25/06/2026
আমাদের সময়ে প্রাথমিকের বাংলা পাঠ্য বইয়ে কালো মানিক নামে পেলের ছোট একটি জীবনি ছিলো। পেলের খেলা জীবনে না দেখেও, সেখান থেকে পেলের প্রতি ভালোবাসা তৈরি হয়।
৯৪ সালে ছোট মানুষ। অত খেলাটেলা বুঝিনা। তবে ছোট বেলায় অনেক কিছু না বুঝলেও কিছু ছোট ছোট স্মৃতি মাথায় গেঁথে যায়। ব্রাজিলের বিশ্বকাপ পাওয়া। মানুষের মুখে মুখে রোমারিও, বেবেতো, ডুঙ্গা নামগুলো শোনা। সেখান থেকে মুলত ব্রাজিল দলের প্রতি একটা অদৃশ্য ভালোবাসা তৈরি হয়।
৯৮ সালে ব্রাজিলের হেরে যাওয়া মনে দাগ কেটে ফেলে। এরপর ২০০২ সালের বিশ্বকাপ পাওয়া এবং অবিশ্বাস্য একটি টিম। রোনাল্ডে, রোনালদিনহো, কাকা, রিভালদো, রবার্তো কার্লোস, কাফু। ওই ব্রাজিল টিমের প্রতি পাকাপোক্ত ভাবে ভালোবাসা তৈরি হয়।
যে ব্রাজিল আমরা দেখেছি, সেই ব্রাজিল থেকে, এখনকার ব্রাজিল যোজন যোজন দুরে। ওই সাম্বার ছন্দ নেই। এখন পর্যন্ত একটা খেলা দেখেও সন্তুষ্ট না। তবে ব্রাজিল জিতলে ভালো লাগে। তবে এই ব্রাজিল নিয়ে খুব একটা কিছু আশা করিনা। যদিও মনে হয়েছে, ধীরে ধীরে উন্নতি করছে।
আমাদের জেনারেশনের অনেকেরই এই ভাবে ব্রাজিলের প্রতি ভালোবাসা তৈরি হয়েছে। আর আমাদের পরের জেনারশন পেয়েছে, মেসি ও রোনালদোকে। দু’জনেই অতিমানবিয় খেলোয়াড়। মারাদোনার জন্য আগে থেকেই এই দেশে আর্জেন্টিনার বড় একটি সাপোর্টার ছিলো, আর মেসির দুর্দান্ত পারফরমেন্স আরো কয়েকগুণ বৃদ্ধি করেছে। মেসি, এই গ্রহের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়। একজনমে, মেসি, রোনালদিনহো, রোনালদোদের খেলা দেখতে পাওয়া সৌভাগ্যের ব্যাপার। আমি সেই সৌভাগ্যে দলের মানুষ। এমবাপ্পে ভালো খেলোয়াড়। মেসির রেকর্ডও হয়ত ভাঙতে পারে। তবে মেসি, রোনালদিনহোদের খেলা দেখার ভেতরে যে বিনোদন পেতাম, সেটি কেন যেন এমবাপ্পের মাঝে পাইনা। আর আমারও মনে হয়, মেসি, রোনালদিনহো, রোনালদোদের মত কাব্যিক খেলোয়াড় আর আসবেনা।