্কার হতে পারে।

প্রথমেই বলি মিডিয়ার কথা। বাংলাদেশের মিডিয়াতে কাজ করেন অসংখ্য সিনিয়র সাংবাদিক এবং এডিটর পাওয়া যাবে। টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে ভালো সিইও পাওয়া যাবে। তবে তাদের স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করার মতো মাঝ পর্যায়ের মানুষ নেই; ম‌্যানেজার নেই। আপনি প্রতিটি হাউজ ধরে ধরে দেখুন। মাথা আছে অনেক; কিন্তু ভালো ম্যানেজার নেই, যারা একেকটি আইডিয়া নিয়ে কাজ করতে পারে, আইডিয়াটাকে সময়মতো তুলে আনতে পারে এবং অনুষ্ঠানটিকে যেভাবে পরিকল্পনা করা হয়েছিল, সেভাবেই ব্রডকাস্ট করতে পারে। আর এটা নেই বলেই প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের প্রধানকে প্রতিটি দিন চিৎকার করতে করতে গলা ব্যাথা করতে হয়। আর যদি সেটা কেউ না করেন, তাহলে সেখানে ভালো অনুষ্ঠান আর হয়ে ওঠে না। আমাদের টিভিগুলোর থেকে যে কলকাতার টিভি আলাদা তার একটি মূল কারণই হলো, মাঝ স্তরের ম্যানেজার কিংবা কর্মীর সংখ্যা এবং তাদের গুণগত মান।

এবারে টেলিকমগুলোর কথা বলি। বাংলাদেশের টেলিকমগুলো প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি বিনিয়োগ করেছে। কারণ এখানে তাদের অল্প খরচে নেটওয়ার্ক করা হয়ে গিয়েছে। এত অল্প জায়গা এত বেশি গ্রাহক পৃথিবীর আর কোথাও নেই। আর সেবা খারাপ দিলেও কারও কিছু আসে যায় না। ফলে তারা ব্যবসা হিসেবে ভালো করেছে। কিন্তু মাঝারি সারিতে ম্যানেজার কি খুব ভালো পেয়েছে? কিংবা দেশে তৈরি হয়েছে? একদম যে তৈরি হয়নি তা নয়। টেলিকমগুলো তাদের কিছু মানুষকে ট্রেনিং দিয়ে তৈরি করে নিয়েছে। কিন্তু তার সংখ্যা খুব কম। বাংলাদেশে টেলিকম শিল্প প্রায় ২০ বছরের। কতজন ভালো ম্যানেজার আমরা পেয়েছি? বাংলাদেশের টেলিকমগুলোর একটা বড় ব্যবস্থাপনা দেখে বিদেশি ম্যানেজাররা। দেশিরা তাদের পাশে থাকে। তবে কেউ কেউ বেশ ভালো করছেন। কিন্তু সেটা পুরো শিল্পের তুলনায় খুব কম।

বাংলাদেশের সফটওয়্যার শিল্পে মাঝারি খাতে কোনোও ম্যানেজার নেই। একদম শূন্য। আমাদের ভালো প্রোগ্রামার আছে। তাদের ব্রেইন আছে। কিন্তু একটা প্রজেক্ট কীভাবে পরিকল্পনা করতে হয়, কীভাবে দায়িত্ব ভাগ করে দিতে হয়, কীভাবে সময়টাকে ভালো করে ব্যবহার করতে হয়, কীভাবে দায়িত্ব নিয়ে প্রজেক্ট তুলে ফেলতে হয়, এই জ্ঞান শূন্যের কাছাকাছি। তারা ব্রিলিয়ান্ট, এই ব্যাপারে কোনোও সন্দেহ নেই। কিন্তু তাদের ব্যবস্থাপনার দক্ষতা একদমই নেই। আমি বাংলাদেশের অসংখ্য সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানকে চিনি, যারা ভালো ম্যানেজারের কারণে সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানটিকে পরের ধাপে নিয়ে যেতে পারছেন না। যিনি শুরু করেছিলেন, তিনি একাই পুরো প্রতিষ্ঠানটিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছেন, যত দিন পারেন। পরবর্তীতে হাল ধরার আর কেউ তৈরি হচ্ছে না। যেকারণে বাংলাদেশে সফটওয়্যার শিল্প সামনে এগোতে পারবে না। মুখে আপনি যত বিলিয়ন ডলারের কথাই বলুন না কেন, ফলাফল তেমন একটা হবে না। তাই বিগত ২৫ বছর ধরে সেই একই প্যাঁচাল আমরা শুনে যাচ্ছি। সমস্যাটা হলো, ভালো দক্ষ ম্যানেজার।

বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে কিছু ম্যানেজার আছে, তবে তাদের সংখ্যাও খুব কম। সেখানে অসংখ্য বিদেশি ম্যানেজার কাজ করেন, যাদের দক্ষতার কারণে আমাদের পোশাক শিল্পটি সামনে এগিয়ে চলেছে। এর বাইরে আমাদের এমন কোনোও খাত নেই যেখানে সঠিক ম্যানেজার আছে। একটি ব্যাংকে যান, এমনকি প্রাইভেট ব্যাংক, রেস্টুরেন্টে যান, পর্যটন কেন্দ্রে যান, জাহাজে উঠেন, উড়োজাহাজে চড়েন, বিমানবন্দর ব্যবহার করেন, বিদ্যুৎ-গ্যাস ইত্যাদি সেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলো দেখেন, সব ফাঁকা। মানুষের অভাব নেই। কিন্তু সুন্দর গুছিয়ে দায়িত্ব নিয়ে একটি বিভাগ চালাবে, সেটা নেই। যে কারণে যেখানেই যাবেন, একটা অব্যবস্থাপনা। সব দায়িত্ব যেন প্রতিষ্ঠানের প্রধানের। মাঝখানে যারা আছেন, তারা দায়িত্ব নিতে পারেন না; গুছিয়ে কাজটা করতে পারেন না।

এবারে দেশ পরিচালনার কথা বলবেন? দেখেন ভালো করে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজে কীভাবে কাজগুলো করছেন। তার পরের ধাপগুলো? সবাই যেন তাকিয়ে আছে সেই একজনের দিকে। আর যাকেই তিনি দায়িত্ব দিচ্ছেন, তিনি রাতারাতি চুরি-ডাকাতি করে, পুরো অব্যবস্থাপনায় ভরে, নিজের আত্মীয় স্বজনদের চাকরি দিয়ে সেই বিভাগটার বারোটা বাজিয়ে দিয়ে চলে যাচ্ছেন।

বাংলাদেশ আরও অনেক ভালো করতে পারত, যদি এই দেশ সঠিক ম্যানেজার পেয়ে যেত।

তিন.
বাংলাদেশ যে কারণে ভালো ম্যানেজার পায় না কিংবা তৈরি হয় না, তার একটি মূল কারণ হলো শর্টকাট। ক্যারিয়ারে আমরা খুব দ্রুত উপরে উঠে যেতে চাই। সম্ভব হলে প্রধান নির্বাহী (সিইও)। আর যদি ওই প্রতিষ্ঠানের সিইও হতে না পারি, তাহলে নিজেই একটা প্রতিষ্ঠান খুলে সেটার সিইও হয়ে গেলাম। সিইও আমাকে হতেই হবে, গোলাম হোসেন!

বাংলাদেশে যে একটু কাজ শিখে ফেলে কিংবা ভালো ট্রেনিং পায়, সে তখন ভাবতে শুরু করে- ওই প্রতিষ্ঠানের জন্য সেই যোগ্য সিইও। তার সামনে যে আরও ২০ বছরের ক্যারিয়ার আছে, সেটা তার মাথায় থাকে না। কেউ ৩০ বছরের কথা মাথায় রেখে বাংলাদেশে ক্যারিয়ার তৈরি করে না। সবাই মোটামুটি স্বল্পকালীন চিন্তাভাবনা থেকে চাকরি করে। তাই তার দক্ষতা তৈরির খুব একটা প্রয়োজন পরে না। চাকরি তো আর চলে যাচ্ছে না। আর যিনি শিখে ফেললেন, তিনি কয়েকদিন পর থেকেই চিন্তা-ভাবনা শুরু করেন, কীভাবে নিজেই একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক হয়ে যাবেন। এটাই বাংলাদেশের কমন চিত্র।

ভালো দক্ষতা সম্পন্ন কর্মী হওয়াটা খুবই কঠিন একটি কাজ। এটা বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের লেখাপড়ায় ভালো করার চেয়েও কঠিন। এর জন্য প্রয়োজন সঠিক এটিচিউড এবং ট্রেনিং। এবং সর্বোপরি এমন একটা পরিবেশ, যার মাধ্যমে আমাদের কর্মীরা তাদের কর্মজীবনে প্রবেশ করে একটা সময়ে গিয়ে ভালো ম্যানেজার হয়ে যেতে পারে। বাংলাদেশের কিছু প্রতিষ্ঠান আছে, যারা তাদের কর্মীদের পেছনে প্রচুর বিনিয়োগ করে ট্রেনিং-এর জন্য। এবং তারা ভালো ম্যানেজার পেয়েছে এবং পাচ্ছে বলে আমি জানি। কিন্তু সেই গুটিকয়েক প্রতিষ্ঠানকে বাদ দিলে মোটা দাগে আমাদের দেশে দক্ষ ম্যানেজার তৈরির কোনোও প্রচেষ্টা নেই বললেই চলে।

পাশাপাশি বর্তমান বাংলাদেশের দিকে তাকান। দেখুন, সবাইকে কীভাবে উদ্যোক্তা এবং সিইও বানানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এটা হলো তরুণ প্রজন্মকে লোভ দেখিয়ে ভুল পথে পরিচালনা করার এক ধরনের ফন্দি। এগুলোতে সস্তা জনপ্রিয়তা পাওয়া যায়। যে মানুষগুলো জীবনে একটি প্রতিষ্ঠান তৈরি করেনি, তারাই গিয়ে মাঠে নেমে পড়েছেন উদ্যোক্তা বানানোর। কী ভয়ংকর কথা। আমি নিশ্চিত লিখে দিলাম, এই ছেলেমেয়েগুলো কিছু দিন এই দরজা ওই দরজায় ধাক্কা খাবে, তারপর একদিন হতাশ হয়ে পথে পথে ঘুরে বেড়াবে।

একটি প্রতিষ্ঠানে উদ্যোক্তার যেমন প্রয়োজন, তেমনি ভালো ম্যানেজারের প্রয়োজন আরও বেশি। এবং সংখ্যার পরিমাণ প্রয়োজনটাও অনেক বড়। বাংলাদেশের পরিবেশ উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য মোটেও সহায়ক নয়। এখানে ফান্ডিং জোগাড় করতেই একজনের জীবন শেষ হয়ে যাবে। এবং কেউ সেই ফান্ডিং পেলেও তার যে টার্মস থাকবে, তাতে উদ্যোক্তার আর কিছু থাকে না। ফলে এগুলো ঠিক না করে, সবাইকে উদ্যোক্তা বানাও বলে মাঠে নামিয়ে দেওয়াটা ঠিক কাজ নয়। উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হলে গাছ এমনিতেই বেড়ে ওঠে। আপনাকে চিৎকার করতে হবে না, গাছ তুমি বড় হও।

চার.
বাংলাদেশে ভালো ম্যানেজার না হওয়ার আরও একটি দিক হলো পারিবারিক। আমরা আমাদের বাচ্চাগুলোকে পুতু-পুতু করে বড় করি। বিশেষ করে যারা একটু স্বচ্ছল পরিবারে বড় হয়, তারাই আবার ভালো স্কুল কলেজে যেতে পারে এবং সেই ছেলেমেয়েগুলোই কর্মজীবনে বেশি অংশ নিতে পারে। এবং এরাই বড় হয়েছে পুতু-পুতু আদরে।

এই ছেলেমেয়েগুলো গায়ে গতরে অনেক বড় হয়ে গেলেও এদের মানসিক বিকাশ সঠিকভাবে হয়নি। আমাদের ছেলেমেয়েদের শারীরিক বয়স আঠারো হলেও মনের বয়স রয়ে যায় ১০ কি ১২। যখন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করে ২৩/২৪ বছর বয়সে, তখন তাদের মানসিক বয়স হলো ১৬ কি ১৭, কিংবা আরও কম। এরা ঠিকমতো গ্লাসে পানি ঢেলে খেতে পারে না, নিজের কাপড়টা আয়রন করতে পারে না। একটা কোনোও সমস্যা দেখলে আশা করে কাজের মানুষ এসে সেটা সমাধান করে দিয়ে যাবে, নিজে মানুষটা যে কিছু একটা করতে পারে, তার যে আশেপাশে আরও কাজ আছে, এটা তারা বুঝতেই পারে না।

আমাদের ছেলেমেয়েদের বড় অংশটাই পরিবারে যেভাবে বড় হয়, তারই প্রতিফলন ঘটে অফিসে এসে। তারা মনে করে, আমার কাজ ইঞ্জিনিয়ারিং, আমি কেন অন্য একটা সমস্যা সমাধান করতে যাব? তারা বুঝতে শেখে না, প্রতিটি অফিস তাকে চাকরি দিয়েছে তাদের কোনোও না কোনোও সমস্যার সমাধান করতে। একটা দায়িত্ব নিয়ে সেই সমস্যাটা যে সমাধান করবে, সেটা তার ব্রেইন ট্রিগার করে না। ফলে যে কোনোও পরিস্থিতিতে তারা নিজেদের কাজটি করেই আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকে। উপর থেকে কেউ এসে তাদেরকে সাহায্য করবে যেন। আমাদের পরিবারগুলো আমাদের ছেলেমেয়েদেরকে নষ্ট করেছে এবং করছে। আমরা বুঝতেই পারি না, একটি ছেলে বা মেয়েকে নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে নিজের কাজটা করতে দিলে ধীরে ধীরে তার মানসিক শক্তির প্রবৃদ্ধি হবে। যে কারণে আমরা আমাদের আশেপাশের দেশের ছেলেমেয়েদের থেকে মানসিকভাবে অনেক পিছিয়ে থাকি। একজন ২৪ বছরের তরতাজা যুবকের যা করতে পারার কথা, সেটা সে পারে না। সে ওটা পারে ৩৪ বৎসর বয়সে গিয়ে। ততদিনে অনেকটা দেরি হয়ে যায়।

শারীরিক বয়সের সঙ্গে সঙ্গে তার মানসিক বয়সও বাড়তে হবে। আমাদের সমাজে অনেকেই মনে করেন, মনের বয়স বাড়ানোর দরকার নেই, তাহলে বুড়ো হয়ে যাব। এটা খুবই ভুল একটা ধারণা। একজন ৬০ বছরের মানুষ যদি ৩০ বছরের মানুষের মতো আচরণ করে, তাহলে তাকে দিয়ে এই জগতের কোন কাজটা হবে বলুন তো? বাংলাদেশসহ বিশ্বে যারা ভালো করেছে, দেখবেন কেউ তারা পুতুপুতু হয়ে বেড়ে ওঠেনি। তাদের শারীরিক বয়সের সঙ্গে মানসিক বয়সটাও বেড়েছে। তারা ৪০ বছর বয়সে ৪০ বছরের পরিপক্ক মানুষের মতোই তাদের ব্রেইনকে কাজে লাগিয়েছে। কেউ কেউ হয়তো আরও বেশি।

মানসিক বয়স শরীরের সঙ্গে সঙ্গেই বাড়তে হবে। প্রতিটি বয়সের তার নিজস্ব রূপ আছে, জীবন আছে। সেই বয়সে ওই রূপটাই উপভোগ্য।

পাঁচ.
বাংলাদেশ খুবই সম্ভাবনাময় একটি দেশ। এমন সম্ভাবনা এই গ্রহের অনেক ভূখণ্ডই পেয়েছে, বিশেষ করে নতুন দেশ যেগুলো হয়েছে, যাদের তরুণ জনগোষ্ঠী ছিল। এরাই যখন আমার বুড়ো হয়ে যাবে, তখন দেশটা নতুন ক্রাইসিসে পড়বে। তখন এই বুড়োদেরকে চিকিৎসা দেওয়ার জন্য বিশাল বোঝা হয়ে দাঁড়াবে। বর্তমান জাপানে এখন এই সংকট চরমে।

বাংলাদেশ এই একটি কারণেই সম্ভাবনাময় দেশ। আর কোনোও কারন নেই। আমাদের এমন কোনোও প্রাকৃতিক সম্পদ নেই, যা বিক্রি করে আমরা আমাদের জীবনকে পাল্টাতে পারি। এই বিশাল তরুণ প্রজন্মকে আগামী ২০ বছরের মধ্যেই কাজে লাগিয়ে এই ভূখণ্ডকে পাল্টাতে হবে। আর সেটা না করতে পারলে, আমাদের আর হয়ে উঠা হলো না। তারপর আর পারাটা খুবই কঠিন হয়ে দাঁড়াবে।

যদি আগামী ২০/২৫ বছরের মধ্যেই এই দেশকে এই গ্রহে নিজের জায়গা করে নিতে হয়, তাহলে আমাদের প্রয়োজন বিপুল সংখ্যক ভালো ম্যানেজার। যারা জানে কীভাবে একটি হাসপাতাল চালাতে হয়, কীভাবে পোশাক শিল্পের কারখানা ম্যানেজ করতে হয়, কীভাবে একটি সফটওয়্যার টিম চালাতে হয়, কীভাবে একটি ব্যবসা সঠিকভাবে পরিচালনা করতে হয়।

এগুলো শিখে ফেললে, তারা এই দেশে হোক আর পৃথিবীর অন্য কোনোও দেশে হোক, ঠিকই জায়গা করে নিতে পারবে। আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলো কতটা ট্রেনিং দিতে পারবে জানি না, তবে ট্রেনিংটা শুরু হতে পারে ঘর থেকেই। আপনি আপনার ছেলেমেয়েদেরকে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলুন, তার কষ্ট হবে কিন্তু এটাই তার জীবনের জন্য বড় ট্রেনিং। তার মানসিক স্বাস্থ্যের সঠিক বৃদ্ধি হচ্ছে কি না, সেটা খেয়াল রাখুন। দেখবেন, জীবনে সেই অনেক বেশি এগিয়ে যাবে। অন্তত কারও না কারও কাজে লাগবে- নিজের, নয়তো মানুষের।

১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৭
ই-মেইল: [email protected]

13/02/2017

অবহেলা নয়, আজই মিলিয়ে দেখুন… এই ১০টি লক্ষণে বুঝবেন আপনি ক্যানসারে আক্রান্ত !



ঠিক সময়ে ক্যানসারকে যদি চিহ্নিত করা যায়, এবং যথাযথ চিকিৎসার সুফল যদি মেলে তাহলে ক্যানসারকেও পরাজিত করা সম্ভব।

এর জন্য দরকার ক্যানসারের উপসর্গ সম্পর্কে সচেতনতা।ক্যানসার নিঃসন্দেহে মারণ রোগ। কিন্তু সঠিক সময়ে ক্যানসারকে যদি চিহ্নিত করা যায়, এবং যথাযথ চিকিৎসার সুফল যদি মেলে তাহলে ক্যানসারকেও পরাজিত করা সম্ভব।

এর জন্য দরকার ক্যানসারের উপসর্গ সম্পর্কে সচেতনতা। কোন কোন শারীরিক পরিবর্তন ক্যানসারের পূর্বাভাস দেয়? আসুন জেনেনিই, ‘জার্নাল অফ ক্যানসারে’ প্রকাশিত গবেষণাপত্রে ডাক্তার রেণু ওয়াধা ও নূপুর নিগম কী জানাচ্ছেন—

১. যদি চামড়ার নীচে কোনও মাংসের দলা দেখা দেয়: এটা বোঝা যায় খুব সহজেই। হাত দিয়ে স্পর্শ করে যদি শরীরের কোনও অংশে শক্ত মাংসের দলা অনুভব করেন তাহলে অবিলম্বে ডাক্তারের দ্বারস্থ হন।

স্তন, অণ্ডকোষ, গলা, তলপেট কিংবা বগলের মতো জায়গাগুলোতে বিশেষ নজর রাখা প্রয়োজন।

২. শরীরের কোনও অংশ যদি লাল হয়ে ফুলে যায় এবং চুলকানি দেখা দেয়: কোনও অংশে ক্যানসার দেখা দিলে সাধারণত শরীরের স্বাভাবিক প্রতিষেধক ক্ষমতার প্রতিক্রিয়ায় ওই অংশে রক্তপ্রবাহ বৃদ্ধি পায়। স্বভাবতই ওই অংশ লাল হয়ে ফুলে যেতে পারে, এবং সেখানে চুলকানিও দেখা দিতে পারে।

৩. যদি শরীরের কোনও অংশের কোনও ঘা বা ক্ষত সারতে না চায়: দীর্ঘদিন ধরে যদি কোনও ঘা বা ক্ষত না সারে, তাহলে ডাক্তারের কাছে অবশ্যই যেতে হবে।

৪. যদি মুখের ভিতরে সাদা মুখওয়ালা কোনও গোটা দেখা দেয়: জ্বিহা, মুখের ভিতরের অংশ, কিংবা মাড়িতে যদি কোনও গোটা দেখা দেয় এবং সেটির মুখ যদি সাদা হয়, তাহলে কালবিলম্ব না করে ডাক্তারের কাছে চলে যান।

৫. হঠাৎ করে খিদে চলে যাওয়া: ক্যানসারের প্রভাবে শরীরে নিউট্রিয়েন্টস কমে যায়। পরিণামে খিদেও হ্রাস পায়।

৬. মলত্যাগের অভ্যাসে কোনও আকস্মিক পরিবর্তন‌ কিংবা মলের সঙ্গে রক্তপাত।

৭. মূত্রত্যাগের অভ্যাসে কোনও পরিবর্তন: যদি মূত্রের রং, পরিমাণ বা গন্ধে কোনও লক্ষ্যণীয় পরিবর্তন আসে, কিংবা মূত্রের সঙ্গে রক্তপাত ঘটে, তা হলে তা ক্যানসারের লক্ষণ হতে পারে।

৮. ব্যাখ্যাহীন রক্তপাত: শরীরের কোনও অংশ থেকে (যেমন যোনি কিংবা স্তনবৃন্ত) যদি আকস্মিকভাবে কোনও সুস্পষ্ট কারণ ছাড়়াই রক্তপাত শুরু হয়ে যায়, তাহলে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

৯. কন্ঠস্বরে আকস্মিক পরিবর্তন হওয়া।

১০. একটানা কাশি: যদি টানা দু’সপ্তাহের উপর কাশি থাকে, তবে তা গলা, ফ‌ুসফুস, খাদ্যনালী এমনকী পাকস্থলীর ক্যানসারের লক্ষণ হতে পারে।

অনেক প্রয়োজনীয় একটি পোস্ট নিজে পড়ুন অন্যকে পড়তে শেয়ার করে জানিয়ে দিন যদি কেউ মনে করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এর সাথে আলোচনা করতে পারেন।
মানুষ মানুষের জন্য জীবন জীবনের জন্য।

ছবিটা এ যুগের শ্রেষ্ঠ ছবির পুরস্কার পেয়েছে।ফটোগ্রাফার ছবিটা তোলার পর থেকে ডিপ্রেসনে চলে যান।চিতারা মা হরিণ আর তার দুই ব...
12/02/2017

ছবিটা এ যুগের শ্রেষ্ঠ ছবির পুরস্কার পেয়েছে।

ফটোগ্রাফার ছবিটা তোলার পর থেকে ডিপ্রেসনে চলে যান।

চিতারা মা হরিণ আর তার দুই বাচ্চাকে ধাওয়া করে,মা হরিণটা খুব সহজেই চিতাগুলোর থেকে দৌড়ে পালিয়ে যেতে পারতো কিন্তু তা না করে সে নিজেকে বলি দেয় যাতে তার বাচ্চা দুইটা পালিয়ে যেতে পারে

ছবিটায় দেখা যাচ্ছে মা হরিণটা তার বাচ্চাদের পালিয়ে যেতে দেখছে চিতার খাবারে পরিণত হতে হতে.........................................

10/02/2017

মনিষী জালাল উদ্দিন রুমির এই ১০টি জ্ঞানগর্ভ উক্তি আপনার জীবন বদলে দিতে পারে

এখানে ১০টি জনপ্রিয় উক্তি তুলে ধরা হলো। এগুলো ১৩ শতকের জনপ্রিয় পার্সি কবি জালাল উদ্দিন মুহাম্মদ রুমির উক্তি। এগুলো হতে পারে আপনার জীবনের অনেক বড় শিক্ষা।

১. তুমি সাগরে এক বিন্দু পানি নও। তুমি এক বিন্দু পানিতে গোটা এক সাগর।

শিক্ষাটা হলো- নিজের মূল্য বুঝতে হবে।

২. আমাদের মধ্যে এক অদৃশ্য শক্তি লুকিয়ে আছে। এটা যখন দুটো বিপরীতমুখী বাসনার উপলব্ধি প্রকাশ করে, তখন তা শক্তিশালী হতে থাকে।

শিক্ষাটা হলো- নিজের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিতে থাকুন।

৩. গতকাল আমি চতুর ছিলাম। তাই আমি পৃথিবীটাকে বদলে দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আজ আমি জ্ঞানী, তাই নিজেকে বদলে ফেলতে চাই।

শিক্ষাটা

হলো- পরিবর্তনটা আপনি আনুন।

৪. শোক করো না। তুমি যাই হারাও না কেন তা অন্য কোনো রূপে ফিরে আসবে।

শিক্ষাটা হলো- ইতিবাচক থাকুন।

৫. প্রত্যেককে বানানো হয়েছে নির্দিষ্ট কাজের জন্য এবং প্রত্যেক হৃদয়ে সেই কাজটি করার আকাঙ্ক্ষাও দিয়ে দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষাটা হলো- নিজের আবেগ নিয়ে বেঁচে থাকুন।

৬. কেউ যখন কম্বলকে পেটাতে থাকে তখন সেটা কম্বলের বিরুদ্ধে নয়, ধুলোর বিরুদ্ধে।

শিক্ষাটা হলো- মনোযোগী থাকুন।

৭. আমাদের চারদিকে সৌন্দর্য ছড়িয়ে রয়েছে। সাধারণত একে বুঝতে একটি বাগানে হাঁটার প্রয়োজন অনুভব করি আমরা।

শিক্ষাটা হলো- নিজের পথ নিজেই সৃষ্টি করুন।

৮. যখন নিজের মূল্য নির্ধারণের দিনটি আসবে তখন আপনার পরিচয় ফুটিয়ে তোলাটাই বিজ্ঞানের নির্যাস।

শিক্ষাটা হলো- আপনি যেমন তেমনই থাকুন।

৯. শোক প্রকাশ হতে পারে সমবেদনার বাগান। যদি সবকিছুতে নিজের হৃদয়টাকে উদার রাখতে পারেন, বেদনা আপনার শ্রেষ্ঠ বন্ধু হতে পারে।

শিক্ষাটা হলো- ভালোবাসা ও জ্ঞানের জন্য নিজের যাত্রাটাকে নিরবচ্ছিন্ন রাখুন।

১০. আমার প্রথম প্রেমের গল্প শোনামাত্র তোমাকে খুঁজতে থাকি, কিন্তু জানি না ওটা কতটা অন্ধ ছিল। প্রেম আসলে কোথাও মিলিত হয় না। সারাজীবন এটা সবকিছুতে বিরাজ করে।

শিক্ষাটা হলো- সবকিছুতে ভালোবাসা খুঁজতে থাকুন।-CDOTTechnologies

09/02/2017

বাংলাদেশ এবার দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবলের সঙ্গেও যুক্ত হতে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস অর্থাৎ আগামী ২১ ফেব্রুয়ারিতে

04/02/2017

কম্পিউটার প্রোগ্রামিং (সি) শেখার বাংলা বই - ফ্রি ও পিডিএফ

31/01/2017

বাংলাদেশে মাস্টার্স ডিগ্রিধারীদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৪৭ শতাংশ এখন বেকার। এই বিপুলসংখ্যক শিক্ষিত বেকার নিয়ে জাতি

Address

Dhaka
1216

Telephone

+8801711241914

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when CDOTTechnology posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to CDOTTechnology:

Share