07/11/2019
একটা সময় ছিল যখন আমরা একটা বড় পরিবারে অনেক মানুষ একসাথে থাকতাম। একজন মামা বা খালা হয়তো আমাদের সাথেই থাকতেন; চাচাদের কোলে পিঠে চড়ে আমরা হয়তো বহুবার বাজারে গেছি। কিংবা হয়তো ফুফুরা বাইরে থেকে ফিরলে আমাদের জন্য মনে করে চকলেট-চুইংগাম নিয়ে আসাই ছিল নিয়ম।
সে সব দিন মোটামুটি আমাদের সমাজ পার করে এসেছে।
কিছু ভিন্নতা থাকলেও এখন বেশির ভাগ পরিবারই নিউক্লিয়ার স্টাইলে গড়ে ওঠে। ছোট ছোট পরিবার ছোট ছোট এরিয়ার মধ্যে ঘর তৈরি করে। যেখানে স্পেস যাই হোক না কেন, বাড়তি একজন মানুষও মোটামুটি “অতিরিক্ত”। পরিবার বলতে নিজের ইমেডিয়েট ফ্যামেলী কেই বুঝি এখন আমরা। অথচ আমাদের আগের জেনারেশনেই পরিবার বলতে এক্সটেন্ডেড পরিবারকেও বুঝাত অনায়াসে।
এর সবচে বেশি প্রভাব পড়ে পরিবারের শিশুদের উপর। আগে পরিবারের ছোটদের সবসময় কারো না কারো সাথে সময় কাটানোর অপশন ছিল। খালা, মামা, ফুপু, চাচাদের সাথে কোনো না কোনো ভাবে তারা এনগেইজড থাকত। সাথে আরো ছিল কাজিনদের দল। তার উপর নানান সময়ে নানান আত্নীয় স্বজনেরা বেড়াতে আসলে তাদের সাথেও তৈরি হোত বন্ডিং। আর সবার উপরে দাদা-দাদীরাতো গুরুত্বপূর্ণ নজরদারীতে থাকতেনই। যার ফলে সামাজিক, মানসিক এবং শারিরীক ভাবে ছোটরা অনেক হেলদি একটা পরিবেশে বড় হোত। বাচ্চারা সব সময়ই দুরন্ত, কৌতূহলী। তারা এক একটা জলজ্যান্ত লার্ণিং মেশিন। তাদের কৌতূহল মেটানোর ক্ষমতা এখনকার নিউক্লিয়ার পরিবার গুলোর থাকেনা। অত সময় এবং শ্রম দেয়ার ক্ষমতা সবার নাই। তাই ছোট বেলা থেকে শিশুরা স্ক্রিণের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। পরিবারের সাথে যোগাযোগ তৈরি হয় না; খেলার সঙ্গী সাথী তেরি হয় না। সামাজিকতায় পিছিয়ে পড়ে তারা। যত দিন যায় তত বেশি প্রকট হয় এই সমস্যা।
পরিবারের সদস্যদের সাথে, মামা-চাচা-খালা-ফুফুদের সাথে, কাজিনদের দলের সাথে যোগাযোগ তৈরি না হলে শিশুরা গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক হারায়। যার প্রভাব পরবর্তী লাইফে পড়ে। ছোটরা চিরকাল ছোট থাকে না। বড় হলে তাদের সাথে তখন দেখা দেয় জেনারেশন গ্যাপ। দেখা দেয় পরিবারের সাথে দূরত্ব, বাবা-মা’র সাথে কমিউনিকেশন গ্যাপ, ডিপ্রেশন, ড্রাগস সহ নানান সমস্যা।
আমাদের সম্পর্কগুলা নদীর মতন। যতদিন পানি থাকে ততদিন বোঝা যায়না কত ভাবে এর থেকে উপকার পেয়ে এসেছি আমরা। তখন শুধু ঝামেলা গুলোই চোখে পড়ে। কিন্তু নদীটা মরে গেলে যখন জীবন অসম্ভব হয়ে পড়ে, তখন আমরা বুঝি কতটা জরুরী ছিল নদীটার বেঁচে থাকা। মানুষও একা একা বাঁচতে পারে না। সুন্দর ভাবে বাঁচার জন্য তারো দরকার সব সম্পর্কের নদী।